সারাদেশ

ষড়যন্ত্র রুখতে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ 0


ভোটের দিন এবার তাহাজ্জুদ ও ফজরের নামাজ পড়েই ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এবার অনেক ষড়যন্ত্র হতে পারে। সব ষড়যন্ত্র পরাজিত করতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সবসময়ই সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা পৌর স্টেডিয়ামে বিএনপির আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব আহ্বান জানান তারেক রহমান।


তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র থেমে নেই। একটি দল যাদের স্বাধীনতার সময় একটি ভূমিকা ছিল, তাদের কিন্তু মানুষ ভুলে যায়নি, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে সবাইকে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় গেলে মা-বোনদের জীবন এগিয়ে নিয়ে স্বাবলম্বী করার জন্য বিএনপি কাজ করবে। মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতা চালু করা হবে৷ কৃষকদের জন্য অনেক কাজ হাতে নেওয়া হবে৷ জেলা-উপজেলায় এমনকি গ্রামে রাস্তা অনেক খারাপ৷ এগুলো ঠিক করা হবে জরুরি।


বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সমস্যা রয়েছে৷ সরকারি হাসপাতালে ঔষধ ও চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায় না তেমন৷ এগুলো ঠিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে৷ এর জন্য নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ধানের শীষে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে৷
এসময় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান কিশোরগঞ্জের ৬টি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল আলম। এতে জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
অটোরিকশাযোগে সরকারি বই নিয়ে যাচ্ছে।
গোপনে সরকারি বই বিক্রি

নওগাঁর পোরশায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে গোপনে সরকারি বই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ছুটির দিনে বই বিক্রির সময় স্থানীয়রা অটোচালককে আটকের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার নিতপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ গেটে প্রায় ৭০০ কেজি বই পাচারের সময় স্থানীয় জনগণ বইগুলো আটক করে। অভিযুক্ত বিক্রেতা আমানত আলী উপজেলার নিতপুর মাস্টারপাড়ার মৃত বিসমিল্লাহ’র ছেলে এবং পোরশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সহকারী হিসেবে কর্মরত। ক্রেতা তাইফুর আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার কালিতলা কুজারমোড় এলাকার মৃত শওকত আলীর ছেলে। শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের জন্য দেওয়া বিনা মূল্যের সরকারি পাঠ্যবই বিক্রি করার সময় আটকের পর শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরের দিকে একটি অটোরিকশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে প্রবেশ করে। এবং অফিসের কর্মচারী আমানত আলীর যোগসাজশে সরকারি প্রায় ৭০০ কেজি বই অটোরিকশায় নিয়ে যেতে লাগে। বইগুলো আমানত আলীর কাছ থেকে কিনেছিলেন তাইফুর আলী নামের এক ব্যক্তি। আর তাইফুরের ভাড়া হিসেবে বইগুলো নিয়ে যাচ্ছিলেন অটোরিকশাচালক। রিকশাটি উপজেলার নিতপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ গেটে পৌঁছার পর স্থানীয়রা জানতে পেরে অটোরিকশাটি আটকে দেয়। সেই সঙ্গে অটোচালককে আটকে রেখে ইউএনওকে খবর দেন। এবং ইউএনওর পরামর্শে জব্দ বইসহ ভ্যানচালককে তার অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ঘটনার সময় বিক্রেতা ও ক্রেতা কেউ উপস্থিত ছিল না। জানাজানির পর তারা সবাই চলে যায়। সরকারি বই গোপনে বিক্রির বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এতে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। জানা গেছে, বিক্রীত বইগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা। টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই সরকারি বই বিক্রির ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, অভিযুক্ত আমানত আলী প্রথমে এ অফিসে পিয়ন পোস্টে চাকরি করতেন। পরবর্তীতে তিনি অফিস সহকারী পদে পদোন্নতি পেয়ে সাপাহার মাধ্যমিক অফিসে বদলি হন। আবারও তিনি তদবির করে পোরশা মাধ্যমিক অফিসে বদলি হয়ে আসেন। আমানত আলী স্থানীয় হওয়ার কারণে বরাবরই তিনি অফিসে বেপরোয়া চলাফেরাসহ বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ টাকা ছাড়া কোনো কাজ করতেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আমানত আলী মুঠোফোনে কালবেলাকে বলেন, একজনের অনুরোধে বইগুলো দিয়েছিলাম। এছাড়া পরিষ্কার করার জন্য বইগুলো নিয়ে যাচ্ছিল। আমি কোনো টাকা নেইনি। তবে এটা আমার ভুল হয়েছে। আর অন্য সব অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন। আমি সামান্য একজন কর্মচারী। আমি খুব ভালোভাবে কাজ করি। সাপাহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও পোরশার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শামসুল কবীর মুঠোফোনে কালবেলাকে বলেন, আমি ঈদের ছুটিতে ছিলাম। বিষয়টি ইউএনও মহোদয় আমাকে জানানোর পর আমি আমানত আলীকে ফোন দিলে সে গোডাউন পরিষ্কারের অজুহাত দেয় আমাকে। বলে বইগুলো ২৪ সালের। কিন্তু যতই পুরোনো বই হোক সংশ্লিষ্ট কারও অনুমতি ছাড়া কোনো বই বিক্রি করা যাবে না। আমানত আলী এটা অন্যায় করেছে। আমি ঈদের পর এসে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। জানতে চাইলে পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম মুঠোফোনে কালবেলাকে বলেন, আমার কাছে বইগুলো জব্দ আছে। এবং বইগুলো যে নিয়ে যাচ্ছিল, তার স্টেটমেন্ট নেওয়া আছে। আর সেখানে ভ্যান চালক ছাড়া শিক্ষা অফিসের কাউকে পাওয়া যায়নি। আমি চেয়েছিলাম একটা মামলা হোক। কিন্তু যাদের ডিপার্টমেন্ট তাদের কেউ ছিল না। তবে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেব। এখন শিক্ষা অফিস কিভাবে এটা নিষ্পত্তি করবে, সেটা দেখার বিষয়।

মারিয়া রহমান মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
আব্দুল্লাহ আল মামুন। ছবি : সংগৃহীত

সৌদিতে মিসাইল হামলায় বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত

যমুনা সেতুতে ৪৮ ঘণ্টায় রেকর্ড পারাপার, টোল আদায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা

ছবি : সংগৃহীত

চার দিন বন্ধ চট্টগ্রামমুখী লেন, ভোগান্তির শঙ্কা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে

ছবি : সংগৃহীত
দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌপথে স্বস্তির ঈদযাত্রা, চাপ বাড়লেও নির্বিঘ্ন পারাপার

পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথ পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরছেন লাখো মানুষ। নদী পার হয়ে আসা যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথাও বড় ধরনের ভোগান্তি নেই; নির্বিঘ্নেই পারাপার করছেন ঘরমুখো যাত্রীরা।   মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর থেকেই ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ লক্ষ্য করা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ঘাট সূত্রে জানা গেছে, ঈদে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৭টি ফেরি চালু রাখা হয়েছে এবং ২০টি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করছে। জরুরি পণ্য, শিশুখাদ্য ও পচনশীল দ্রব্যবাহী যানবাহন ছাড়া অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় ঘাট এলাকায় যানজট তৈরি হয়নি। পদ্মা সেতু চালুর পর বেশিরভাগ যানবাহন সেতুপথ ব্যবহার করলেও কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, যশোর, মাগুরা, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী অঞ্চলের অনেক পরিবহন এখনো এই নৌপথ ব্যবহার করছে। ফলে ঘাট ব্যবহারকারী ও চালকদের মধ্যেও স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনাল, মাইক্রো স্ট্যান্ড, ফেরি ও লঞ্চঘাট পরিদর্শন করেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার। এ সময় তিনি ফেরি সার্ভিস, নৌপথে লঞ্চসহ বিভিন্ন নৌযানের চলাচল সুষ্ঠুভাবে নিশ্চিতকল্পে ঘাট এলাকার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনকালে জেলা পুলিশ সুপার মনজুর মোরশেদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মমিনুল ইসলাম, নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহাসহ ঘাট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাটের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে ঘাট এলাকায় সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের দিকনির্দেশনা দেন তিনি। এ সময় তিনি ঘাটে চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা, যাত্রীসেবা, টিকিট ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। ঘাট এলাকায় কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা বা সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরিদর্শনকালে তিনি সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা শোনেন। যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।   পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ঘাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন জেলা প্রশাসক।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
সাভারে সড়ক অবরোধ। ছবি: সংগৃহীত

বেতন-বোনাসের দাবিতে সাভারে সড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নাটোর শহরে এক ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। ছবি : সংগৃহীত

দেশের সব মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা পাবেন সম্মানজনক ভাতা

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দীপা দাস। ছবি : সংগৃহীত

স্বামীকে আটকে রেখে আত্মহত্যা করলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

ছবি : সংগৃহীত
ঈদযাত্রায় গাবতলীতে যাত্রী সংকট, ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ

আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। এরপরই দেশজুড়ে উদযাপিত হবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে সোমবার শেষ হয়েছে সরকারি ও আধা সরকারি অফিস-আদালতের কার্যদিবস। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে টানা সাতদিনের ছুটি।   এরই মধ্যে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন নগরবাসী। তবে গাবতলী বাস টার্মিনালে চাহিদা অনুযায়ী যাত্রী পাচ্ছেন না পরিবহন শ্রমিকেরা। হাঁক-ডাক দিয়ে যাত্রী খুঁজতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এদিকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। দেখা যায়, টার্মিনালে যাত্রীদের তেমন ভিড় নেই। অনেক বাস কাউন্টার ফাঁকা পড়ে আছে। কোথাও কোথাও যাত্রীরা গাড়ির অপেক্ষায় বসে সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ কাউন্টারে টিকিট খুঁজছেন। অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিকরা যাত্রী পাওয়ার জন্য হাঁক-ডাক করছেন। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে। টার্মিনালে র‍্যাব ও পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে নজরদারিও চালানো হচ্ছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, অধিকাংশ যাত্রী এখন ট্রেন ও পদ্মা সেতুর রুট ব্যবহার করছেন। ফলে গাবতলী টার্মিনালে যাত্রীর চাপ কমে গেছে। একটি পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার সারওয়ার বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে এ রুটে যাত্রী অনেক কমে গেছে। ডেকেও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। আরেক পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার সাঈদ বলেন, যাত্রী কম থাকায় অনেক গাড়ি ছাড়তে পারছি না। অধিকাংশ সিট ফাঁকা থাকছে। টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ কাউন্টার বন্ধ রয়েছে। ঘরে ফেরা মানুষের চাপও তুলনামূলক কম। এক পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার কাইয়ুম বলেন, যাত্রী যেমন কম, তেমনি জ্বালানি সংকটের কারণে গাড়িও কম। অনেক বাস পাম্পে তেলের লাইনে থাকায় সময়মতো ছাড়তে পারছে না। তিনি বলেন, সরকার বলছে তেলের অভাব নেই, কিন্তু পাম্পে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন শ্রমিকদের আয়ও কমে যাচ্ছে। যাত্রীদের মধ্যে ভিন্ন চিত্রও দেখা গেছে। কেউ সহজেই টিকিট পাচ্ছেন, আবার কেউ ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ করছেন। বরিশালের যাত্রী রাকিব বলেন, সহজেই টিকিট পেয়েছি, তবে বাস সময়মতো ছাড়ে কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়। দিনাজপুরের যাত্রী আসাদুল বলেন, আগে ঈদের সময় টিকিট পাওয়া কঠিন ছিল, এখন সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। তবে ভাড়া কিছুটা বেশি নেওয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরাগামী যাত্রী জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, আগে ৫০০ টাকার ভাড়া এখন ১০০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, নির্ধারিত ভাড়ার মধ্যেই তারা চলছেন। ঈদের সময় যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পর ফেরার পথে বাস খালি আসে, তাই ভাড়ার সমন্বয় করতে হয়। বিআরটিএর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুকান্ত সাহা জানান, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে ভিজিল্যান্স টিম কাজ করছে। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   তিনি আরও জানান, যাত্রীদের সুবিধার্থে গাবতলী টার্মিনালে একাধিক কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : আইজিপি

বাকেরগঞ্জে গোনা সেতু উদ্বোধন করলেন শেখ রবিউল আলম।

ঈদে ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি যেতে পারবে মানুষ: সড়কমন্ত্রী

ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড়।ছবি : সংগৃহীত

ঈদের আগে পুড়ল ৭ পরিবারের স্বপ্ন

0 Comments