উত্তাল হয়ে উঠেছে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো। নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে চলমান আন্দোলন আজ রূপ নিয়েছে সহিংসতায়। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন দেওয়া হয়। ঘটনায় অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তরুণ প্রজন্ম মূলত অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নামে। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে দিতে সরকারি ভবনের সামনে জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলন মরক্কোর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
তথ্য সুত্র : রয়টার্স
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের একটি ধারার তীব্র সমালোচনা করেছেন, যা মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে আরও নিবিড়ভাবে একীভূত করবে। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপটি নেওয়া হচ্ছে কোনো ধরনের তদারকি ছাড়াই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে স্যান্ডার্স বলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই ধারাটির পক্ষে লবিং বা জোর তদবির করছেন—যা ‘সেকশন ২২৪’ (ধারা ২২৪) নামে পরিচিত। কারণ এটি “প্রায় শূন্য তদারকির মধ্য দিয়ে নীরবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সামরিক সহযোগিতা এবং অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচীকে আরও প্রসারিত করবে।” স্যান্ডার্স স্পষ্ট করে বলেন, “আমেরিকার জনগণ ইসরাইলে আর কোনো মার্কিন সামরিক সহায়তা চায় না। আমাদের অবশ্যই ‘সেকশন ২২৪’ ধারাটিকে রুখে দিতে হবে।” এই ‘সেকশন ২২৪’ ধারার অধীনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিবকে একজন “এক্সিকিউটিভ এজেন্ট” বা বিশেষ কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে, যিনি এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি সমন্বয় করবেন। এই সমন্বয়ের আওতায় থাকবে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন, যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদন এবং দুই দেশের সামরিক ব্যবস্থা ও ডেটা বা তথ্যভাণ্ডারকে একে অপরের সাথে যুক্ত করা। এছাড়াও, এই বিলটি পাস হলে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের আরও বহু ক্ষেত্র, যেমন—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন এবং সাইবার-অপারেশনের মতো বিষয়েও তাদের যৌথ কাজ অনেক দূর বৃদ্ধি পাবে। সূত্র: আল জাজিরা
গাজায় বসতি স্থাপন ও সহিংসতা বৃদ্ধির অভিযোগে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো জানিয়েছেন, স্মোট্রিচসহ কয়েকজন অবৈধ বসতি স্থাপনকারী নেতাকে ফ্রান্সে প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বারো বলেন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং নরওয়ে যৌথভাবে পশ্চিম তীরে উপনিবেশ স্থাপন ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে নতুন জাতীয় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। ফরাসি সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্মোট্রিচ ছাড়াও চারটি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী সংগঠনের নেতা এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ২১ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বারো বলেন, স্মোট্রিচ প্রকাশ্যেই গাজা ও পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি পশ্চিম তীরে নতুন বসতি নির্মাণ, গাজা স্ট্রিপ পুনরায় বসতিস্থাপন এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অর্থনৈতিক কাঠামো দুর্বল করার নীতি সমর্থন করছেন। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এসব নীতির ফলে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এ ধরনের অবস্থান মেনে নিতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফ্রান্সসহ আন্তর্জাতিক অংশীদাররা এখনও দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সূত্র : আল জাজিরা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের এক মাসও পেরোয়নি, এর মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ভাঙন। বিধায়ক ও সংসদ সদস্যদের একাংশ বিদ্রোহী অবস্থান নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন—মমতা ব্যানার্জী ও অভিষেক ব্যানার্জীর হাত থেকে শুধু দলের নিয়ন্ত্রণই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক ও বিপুল সম্পত্তির মালিকানাও কি চলে যেতে পারে? দেশটির নির্বাচন আইন এবং অতীতের রাজনৈতিক নজির বলছে, পরিস্থিতি নির্ভর করবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার লড়াই ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর। মমতা ব্যানার্জী ও অভিষেক ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের জেরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দলীয় প্রতীক ও সম্পদের মালিকানার প্রশ্ন। বিধানসভা নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দলটি কার্যত তিনটি অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জন ইতোমধ্যেই মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে, দলের ৪১ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০ জন সরাসরি বিজেপিকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিধানসভায় বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জীকে বিরোধী দলনেতা ঘোষণার দাবিতে ৬০ জন বিধায়ক স্বাক্ষর করেছেন। একই সময়ে দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভুপেন্দ্র ইয়াদভের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তৃণমূলের একদল বিদ্রোহী সংসদ সদস্য। ওই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন। বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি, শুভেন্দু অধিকারীর আহ্বানেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লকে চিঠি দিয়ে তাদের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই মহারাষ্ট্রে ২০২৩ সালে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে শিবসেনা ভেঙে যাওয়ার ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের বর্তমান সংকটের তুলনা টানছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই ঘটনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্রতীক ও সম্পত্তির অধিকার নির্ধারণ করে কী? ভারতে রাজনৈতিক দলের প্রতীক একটি দলের প্রধান পরিচয়ের অংশ। তাই দলীয় প্রতীক হারানোকে রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 'সিম্বলস অর্ডার, ১৯৬৮'-এর ১৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দল ভেঙে গেলে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা রয়েছে প্রতীকের প্রকৃত দাবিদার নির্ধারণ করার। সাধারণত দুই বা ততোধিক অংশের দাবি শুনে কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৭১ সালের ‘সাদিক আলি বনাম নির্বাচন কমিশন’ মামলার রায়ের ভিত্তিতে কমিশন প্রধানত বিবেচনা করে—দলের কতজন এমপি, এমএলএ এবং সাংগঠনিক নেতা কোন পক্ষের সঙ্গে রয়েছেন। ভারতের সাবেক নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসার মতে, দলের ভেতরের কোনো পক্ষ যদি নিজেদের প্রকৃত দল দাবি করে কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক বিরোধ বা ‘ডিসপিউট’ উত্থাপন করে, তবেই নির্বাচন কমিশন বিষয়টি বিচার করতে পারে। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো অংশই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়নি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি কমিশন আরও কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে—দলের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য এবং দলের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে কোন পক্ষের অবস্থান বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রেও স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো না গেলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পরামর্শ দিতে পারে। যদিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন সরাসরি কোনো দলের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নির্ধারণ করে না; বরং আপিলযোগ্য কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে। কমিশনের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট পক্ষ আদালতের শরণাপন্ন হতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি ও পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অশোক গাঙ্গুলীর ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি থাকলেই কেবল সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে। তৃণমূল এখন কার্যত তিন ভাগে বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে বিদ্রোহী শিবিরগুলোর ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান। ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন বিধায়ক গোষ্ঠী এখনও বিজেপি-বিরোধী অবস্থানে অনড় রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, দিল্লিতে সাংসদদের বৈঠকের বিষয়ে অবগত থাকলেও তাদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা এমন কোনো পদক্ষেপ নেব না, যাতে অতীতে জগদীপ ধনখড়কে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার মতো আবারও বিজেপির সুবিধা হয়।” অন্যদিকে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী সাংসদরা প্রকাশ্যেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠী পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর দিতে চাননি সাংসদ শর্মিলা সরকার। ফলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে কার্যত তিনটি ভাগে বিভক্ত। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন পরিস্থিতির নজির খুবই বিরল। সম্পদের মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন সর্বশেষ ঘোষিত হিসাব অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের মোট সম্পদের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি প্রায় সাত কোটি টাকা, বিভিন্ন বিনিয়োগে রয়েছে ২৫০.৮ কোটি টাকা এবং ব্যাংক আমানত রয়েছে ৬৮১.১ কোটি টাকা। আয়ের বিচারে বিজেপির পরই ভারতের অন্যতম সম্পদশালী রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই কারণে ভবিষ্যতে যদি কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠী নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল দাবি করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে সক্ষম হয়, তাহলে শুধু দলীয় প্রতীকই নয়, আইনগতভাবে দলের বিপুল সম্পদের নিয়ন্ত্রণও মমতা ব্যানার্জীর হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। অতীতে যেসব দলে বড় ভাঙন হয়েছে ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত দলীয় ভাঙনের ঘটনা মহারাষ্ট্রের শিবসেনা। একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে বিদ্রোহের পর দলীয় প্রতীক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকে সরে যায়। একইভাবে এনসিপিতে ভাঙনের পর শরদ পাওয়ারের পরিবর্তে অজিত পাওয়ার দলীয় প্রতীকের নিয়ন্ত্রণ পান এবং পরে মহারাষ্ট্র সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হন। এর আগে জনতা দল ভেঙে বিহারে জনতা দল ইউনাইটেড এবং কর্ণাটকে জনতা দল সেকুলার গঠিত হয়। ১৯৮৭ সালে এমজি রামাচন্দ্রনের মৃত্যুর পর এআইএডিএমকেতেও নেতৃত্ব ও উত্তরাধিকার নিয়ে বিভক্তি তৈরি হয়েছিল। পরে জয়ললিতা নিজের অবস্থান শক্তিশালী করে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠেন। ১৯৬৯ সালে কংগ্রেস বিভক্ত হওয়ার পর ইন্দিরা গান্ধী নতুন কংগ্রেস গঠন করে নির্বাচনে বিপুল সাফল্য পান এবং শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া ১৯৬৪ সালে মতাদর্শগত বিরোধের জেরে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিও দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে পৃথক দল হিসেবেই রাজনীতিতে সক্রিয় থাকে। সূত্র: বিবিসি বাংলা