দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ভাঙল নীরবতা। পর্দায় ফিরছে ‘মন্টু পাইলট-৩’। ২০১৯ সালে যে মন্টু দর্শকের মনে আগুন ধরিয়েছিল, তুমুল জনপ্রিয়তায় তৈরি করেছিল আলাদা এক অধ্যায়, তার ফেরার খবরে আবারও উত্তাল বিনোদন দুনিয়া। বছরের পর বছর ধরে একটাই প্রশ্ন ঘুরেছে দর্শকের মনে—কবে ফিরবে মন্টু? অবশেষে মিলল উত্তর।
সমস্ত জল্পনা-কল্পনার ইতি টেনে, অভিনেতা সৌরভ দাসের জন্মদিনে, ২১ জানুয়ারিতেই প্রকাশ্যে এল দেবালয় ভট্টাচার্যের ‘মন্টু পাইলট ৩’-এর চরিত্রদের লুক। নতুন অধ্যায়, নতুন রহস্য, আর আগের মতোই টানটান উত্তেজনা—মন্টুর প্রত্যাবর্তনে ফের একবার শিহরিত হতে চলেছে দর্শক।
আগের সিজনের মতোই সৌরভ যে ফের এই চরিত্রে সমস্ত লাইমলাইট নিজের দিকে কেড়ে নেবে তা ধারণা করা যাচ্ছে। হাতে বন্দুক, চোখে কাজল, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সবমিলিয়ে মন্টু আগের মতোই স্বমহিমায়।
তবে জানা যায়, এবার পর্দার মন্টু নাকি হতে চলেছে অনেক বেশি পরিণত। মন্টুর পাশাপাশি এই সিরিজে আরও এক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ভ্রমর। যদিও আগের সিরিজে ভ্রমরের অনুপস্থিতিতে একটু মন খারাপ হয়েছিল সবার। তবে এবার সেই অভাব যে পূরণ হতে চলেছে সে কথা বলাই বাহুল্য।
সৌরভ ও শোলাঙ্কির সঙ্গে সিরিজে বিশেষ ভূমিকায় দেখা যাবে চান্দ্রেয়ী ঘোষ, পার্নো মিত্র, কিউ প্রমুখকে। আগের মতোই ‘বিবিজান’ চরিত্রে দেখা যাবে চান্দ্রেয়িকে। সিজন ৩-এর ফার্স্ট লুকেই তাক লাগিয়েছেন আগের মতো অভিনেত্রী।
অন্যদিকে নতুনভাবে ধরা দেবেন পার্নো মিত্র। যদিও তাকে এই সিরিজে কোন চরিত্রে দেখা যাবে তা এখন খোলসা করা হয়নি। তবে সিজন ৩তে কিউকে খলচরিত্রে দেখবেন দর্শক এমনটাই জানা যাচ্ছে। সব ঠিক থাকলে চলতি বছরের মার্চ মাসে মুক্তি পেতে পারে ‘মন্টু পাইলট সিজন-৩’।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিযোগ এনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ডনের পক্ষে আইনজীবীরা আদালতে জামিন আবেদন করে দাবি করেন, মামলার এজাহার ও গ্রেপ্তারি ফরোয়ার্ডিংয়ে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ নেই এবং তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। এর আগে ৯ আগস্ট বিমানবন্দর এলাকা থেকে ডনকে আটক করা হয়। পরে সিআইডি তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানায়। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা ডনকে বিদেশে যাওয়ার সময় আটক করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জামিন পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং তিনি পলাতক হতে পারেন। সিআইডির তথ্যমতে, ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার সময় ভোরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে এবং পরে সিআইডির হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়। প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন, যিনি সালমান শাহ নামে পরিচিত। প্রথমে এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হলেও পরে তার পরিবার হত্যার অভিযোগ তোলে। গত বছরের ২০ অক্টোবর আদালত মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরদিন রমনা থানায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদকে আসামি করা হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, সালমান শাহর মরদেহে গলায় দাগসহ আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা। এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।
বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্রের একসময়ের দর্শকপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক হাসান মাসুদ। এখন মাঝেমধ্যে বিজ্ঞাপনে দেখা গেলেও অভিনয়ে তাকে দেখা যায় না বললেই চলে। ক্যারিয়ারে অসংখ্য স্মরণীয় কাজ উপহার দেওয়া এই অভিনেতা কেন নিজেকে অভিনয় থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন? সম্প্রতি নিজেই বিষয়টি খোলাসা করেছেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের বর্তমান জীবনযাপন ও অভিনয় থেকে দূরে থাকার কারণ নিয়ে কথা বলেছেন মাসুদ। কেন অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন এবং বর্তমানে কী করছেন- সম্প্রতি গণমাধ্যমের মুখোমুখি কথাগুলো জানিয়েছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে হাসান মাসুদ বলেন, ‘আমি নিজেকে আসলে একটু গুটিয়ে নিয়েছি। আমি এখন আর অভিনয় করি না। একটা পরিবর্তন এসেছে আমার জীবনে। সেই কারণেই এখন শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের কাজ পেলে করি, না হলে করি না। একটু ভাববাদী হয়ে গিয়েছি। মানে ধার্মিক হয়ে গিয়েছি।’ তিনি নিজের সাম্প্রতিক ধর্মীয় জীবনের প্রসঙ্গ টেনে আরও বলেন, ‘আমি এবার হজ করেছি। যে কারণে ৪১ দিন ছিলাম ওখানে-মক্কা-মদিনায়। তবে আসলে আমার পরিবর্তনটা এসেছে আরও আগে থেকে। এখন পুরোপুরিই আমি পরিবর্তিত, সেটা বলতে পারেন।’ পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যাসেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে জানান একসময়ের জনপ্রিয় এ অভিনেতা। একটা সময় প্রচুর বই পড়লেও এখন আর বই পড়েন না তিনি। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে প্রসঙ্গে হাসান মাসুদ বলেন, ‘আসলে বই পড়ার অধ্যায়টা আমার অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। আমি এত বেশি পড়েছি, এত বেশি পড়েছি যে শেষের দিকে আমি যন্ত্রের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। আমার ভেতরে কোনো ভাবাবেগ কাজ করত না। আমার সামনে যদি একটা ট্রাকে চাপা পড়ে একজন মারা যেত, তখন আমি ভাবতাম-লোকটার ভুলেই তো লোকটা মারা গেছে। এরকম যন্ত্রের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। কোনো সেন্টিমেন্ট আমার ভেতরে কাজ করত না।’ পরবর্তীতে নিজের সংগ্রহে থাকা প্রায় ১২০০ বই বিক্রি করে দেন জানিয়ে হাসান মাসুদ বলেন, ‘এরপর আমি প্রায় ১২০০ বই নীলক্ষেতে বিক্রি করে দিয়েছি, একেবারে পানির দামে। এরপর থেকে আমি আর বই পড়ি না।’ উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন হাসান মাসুদ। সাত বছর পর ১৯৯২ সালে ক্যাপ্টেন পদে অবসর নেন তিনি। এরপর সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। ‘দ্য নিউ নেশন’-এ কাজ করার পর ১৯৯৫ সালে ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এ ক্রীড়া প্রতিবেদক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ২০০৩ সালে অভিনয়ে অভিষেক হয় হাসান মাসুদের। সিনেমাটির ‘আজকে না হয় ভালোবাসো’ গানেও কণ্ঠ দেন তিনি। ২০০৬ সালের ভালোবাসা দিবসে প্রকাশিত হয় তার প্রথম গানের অ্যালবাম ‘হৃদয়ঘটিত’। এ ছাড়াও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র ও অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘হাউসফুল’, ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’, ‘এফডিসি’, ‘বউ’, ‘খুনসুটি’, ‘গ্র্যাজুয়েট’, ‘রঙের দুনিয়া’, ‘আমাদের সংসার’, ‘গণি সাহেবের শেষ কিছুদিন’ ও ‘বাতাসের ঘর’সহ বেশ কিছু নাটকে তার অভিনয় তুমুল দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে।
তারকার জীবন মানেই যেন আলো, ক্যামেরা আর প্রযুক্তির সঙ্গে সারাক্ষণ যোগাযোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ, কাজের প্রচারণা কিংবা ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া-সবকিছুতেই স্মার্টফোন এখন নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এই চেনা অভ্যাস থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা ফাহাদ ফাসিল। প্রায় এক বছর ধরে স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন না তিনি। প্রায় এক বছর ধরে ব্যবহার করছেন ‘ডাম্ব ফোন’ বা সাধারণ বাটন ফোন। এমনকি ভবিষ্যতে সাধারণ মুঠোফোনটিও ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ফাহাদের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সময়কে আরও ভালোভাবে কাজে লাগানোর ইচ্ছা। অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা ও মনোযোগ নষ্ট করা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে প্রযুক্তির ব্যবহার কমিয়েছেন তিনি। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ‘মারিসান’ সিনেমার প্রচারণার একটি অনুষ্ঠানে ফাহাদকে সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা নিজেই জানান, প্রায় এক বছর ধরে তিনি সাধারণ মুঠোফোন ব্যবহার করছেন। ফাহাদের পরিকল্পনা আরও বড়। আগামী দুই বছরের মধ্যে মুঠোফোন ব্যবহার পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা তার। তখন শুধু ই-মেইলের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। যদিও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে নিজেও পুরোপুরি নিশ্চিত নন অভিনেতা। তবে প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন না ফাহাদ। প্রয়োজন হলে কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কোনো সক্রিয় উপস্থিতি নেই। একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতেন ফাহাদ। কিন্তু সেখানে কী লিখবেন, কী প্রকাশ করবেন কিংবা কোনো বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত কি না-এসব নিয়ে স্বস্তিতে ছিলেন না তিনি। পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়গুলো জনসমক্ষে চলে আসুক, সেটিও চাইতেন না। তাই ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেন। ফাহাদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিজের সময় ও মনোযোগ। নির্দিষ্ট রুটিনে জীবন কাটিয়ে অভিনয়ের কাজে আরও বেশি মন দিতে চান তিনি। তার বিশ্বাস, অপ্রয়োজনীয় কোনো কিছু যদি মনোযোগ কেড়ে নেয়, তাহলে সৃষ্টিশীল কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর সেই কারণেই স্মার্টফোনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর অভ্যাস কমিয়ে এনেছেন তিনি। অভিনয়ের ক্ষেত্রে অবশ্য প্রযুক্তির চেয়ে কাজকেই বেশি গুরুত্ব দেন ফাহাদ। মালয়ালম সিনেমা দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই অভিনেতা এখন তামিল ও তেলেগু সিনেমাতেও সমানভাবে পরিচিত। ‘পুষ্পা’, ‘বিক্রম’, ‘সুপার ডিলাক্স’, ‘আবেশম’, ‘জোজি’, ‘মহেশিন্তে প্রতিকারম’সহ একাধিক সিনেমায় তার অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়েছে। ফাহাদের অভিনয়জীবনের শুরুটা অবশ্য ছিল হতাশার। ২০০২ সালে বাবা ফাসিলের পরিচালনায় ‘কাইয়েথুম দুরাথ’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখেন তিনি। কিন্তু প্রথম সিনেমাই ব্যর্থ হওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে। এরপর অভিনয় ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানে দর্শন নিয়ে পড়াশোনা করেন। সাত বছর পর দেশে ফিরে আবার অভিনয়ে মন দেন ফাহাদ। দ্বিতীয়বারের সেই যাত্রাতেই বদলে যায় তার ক্যারিয়ার। ‘কেরালা ক্যাফে’ দিয়ে ফেরার পর একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। ২০১৮ সালে ‘থন্ডিমুথালুম দৃকসাক্ষীয়ুম’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পান। তবে এত সাফল্যের পরও নিজেকে সফল অভিনেতা মনে করেন না ফাহাদ। তার মতে, এখনো এমন একটি সিনেমার অপেক্ষায় আছেন, যেটির পর নিজের ক্যারিয়ারকে সফল বলতে পারবেন। স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকার বিষয়েও তার দর্শন অনেকটা অভিনয়ের মতোই সরল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় না থাকলে নতুন প্রজন্মের দর্শকের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ফাহাদের আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য, দর্শকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হবে সিনেমার মাধ্যমেই। অভিনেতার মতে, যেদিন তিনি সিনেমায় খারাপ অভিনয় করা শুরু করবেন, সেদিনই দর্শকের কাছ থেকে দূরে সরে যাবেন। স্মার্টফোন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করা তাকে দর্শকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়ে একজন তারকার এমন সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। তবে ফাহাদের কাছে এটি কোনো প্রচারণার কৌশল নয়; বরং নিজের সময়, মনোযোগ ও জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার একটি সচেতন চেষ্টা।