গাজার উদ্দেশ্যে যাওয়া মানবিক সহায়তাকারী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটক করায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌযান আটক করা আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন। ইসরায়েলকে অবিলম্বে সব মানবিক সহায়তা কর্মী ও অ্যাক্টিভিস্টদের নিঃশর্ত মুক্তি ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।
বাংলাদেশ সরকার আরও বলেছে, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলমান অবরোধ ও গণহত্যা বন্ধ করতে হবে এবং গাজায় অবিলম্বে বাধাহীন মানবিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ প্রায় ৪৫টি জাহাজ নিয়ে গত মাসে স্পেন থেকে গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারকর্মী, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকরা ছিলেন। তাদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও রয়েছেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যেই দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে। অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যেই ফ্লোটিলা যাত্রা করেছিল। কিন্তু গত বুধবার থেকে ইসরায়েলি নৌবাহিনী নৌবহরের প্রায় সবগুলো জাহাজ আটক করে।
এ ঘটনায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, “ইসরায়েল জলদস্যুতা করেছে।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
প্রশাসনে এসেছে বড় রদবদল, যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার ৯ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করেছে সরকার। সেইসঙ্গে আরও ২ যুগ্ম-সচিবের পদে রদবদল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-২ ও প্রেষণ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক ১১টি প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হাইড্রোকার্বন ইউনিটের মহাপরিচালক (যুগ্ম-সচিব) মো. সাবেত আলীকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত যুগ্ম-সচিব এস এম তুহিনুর আলমকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রেষণে দায়িত্ব পালন শেষে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদান করা যুগ্ম-সচিব মো. আবুল হোসেনকে জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির (নাডা) এমডিএস হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এদিকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম-সচিব মো. অলিউর রহমানকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) পরিচালক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সৈয়দ ফরহাদ হোসেনকে ‘অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব ডি এম আতিকুর রহমানকে নবগঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের’ মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. জহিরুল ইসলাম খানকে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক এবং রাজশাহী বিভাগের কৃষি বিপণন কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বেগম শাহানা আখতার জাহানকে রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের পরিচালক এরশাদ হোসেন খানকে ঢাকা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের চারটি উপজেলায় আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে নির্যাতিত বিএনপির প্রায় ৮০০ নেতা-কর্মীকে নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে আনন্দভ্রমণ করেছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের (তাহিরপুর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর) সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। গতকাল শুক্রবার দিনব্যাপী এ আয়োজনে নেতা-কর্মীদের সম্মাননা স্মারক ও উপহার দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১৬ বছর তাহিরপুর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর উপজেলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে যাঁরা গায়েবি মামলার আসামি হয়ে কারাবরণ করেছেন, বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছেন, তাঁদের নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ ও পুনর্মিলনীর আয়োজন করেন এমপি কামরুজ্জামান কামরুল। দুপুরে তাহিরপুর থেকে ১০টি নৌকায় করে টাঙ্গুয়ার হাওরে যান নেতা-কর্মীরা। তাঁদের সবার গায়ে ছিল একই রঙের টি-শার্ট। প্রতিটি নৌকায় ছিল গানবাজনার আয়োজন। টাঙ্গুয়ার হাওরে নেতা-কর্মীরা সবাই একসঙ্গে দুপুরের খাবার খান। এরপর বিকেলে টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে নৌকা নিয়ে সবাই পাশের মাটিয়ান হাওরে যান। সেখানে হাওরপারে বোয়ালমারা এলাকায় পুনর্মিলনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এখানে নেতা-কর্মীরা বক্তব্য দেন। আন্দোলন-সংগ্রামের দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করেন। এখানে সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে তাঁদের সম্মাননা স্মারক ও উপহার দেওয়া হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। বিগত নির্বাচনে এ আসনে প্রথমে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক। প্রতীক বরাদ্দের আগের দিন মনোনয়ন পরিবর্তন করে কামরুজ্জামান কামরুলকে দেওয়া হয়। আনিসুল হকও আনন্দভ্রমণে অংশ নেন এবং পুনর্মিলনী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। সভাপতির বক্তব্যে আনিসুল হক বলেন, ‘১৬টি বছর আমরা সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হয়েছি। নেতা-কর্মীরা বাড়িঘরে থাকতে পারেননি। স্বৈরাচারের বিদায় এবং আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ যে নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে, এর পেছনে নেতা-কর্মীদের অনেক ত্যাগ আছে। তাঁদের সব সময় মূল্যায়ন করতে হবে, সম্মান জানাতে হবে। সংসদ সদস্যকে এই আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানাই।’ তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জুনাব আলীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব খান, তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান, মো. রাকাব উদ্দিন, মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবে হায়াত, ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হক, জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নূরুল হক আফিন্দী প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে বিগত দিনে যেভাবে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে মাঠে থেকেছি, একে অপরের পাশে থেকেছি, হাতে হাত রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি; এখনো সেভাবেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করতে হবে। আমাদের মাঝে কোনো বিভেদ-বিভক্তি থাকবে না। আমরা সবাইকে সম্মান করব, সবাইকে মূল্যায়ন করব। সবাইকে নিয়ে কাজ করব। আনন্দ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য সেটাই।’ পরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আনন্দভ্রমণ ও পুনর্মিলনী শেষে হাওর থেকে ফেরেন নেতা-কর্মীরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়া সফর উপলক্ষে একটি কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছিয়ে পরে তা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শুক্রবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা ও চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সাময়িকভাবে ওই সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থায়ী সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করার লক্ষ্যে ইটগুলো অপসারণ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সড়কটি আগেই পাকাকরণের জন্য অনুমোদিত ছিল এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। তাই স্থায়ী নির্মাণকাজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই অস্থায়ী সোলিং তুলে নেওয়া হয়েছে। মতবিনিময় সভায় বগুড়ার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, শহরের বাইরে একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কৃষি, প্রকৌশল, চিকিৎসা ও বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকবে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপস্থাপন করা হবে। এ ছাড়া বগুড়ায় একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রস্তাবিত প্রকল্পে পাইলট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কার্গো সুবিধা, আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিমানঘাঁটির অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রেল যোগাযোগ উন্নয়নের অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি শহরের ভেতরে রেললাইন স্থানান্তর এবং মেট্রোরেল আদলে আধুনিক ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাবতলী উপজেলার একটি ৫০০ মিটার কাঁচা সড়ক পাকাকরণের জন্য আগেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সেখানে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়। সফর শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই ইটগুলো অপসারণ করা হয়। এ বিষয়ে এলজিইডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসরণ করেই অস্থায়ী সোলিং করা হয়েছিল। স্থায়ী সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কারণে ঠিকাদারকে ইট সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। তাদের দাবি, ইট ক্রয় না করে ভাড়ায় ব্যবহার করায় সরকারি ব্যয়ও তুলনামূলক কম হয়েছে।