নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দাপুটে জয়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে বাংলাদেশ। আজ নামিবিয়াকে ৮০ রানে হারিয়ে হ্যাটট্রিক জয় পেয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতিরা।
হ্যাটট্রিক জয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পাওয়ার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ। কেননা আজকের জয়ে সুপার সিক্স নিশ্চিত করেছে অধিনায়ক জ্যোতির দল।
সামনে সুপার সিক্সের শীর্ষ চারে থাকতে পারলেই মিলবে আগামী জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের টিকিট।
কীর্তিপুরে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে ১৪৪ রান করে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো ছিল না। ইনিংসের চতুর্থ বলে ডাক মারেন ওপেনার জুয়েইরিযাহ ফেরদৌস।
তবে পরের ব্যাটাররা ছোট ছোট জুটি গড়ে দারুণ সংগ্রহ এনে দেন।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৭ রান করেছেন সোবহানা মোস্তারি। এ ছাড়া বিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন দিলারা আক্তার (২৫), অধিনায়ক জ্যোতি (২১), ও স্বর্ণা আক্তার (২৩)। প্রতিপক্ষের হয়ে সর্বোচ্চ ২টি করে উইকেট নেন সাইমা তুহাদেলেনি ও সিলভিয়া শিহেপো।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭.৫ ওভারে ৬৪ রানে অলআউট হয় নামিবিয়া। উদ্বোধনী জুটি ২০ রান করলেও বাংলাদেশের তিনি স্পিনারের ঘূর্ণিতে দিশাহারা হন নামিবিয়ার ব্যাটাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে অল্পতেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
এতটাই যে দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পেরেছেন নামিবিয়ার মাত্র দুজন ব্যাটার। অধিনায়ক ও ওপেনার সুনে উইটমানের ১৯ রানের বিপরীতে ১২ রান করেন উইকেটরক্ষক মার্কজারলি গোরাসেস।
নামিবিয়ার সব উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন তিন স্পিনার। সানজিদা আক্তার মেঘলার সর্বোচ্চ ৪ উইকেটের বিপরীতে সমান ৩ উইকেট নিয়েছেন দুই লেগস্পিনার রাবেয়া খান ও ফাহিমা খাতুন। ১৪ রানে সর্বোচ্চ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরাও হয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার মেঘলা।
তিন জয়ে ‘এ’ গ্রুপে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বাংলাদেশ। দুইয়ে থাকা আয়ারল্যান্ড ২ ম্যাচে ৪। আর ৩ ম্যাচে ২ পয়েন্ট তৃতীয় স্থানে যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপ পর্বের পরের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড। ম্যাচটি হবে আগামী ২৪ জানুয়ারি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অনেক দিন ধরেই চলছিল জল্পনা-কল্পনা। এবার সেই সম্পর্কের জল্পনায় সিলমোহর দিলেন ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ান। আয়েশা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর দ্বিতীয়বার বিয়ের পিড়িতে বসছেন তিনি। বধূ আয়ারল্যান্ডের সোফি শাইন। যার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরেই সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন শিখর ধাওয়ান। প্রথম বিয়ে থেকে তার প্রাপ্তি একরাশ যন্ত্রণা। দুঃখের সেই অতীত ভুলেই সাতজন্মের বাঁধনে বাঁধা পড়তে যাচ্ছেন শিখর ধাওয়ান। দীর্ঘদিনের বান্ধবী সোফি শাইনের সঙ্গে আগেই বাগদান সেরেছিলেন। এবার বিয়ে সেরে ফেলবেন তিনি। বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রামে দুটি ছবি শেয়ার করেন শিখর ধাওয়ান। একেবারে খাঁটি ভারতীয় পোশাকে সেজেছেন সোফি। আইরিশ সুন্দরীর পরনে ছিল হালকা বাদামি রঙের জমকালো লেহেঙ্গা। সঙ্গে কানে ঝুমকা, গলায় ভারী হার। সবমিলিয়ে মোহময়ী দেখাচ্ছিল সোফিকে। অন্যদিকে শিখরের পরনে হাতির দাঁতের রঙের প্যান্ট এবং শার্ট। সঙ্গে ওই একই রঙের ব্লেজারে উজ্জ্বল প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটারও। নিজেদের যুগল ছবি পোস্ট করে শিখর ধাওয়ান ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘সঙ্গীত নাইট। অলমোস্ট দ্য ধাওয়ানস।’ অর্থাৎ খুব তাড়াতাড়িই ধাওয়ান দম্পতি হতে চলেছেন এই যুগল। তাদের ছবিতে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। আনুষ্ঠানিকভাবে দিনক্ষণের ঘোষণা না দিলেও বিয়ের ঘণ্টা বেজে গেছে শিখর ধাওয়ান এবং তার বাগদত্তা সোফি শাইনের জীবনে। আর জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তের একেবারে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সোফি তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করলেন তাদের রঙিন প্রি-ওয়েডিং উৎসবের ঝলক। তার ‘খাঁটি ভারতীয় কনে’ লুকে মুগ্ধ অনুরাগী থেকে ফ্যাশনপ্রেমী সকলেই। ছবিগুলো বিয়ের আগের গায়ে হলুদ এবং সঙ্গীত অনুষ্ঠানের। লাল ও সোনালি রঙের কম্বিনেশনের লেহেঙ্গায় সোফি একেবারে খাঁটি ভারতীয় কনে। তার হল্টার-নেক চোলির সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং পোশাকের উজ্জ্বল রঙ গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানটির উৎসবমুখর পরিবেশের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়েছে। লাল লেহেঙ্গার উপর সোনালি বুটি ও সমৃদ্ধ কারুকার্য করা বর্ডার নজর কাড়ে বিশেষভাবে। এর সঙ্গে ছিল ঐতিহ্যবাহী ঝলমলে সোনালি ‘কালিরা’, যা উত্তর ভারতীয় কনের সাজে একেবারে অপরিহার্য এবং ঐতিহ্যবাহী মাংটিকা বা টিকলি। আধুনিক সৌন্দর্য ও ভারতীয় ঐতিহ্যের এক নিখুঁত মেলবন্ধন তৈরি হয়েছিল তার পুরো সাজে। লাল লেহেঙ্গার উপর সোনালি বুটি ও সমৃদ্ধ কারুকার্য করা বর্ডার নজর কাড়ে বিশেষভাবে। এর সঙ্গে ছিল ঐতিহ্যবাহী ঝলমলে সোনালি ‘কালিরা’, যা উত্তর ভারতীয় কনের সাজে একেবারে অপরিহার্য এবং ঐতিহ্যবাহী মাংটিকা বা টিকলি। আধুনিক সৌন্দর্য ও ভারতীয় ঐতিহ্যের এক নিখুঁত মেলবন্ধন তৈরি হয়েছিল তার পুরো সাজে। গায়ে হলুদের জন্য মেকআপের ক্ষেত্রে সোফি বেছে নিয়েছিলেন একেবারে ফ্রেশ, ন্যাচারাল লুক - যা তার স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলেছে। চুল খোলা, নরম ঢেউ খেলানো ভলিউমিনাস ওয়েভে সাজানো, যা কাঁধের উপর ছড়িয়ে নেমে এসেছে। কপালে ছোট্ট লাল টিপ যেন পুরো সাজে শেষ নিখুঁত ছোঁয়া। গায়ে হলুদের জন্য মেকআপের ক্ষেত্রে সোফি বেছে নিয়েছিলেন একেবারে ফ্রেশ, ন্যাচারাল লুক - যা তার স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলেছে। চুল খোলা, নরম ঢেউ খেলানো ভলিউমিনাস ওয়েভে সাজানো, যা কাঁধের উপর ছড়িয়ে নেমে এসেছে। কপালে ছোট্ট লাল টিপ যেন পুরো সাজে শেষ নিখুঁত ছোঁয়া। একের পর এক প্রি-ওয়েডিং মুহূর্তে ‘কাপল গোলস’ তৈরি করে চলেছেন শিখর ও সোফি। ফলে অনুরাগীদের চোখ এখন তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিক ছবির অপেক্ষায়। তবে জানিয়ে রাখা ভালো, শিখর ধাওয়ান এর আগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় বক্সার আয়েশা মুখার্জিকে বিয়ে করেছিলেন। সেটি ছিল শিখরের প্রথম বিয়ে, আয়েশার দ্বিতীয়। ২০১২ সালে শিখর যখন আয়েশাকে বিয়ে করেন, তখন শিখরের বয়স ছিল ২৭ আর আয়েশার ৩৭ বছর। পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে আয়েশার আগের পক্ষের দুই কন্যা রিয়া ও আলিয়াকে নিয়ে মহা ধুমধামে বিয়ে করেছিলেন শিখর। ২০১৪ সালে তাদের ঘরে আসে জোরাবর শিখর। আর শিখর-আয়েশার ১১ বছরের দাম্পত্যজীবন শেষ হয় ২০২৩ সালে। অবশ্য ২০২১ সাল থেকেই আলাদা থাকছিলেন দুজন। এরপর শুনা যায় চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন ধাওয়ান-সোফি। দিল্লি এনসিআরে বিয়ের অনুষ্ঠান হবে। ক্রিকেটমহল ও বলিউডের অনেক তারকা উপস্থিত হতে পারেন তাদের বিয়েতে। শিখরের জীবনে নতুন ইনিংস শুরুর ইঙ্গিত মেলে ২০২৪ সালের শেষের দিকে। সোফির সঙ্গে ঘনিষ্ঠমহলে দেখা যায় তাকে। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময়ে ভারতীয় দলের ম্যাচ দেখতে সোফির সঙ্গে হাজির ছিলেন ধাওয়ান। তারপর একসঙ্গে ছবি দিয়ে ‘মাই লাভ’ বলে সবটা স্বীকারও করে নেন। কে এই সোফি শাইন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় সোফি। তিনি একটি পরামর্শদাতা সংস্থায় সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি সংস্থার হয়ে আবু ধাবি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দায়িত্ব পালন করেন। আয়ারল্যান্ডের লিমরিক ইনস্টিটিউড অফ টেকনোলজি থেকে মার্কেটিং ও ম্যানেজমেন্টের ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি। শিখরের সঙ্গে তাকে প্রথম দেখা যায় ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দুবাইতে। ভারত-বাংলাদেশ ও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ তারা একসঙ্গে বসে দেখেন। ২০২৪ সালে ধাওয়ান যখন পাঞ্জাব কিংসে খেলতেন সেই সময় সোফি পাঞ্জাব কিংসের ম্যাচ দেখতেও গিয়েছিলেন।
সময়টা ভালো যাচ্ছে না ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারের। সেই প্রভাবটা পড়েছে তার ক্যারিয়ারেও। যে কারণেই এবার ৩৪ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের ইতি টানার ইঙ্গিত দিয়েছেন সাবেক বার্সেলোনার এই তারকা ফরোয়ার্ড। সম্প্রতি ব্রাজিলের অনলাইন চ্যানেল কেজ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষেই তিনি ফুটবল থেকে অবসর নিতে পারেন। মূলত ক্যারিয়ারজুড়ে একের পর এক চোট এবং বর্তমান ফিটনেস সমস্যাই তাকে এমন কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গত বছরের জানুয়ারিতে সৌদি ক্লাব আল হিলাল থেকে নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরেন নেইমার। ক্লাবটির সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। গত বছর চোট নিয়ে খেলে সান্তোসকে অবনমন থেকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর জন্য তাকে শারীরিক বড় মূল্য দিতে হয়েছে। ডিসেম্বরে বাঁ হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ভেলো ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তিনি মাঠে ফেরেন। তবে নেইমার স্বীকার করেছেন, পূর্ণ ফিট না হওয়ায় তাকে কিছুটা সাবধানে খেলতে হচ্ছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা নেইমারের অন্যতম বড় লক্ষ্য। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর চোটের কারণে তিনি আর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামতে পারেননি। কোচ কার্লো আনচেলত্তি তার জন্য জাতীয় দলের দরজা খোলা রাখলেও শর্ত দিয়েছেন পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার। নেইমার নিজেও মনে করেন, বর্তমান অবস্থায় বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া এক ‘বড় চ্যালেঞ্জ’। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়ে নেইমার বলেন, ‘আগামী বছর কী হবে আমি জানি না। সম্ভবত ডিসেম্বর এলে আমি অবসর নিতে চাইব। এখন আমি কেবল এ বছরটি নিয়ে ভাবছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ক্যারিয়ারের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত তার হৃদয়ের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার ১২৮ ম্যাচে ৭৯টি গোল করেছেন। ইউরোপীয় ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে ট্রেবল জয়ের পাশাপাশি পিএসজির হয়েও অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন তিনি। এর আগে তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এই তারকা ফুটবলার এ মৌসুমে নিজের শতভাগ দিয়ে খেলতে মুখিয়ে আছেন। উল্লেখ্য, আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ‘সি’ গ্রুপের প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। নেইমার যদি সত্যিই ডিসেম্বরে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন, তবে তার আগে শেষবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে রাঙিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন এই ফরোয়ার্ড।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের সময়সূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। আগে থেকেই সিরিজটি চূড়ান্ত থাকলেও এর দিনক্ষণ নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা ছিল। অবশেষে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিরিজের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিসিবি প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ মার্চ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ঢাকা আসবে পাকিস্তান দল। পরদিনই অনুশীলনে নামবে তারা। একদিন পরই প্রথম ওয়ানডে খেলতে মাঠে নেমে যাবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৩ মার্চ। এছাড়া তৃতীয় ও শেষ ম্যাচের জন্য ১৫ মার্চ মাঠে নামবে দুই দল। তিনটি ম্যাচই মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এরআগে, গত বছরের জুলাইয়ে সবশেষ বাংলাদেশ সফরে এসেছিল পাকিস্তান। সে সময় তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে এসে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল দলটি। তার আগে গত বছরের মে ও জুন মাসে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে গিয়েছিল বাংলাদশে। সে সময় ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল টাইগাররা।