ডেল্টা ফোর্সের দ্বিমুখী ইতিহাস: কারাকাসের বিজয় বনাম মোগাদিশুর ট্র্যাজেডি

এম ইমরান

যুদ্ধকৌশল, নিরাপত্তা ও সমসাময়িক সংঘাত বিশ্লেষক

জানুয়ারী ০৫, ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং রহস্যময় বিশেষায়িত সামরিক বাহিনীগুলোর নাম নিলে প্রথমেই আসে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডেল্টা ফোর্স’-এর কথা। সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় এক নজিরবিহীন অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের মাধ্যমে এই বাহিনী আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। তবে ডেল্টা ফোর্সের এই ‘সাফল্যের’ ইতিহাসের সমান্তরালে লুকিয়ে আছে ১৯৯৩ সালের সোমালিয়ার মোগাদিশুর এক চরম ব্যর্থতা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের স্মৃতি, যা আজও মার্কিন সামরিক ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত হিসেবে পরিচিত

 

১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্স (Delta Force) অসংখ্য গোপন ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের অভিযানের তালিকায় যেমন আছে অসাধ্য জয়ের গল্প, তেমনি আছে চরম ব্যর্থতার ট্র্যাজেডিও।ডেল্টা ফোর্সের ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য কিছু সফল ও ব্যর্থ অভিযান নিচে তুলে ধরা হলো:

 

সফল অভিযানসমূহ (Success Stories):

  • অপারেশন অ্যাসিড গ্যাম্বিট (১৯৮৯, পানামা): পানামার স্বৈরশাসক ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে আটক করার অভিযানের শুরুতে ডেল্টা ফোর্সের সদস্যরা কার্সেল মডেলো কারাগার থেকে মার্কিন নাগরিক কার্ট মিউজকে উদ্ধার করেন। এটি ছিল তাদের অন্যতম নিখুঁত জিম্মি উদ্ধার অভিযান
  • অপারেশন জাস্ট কজ (১৯৮৯, পানামা): পানামার প্রধান ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে আটক করার জন্য ডেল্টা ফোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শেষ পর্যন্ত নোরিয়েগা ভ্যাটিকান দূতাবাসে আশ্রয় নিলে তারা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ কৌশল (উচ্চস্বরে রক মিউজিক বাজানো) ব্যবহার করে তাকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করে
  • সাদ্দাম হোসেনকে আটক (২০০৩, ইরাক - অপারেশন রেড ডাউন): ইরাক যুদ্ধের সময় ডেল্টা ফোর্স ও ইন্টেলিজেন্স সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি যৌথভাবে সাদ্দাম হোসেনের অবস্থান শনাক্ত করে। একটি গোপন গর্ত (Spider hole) থেকে তাকে জীবিত আটক করতে তারা সক্ষম হয়
  • আবু বকর আল-বাগদাদির বিরুদ্ধে অভিযান (২০১৯, সিরিয়া - অপারেশন কায়লা মুলার): আইএসআইএস নেতা আল-বাগদাদিকে হত্যার অভিযানে ডেল্টা ফোর্স নেতৃত্ব দেয়। তাদের তাড়া খেয়ে বাগদাদি আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত হন
  • এল চাপো গ্রেফতার (২০১৬, মেক্সিকো - অপারেশন ব্ল্যাক সোয়ান): বিশ্বের অন্যতম বড় মাদক সম্রাট জোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজম্যানকে দ্বিতীয়বার গ্রেফতারের অভিযানে মেক্সিকান নৌবাহিনীর সাথে ডেল্টা ফোর্সের সদস্যরা সরাসরি সহায়তা করেছিলেন

 

ব্যর্থ অভিযানসমূহ (Major Failures):

  • অপারেশন ঈগল ক্ল (১৯৮০, ইরান): এটি ছিল ডেল্টা ফোর্সের প্রথম বড় মিশন। ইরানে জিম্মি ৫২ জন মার্কিন কূটনীতিককে উদ্ধারের এই চেষ্টা চরম বিপর্যয়ে শেষ হয়। মরুভূমিতে বালুঝড় এবং হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার ফলে ৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হন এবং কোনো জিম্মিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই ব্যর্থতার পরেই মার্কিন বিশেষ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও 'নাইট স্টকার্স' (১৬০তম অ্যাভিয়েশন রেজিমেন্ট) গঠিত হয়
  • টোরা বোরার যুদ্ধ (২০০১, আফগানিস্তান): ওসামা বিন লাদেনকে আটক বা হত্যার লক্ষ্যে ডেল্টা ফোর্সের একটি ছোট দল টোরা বোরা পাহাড়ে অভিযান চালায়। বিন লাদেনের খুব কাছে পৌঁছালেও সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত সেনাসাহায্য ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অভাবে লাদেন পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এটি ডেল্টা ফোর্সের একটি বড় গোয়েন্দা ও কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়

 

অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ: ভেনেজুয়েলায় ডেল্টা ফোর্সের থাবা:

২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি ভোরবেলা। যখন পুরো কারাকাস শহর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই আকাশ ও স্থলপথে সমন্বিত এক ভয়াবহ হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। অভিযানের সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছিল অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’ (Operation Absolute Resolve)

 

অভিযানের প্রেক্ষাপট ও কৌশল:

মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, মাদক পাচার এবং নার্কো-টেরোরিজমের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদুরোকে আটক করতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ডেল্টা ফোর্সের সাথে যোগ দেয় মার্কিন সেনাবাহিনীর ‘নাইট স্টকার্স’ নামে পরিচিত ১৬০তম স্পেশাল অপারেশনস অ্যাভিয়েশন রেজিমেন্ট

 

  • সাইবার ও বিমান হামলা: অভিযানের শুরুতে মার্কিন সাইবার কমান্ড ভেনেজুয়েলার বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অকেজো করে দেয় এরপর এফ-৩৫ এবং এফ-২২ র‍্যাপ্টর যুদ্ধবিমানগুলো ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়
  • স্থল অভিযান: ডেল্টা ফোর্সের চৌকস সদস্যরা অত্যন্ত গোপনে মাদুরোর সুরক্ষিত বাসভবন বা ‘দুর্গে’ প্রবেশ করেন মাত্র ২ ঘণ্টা ২০ মিনিটের এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তারা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করতে সক্ষম হন
  • নিখুঁত পরিকল্পনা: জানা গেছে, এই অভিযানের জন্য ডেল্টা ফোর্স কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের বাসভবনের আদলে তৈরি একটি মহড়া ক্ষেত্রে অনুশীলন করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষায় এটি ছিল একটি ‘ব্রিলিয়ান্ট’ এবং ‘নিখুঁত’ প্রদর্শনী

বর্তমানে মাদুরোকে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস আইও জিমা-তে রাখা হয়েছে এবং তাকে বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই ঘটনা লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে এক নতুন মোড় দিয়েছে

 

সোমালিয়ার মোগাদিশু: ডেল্টা ফোর্সের এক বিষাদময় ব্যর্থতা:
 

ভেনেজুয়েলার এই কথিত সাফল্য যখন ডেল্টা ফোর্সের দক্ষতা প্রমাণ করছে, তখন ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় ১৯৯৩ সালের ৩ অক্টোবর সোমালিয়ার মোগাদিশুর সেই ভয়াবহ দিনটির কথা। এটি মার্কিন সামরিক ইতিহাসে ব্ল্যাক হক ডাউন’ (Black Hawk Down) বা ‘ব্যাটল অব মোগাদিশু’ নামে পরিচিত

 

অভিযানের লক্ষ্য: অপারেশন গোথিক সার্পেন্ট:

১৯৯৩ সালে সোমালিয়া এক চরম গৃহযুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। জাতিসংঘ সেখানে মানবিক ত্রাণ পাঠানোর চেষ্টা করলেও স্থানীয় যুদ্ধবাজ নেতা মোহামেদ ফারাহ এইদাদের অনুসারীরা তাতে বাধা দিচ্ছিল। এইদাদকে আটকের জন্য গঠিত ‘টাস্ক ফোর্স রেঞ্জার’-এর অন্যতম প্রধান অংশ ছিল ডেল্টা ফোর্স ৩ অক্টোবর বিকেলে এইদাদের দুই শীর্ষ সহযোগীকে আটক করার লক্ষ্যে মোগাদিশুর জনবহুল এলাকায় অভিযান শুরু হয়

 

যেভাবে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো অভিযান:

প্রাথমিকভাবে অভিযানটি মাত্র এক ঘণ্টার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন:

ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ভূপাতিত: সোমালি মিলিশিয়ারা আরপিজি (রকেট প্রপেলড গ্রেনেড) ব্যবহার করে একটি মার্কিন ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার (সুপার ৬১) গুলি করে ফেলে দেয়। কিছুক্ষণ পর আরও একটি হেলিকপ্টার (সুপার ৬৪) ভূপাতিত হয়।

শহুরে যুদ্ধ এবং আটকা পড়া: হেলিকপ্টারের ক্রুদের উদ্ধারে গিয়ে ডেল্টা ফোর্স ও রেঞ্জার সদস্যরা মোগাদিশুর সরু গলিতে হাজার হাজার ক্ষুব্ধ সোমালি মিলিশিয়া ও সাধারণ মানুষের ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়ে যান। এক ঘণ্টার মিশন রূপান্তরিত হয় ১৮ ঘণ্টার এক রক্তক্ষয়ী মরণযুদ্ধে।

 

গোয়েন্দা তথ্যের অভাব: মার্কিন কমান্ডোরা শত্রুর শক্তি এবং স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিতে ব্যর্থ হয়েছিল। সোমালিরা মার্কিন বাহিনীর রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা আংশিক বুঝে ফেলেছিল এবং রাস্তাগুলোতে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দিয়েছিল

 

ফলাফল ও ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান:

  • মার্কিন সৈন্য: অভিযানে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হন এবং ৭৩ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ডেল্টা ফোর্সের অভিজ্ঞ সদস্যরাও ছিলেন। নিহত মার্কিন সেনাদের মৃতদেহ মোগাদিশুর রাস্তায় টেনে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য টেলিভিশনে প্রচার হলে পুরো বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হয়
  • সোমালি ক্ষয়ক্ষতি: যুদ্ধে আনুমানিক ৩০০ থেকে ৭০০ জন সোমালি (যাদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু ছিল) নিহত হয়
  • কূটনৈতিক ব্যর্থতা: এই ব্যর্থতার ফলে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন সোমালিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য হন। এটি ‘সোমালিয়া সিনড্রোম’ নামে একটি নতুন শব্দ তৈরি করে, যা পরবর্তী কয়েক বছর বিশ্বজুড়ে মানবিক সংকটে মার্কিন হস্তক্ষেপকে নিরুৎসাহিত করেছিল

 

ডেল্টা ফোর্স: সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রহস্য:

ডেল্টা ফোর্স (১ম এসএফওডি-ডি) ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কর্ণেল চার্লি বেকউইথ ব্রিটিশ এসএএস-এর আদলে এই বাহিনী গঠন করেন। ভেনেজুয়েলা বা সোমালিয়ার মতো অপারেশন ছাড়াও ১৯৮৯ সালে পানামার স্বৈরশাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে আটক এবং ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে আটক করার পেছনেও ছিল এই বাহিনীর হাত

 

কিন্তু কেন তারা সোমালিয়ায় ব্যর্থ হয়েও ভেনেজুয়েলায় সফল হলো? বিশেষজ্ঞদের মতে, সোমালিয়ায় ডেল্টা ফোর্সের ব্যর্থতার প্রধান কারণ ছিল রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা। পক্ষান্তরে, ২০২৬ সালের ভেনেজুয়েলা অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার যুদ্ধ কৌশল এবং নিখুঁত বিমান সহায়তার আধিক্য ছিল তবুও, মোগাদিশুর সেই স্মৃতি আজও ডেল্টা ফোর্সের অহংকারে এক বিশাল দাগ হিসেবে রয়ে গেছে

 

তথ্যসূত্র (References):

১. Military Watch Magazine (January 2026): "Capturing Maduro is Delta Force's Most High-Profile Operation on Record."

২. Task & Purpose (January 3, 2026): "Operation Absolute Resolve: Delta Force, 160th SOAR carry out Venezuela raid."

৩. Britannica: "The Battle of Mogadishu (Black Hawk Down) - Causes and Consequences."

৪. Army University Press: "Anatomy of a Failure: Tactical Analysis of the Battle of Mogadishu." ৫. Prothom Alo (January 4, 2026): "ভেনেজুয়েলায় ডেল্টা ফোর্সের অভিযান ও মাদুরো আটক।"

৬. Wikipedia: "Operation Gothic Serpent & Battle of Mogadishu details."

 

0 Comments

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

গণভোট ২০২৬ : সংস্কারের পথে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0