খেলাধুলা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের বল ‘ট্রাইওন্ডা’ উন্মোচন করল ফিফা

নাসির উদ্দিন অক্টোবর ০৩, ২০২৫ 0

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর ১ বছরও বাকি নেই। ধীরে ধীরে বেজে উঠছে আসরের দামামা। উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে এবার বিশ্বকাপের বল প্রকাশ্যে এনেছে ফিফা। নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজ পার্কে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বকাপের বল উন্মোচন করেছে সংস্থাটি। যেখানে উপস্থিত ছিলেন পাঁচ বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার- জার্মানির ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান, ব্রাজিলের কাফু, ইতালির আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, স্পেনের জাভি হার্নান্দেজ এবং ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান। 

এবারের বিশ্বকাপ বলের নাম দেওয়া হয়েছে ট্রাইওন্ডা। বলটি বানিয়েছে অ্যাডিডাস। এ নিয়ে টানা ১৫ বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের বল সরবরাহ করছে বিশ্ববিখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক এই প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘আপনাদের সামনে ট্রাইওন্ডা উপস্থাপন করতে পেরে আমি খুশি ও গর্বিত। বিশ্বকাপের জন্য অ্যাডিডাস আরেকটি আইকনিক বল তৈরি করেছে, যার নকশায় কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের ঐক্য ও উচ্ছ্বাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।’

ট্রাইওন্ডা নামটি এসেছে দুটি শব্দ থেকে- ‘ট্রাই’ ও ‘ওন্ডা’। ‘ট্রাই’ অর্থ তিন আর ওন্ডা মানে ঢেউ। বলে লাল, সবুজ ও নীল- এই তিন রঙের ঢেউ দিয়ে আয়োজক দেশগুলোকে বোঝানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। তাই বলটিতে এই তিন দেশের ঐক্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি।

বলের নকশায় তিন দেশের জাতীয় প্রতীকও আছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তারকা, কানাডার জন্য ম্যাপল পাতা এবং মেক্সিকোর জন্য ঈগল। বলের ওপর এসব প্রতীক গ্রাফিকস আকারে ও খোদাই করা হয়েছে। বলটিতে সোনালি রঙের ছোঁয়াও আছে। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে এবং মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই বল ফুটবলের সর্ববৃহৎ মঞ্চের জন্য।

ট্রাইওন্ডা বলে নতুন চার-প্যানেল নকশা আছে। যা এটিকে আরও স্থির এবং টেকসই করেছে। পুরু সেলাই এবং ঠিকঠাক রেখাগুলো বাতাসে বলের চলাচল স্থিতিশীল রাখবে। খোদাই করা প্রতীকগুলো বল ভেজা অবস্থায়ও ভালো গ্রিপ করা নিশ্চিত করবে। এবারের বলে সবচেয়ে বড় নতুনত্ব হলো অ্যাডিডাসের কানেক্টেড বল প্রযুক্তি। বলের (ভেতরে) একপাশে থাকা ৫০০ হার্জ সেন্সর ভিএআর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের রিয়েল টাইম তথ্য দেবে।

এর ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অফসাইড ধরা যাবে। এ ছাড়া হ্যান্ডবল বা ফাউলের মতো বিতর্কিত পরিস্থিতি সহজেই চিহ্নিত করা যাবে। বলটি নিয়ে অ্যাডিডাসের মহাব্যবস্থাপক স্যাম হ্যান্ডি বলেছেন, ‘প্রতিটি ছোটো জিনিসই বড় প্রভাব ফেলে। খোদাই করা নকশা, স্তরযুক্ত গ্রাফিকস এবং উজ্জ্বল রং এই বলকে অন্যগুলোর থেকে আলাদা করেছে। এটাই আমাদের এখন পর্যন্ত তৈরি করা সবচেয়ে সুন্দর এবং আকর্ষণীয় ফিফা বিশ্বকাপ বল।’

এএল

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
যেন সাবেক অধিনায়কদের মিলনমেলা। ছবি : বিসিবি
তামিমের নতুন উদ্যোগ, সাবেক অধিনায়কদের হাতে ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’

দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের নেতাদের নতুন করে সম্মানিত করলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সাবেক অধিনায়কদের সম্মান জানাতে এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অ্যাডহক কমিটি।   আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড হস্তান্তর অনুষ্ঠান’ শিরোনামে বিশেষ এক আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে সাবেক অধিনায়কদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্যাপ্টেনস কার্ড। দেশের হয়ে অন্তত একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে যারা অধিনায়কত্ব করেছেন, তাদের সবাইকে এই কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাবেক অধিনায়কদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চিন্তা করছে বোর্ড। এই ক্যাপ্টেনস কার্ড দিয়ে আইসিসি ইভেন্ট, এসিসি ইভেন্ট, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কিংবা বিপিএল যেকোনো ইভেন্টেই স্টেডিয়ামে যেতে পারবেন সাবেকরা। এ ছাড়া এই কার্ডধারী কেউ অসুস্থ হলে বিসিবির মেডিকেল টিম তার জন্য সবসময় অ্যাভেইলেবল থাকবে। কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগবে না। আজকের অনুষ্ঠানে দেশের ক্রিকেটের বিভিন্ন সময়ের অধিনায়করা একই ছাদের নিচে উপস্থিত হন। দেশের মোট ৩২ অধিনায়ক এই সম্মাননা পেয়েছেন। ২৭ জন পুরুষ অধিনায়ক এবং ৫ জন নারী অধিনায়ক পেয়েছেন বিশেষ এই কার্ড। তবে অনুপস্থিত ছিলেন মাশরাফি মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, নাইমুর রহমান দুর্জয়, খালেদ মাসুদ পাইলট, ফারুক আহমেদ ও আমিনুল ইসলাম বুলবুল। অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতিসহ অধিনায়কদের হাতে ক্যাপ্টেন কার্ড তুলে দেন এডহক কমিটির সদস্য সায়েদ ইব্রাহিম আহমেদ, রাশনা ইমাম, ফাহিম সিনহা। প্রত্যেক অধিনায়ককে তামিম নিজে ফোন করে দাওয়াত দিয়েছেন। এই তালিকায় সাকিব আল হাসান যেমন আছেন, আছেন মাশরাফি বিন মর্তুজাও। সাবেক বিসিবি ও সাবেক অধিনায়ক অমিনুল ইসলাম বুলবুলকেও ফোন করার চেষ্টা করেছেন তামিম। অনুষ্ঠানে তামিম জানালেন, বুলবুলকে ফোন করতে গিয়ে দেখেন তাকে ব্লক করে রাখা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
এটি হবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শো। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথমবার ‘হাফটাইম শো’, বাড়ছে জমজমাট আয়োজন

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড। ফাইল ছবি

টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছর, মেলবোর্নে উৎসবের আমেজ

শেষ মুহূর্তে লুইস দিয়াজের গোলই ব্যবধানটা গড়ে দেয়/সংগৃহীত

থ্রিলার ম্যাচে রিয়ালকে হারিয়ে শেষ চারে বায়ার্ন

বাবর আজম। সংগৃহীত ছবি
টি-টোয়েন্টিতে ফিফটির সেঞ্চুরি ছুঁলেন বাবর আজম

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অনন্য এক মাইলফলক ছুঁয়েছেন পাকিস্তানের তারকা ব্যাটসম্যান বাবর আজম। বিশ্বের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি পূর্ণ করেছেন ১০০টি ফিফটি। বুধবার পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে ম্যাচে ৩৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন পেশাওয়ার জালমির অধিনায়ক বাবর। লেগ স্পিনার আবরার আহমেদের শর্ট বল ডিপ মিডউইকেট দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে তিনি এই মাইলফলকে পৌঁছান। এর আগে গত রবিবার আইপিএলে ১০০ ফিফটির রেকর্ড গড়েন ইংল্যান্ডের জস বাটলার, তিনি এই কীর্তি গড়তে খেলেছেন ৪৬৮ ইনিংস। বাবর আজম একই মাইলফলকে পৌঁছান মাত্র ৩৪১ ইনিংসে। টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ফিফটির তালিকায় শীর্ষে আছেন অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার, তার সংগ্রহ ৪৩৫ ইনিংসে ১১৬টি ফিফটি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ভারতের ভিরাট কোহলি, যার ৪০২ ইনিংসে ফিফটি ১০৭টি।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ভিআইডি’র অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামের একটি বিশেষ সুইটে পরিবার নিয়ে বসেছিলেন মেসি। (সংগৃহীত ছবি)

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণা মামলা, জড়ালেন মেসি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন

ছবি: সংগৃহীত

বায়ার্ন ম্যাচ আমাদের কাছে ফাইনালের মতো: বেলিংহ্যাম

ছবি: সংগৃহীত

প্রতারণা ও চুক্তি ভঙ্গের মামলায় মেসি ও এএফএ

দীর্ঘ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল তামিম ইকবালের হাত ধরে। ছবি : সংগৃহীত
বুলবুলের ‘বিশেষ’ উদ্যোগে সমাপ্তি টানলেন তামিম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) সময়ের চাকা ঘুরেছে। গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তামিম ইকবাল। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তামিম বেশ কিছু নীতিগত পরিবর্তন আনলেও আজ তিনি সম্পন্ন করলেন সাবেক সভাপতির শুরু করা একটি বিশেষ উদ্যোগ।   মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ দেশের কোচদের ‘এলিট’ মর্যাদা সম্পন্ন লেভেল-৩ কোচিং কোর্সের সনদ প্রদান করা হয়। তিন মাস আগে এই কোর্সের পুরো পরিকল্পনা, নকশা ও মূল সেশন পরিচালনার নেপথ্যে ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তার হাত ধরে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবালের হাত ধরে। লেভেল-৩ কোচিং কোর্সটি ছিল দেশীয় কোচদের মানোন্নয়নে বুলবুলের একটি স্বপ্নের প্রজেক্ট। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক 'টার্নার-ক্যাম্পবেল কনসালট্যান্টস'-এর সহযোগিতায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে এই কোর্সের আবাসিক সেশন শুরু হয়েছিল। কোচদের এই এলিট কোর্সের সনদ অনুমোদন থেকে শুরু করে যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ বুলবুল তার মেয়াদে সম্পন্ন করে গেলেও, নিজ হাতে সনদ তুলে দেওয়ার সুযোগ পাননি। আজকের অনুষ্ঠানে তামিম ইকবাল কোচদের হাতে যে সনদ তুলে দেন, সেখানে সেশন অনুযায়ী 'সেপ্টেম্বর ২০২৫' উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ যে সময়ে কার্যক্রমটি শুরু হয়েছিল, সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকেও সম্মান জানানো হয়েছে। এই কোর্সটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর ব্যয় সংকোচন। বাংলাদেশের কোচদের যদি সমমানের এই কোর্সটি দেশের বাইরে গিয়ে করতে হতো, তবে খরচ হতো প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। কিন্তু বিসিবির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ও বিদেশি প্রশিক্ষকদের দেশে এনে এই কোর্সটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ৪০ লাখ টাকায়। সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা, গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বাবু এবং বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। ৯০ দিনের মাঠপর্যায়ের কঠোর অ্যাসাইনমেন্ট ও আবাসিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করা কোচদের হাতে আজ পেশাদারত্বের নতুন এই স্বীকৃতি তুলে দেওয়া হয়। এই কোর্সে অংশ নেওয়া ৩০ জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন শাহরিয়ার নাফীস, হান্নান সরকার, তালহা জুবায়ের, রাজিন সালেহ, আব্দুর রাজ্জাক, রবিউল ইসলাম, ডলার মাহমুদ, তুষার ইমরান, আলমগীর কবির, জাভেদ ওমর, নাজমুল হোসেন, ফাতেমা জোহরা, জাহাঙ্গীর আলম, মন্টু দত্তের মতো কোচরা। দীর্ঘ ১৬ বছর পর বাংলাদেশে হয়েছে এই লেভেল থ্রি কোচিং কোর্স। লম্বা সময় পর গেল বছর ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর বিসিবির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই কোর্স। সবশেষ ২০০৯ সালে (লেভেল থ্রি) কোর্স হয়েছিল, তবে সেটি ছিল আইসিসি-এসিসির উদ্যোগে। এবার বিসিবির উদ্যোগে হয় এই লেভেল থ্রি কোর্স। যেখানে অস্ট্রেলিয়ার প্রশিক্ষকরা প্রশিক্ষণ করিয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। ছবি: সংগৃহীত

‘রেফারি ম্যাচ ডাকাতি করেছেন’ বলায় নিষিদ্ধ হতে পারেন রাফিনিয়া

মিরপুরে অনুশীলনে নিউজিল্যান্ড শিবির। ছবি : বিসিবি

তরুণদের শেখার সুযোগ দেখছেন কিউই কোচ

ছবি : সংগৃহীত

আগামী ৯ মে সৌদি আরবে এশিয়ান কাপের ড্র

0 Comments