বিশ্বকাপ চলাকালেই আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার বিরুদ্ধে সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনের অভিযোগে তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছিল স্প্যানিশ গণমাধ্যম মার্কা। তবে এবার স্বয়ং আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ইনফোবে এবং ক্লারিন বলছে, তাপিয়াসহ এএফএ’র কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও মোবাইল জব্দ করেছে এফবিআই। সেই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছে এএফএ।
আর্জেন্টাইন ফুটবল প্রধানকে তলবের বিষয়ে গণমাধ্যম দুটির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এফবিআই সদস্যরা একটি অভিযান চালায়। যার তদন্তের লক্ষ্য ছিল এএফএর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর আর্থিক কাঠামো। সেখানে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা তাপিয়া ও অন্য কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস চেয়েছিলেন।
এ ছাড়া এএফএ সভাপতিকে আগামী ৩০ জুলাই ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। তাদের দাবি– যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাপিয়ার কাছে ট্যুরপ্রডএন্টার নামে ফ্লোরিডায় নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য চেয়েছে। ব্যবসায়ী হাভিয়ের ফারোনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই প্রতিষ্ঠান স্পন্সরশিপ চুক্তি, প্রীতি ম্যাচ এবং টেলিভিশন স্বত্ব বিক্রির ক্ষেত্রে এএফএ’র একচ্ছত্র বাণিজ্যিক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।
ক্লারিন বলছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো– আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের স্পন্সরদের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার মায়ামির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গ্রহণ করা হলেও, এএফএ এখন পর্যন্ত সেই অর্থ নিজেদের আর্থিক বিবরণীতে দেখায়নি। এ ছাড়া আরও নানা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
আর্জেন্টাইন দুটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই খবর গত কয়েক ঘণ্টায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে দ্রুততম সময়ে সেই দাবি নাকচ করে বিবৃতি দিয়েছে এএফএ। আর্জেন্টাইন ফেডারেশন জানিয়েছে, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে নথির কথা বলা হচ্ছে, সেটি এএফএর সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া বা প্রতিষ্ঠানের কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনোর উদ্দেশে জারি করা কোনো সমন নয়।’
তবে একই বিবৃতিতে এএফএ স্বীকার করেছে যে, ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের জারি করা সমনটি একটি ‘তৃতীয় পক্ষের’ উদ্দেশে, যাকে গ্র্যান্ড জুরির সামনে হাজির হতে এবং প্রয়োজনে এএফএর কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে ঘিরে থাকা নথিপত্র ও যোগাযোগের তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। ফলে তাপিয়া বা পাবলো তোভিগিনোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করেছে এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। একইভাবে তাদের মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করার বিষয়টিও সম্পূর্ণ অসত্য।
আর্জেন্টাইন ফেডারেশন আরও বলছে, সংশ্লিষ্ট নথিতে সভাপতি বা কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়নি। তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, তাদের ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি এবং তাদের কোনো সম্পদ জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়ারও উল্লেখ নেই। এএফএ কর্মকর্তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে এমন মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সেপ্টেম্বরে জাপানে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন দলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। বিদেশি কোচিং স্টাফ নিয়োগের পাশাপাশি সাবেক দুই অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি ও পুষ্কর ক্ষিসা মিমোকে আবারও জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে শেষ সময়ের এই পরিবর্তনের কারণে তাদের এশিয়ান গেমসে খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। এশিয়ান গেমসের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের নাম চূড়ান্ত করার শেষ সময় ছিল ৩০ জুন। এই গেমসে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডই ভিসার কাজ করে এবং আয়োজক দেশ জাপান শিগগিরই অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর কার্ড পাঠাতে যাচ্ছে। ফলে এখন নতুন করে কার্ড অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত কঠিন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশের ২৭টি ক্রীড়া ফেডারেশনের কমিটি পরিবর্তনের পর বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে কর্মকর্তা ও কোচ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, শুটিং ও ভারোত্তোলনসহ ১১টি ফেডারেশন কোচ, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা মিলিয়ে প্রায় ৪০ জনের পরিবর্তনের আবেদন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) কাছে পাঠিয়েছে। বিওএর সহ-সভাপতি ও এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব.) বলেন, নির্ধারিত সময়সীমা অনেক আগেই শেষ হয়েছে এবং গেমস শুরু হতে আর এক মাসও বাকি নেই। ফেডারেশনগুলোর অনুরোধ আয়োজকদের কাছে পাঠানো হয়েছে, তবে সেগুলো গ্রহণ করা হবে কি না, তা পুরোপুরি আয়োজক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স জানিয়েছেন, নির্বাহী কমিটির সভার পর খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তা মিলিয়ে ছয়জনকে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিওএর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেফাউল কবির (অব.) চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ক্রীড়া প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, এশিয়ান গেমসের নিবন্ধন প্রক্রিয়া দেড় বছর আগে শুরু হয়। প্রথমে বড় পরিসরের লং লিস্ট করা হয়, পরে সেখান থেকেই শর্ট লিস্টে পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়। যাদের নাম লং লিস্টে ছিল না, তাদের ডেডলাইন পার হওয়ার এক মাস পর নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা বাস্তবে খুবই কঠিন। এ কারণে জিমি, মিমো এবং নতুন বিদেশি কোচিং স্টাফের কার্ড অনুমোদন না হলে বাংলাদেশের হকির জার্মানি সফর, প্রস্তুতি ম্যাচ এবং এশিয়ান গেমসের সামগ্রিক পরিকল্পনা বড় ধরনের ধাক্কায় পড়তে পারে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ১৯৭৮ সাল থেকে এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়ে আসছে। সেই অভিষেক আসরেও শেষ মুহূর্তের কার্ড জটিলতায় নতুন অন্তর্ভুক্ত কয়েকজন ফুটবলার অংশ নিতে পারেননি। প্রায় পাঁচ দশক পর আবারও একই ধরনের জটিলতা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বরাবরের রীতি অনুসরণ করে টেস্টের আগের দিনই একাদশ ঘোষণা করে দিল অস্ট্রেলিয়া। অনুমিতভাবেই দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও বাউ ওয়েবস্টারকে রেখে একাদশ সাজিয়েছে তারা। ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার শুরু এই টেস্ট দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসের ব্যস্ততম মৌসুম শুরু হচ্ছে। সামনের ১১ মাসে ২০টি টেস্ট খেলবে তারা, আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠলে টেস্ট হবে ২১টি। ওপেনিংয়ে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে থাকছেন ডারউইনের ঘরের ছেলে জেইক ওয়েদেরল্ড। ডারউইন তথা নর্দান টেরিটরিতে জন্ম ও এখানেই বেড়ে ওঠা একমাত্র টেস্ট ক্রিকেটার তিনি। এই সিরিজটি তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত অ্যাশেজে পাঁচ টেস্ট খেলে স্রেফ একটি ফিফটি করলেও দলে টিকে গেছেন বাঁহাতি ওপেনার। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো করতে না পারলে নিশ্চিতভাবেই জায়গা হারাবেন। দলে জায়গা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আছেন মার্নাস লাবুশেনও, যিনি নামবেন তিন নম্বরে। সবশেষ সাত ইনিংসে তার ফিফটি নেই, শতরান নেই ৪০ ইনিংস ধরে। ৩০ টেস্ট শেষের তার গড় ছিল ষাটের বেশি, ৫০ টেস্ট শেষে গড় ছিল পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই, এখন তা নেমে হয়েছে ৪৪.৭০। এই সিরিজেও বড় রান না পেলে সামনের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তাকে দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা সামান্যই। চারে স্টিভেন স্মিথ। তাকে নিয়ে বলার আছে সামান্যই। গ্রিন খেলবেন পাঁচে। গত এক বছরে তিন, পাঁচ, ছয়, সাত, আট, সব পজিশনেই খেলেছেন তিনি। অলরাউন্ডার হলেও মূলত বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবেই তাকে ব্যবহার করছে অস্ট্রেলিয়া। তবে তার ওপর নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থা প্রবল থাকলেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন কমই। সবশেষ ১০ ইনিংসে তার ফিফটি নেই, সবশেষ ১৯ ইনিংসে ফিফটি ১৯টি। তার ওপরও চাপ আছে বড় রান করার। ছয় নম্বরে অ্যালেক্স কেয়ারির জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। বাউ ওয়েবস্টার খেলবেন সাতে। এখনও পর্যন্ত আট টেস্ট খেলে পাঁচটি ফিফটি করেছেন এই অলরাউন্ডার। দলের বিপর্যয়ে দারুণ কিছু ইনিংসও উপহার দিয়েছেন। বল হাতেও তিনি বেশ কার্যকর। এরপর চার বিশেষজ্ঞ বোলার। বিখ্যাত পেস ত্রয়ী প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হেইজেলউড আবার একসঙ্গে নামছেন এক বছরেরও বেশি সময় পর। চোটের কারণে গত অ্যাশেজে একটি টেস্ট মাত্র খেলতে পেরেছিলেন কামিন্স, হেইজেলউড খেলতে পারেননি একটিও। সব ঝামেলা কাটিয়ে তারা ফিরেছে। অ্যাশেজের মাঝপথে ছিটকে পড়া অফ স্পিনার ন্যাথান লায়নও ফিরেছেন ফিট ও চনমনে হয়ে। মূল পেসারদের অনুপস্থিতিতে বরাবরই ভালো পারফর্ম করা স্কট বোল্যান্ডকে থাকতে হচ্ছে একাদশের বাইরে। তার ও হেইজেলউডের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া কঠিনই ছিল, বললেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। “ওরা দুজনেই বেশ উঁচু মানের, তাই না? আমরা প্রায় নিশ্চিত ছিলাম যে লায়োনোকে (লায়ন) দলে চাই, তাই (বিষয়টা এসে দাঁড়িয়েছিল) পেস বোলিং আক্রমণের গঠন কেমন হবে, তা ঠিক করার ওপর। এটা সবসময়ই একটা কঠিন সিদ্ধান্ত। এমন একটা পরিস্থিতি, যেখানে স্কটিকে (বোল্যান্ড) এটা বলা ছাড়া আর বিশেষ কিছু বলার থাকে না যে, সামনে অনেক খেলা আছে। সে তার মূল্য জানে এবং এটাও জানে, সে কতটা ভালো। আমি নিশ্চিত খুব দ্রুতই কোনো এক সময়ে সে মাঠে নামবে।” অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ট্রাভিস হেড, জেইক ওয়েদেরল্ড, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স কেয়ারি, বাউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, ন্যাথান লায়ন, জশ হেইজেলউড।
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দলটির নেতৃত্বে থাকছেন ইরফান শুক্কুর। আগামী ১৪ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়বে এইচপি দল। পুরো টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে ডারউইনে, আর খেলা শুরু হবে ২১ আগস্ট। ঘোষিত দলে জায়গা পেয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার সাব্বির রহমান। এছাড়া আছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী, রিপন মণ্ডল, মোহাম্মদ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ও জিসান আলম। এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে নেপাল জাতীয় দল, নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দল, বিগ ব্যাশের হোবার্ট হ্যারিকেন্স, ক্রিকেট ভিক্টোরিয়া, অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স এবং স্বাগতিক নর্দান টেরিটরি স্ট্রাইকের একাডেমি দল। বাংলাদেশ এইচপি স্কোয়াড: ইরফান শুক্কুর (অধিনায়ক), হাবিবুর রহমান সোহান, জিসান আলম, এস এম মেহেরোব হাসান, সামিউন বসির রাতুল, সাব্বির রহমান, রোহানাত দৌল্লাহ বর্ষণ, রাকিবুল হাসান, আরিফুল ইসলাম, আবদুল গাফফার সাকলাইন, রিপন মণ্ডল, মো. রুবেল, আবু হায়দার রনি, শামীম হোসেন পাটোয়ারী ও মোহাম্মদ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।