দীর্ঘ দুই দশক পর শ্বশুরবাড়ি সিলেটে গিয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গণি ওসমানীর কবর জিয়ারত করেছেন তিনি।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাতে অংশ নেন।
এর আগে রাত ৮টায় তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে করে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি শাহজালাল (রহ.) মাজারে যান। জিয়ারত শেষে পরপরই তিনি হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে রওনা দেন।
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণ মাজার কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সাজানো হয়। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বিবেচনায় সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় করা হয়।
এদিকে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে সিলেট শহরের বিভিন্ন সড়কে বিএনপির নেতাকর্মীদের মিছিল ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঈদ মানেই আনন্দ, উৎসব আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর উপলক্ষ। নতুন পোশাক, ঘোরাঘুরি আর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বেশিরভাগ মানুষের দিনটি কাটে আনন্দে। তবে সবার জীবনে এই আনন্দ সমানভাবে ধরা দেয় না। কারও ঈদ কাটে হাসপাতালের বেডে, ব্যথা-যন্ত্রণা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। এমনই চিত্র দেখা গেছে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে। ঈদের দিনেও চিকিৎসা পাওয়ার আশায় ছুটে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অনেকেই পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, দেরিতে সেবা এবং অবহেলার কারণে উৎসবের দিনটি পরিণত হয়েছে উৎকণ্ঠা ও হতাশায়। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসকের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। অনেকেই এ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন জুয়েল বলেন, সকাল থেকেই হাসপাতালে বসে আছি। একের পর এক সময় পার হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এখনো কোনো ডাক্তারের দেখা পাইনি। রোগী নিয়ে কতটা দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ঈদের দিন বলে কি আমাদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নেই? অসুস্থ মানুষ কি উৎসব বোঝে? আরেক ভুক্তভোগী লুবনা আক্তারের মা বলেন, ভোর থেকেই মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। বারবার ডাক্তারদের খোঁজ নিচ্ছি, অনুরোধ করছি এসে দেখার জন্য, কিন্তু এখনো কেউ আসেননি। প্রতিটি মুহূর্ত আতঙ্কের মধ্যে কাটছে। মেয়ের অবস্থা দেখে অসহায় লাগছে, অথচ ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছি না। এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. জয়ন্ত সাহা বলেন, সব ওয়ার্ডে ডাক্তার পাঠানো হয়েছে। তবে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসক সংকট রয়েছে এবং বর্তমানে একজন দায়িত্বে আছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ফিরোজ জামান জুয়েল দাবি করেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক রয়েছেন। রোগীরা চিকিৎসক পাবেন না—এমন কোনো পরিস্থিতি নেই।
ঈদ মানেই আনন্দ, নতুন পোশাক, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে হাসি-খুশির সময়। কিন্তু সেই আনন্দ সবার জীবনে সমানভাবে ধরা দেয় না। কিছু শিশু আছে যাদের কাছে ঈদ মানে শূন্যতা। তবু সেই শূন্যতার মাঝেই ছোট ছোট আনন্দ খুঁজে নেয় তারা। রাজবাড়ীর সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের জন্য এবারের ঈদ ছিল তেমনই এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার। শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন দুপুরে শহরের বিনোদপুর সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার। শিশুদের হাতে তুলে দেন নতুন উপহার। ছিল উন্নত খাবারের আয়োজন। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসক সরকারি শিশুদের মাঝে উন্নতমানের খাবার ও মিষ্টি বিতরণ করেন। এ সময় তিনি কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের হাতে ঈদ সালামি তুলে দেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের এই ভালোবাসাপূর্ণ সৌহার্দ ও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্যকে অর্থবহ করে তোলে। শিশু পরিবারের কয়েকজন শিশু জানায়, নতুন পোশাক পরে তারা আনন্দ করেছে, ভালো খাবার খেয়েছে। তবু ঈদের দিনে বাবা-মায়ের কথা মনে পড়েছে বারবার। রাজবাড়ী সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ আলী আহসান জানান, বিশেষ দিনগুলোতে শিশুদের জন্য বাড়তি খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। তবে এভাবে কাছে এসে সময় দেওয়াটা তাদের জন্য আলাদা এক আনন্দ তৈরি করেছে। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, 'আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর। সবার জন্য আনন্দ-খুশির দিন। আজ এই খুশির দিনে শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য এসেছি। কারণ তারা আমাদের সমাজেরই অংশ, আমাদেরই একজন।' এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ-উল-হাসান, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন নাফ নদীর মোহনা থেকে মাছ ধরার সময় দুটি নৌকাসহ সাত জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা বাড়তে থাকায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেল ও এর আগে মঙ্গলবার রাতে পৃথক ঘটনায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম। অপহৃত জেলেরা হলেন- মো. রাসেল (১৮) ও মো. শরিফ (১২), মো. আবুল কালাম (৫০), মো. ছাদেক (৩০), আবদুর শুকুর (৪০), মো. রবি আমল (১১) ও মঞ্জুর আলম (২৭)। তারা টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া ও দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলারচরসংলগ্ন নাফ নদীর মোহনায় মাছ ধরার সময় একটি নৌকাসহ তিন মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। এর আগে, মঙ্গলবার রাতে একই এলাকা থেকে আরেকটি নৌকাসহ চার মাঝিমাল্লাকে অপহরণ করা হয়। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, এভাবে জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অব্যাহত থাকলে জেলে ও নৌকার মালিকদের মধ্যে চরম দুর্দশা নেমে আসবে। তিনি এ ধরনের ঘটনা বন্ধে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গনি বলেন, মাছ ধরার সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে ধাওয়া করে জেলেদের আটক করে নিয়ে যায়। এতে স্থানীয় জেলেরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নৌকার মালিকদের কাছ থেকে জানা গেছে। তাদের দ্রুত ফেরত আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে গত দেড় বছরে বিভিন্ন সময়ে অন্তত চার শতাধিক জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে আড়াই শতাধিক জেলেকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩ জন জেলেকে ফেরত আনা হয়।