সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, পুনরায় অস্ত্রায়ন কর্মসূচি ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইতালিজুড়ে সোমবার সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়েছে।
ইতালির ইউএসবি শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের ডাকে ‘আমরা সবকিছু থামিয়ে দেব’ স্লোগানে এ ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়।
আন্দোলনকারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সামরিক খাতে বাড়তি ব্যয় এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পরিবর্তে অস্ত্র কেনাকে সরকারের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিবাদ জানান।
একই সঙ্গে তারা গাজায় ইসরায়েলি হামলার নিন্দা করেন এবং গাজার উদ্দেশে মানবিক সহায়তা নিয়ে যাত্রা করা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র প্রতি সমর্থন জানান।
রাজধানী রোমসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। রোমের পিয়াজা দেই চিনকোয়েচেন্তো চত্বরে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনি পতাকা প্রদর্শন করেন এবং ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের প্রতি ইতালির নীতিগত সমর্থন বন্ধ করতে হবে। যুদ্ধ অর্থনীতির পরিবর্তে সামাজিক খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে।
ধর্মঘটের কারণে দেশজুড়ে পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। রোমে একটি মেট্রো লাইন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। নেপলসেও একটি মেট্রো লাইনের চলাচল বন্ধ ছিল। মিলানে কিছু উপশহরীয় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয় এবং লিভোর্নো বন্দরের শ্রমিকরাও কর্মবিরতি পালন করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কর্মীরা বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে উপেক্ষা করে সামরিক ব্যয় বাড়ানো সাধারণ মানুষের স্বার্থের পরিপন্থি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দীর্ঘ ৪৭ বছর পর ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপে লাইসেন্সপ্রাপ্ত আউটলেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে মদ বিক্রির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার লাক্ষাদ্বীপ মদ্যপান নিষেধাজ্ঞা আইন ১৯৭৯ বাতিল করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৯৭৯ সালের এই আইনের কারণে মূলত পুরো দ্বীপপুঞ্জটিই এতদিন মদমুক্ত ছিল, যেখানে কেবল কাভারাত্তি ও বাঙ্গারাম দ্বীপের সরকারি বার ও পর্যটন রিসোর্টগুলোর জন্য সীমিত ছাড় ছিল। গত ৫ জুন প্রকাশিত একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা আইনটি বাতিল করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রশাসক কর্তৃক অফিসিয়াল গেজেটে বিজ্ঞাপিত তারিখ থেকে নতুন নিয়মটি কার্যকর হবে। নতুন লাক্ষাদ্বীপ আবগারি বিধিমালা ২০২৬ অনুযায়ী আগের নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার পরিবর্তে এখন মদের উৎপাদন, দখল, আমদানি, রফতানি, পরিবহন, ক্রয়, বিক্রয় ও ব্যবহারের জন্য একটি লাইসেন্সিং কাঠামো চালু করা হচ্ছে। এটি সরকারি মালিকানাধীন কর্পোরেশন এবং সংস্থাগুলোকে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় আমদানি ও খুচরা বিক্রির লাইসেন্স নেওয়ার অনুমতি দেবে। তবে, অ্যালকোহল সংক্রান্ত করের হার অনেক বেশি রাখা হয়েছে। ইন্ডিয়ান মেড ফরেন লিকার (আইএমএফএল) এবং বিদেশী মদের ওপর আবগারি শুল্ক ৪০০ শতাংশ, বিয়ারের ওপর ২০০ শতাংশ এবং ওয়াইনের ওপর ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রসঙ্গগত, দিল্লিতে আইএমএফএল, বিয়ার, ওয়াইন এবং আমদানিকৃত বিদেশী মদের ওপর ২৫ শতাংশ ভ্যাট নেওয়া হয়। অবশ্য এই নতুন বিধিমালার মানেই অবাধ মদের বাজার নয়। মদ্যপান নিয়ন্ত্রণ, ক্রয় ও নিজেদের কাছে রাখার সীমা নির্ধারণ, এমনকি লাক্ষাদ্বীপের সম্পূর্ণ বা যেকোনও অংশে মদ্যপান নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষমতা প্রশাসকের হাতেই থাকছে। এছাড়া ২১ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিদের কাছে মদ বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ৩৬টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত লাক্ষাদ্বীপ দ্বীপপুঞ্জের ১০টি দ্বীপ মানববসতিপূর্ণ; যার মধ্যে রয়েছে আগাত্তি, আমিনি, আন্দ্রোত, বিত্রা, চেতলাত, কাদমাত, কালপেনি, কাভারাত্তি, কিলতান এবং মিনিকয়। বিদেশী এবং ভারতীয় পর্যটকদের বিশেষ অনুমতিপত্র নিয়ে এই দ্বীপপুঞ্জে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বিদেশী পর্যটকদের যাতায়াত কেবল আগাত্তি, বাঙ্গারাম ও কাদমাত দ্বীপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। মঙ্গলবার লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ সেন্ট বা ১ শতাংশ কমে ৯৩ দশমিক ৩৪ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ১৩ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৯০ দশমিক ১৭ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে ইসরায়েলের নতুন হামলা এবং লেবাননের পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। তবে ইরান সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বিনিয়োগকারীরা এখনো নিশ্চিত নন যে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে। কারণ উভয় পক্ষই প্রয়োজনে আবার হামলা শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর ইরান ও ইসরায়েল সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ করেছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হামলা চলতে থাকলে তারা আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আপাতত কিছুটা শান্ত হলেও স্থায়ী শান্তিচুক্তি এখনো অনিশ্চিত। ফলে তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। সূত্র : রয়টার্স
মুসলমানদের জন্য পবিত্র ভূমি সৌদি আরব। পবিত্র দুই নগরী মক্কা ও মদিনা অবস্থিত সৌদি আরবে। প্রতিবছর সারা বিশ্ব থেকে লাখো মুসলমান সৌদি আরব যান হজ করতে। এখন চাইলে আপনি নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে সেই পবিত্র ভূমিতে সম্পত্তি কিনতে পারবেন। এমনকি সৌদি আরবে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য না করেও আপনি সম্পত্তি কেনার এই সুযোগ নিতে পারবেন। তবে এর জন্য আপনাকে মানতে হবে কিছু শর্ত। বিদেশি নাগরিকদের সৌদি আরবে সম্পত্তি কেনায় উৎসাহিত করতে এবং বিদেশি কম্পানির নিবন্ধন সহজ করতে দেশটির বিনিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘ইনভেস্টর গাইড ২০২৬’এ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে। সম্প্রতি সৌদি বিনিয়োগ মন্ত্রণালয় এর বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। মূলত সম্পত্তি কেনার প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। জমা দিতে হবে যেসব নথি নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সৌদি আরবে সম্পত্তি কিনতে আগ্রহী বিদেশি কম্পানিগুলোকে তাদের নিজ দেশের বাণিজ্যিক নিবন্ধন সনদ জমা দিতে হবে। তবে জমা দেওয়ার আগে সেটি অনুমোদিত অনুবাদ অফিস দ্বারা অনুদিত এবং সেই দেশের সৌদি দূতাবাস দ্বারা প্রত্যয়ন করে দিতে হবে। পাশাপাশি আগ্রহী কম্পানির আর্টিক্যালস অফ ইনকরপোরেশন একইভাবে অনুবাদ ও প্রত্যয়ন করে দিতে হবে। আগ্রহী কম্পানিকে সৌদি আরবে কম্পানির একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে। প্রতিনিধি নিয়োগের নথিও একই প্রক্রিয়ায় অনুবাদ ও প্রত্যায়িত হতে হবে। সম্পত্তি কিনতে আগ্রহী কম্পানির নিবন্ধন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে একই প্রক্রিয়া অনুমোদিত প্রতিনিধিকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিতে হবে। আগ্রহী কম্পানিকে তার নিজ দেশের সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে ডিজিটাল পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। সব শর্ত মেনে সৌদি আরবের বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত হওয়ার পর কম্পানির ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা যাবে না। পরিবর্তন এলে নিবন্ধন নবায়ন করা যাবে না। সৌদি আরব বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ের ইলেকট্রনিক পোর্টালের মাধ্যমে আগ্রহী কম্পানি এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে। বিদেশি রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকে স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত করতে এবং নতুন বিনিয়োগ আইনের সঙ্গে প্রক্রিয়াগুলোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই ‘ইনভেস্টর গাইড ২০২৬’-এ এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে সৌদি বিনিয়োগ মন্ত্রণালয় দাবি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সংযোজনের ফলে সৌদি আরবের রিয়েল এস্টেট খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। সৌদি আরব তেল নির্ভরতা কমিয়ে তাদের অর্থনীতির বহুমুখীকরণের যে উদ্যোগ নিয়েছে এই প্রক্রিয়া তাতে গতি আনবে। আইনি প্রক্রিয়া সহজ করায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হবেন। তার চেয়ে বড় কথা হলো, পুরো প্রক্রিয়াটি সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে প্রত্যায়িত হওয়ায় এবং ডিজিটাল পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক হওয়ায় এতে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। রিয়েল এস্টেট খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে সৌদি আরবে নির্মাণ খাতে কর্মসংস্থান বাড়বে, অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।