বিশ্ব

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কম, বলছে জরিপ

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৬, ২০২৬
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের জনসমর্থন সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের জনসমর্থন সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রায় পাঁচ মাস পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ যুদ্ধের পক্ষে জনসমর্থন আদায় করতে পারেননি। বিভিন্ন জনমত জরিপের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আধুনিক সময়ের অন্য যেকোনো মার্কিন যুদ্ধের তুলনায় একই পর্যায়ে ইরান যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন সবচেয়ে কম।

 

নিউজউইকের এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের শুরুতে ব্যাপক জনসমর্থন থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা কমে যায়। কিন্তু ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই সমর্থন কম ছিল এবং এখনো তা বাড়েনি।

 

গ্যালাপের এক জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর প্রায় ৯৩ দিন পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ৩৪ শতাংশ মার্কিনি। অন্যদিকে কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে ৪০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার যুদ্ধের পক্ষে এবং ৫৩ শতাংশ বিপক্ষে মত দিয়েছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট-ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ পরিচালনার প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে ২৯ শতাংশে। একই জরিপে ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, এই যুদ্ধের কোনো প্রয়োজন ছিল না।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মতো ট্রাম্প যুদ্ধের কারণে জনপ্রিয়তার বাড়তি সুবিধা পাননি। উল্টো তাকে চাপে ফেলেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে তার অনুমোদন ছিল ৪০ শতাংশ, যা পরে কমে ৩৬ শতাংশে নেমে আসে।

 

নিউজউইকের প্রতিবেদনে ইরান যুদ্ধের কম জনপ্রিয়তার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে কোনো হামলার পর এ যুদ্ধ শুরু হয়নি। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিভাজন জনমতকে আরও প্রভাবিত করেছে।

 

গ্যালাপের তথ্য অনুযায়ী, ইরান অভিযানের পক্ষে ৭৯ শতাংশ রিপাবলিকান, ২৬ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার এবং মাত্র ৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাট সমর্থন জানিয়েছেন।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনো সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সামরিক অভিযান থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব আগামী মাসগুলোতে আরও বাড়তে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

টাটা কেমিক্যালসকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার নির্দেশ কেনিয়ার

কেনিয়া থেকে ভারতীয় কোম্পানি টাটা কেমিক্যালসকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেনিয়া। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো এ কথা জানান। কেনিয়ার অন্যতম বড় খনিজ রপ্তানিকারক এবং আফ্রিকার শীর্ষ সোডা অ্যাশ উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চলমান বিরোধের মধ্যেই বৃহস্পতিবার এ নির্দেশ দেন তিনি।   কাজিয়াডো কাউন্টিতে এক বক্তব্যে রুটো অভিযোগ করেন, লেক ম্যাগাডি এলাকায় ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যক্রম চালালেও টাটা কেমিক্যালস স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেনি।   সোয়াহিলি ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ম্যাগাডির সঙ্গে ১০০ বছরের চুক্তি রয়েছে টাটা কেমিক্যালসের, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি যথেষ্ট কাজ করেনি। তাই তিনি সম্প্রতি কোম্পানিটিকে কার্যক্রম গুটিয়ে চলে যেতে বলেছেন।   রুটো আরও জানান, টাটা কেমিক্যালসের পরিবর্তে নতুন বিনিয়োগকারী আনার পরিকল্পনা করেছে তার সরকার। তিনি বলেন, দেশের খনিজ সম্পদ থেকে কেনিয়ার আরও বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে।   কেনিয়া প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, দুটি নতুন কোম্পানিকে সেখানে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কেনীয় নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্ব দেবে সরকার।   ভারতের টাটা গ্রুপের অংশ টাটা কেমিক্যালস ম্যাগাডি কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে লেক ম্যাগাডি এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি বছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি সোডা অ্যাশ উৎপাদন করে। ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এসব পণ্য রপ্তানি করা হয়।   রুটোর সবশেষ ঘোষণার আগে গত ২৮ জুলাই কেনিয়া সরকার টাটা কেমিক্যালস ম্যাগাডির খনন কার্যক্রম স্থগিত করেছিল। দেশটির খনি আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি অনিয়ম করেছে, এমন অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।   তখন কেনিয়ার খনি বিষয়ক মন্ত্রিসভার সচিব হাসান জোহো জানিয়েছিলেন, প্রতিষ্ঠানটি আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণ না করা পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।   তবে টাটা কেমিক্যালস গত মাসে জানায়, কেনিয়া সরকারের চাওয়া সব নথি তারা জমা দিয়েছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় বিধিবিধান মেনে চলার বিষয়টি প্রমাণ করেছে। কোম্পানিটির দাবি, কার্যক্রম স্থগিতের কারণে প্রায় ৫০০ কর্মী, পাশাপাশি ঠিকাদার, সরবরাহকারী এবং আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬

ইরানকে ‘বশে’ ব্যর্থ হয়ে এবার জাতিসংঘের দ্বারস্থ যুক্তরাষ্ট্রসহ ৪ দেশ

ভিজিট ভিসা নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা

বড় পরিবর্তন আসছে বিশ্ব মানচিত্রে, তীব্র আপত্তি যুক্তরাষ্ট্রের

গুরুতর অভিযোগ তুলে ‘মিত্র দেশ’ তুরস্কের ব্যাংকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

চীন ও ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের মধ্যে বাণিজ্যে সহায়তার অভিযোগে তুরস্কের একটি বিনিয়োগ ব্যাংক ও এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।   মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলভিত্তিক গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসি এবং এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।   মার্কিন ট্রেজারির অভিযোগ, তুরস্কের এই ব্যাংক ইরানের ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ নেটওয়ার্ককে চীন থেকে তুরস্কে তেল বিক্রির অর্থ স্থানান্তরে সহায়তা করেছে। পরে ওই অর্থ নগদ ও স্বর্ণে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি করা হতো বলেও দাবি করেছে ওয়াশিংটন।   মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সবশেষ নিষেধাজ্ঞা একটি ‘স্পষ্ট বার্তা’ দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আগামী সপ্তাহে আরও একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বেসেন্ট।   তবে মার্কিন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তুর্কি ব্যাংকটি। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং বিধিবিধান মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো লেনদেন ছিল না বলেও দাবি করেছে ব্যাংকটি।   বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটোর সদস্য তুরস্কের একটি ব্যাংককে লক্ষ্য করে নেয়া এই পদক্ষেপ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান ইরানবিরোধী ‘চাপ প্রয়োগ’ অভিযানে এবারই প্রথম কোনো ন্যাটো মিত্র দেশের একটি ব্যাংক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ল।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চীনের নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় সায় ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ: জাতিসংঘ

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা ‘চিকেনস নেকে’ নতুন মহাসড়ক বানাবে ভারত

ছবি: সংগৃহীত
ফকল্যান্ড নিয়ে ব্রিটেনকে কড়া বার্তা আর্জেন্টিনার

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে এবার সেখানে তেল উত্তোলনকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং দ্বীপপুঞ্জের আশপাশের তেল প্রকল্প বন্ধে নতুন আইন করার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন তিনি।   বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে মিলেই বলেন, ফকল্যান্ডের কাছে তেল ও গ্যাস উত্তোলনে জড়িত কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হবে। আর্জেন্টিনা যে ভূখণ্ডকে নিজেদের বলে দাবি করে, কিন্তু বর্তমানে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে থাকা সেই এলাকায় আর্জেন্টিনার অনুমতি ছাড়া পরিচালিত প্রকল্পকে তিনি দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।   মিলেই জানান, আর্জেন্টিনার বিদ্যমান আইনের আওতায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে তিনি একটি ডিক্রি জারি করবেন। শুধু তেল প্রকল্পে সরাসরি যুক্ত কোম্পানি নয়, তাদের অংশীদার, পরিচালক ও সরবরাহকারীদেরও শাস্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।   এর পাশাপাশি আর্জেন্টিনার কংগ্রেসে একটি জরুরি ‘ন্যাশনাল সার্বভৌমত্ব প্রতিরক্ষা’ বিল পাঠানোর কথা জানিয়েছেন মিলেই। প্রস্তাবিত আইনে ফকল্যান্ডের আশপাশে আর্জেন্টিনার অনুমতি ছাড়া পরিচালিত প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রাখা হবে।     মিলেইয়ের ঘোষণার কেন্দ্রে রয়েছে সি লায়ন তেল প্রকল্প। ফকল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় অববাহিকায় সমুদ্রের নিচে থাকা এই তেলক্ষেত্রটি পরিচালনা করছে যুক্তরাজ্যের রকহপার এক্সপ্লোরেশন ও ইসরায়েলের নাভিতাস পেট্রোলিয়াম। প্রতিষ্ঠান দুটির আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রকল্পটির উন্নয়নকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সি লায়ন তেলক্ষেত্রে আনুমানিক ১.৭ বিলিয়ন বা ১৭০ কোটি ব্যারেল তেল রয়েছে। এটি ফকল্যান্ডের উপকূল থেকে প্রায় ১৩০ মাইল দূরে। তুলনা হিসেবে, উত্তর সাগরে শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের পশ্চিমে অবস্থিত রোজব্যাংক তেলক্ষেত্রে আনুমানিক ৩০০ মিলিয়ন বা ৩০ কোটি ব্যারেল তেল রয়েছে।   মিলেই বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সি লায়ন প্রকল্পে তেল উন্নয়ন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা আর্জেন্টিনার স্বার্থের জন্য জরুরি হুমকি তৈরি করেছে। তার ভাষ্য, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ফকল্যান্ডের আশপাশের সমুদ্র থেকে আর্জেন্টিনার তেল উত্তোলনের বাস্তব সক্ষমতা তৈরি হয়ে যাবে।   ফকল্যান্ডকে আর্জেন্টিনায় ‘লাস মালভিনাস’ নামে উল্লেখ করা হয়। দ্বীপপুঞ্জটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের বিরোধ বহু পুরোনো। ১৮৩৩ সাল থেকে যুক্তরাজ্য দ্বীপগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। ১৯৮২ সালে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধও হয়েছিল। ওই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সামরিক সদস্য, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সামরিক সদস্য এবং তিনজন দ্বীপবাসী নিহত হন।   যুক্তরাজ্য অবশ্য ফকল্যান্ডের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, দ্বীপবাসীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে ও তারা যত দিন ব্রিটিশ ভূখণ্ড হিসেবে থাকতে চায়, তত দিন ফকল্যান্ড ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি থাকবে।   ২০১৩ সালে ফকল্যান্ডের বাসিন্দারা গণভোটে ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে থাকার পক্ষে বিপুল ভোট দেন। ওই ভোটে ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার ব্রিটিশ ভূখণ্ড হিসেবে থাকার পক্ষে ছিলেন।   তবে মিলেইয়ের সাম্প্রতিক অবস্থান আগের তুলনায় আরও কঠোর। এর আগে তিনি ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছিলেন। এবার তেল প্রকল্পকে সামনে রেখে কোম্পানি, তাদের অংশীদার ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নিয়েছেন।   মিলেই একই ভাষণে আর্জেন্টিনার দক্ষিণাঞ্চলীয় তিয়েরা দেল ফুয়েগো প্রদেশে একটি নৌঘাঁটি নির্মাণে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন। পাশাপাশি ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ও টেলিযোগাযোগ সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।   ফকল্যান্ড ইস্যুতে মিলেইয়ের নতুন অবস্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প বলেছেন, ফকল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবস্থান পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।   বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফকল্যান্ড নিয়ে সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যকে সহায়তা করবে কি না- এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা না করার অভিযোগ তোলেন।   মিলেই তার ভাষণে দাবি করেন, ফকল্যান্ড প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা আর্জেন্টিনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বিশ্বে এমন কিছু পরিবর্তনের ‘হাওয়া’ বইছে, যা আর্জেন্টিনার দাবির পক্ষে যাচ্ছে।   ফকল্যান্ড ইস্যুতে মিলেইয়ের এই কঠোর অবস্থানের একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। আগামী বছর আর্জেন্টিনায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা।   আর্জেন্টিনাতে দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্বের দাবি জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে তেল উত্তোলনের মতো একটি বাস্তব ও অর্থনৈতিক বিষয় কেন্দ্র করে মিলেইয়ের এই অবস্থান তাকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখতেও সহায়তা করতে পারে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। সূত্র: রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের সংঘর্ষে নিহত ৮১

মার্কিন সিনেট। ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলকে বয়কট করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বিল পাস

ছবি- সংগৃহীত

নেপালে ধসের ৯ দিন পর টানেল থেকে জীবিত উদ্ধার ২ শ্রমিক

0 Comments