সারাদেশ

ফ্লাইট অবতরণের পর অনাকাঙ্ক্ষিত ট্রলি যুদ্ধ, যাত্রীরা ভোগান্তিতে

Unknown অক্টোবর ০৭, ২০২৫

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় এক অনাকাঙ্ক্ষিত ‘ট্রলি যুদ্ধ’। দিনে প্রায় ২৫ হাজার যাত্রী এসে পৌঁছান, কিন্তু ট্রলির সংখ্যা মাত্র ৩,৬০০টি। এর ফলে যাত্রীদের সারারাত ভ্রমণ শেষে তাদের মালপত্র তুলতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

 

ভ্রমণকারীরা অভিযোগ করেছেন, ট্রলির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা একেবারেই কষ্টকর। বিশেষ করে বিদেশ থেকে দীর্ঘ ফ্লাইট শেষে ক্লান্ত যাত্রীদের জন্য এটি অতিরিক্ত ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বলেন, বিদেশের বিমানবন্দরগুলোতে এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায় না, যেখানে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণে ট্রলি সহজেই পাওয়া যায়।

 

কিন্তু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য ট্রলির ঘাটতি এবং ধাক্কাধাক্কি এখন সাধারণ দৃশ্য হয়ে গেছে।

 

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যাপ্ত ট্রলি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। তবে প্রতিদিনের ফ্লাইট বৃদ্ধির কারণে ট্রলির ঘাটতি এখনও সমস্যা তৈরি করছে। বিশেষ করে সকালে একসাথে একাধিক ফ্লাইট অবতরণের সময়, যাত্রীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

 

জানা গেছে, অনেক যাত্রী এই পরিস্থিতিতে মালপত্র পেতে চাপা-পিঠে চাপা পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। ট্রলি সংক্রান্ত এই সমস্যা শুধু যাত্রীদের ভোগান্তি তৈরি করছে না, বরং বিমানবন্দর কর্মীদেরও অতিরিক্ত চাপের মধ্যে ফেলছে।

 

যাত্রী এবং পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্রুত ট্রলি সংখ্যা বৃদ্ধি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করলে এই সমস্যা কমানো সম্ভব হবে। তবে যেহেতু প্রতিদিন ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ছে, তাই সমস্যার সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়াটাও জরুরি।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
বর্ষাকালীন ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত, আউশ-আমনে বিশেষ গুরুত্ব

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে চলতি বর্ষা মৌসুমের ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত করেছে সরকার। এবার আউশ ও আমন ধানের উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।   কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ, সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহনশীল জাতের ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।   কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এবার আউশ ও আমনের আবাদি জমির পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতি হেক্টরে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি জোরদার এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও বাড়ানো হচ্ছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক খাদ্য সংকট ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকির কারণে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই সময়মতো বীজ, সার, সেচ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।   এদিকে কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বলেও জানা গেছে।   কৃষি সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বড় ধরনের বাধা হয়ে না দাঁড়ালে চলতি মৌসুমে আউশ ও আমনের ভালো ফলন হবে এবং দেশের খাদ্য মজুত আরও শক্তিশালী হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ১৫, ২০২৬
'কাল বৈশাখীর তান্ডব'

'কাল বৈশাখীর তান্ডব' এক ঘুর্ণি পাকেই উড়ে গেল বসতঘর

ছবি : সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ে রাস্তায় মিলল ৫০ এসএসসি পরীক্ষার্থীর খাতা

ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনের ৪ বছর পর চেয়ারম্যান হলেন শামছুজ্জামান জামাল

ছবি : সংগৃহীত
টিকটক করার অভিযোগে নারীর মরদেহ দাফনে বাধা, এলাকায় উত্তেজনা

চুয়াডাঙ্গার শহরতলীতে নাচ-গান ও টিকটক করার অভিযোগে সুবর্ণা আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছে স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে দাফন কার্যক্রম থমকে যায়। জানা গেছে, বুধবার (১৩ মে) রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সুবর্ণা আক্তার। তিনি সেখানে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তার মরদেহ চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়াড় এলাকার নিজ বাড়িতে আনা হয়। তবে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পরপরই দাফন নিয়ে আপত্তি তোলে স্থানীয়দের একটি অংশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুবর্ণা ছোটবেলা থেকেই নাচ-গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কর্মকাণ্ড নিয়েও আপত্তি ছিল বলে দাবি করেন তারা। পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়। এসব কারণ দেখিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বলেন, তার চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আমাদের আপত্তি ছিল। তাই এলাকাবাসী এখানে দাফন দিতে রাজি হয়নি। অন্য বাসিন্দা মিনারুল ইসলাম বলেন, এটি আমাদের নিজস্ব কবরস্থান। তিনি বা তার পরিবার এখানে সদস্য না। আগে সদস্য হওয়ার কথা বলা হলেও তারা তা মানেননি। এদিকে সুবর্ণার পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার সৎ বাবা ইসরাইল হোসেন বলেন, এর আগে আমাদের পরিবারের আরেক সদস্যকে এখানেই দাফন করা হয়েছে। এখন কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে বুঝতে পারছি না। কবর খুড়তেও দেওয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অন্য কোথাও দাফনের কথা ভাবছি। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ পাড়ার ওহিদ মোল্লার মেয়ে সুবর্ণা আক্তারের বিয়ে হয়েছিল চুয়াডাঙ্গার তুহিনের সঙ্গে। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি স্বামী-সন্তান রেখে ঝিনাইদহের শৈলকুপার পাভেলের সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন। পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক পারিবারিক অশান্তির কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেন। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একজন মৃত ব্যক্তির দাফনকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় মানবিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

কোরবানির ৮ ঘণ্টার মধ্যে নগরী বর্জ্যমুক্ত করা হবে : সিসিক প্রশাসক

ছবি : সংগৃহীত

স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৪ জন

ছবি: সংগৃহীত

পাহাড়ি পশুর হাটে অজ্ঞান পার্টির আতঙ্ক

সংগৃহীত ছবি
সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৪ হাজার

সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। ১১ হাজার ৯৭ জন মোট ভোটারের মধ্যে এবার ভোট দিয়েছেন ভোট দিয়েছেন ৪ হাজার ৪৮ জন আইনজীবী। গত পাঁচ নির্বাচনের তুলনায় এবার সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে। আজ  বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। গত দুই দিন (বুধ ও বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে এই ভোটগ্রহণ চলে। সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৪ পদের বিপরীতে তিনটি প্যানেলে ৪০ জন প্রার্থী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা যে প্যানেল থেকে নির্বাচন করেন, সেটি নীল প্যানেল হিসেবে পরিচিত। এই প্যানেল থেকে এবারও সভাপতি পদে দাঁড়িয়েছেন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি সমিতির বর্তমান সভাপতি। সম্পাদক পদে আছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী। জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন সবুজ প্যানেল থেকে। আর লাল-সবুজ প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এনসিপিপন্থীরা। আওয়ামীপন্থী আইনজীবী সাদা প্যানেলে নির্বাচন করে থাকেন। এবারের নির্বাচনে সাদা প্যানেল থেকে কেউ প্রার্থী হননি। তবে আওয়ামীপন্থী আখ্যা দিয়ে ৪১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিলের অভিযোগ উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী গত ২৯ এপ্রিল এই অভিযোগ তোলেন। সভাপতি পদে তিনি নিজেও প্রার্থী হয়েছিলেন। এরপর গত ৬ মে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানায় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি। আর নির্বাচনের আগেরদিন গত ১২ মে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সাধারণ আইনজীবীদের ভোটদান থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান আরেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোকছেদুল ইসলাম। তিনি সম্পাদক পদে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। গত পাঁচ বছরের ভোটের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৭ হাজার ৮৮৩ ভোটারের মধ্যে ৫ হাজারর ৩১৯ জন ভোট দেন। ২০২৩ সালে ৮ হাজার ৬০২ ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ১৩৭ জন, ২০২২ সালে ৮ হাজার ৬২৩ জনের মধ্যে ৫ হাজার ৯৮৩ জন, ২০২১ সালে ৭ হাজার ৭২১ ভোটারের মধ্যে ৫ হাজার ৬৭৬ জন এবং ২০২০ সালে ৭ হাজার ৭৮১ ভোটারের মধ্যে ৫ হাজার ৯৪০ জন ভোট দিয়েছেন। তবে এবার ভোটার বেড়ে ১১ হাজার ৯৭ হলেও ভোট দিয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ৪৮ জন।

মারিয়া রহমান মে ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

একজন পরীক্ষার্থী, তবু কেন্দ্রে ৮ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন

গ্যাসের চুলা। ছবি : সংগৃহীত

টানা দুই দিন ৮ ঘণ্টা করে গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারে বাসা থেকে এক লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার

0 Comments