পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সূর্যাস্তের পর অপ্রয়োজনে বাইরে অবস্থান ও আড্ডা বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট পড়ানো সূর্যাস্তের আগেই শেষ করতে বলা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় উপজেলার সব মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি এবং প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টার পরিচালকদের এ নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কিছু শিক্ষার্থী সূর্যাস্তের পর অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা ও আড্ডায় সময় কাটাচ্ছে। এতে পড়াশোনায় ব্যাঘাতের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কিশোর গ্যাং, মাদকাসক্তি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও শিক্ষার পরিবেশ সুসংহত করতে নির্দেশনায় কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে দ্রুত শিক্ষক-অভিভাবক সভা আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের সূর্যাস্তের পর বাড়িতে অবস্থান নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নেছারাবাদে পরিচালিত সব কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট শিক্ষকদের সূর্যাস্তের আগেই পাঠদান ও ব্যাচ শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূর্যাস্তের পর কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে ব্যাচ বা প্রাইভেট ক্লাস পরিচালনা করা যাবে না।
নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা যাতে অযথা সময়ক্ষেপণ না করে সরাসরি বাড়িতে ফিরে যায়, তা নিশ্চিত করতেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন হাট-বাজার, পার্ক, ঘাট ও দোকানে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের আড্ডা প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সমন্বয়ে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কিশোর গ্যাং, মাদকাসক্তি ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত নৈতিক শিক্ষামূলক পাঠদান ও সচেতনতামূলক আলোচনা সভা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী করে গড়ে তুলতেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীতে মা ইলিশ শিকার ও নদীর পাড়ে প্রকাশ্যে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলার মধ্যেই নদীতে নৌকা ও ট্রলার নিয়ে মাছ শিকার এবং পাড়ে মাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, মৎস্য বিভাগের নিজস্ব স্পিডবোট না থাকায় ট্রলার ভাড়া করে অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। জানা যায়, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও কেনাবেচা নিষিদ্ধ করেছে। তবে এ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও জাজিরার পালেরচর, মাঝিরঘাট, কাথুরিয়া, পাইলান মোল্লা, বড়কান্দি, বিলাসপুর ও নাওডোবাসহ পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ইলিশ শিকারের অভিযোগ রয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ইলিশ বিক্রি হতে দেখা যায়। দুপুরে বিলাসপুর এলাকায় পদ্মার পাড়েও প্রকাশ্যে মাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ সময় মাছ কিনতে ক্রেতাদের ভিড় জমে। একই সঙ্গে নদীতে নৌকা ও ট্রলার নিয়ে মাছ শিকার করতেও দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিছু জেলে মাছ ধরার নৌকায় শক্তিশালী ‘ফাইটার ইঞ্জিন’ ব্যবহার করে পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকার করছেন। পরে নদীর পাড়ে এনে এসব মাছ বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে সরকারিভাবে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জাজিরা উপজেলায় ৩ হাজার ৩৭৬ জন জেলের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে নয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। বড় গোপালপুর, বিকেনগর ও সেনেরচর ইউনিয়নে চাল বিতরণ এখনো বাকি রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে এসব এলাকায় চাল বিতরণ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। জাজিরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, অভিযান পরিচালনার জন্য মৎস্য বিভাগের নিজস্ব স্পিডবোট নেই। প্রয়োজনীয় জনবল, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে পদ্মা নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ কারণে অভিযান চালাতে ট্রলার ভাড়া নিতে হচ্ছে। জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, ‘মা ইলিশ সংরক্ষণে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আজও অভিযান চলছে। এ পর্যন্ত আটজনকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। কয়েকটি ট্রলারও আটক করা হয়েছে। এরপরও অবৈধভাবে মাছ শিকার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। তাই অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। আজ সকালেও বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নদীতে মাছ শিকারের সময় জেলেদের আটক করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে এসব কাজে ব্যবহৃত ট্রলারের প্রকৃত মালিকেরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আগামী দুই দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ হুঁশিয়ারি দিয়ে ইউএনও বলেন, ‘অবৈধ মাছ শিকারে জড়িত ট্রলারের মালিকদের তালিকা তৈরি করে তাদের কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় আমাদের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।’
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) থেকে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত বিজিএমইএ-এর ঢাকা ও চট্টগ্রাম অফিসের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তিন দিনের ছুটি শেষে আগামী ২৪ অক্টোবর (শনিবার) থেকে উভয় অফিসের দাপ্তরিক কার্যক্রম পুনরায় যথারীতি চালু হবে। সরকার নির্ধারিত শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটিসহ মোট চার দিনের ছুটি পাচ্ছে পোশাক শ্রমিকরা। ছুটিকালীন সময়ে জরুরি সেবা প্রদান প্রসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইউডিসহ (ইউটিলাইজেশন ডিক্লেয়ারেশন) অন্যান্য জরুরি ও প্রয়োজনীয় সেবা চালু রাখতে বিজিএমইএ-এর কাস্টমস, সিএমসি, শ্রম এবং ফায়ার অ্যান্ড সেফটি শাখার প্রধানরা নিজ নিজ শাখার প্রয়োজনীয় জনবল নিয়ে অনলাইনে সেবা ও কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। বিজিএমইএ’র মহাসচিব মেজর জেনারেল ড. মো. সাহেদুল ইসলাম (অব.) স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিটি সংগঠনের ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যদের অবগতির জন্য জারি করা হয়েছে।
জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সোমবার টানা ৮ ঘণ্টা জয়পুরহাটের বেশকিছু এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। রবিবার (১১ অক্টোবর) নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির জয়পুরহাট বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১১ কেভি লাইনের নিকটবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডালপালা কর্তন কাজের জন্য সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট ৮ ঘণ্টা নেসকো জয়পুরহাট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের আওতাধীন বেশকিছু এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। এই এলাকাগুলো হলো—বিহারীপাড়া, মহিলা কলেজ, কাপড়পটি, মৌসুমী মার্কেট, ধানমণ্ডি, ইরাক নগর, কৃষি অফিস, গোরস্তান রোড, সুফিয়ান ঠিকাদার বাড়ী, শহিদ জিয়া কলেজ, পৌর কমিউনিটি সেন্টার, পাচুর রোড, শামশুল হাজীর ডিপ, পাগলির মোড়, এতিমখানা রোড, মাদারগঞ্জ, টুকুর মোড়, শুপাড়ি ডোবা, পারুলিয়া, বামনপুর চারমাথা, হেলকুন্ডা রোডসহ তৎসংলগ্ন এলাকা। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করা হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেছে নেসকো কর্তৃপক্ষ।