বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে গিয়ে খেলবে না। আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এদিকে, বাংলাদেশ না খেললে পাকিস্তানেরও টুর্নামেন্ট বয়কট করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ। তার মতে, পাকিস্তানও না খেললে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ সংকটে পড়বে। বর্তমান ক্রিকেট-ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর এটিই সেরা সময় বলে মনে করেন লতিফ।
বাংলাদেশের দিক থেকে ভারতে না খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঠিক অল্প কিছুক্ষণ পরই ‘কট বিহাইন্ড’ নামের একটি ইউটিউব শোতে কথা বলেন লতিফ। ১৯৯২ থেকে ২০০৩ সাল সময়ে পাকিস্তানের হয়ে খেলা এই ক্রিকেটার বলেন, ‘পাকিস্তানের এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত। পাকিস্তান যদি এখন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বয়কট করে, তবে এই বিশ্বকাপ বড় বিপদে পড়বে। আমি এটা আগেও বলেছি, বাংলাদেশ যখন একবার কোনো কিছু করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তারা সেটা করেই ছাড়ে। তারা প্রমাণ করে দিয়েছে যে বাংলাদেশের জন্য ভারত নিরাপদ দেশ নয়; আইসিসি, বিজেপি বা বিসিসিআই যা-ই বলুক না কেন।’
এ সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন লতিফ, ‘এখন পাকিস্তানের কিছু করার সময়। এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর আসবে না। পাকিস্তান যদি এখন না খেলে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বয়কট করে, তাহলে এই বিশ্বকাপ শেষ।’
সঞ্চালকের ভূমিকায় থাকা সাংবাদিক নোমান নিয়াজ পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বয়কটে আর্থিক ক্ষতির প্রসঙ্গ টানেন। তখন রশিদ লতিফ বলেছেন, ‘যখন আপনি বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেন, তখন আইসিসির অনুদানের চিন্তা ছেড়ে দিতে হয়। বাংলাদেশ এটা করে দেখিয়েছে। ২১ বছর নিষিদ্ধ থাকার পর দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট শেষ হয়ে যায়নি।’
এর আগে ‘কট বিহাইন্ডের’ বুধবারের শোতে লতিফ বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে বিশ্বকাপের আয় ৫০ ভাগ কমে যাবে। বর্তমান ক্রিকেট-ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার এটিই সেরা সময়। পাকিস্তানের এখন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ বয়কট করা উচিত।’
এছাড়াও আজ বিকেলে নিজের এক্সে করা এক পোস্টে সাবেক এই উইকেটকিপার লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতকে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপদ দেশ নয় বলে উল্লেখ করে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সীমিত শক্তি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ তার ঐতিহ্য বজায় রেখে আইসিসিকে চ্যালেঞ্জ করেছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কি একই ধরনের অবস্থান নেওয়ার সক্ষমতা রাখে?’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগেই আমিনুল হক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরও একই অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছেন বলে জানান তিনি। এর মধ্যে নির্বাচন বয়কট করা ক্লাবের প্রতিনিধিরা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) বিসিবির নির্বাচনের স্বচ্ছতা চ্যালেঞ্জ করে চিঠি দেয়। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে এনএসসি। তবে এমন প্রক্রিয়াকে সরাসরি সরকারের হস্তক্ষেপ বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিসিবি। প্রয়োজনে আইসিসিতে অভিযোগ করার কথাও ভাবছে ক্রিকেট বোর্ড। এরপর গতকাল পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ দল সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সঠিক কারণ অনুসন্ধানের জন্য আরেকটি কমিটি করবেন আমিনুল। একই সঙ্গে তিনিও আইসিসির শরণাপন্ন হবেন বলে জানান। অর্থাৎ এখন আনুষ্ঠানিকভাবেই বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। ক্রীড়া কূটনীতির দূরদর্শিতার অভাবে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ খেলা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে মনে করেন আমিনুল, ‘আমাদের ক্রীড়া কূটনীতির অভাবে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে যেতে পারিনি। কিন্তু কেন এটি হয়েছে, সেটিও আসলে তদন্ত করে দেখার বিষয় রয়েছে। আমি আশা করি, এই বিষয়গুলো নিয়েও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব।’ তদন্তে কূটনৈতিক কোনো অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের জবাবদিহি করতে হবে বলেও বার্তা দিয়ে রাখলেন তিনি, ‘কেন আমরা বিশ্বকাপ খেলতে গেলাম না, কোথায় সমস্যা ছিল বা কেন আমাদের ক্রীড়া কূটনীতির অভাব ছিল, সেই বিষয়গুলো আমরা তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদন আকারে ক্রিকেট বোর্ড এবং যাঁরা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁদের কাছে অবশ্যই (জবাবদিহি) চাইব।’ এরই মধ্যে বিসিবির নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে এনএসসির তৈরি করা স্বাধীন তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। জানা গেছে, ওই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা নির্বাচক, বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং যাঁরা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ করেছেন, তাঁদের সবার সঙ্গে আলাদা করে কথা বলবেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। কিন্তু বিসিবির পরিচালকদের অনেকেই এই কমিটির মুখোমুখি হতে চান না। তাঁরা মনে করেন, এমন প্রক্রিয়া ক্রিকেট বোর্ডে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ, যা আইসিসির নীতিবিরোধী। এ নিয়ে গত সোমবার রাতে একটি বিবৃতি দিয়েছে বিসিবি। গতকাল ক্রিকেট বোর্ডের এমন দাবির জবাব দেন আমিনুল, ‘বিগত সরকারের সময়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হয়েছে ক্রিকেট বোর্ডের ওপর। এগুলো নতুন করে বলার কিছু নেই। সঠিক তথ্য তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসবে।’ নির্বাচনে কেমন অনিয়ম হয়েছে, সেটিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী, ‘আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে জানি যে নির্বাচনের সময় ডিসিরা (জেলা প্রশাসক) একবার কাউন্সিলরশিপ পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে আমাদের বর্তমান সভাপতি বুলবুল (আমিনুল) ভাইয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা আবার কাউন্সিলর পাঠান। এটি একদম দৃশ্যমান সত্য ঘটনা। আইসিসির সঙ্গে কথা বলেই সব সিদ্ধান্ত নেব।’ এদিকে জানা গেছে, বিসিবি হুঁশিয়ারি দিলেও গত রাত পর্যন্ত এনএসসি থেকে কোনো বার্তা পায়নি স্বাধীন তদন্ত কমিটি। এ জন্য বিসিবির স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে নিজেদের কাজ চালিয়ে যাবেন এই কমিটির সদস্যরা।
প্রথম লেগে শেষ মুহূর্তে কোনোমতে হার এড়ানো আর্সেনাল এবার প্রায় পুরোটা সময় আধিপত্য করল। বায়ার লেভারকুজেনকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠল মিকেল আর্তেতার দল। এমিরেটস স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে ২-০ গোলে জিতেছে আর্সেনাল। এবেরেচি এজের চমৎকার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর, দারুণ নৈপুণ্যে ব্যবধান বাড়ান ডেক্লান রাইস। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল আর্সেনাল। প্রথম লেগ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। ম্যাচের শুরু থেকে প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আর্সেনাল। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের কয়েকটি দুর্দান্ত সেভের পর, এবেরেচি এজের দর্শনীয় গোলে ৩৬তম মিনিটে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের পাস বাঁ পায়ে রিসিভ করে, শরীর ঘুরিয়েই ২২ গজ দূর থেকে ডান পায়ে বুলেট গতির শট নেন তিনি, কাছের পোস্টের ওপরের কোণা দিয়ে বল খুঁজে পায় ঠিকানা। ক্যারিয়ারে এটাই তার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম গোল। ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে গত গ্রীষ্মে আর্সেনালে যোগ দেওয়া এই ইংলিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের চলতি মৌসুমে গোল হলো ৯টি। ৬৩তম মিনিটে একক নৈপুণ্যে আরেকটি দারুণ গোলে ব্যবধান বাড়ান রাইস। প্রথম ছোঁয়ায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সামনে এগিয়ে, ডি-বক্সের বাইরে থেকে ঠাণ্ডার মাথার শটে পোস্ট ঘেঁষে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম গোল করলেন ইংলিশ মিডফিল্ডার। মৌসুমে তার গোল হলো ৯টি। এরপরও ঘুরে দাঁড়ানোর যথেষ্ট সময় ছিল। ভালো কয়েকটি আক্রমণও করে জার্মান দলটি; কিন্তু জালে বল পাঠাতে পারেনি তারা।
আফগানিস্তানের হাসপাতালে বিমান হামলার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। এই হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার রশিদ খান। কাবুলের পক্ষ থেকে এই হামলায় কমপক্ষে ৪০০ মানুষ নিহতের দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাটিকে যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে গণ্য করেছেন রশিদ খান। রাশিদ খান তার এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘বেসামরিক বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করা, তা ইচ্ছাকৃত হোক বা দুর্ঘটনাবশত, সবই যুদ্ধাপরাধ। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে মানুষের জীবন নিয়ে এমন ছেলেখেলা ভয়ানক এবং উদ্বেগজনক।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু বিভাজন ও ঘৃণা বাড়াবে। আমি জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাকে এই ঘটনার তদন্তের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। এই কঠিন সময়ে আমি আমার আফগান জনগণের সঙ্গে দাঁড়িয়েছি। আমরা সঠিকভাবে নিরাময় করব এবং আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠব। আমরা সবসময় করি।’ আফগান অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবিও বিমান হামলার পর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আজ রাত কাবুলে একটি হাসপাতালে আশা নিঃশেষ হয়েছে। চিকিৎসা চাওয়ার জন্য আসা যুবকরা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন। মায়েরা গেটের কাছে দাঁড়িয়ে তাদের সন্তানদের নাম ধরে ডাকছিলেন। রমজানের ২৮তম রাতে তাদের জীবন হঠাৎই শেষ হয়ে গেছে।’ পাকিস্তান হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য বেসামরিক এলাকা ছিল না, বরং মিলিটারি অবকাঠামো।