অর্থনীতি

ফার্নেস অয়েলে তিক্ত অভিজ্ঞতা, বেসরকারি জ্বালানি তেল আমদানিতে যে ঝুঁকি দেখছে বিপিসি

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় ফার্নেস অয়েল আমদানি করা কিছু বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র তেল আনা বন্ধ রাখে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে তখন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছ থেকে তারা তেল নেয়, তাতে তৈরি হয় বাড়তি চাপ।

 

এখন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের বাজার যদি বেসরকারি খাতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, তাতে একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিপিসি।

 

রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থার আশঙ্কা, স্বাভাবিক সময়ে ব্যবসা লাভজনক থাকলে বেসরকারি কোম্পানি তেল আনবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে কিংবা ডলারের সংকট হলে তারা আমদানি কমিয়ে দিতে পারে।

 

অথচ দেশের পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানির চাহিদা তখনও থাকবে। ওই ঘাটতি পূরণের দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরই পড়বে।

 

সরকার অবশ্য বলছে, বিপিসিকে সরিয়ে দিয়ে বেসরকারি কোম্পানির হাতে পুরো জ্বালানি তেলের বাজার তুলে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিকে পাশাপাশি রেখে প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।

 

বিপিসিবিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, নতুন ব্যবস্থাতেও সরকার তেল আমদানি করবে, পাশাপাশি বেসরকারি খাতও আমদানির সুযোগ পাবে। তবে এ বিষয়ে নীতিমালা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

 

বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের নীতিমালা তৈরির উদ্যোগের মধ্যে এর সম্ভাব্য সুবিধা ও ঝুঁকি বুঝতে বিপিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

 

লিখিত জবাবে সম্ভাব্য কিছু সুবিধার কথা স্বীকার করলেও বড় কিছু ঝুঁকির কথাও বলেছে।

 

সংস্থাটির মতে, বেসরকারি কোম্পানিকে সরাসরি পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বিপণনের সুযোগ দিলে আপাতদৃষ্টিতে সরবরাহের উৎস বাড়বে এবং সরকারের আমদানি ব্যয় বা অর্থায়নের চাপ কমবে। তবে এর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা ও জ্বালানি ব্যয় বাড়ার ঝুঁকিও থাকবে।

 

ফার্নেস অয়েলের অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশে বেসরকারি কোম্পানির জন্য জ্বালানি আমদানির সুযোগ একেবারে নতুন নয়। বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগের অনাপত্তি নিয়ে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিজেদের ব্যবহারের জন্য ফার্নেস অয়েল আমদানি করতে পারে।

 

বিপিসিবিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, নতুন ব্যবস্থাতেও সরকার তেল আমদানি করবে, পাশাপাশি বেসরকারি খাতও আমদানির সুযোগ পাবে। তবে এ বিষয়ে নীতিমালা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

 

বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের নীতিমালা তৈরির উদ্যোগের মধ্যে এর সম্ভাব্য সুবিধা ও ঝুঁকি বুঝতে বিপিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

 

লিখিত জবাবে সম্ভাব্য কিছু সুবিধার কথা স্বীকার করলেও বড় কিছু ঝুঁকির কথাও বলেছে।

 

সংস্থাটির মতে, বেসরকারি কোম্পানিকে সরাসরি পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বিপণনের সুযোগ দিলে আপাতদৃষ্টিতে সরবরাহের উৎস বাড়বে এবং সরকারের আমদানি ব্যয় বা অর্থায়নের চাপ কমবে। তবে এর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা ও জ্বালানি ব্যয় বাড়ার ঝুঁকিও থাকবে।

 

ফার্নেস অয়েলের অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশে বেসরকারি কোম্পানির জন্য জ্বালানি আমদানির সুযোগ একেবারে নতুন নয়। বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগের অনাপত্তি নিয়ে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিজেদের ব্যবহারের জন্য ফার্নেস অয়েল আমদানি করতে পারে।

 

বিপিসির ভাষ্য, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলে এসব কোম্পানির কোনো কোনোটি ফার্নেস অয়েল আমদানি থেকে বিরত থাকে। তখন তারা বিপিসির কাছ থেকে তেল নিতে চাপ তৈরি করে।

 

এরকম পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সরকার ও বিপিসিকে ভর্তুকি দিয়ে এসব কেন্দ্রে ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করতে হয়েছে।

 

তবে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র কখন নিজেদের ব্যবস্থায় তেল আমদানি করবে আর কখন বিপিসির কাছ থেকে নেবে, সেই সিদ্ধান্ত শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওপর নির্ভর করে না। ব্যবসার শর্ত বদলালেও তাদের সিদ্ধান্ত বদলানোর নজির রয়েছে।

 

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিজস্ব ব্যবস্থায় ফার্নেস অয়েল আমদানির সার্ভিস চার্জ ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করে পিডিবি। এরপর বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন-বিপ্পার তৎকালীন সভাপতি কে এম রেজাউল হাসনাত বলেছিলেন, এই হার থাকলে তারা নিজেরা তেল আমদানি না করে বিপিসির কাছ থেকে নেবেন।

 

বিদ্যুৎ বিভাগও তখন বলেছিল, বেসরকারি কেন্দ্রগুলো নিজেরা আমদানি না করলে বিপিসি তাদের জ্বালানি সরবরাহ করবে।

 

এরপর ২০২৫ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ফার্নেস অয়েলের চাহিদা ১২ লাখ ৩৯ হাজার ২৩১ টন থেকে বাড়িয়ে ৩৫ লাখ ৫১ হাজার ৪৮ টন করা হয়।

 

বিপিসিকে মাসে প্রায় ৫ লাখ টন পর্যন্ত ফার্নেস অয়েল আমদানির প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে হিসাব মেলেনি। ওই বছরের মার্চে পিডিবি বিপিসির কাছ থেকে নেয় মাত্র ৭০ হাজার টন ফার্নেস অয়েল।

 

অথচ এপ্রিলের মাঝামাঝি বিপিসির মজুদাগার প্রায় পূর্ণ হয়ে যায়। এর মধ্যে নতুন তেলের জাহাজও আসছিল। ফলে সময়মত জাহাজ থেকে তেল নামানো না গেলে ডেমারেজ বা জাহাজ আটকে থাকার জরিমানার ঝুঁকি তৈরি হয়।

 

পিডিবি সংশ্লিষ্টরা তখন বলেছিলেন, সার্ভিস চার্জ কমানোর পর কিছু বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র বিপিসির কাছ থেকে তেল নেওয়ার কথা বলেছিল। পরে তাদের অনেকে আবার নিজেদের ব্যবস্থায় আমদানি শুরু করে। ফলে যে চাহিদা ধরে বিপিসি তেল আমদানির প্রস্তুতি নিয়েছিল, বাস্তবে সেই পরিমাণ তেল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নেয়নি।

 

এই ঘটনা সরাসরি বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণে আমদানি বন্ধের উদাহরণ নয়। তবে বেসরকারি কোম্পানির বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত বদলালে বিপিসির জাতীয় আমদানি ও মজুদ পরিকল্পনায় কী ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে, এ ঘটনা তা দেখিয়েছে।

 

ওই সময় বেসরকারি কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বিপিসির তেলের মান এবং কেনার শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, নিজেরা আমদানি করলে এলসির মাধ্যমে চার থেকে পাঁচ মাস পরে অর্থ পরিশোধের সুযোগ পাওয়া যায়। বিপিসির কাছ থেকে তেল কিনলে তাৎক্ষণিক অর্থ দিতে হয়।

 

ওই অভিজ্ঞতাই নতুন নীতিমালার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনছে। আর তা হল, পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির সুযোগ বেসরকারি খাতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে ব্যবসার প্রতিকূল সময়েও তাদের আমদানি ও সরবরাহ অব্যাহত রাখার বাধ্যবাধকতা থাকবে কি না।

 

বিপিসি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি ডলার সংকটকেও ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। এর আগেও এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ।

 

২০২২ সালে বিদেশি মুদ্রার সংকটের মধ্যে বেসরকারি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর তেল আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। পিডিবির কাছে বিল বকেয়া থাকায় কয়েকটি কোম্পানির ব্যাংকঋণ পরিশোধ এবং নতুন এলসি খুলতে সমস্যা হচ্ছিল।

 

কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রয়োজন অনুযায়ী ফার্নেস অয়েল আনতে না পারায় তাদের মজুদ কমে গিয়েছিল। বিপ্পাও তখন ফার্নেস অয়েলের মজুদ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল।

 

বিপিসির আশঙ্কা, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে বা দেশে ডলারের সরবরাহে সংকট হলে বেসরকারি আমদানিকারকের একই ধরনের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত পুরো জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।

 

তবে বেসরকারি কোম্পানি তেল আমদানি করলেই যে খরচ বেশি হবে, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তেমনও নয়।

 

২০২৫ সালের অক্টোবরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিজেদের ব্যবস্থায় আনা ফার্নেস অয়েলের ব্যয় ছিল গড়ে প্রায় ৭০ টাকা লিটার। একই সময়ে বিপিসির কাছ থেকে পিডিবিকে ফার্নেস অয়েল নিতে হচ্ছিল ৮৬ টাকা লিটার দরে।

 

মন্ত্রী বলছেন, সরকারও থাকবে

জ্বালানিমন্ত্রী টুকু এ উদ্যোগকে রাষ্ট্রীয় বাজার বেসরকারি খাতের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা হিসেবে দেখতে রাজি নন।

 

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি ব্যবস্থা করার কথা ভাবছে যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানিও তেল আমদানি ও বিক্রি করবে। সরকার নিজে তেল আনা বন্ধ করবে না।

 

ভারতের উদাহরণ দিয়ে টুকু বলেন, সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ইন্ডিয়ান অয়েলের পাশাপাশি বেসরকারি রিলায়েন্সও জ্বালানি ব্যবসায় রয়েছে।

 

ফার্নেস অয়েলের অভিজ্ঞতার কথা তুললে মন্ত্রী বলেন, নতুন ব্যবস্থায় সরকার বেসরকারি কোম্পানিকে এমনিতেই তেল দিয়ে দেবে, বিষয়টি সে রকম হবে না। সেই ব্যবস্থা কী হবে, তা ঠিক করা হবে নীতিমালায়।

 

নীতিমালা চূড়ান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “ফাইনাল হয় নাই।”

 

কবে নাগাদ তা কার্যকর হতে পারে, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, “কাজ চলছে।”

 

প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরবরাহ নিয়েও শঙ্কা

বিপিসির উদ্বেগ শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে আমদানি কমে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে সীমিত নয়।

 

তাদের আশঙ্কা, বেসরকারি কোম্পানি বেশি লাভের বাজারকে অগ্রাধিকার দিতে পারে। ঢাকা, চট্টগ্রাম বা বড় শিল্পাঞ্চলে তুলনামূলক কম খরচে বেশি তেল বিক্রি করা সম্ভব। কিন্তু প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় জ্বালানি পৌঁছাতে খরচ হয় বেশি।

 

বিপিসি মনে করছে, বেসরকারি কোম্পানি কম লাভের এলাকায় সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারে। বর্তমান ব্যবস্থায় বিপিসি এবং এর অধীন তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে সারাদেশে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা ধরে রাখতে হয়। বেসরকারি আমদানিকারকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বাধ্যবাধকতা থাকবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

 

বিপিসি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও মজুদের ঝুঁকিও দেখছে। তাদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার আভাস পেলে বেশি মুনাফার জন্য তেল ধরে রাখার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

 

সরকারের সঙ্গে নীতিগত বিরোধ তৈরি হলেও কোনো কোম্পানি সরবরাহ কমিয়ে বাজারে চাপ তৈরি করতে পারে।

 

বিপিসির সক্ষমতা কমে গেলে কী হবে

বাজারের বড় অংশ বেসরকারি কোম্পানির কাছে গেলে বিপিসির নিজস্ব সক্ষমতার ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। দেশের বার্ষিক জ্বালানি চাহিদা ধরে বিপিসি আমদানি পরিকল্পনা করে। সেই হিসাবে মজুদাগার, জনবল এবং পরিবহন ব্যবস্থা ধরে রাখে।

 

বেসরকারি কোম্পানি বাজারের বড় অংশ নিলে বিপিসির ব্যবসা কমবে। তার সঙ্গে সরকারি অবকাঠামো ও জনবলের প্রয়োজনও কমে যেতে পারে।

 

কিন্তু বড় কোনো আন্তর্জাতিক সংকটে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আমদানি কমিয়ে দিলে ঘাটতি পূরণের দায়িত্ব আবার বিপিসির ওপর আসতে পারে।

 

বিপিসির আশঙ্কা, এর আগেই সরকারি সক্ষমতা কমিয়ে ফেললে তখন স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তেল এনে সরবরাহ করা কঠিন হবে।

 

সংস্থাটি পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েলের ব্যবসার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে।

 

জনস্বার্থের সুরক্ষা কীভাবে হবে?

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম মনে করেন, বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দেওয়ার আগে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো থাকা জরুরি।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলো যথেষ্ট কার্যকর না হলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো সংকটের সময় সরবরাহ কমিয়ে মুনাফা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। বিপিসি ফার্নেস অয়েল আমদানির ক্ষেত্রে যে অভিজ্ঞতার কথা বলেছে, সেটিকেও এই ঝুঁকির একটি উদাহরণ হিসেবে দেখাচ্ছেন তিনি।

 

তার মতে, বাজারে কয়েকটি বড় কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ তৈরি হলে ‘অলিগোপলি’ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তখন সংকট বা সরবরাহ ঘাটতির সুযোগ নিয়ে তারা মুনাফা বাড়াতে পারে এবং বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

 

শামসুল আলম বলেন, “জ্বালানির মত কৌশলগত পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তাই সরকারি ব্যবস্থার দুর্বলতা থাকলে সেটি শক্তিশালী করার বদলে বাজারের বড় অংশ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া সমাধান নয়।”

 

বেসরকারি কোম্পানিকে বাজারে আনার আগে সরকারের নিয়ন্ত্রণ, মূল্য তদারকি এবং সংকটের সময় বাধ্যতামূলক সরবরাহ নিশ্চিত করার সক্ষমতা শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি।

 

প্রস্তাবিত নীতিমালার আইনি দিক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্যাবের এই জ্বালানি উপদেষ্টা। সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের ভূমিকার যে ধারণা রয়েছে, তার সঙ্গে জ্বালানি খাতের এ ধরনের বেসরকারিকরণ সাংঘর্ষিক কি না, সেই বিতর্কের নিষ্পত্তি হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু মনে করেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দিলে প্রথম দিকে সরবরাহের উৎস বাড়ার সুবিধা দেখা যেতে পারে। তবে কয়েকটি বড় কোম্পানি বাজারের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণে নিলে পরে সরকারের ওপর চাপ তৈরির ঝুঁকি থাকবে।

 

তিনি বলেন, “চিনি ও এলপিজির বাজারে বেসরকারি কোম্পানির ভূমিকার অভিজ্ঞতা থেকে এই ঝুঁকি দেখা যায়। কয়েকটি কোম্পানি বাজারের বড় অংশ দখলে নিলে তারা একসঙ্গে দাম বাড়ানোর অবস্থানে যেতে পারে।”

 

জ্বালানিমন্ত্রী কয়েকটি কোম্পানিকে আমদানির সুযোগ দিয়ে প্রতিযোগিতা তৈরির যে কথা বলেছেন, তার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন ঋতু।

 

তার মতে, শুধু একাধিক কোম্পানিকে লাইসেন্স দিলেই প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিত হয় না। বাজারের বড় অংশ অল্প কয়েকটি কোম্পানির হাতে চলে গেলে মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতা কমতে পারে।

 

বিপিসির ফার্নেস অয়েল আমদানির অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেসরকারি কোম্পানি মুনাফাকেই গুরুত্ব দেবে। ব্যবসায় লাভ কমে গেলে তারা আমদানি বা সরবরাহের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে। ফলে সংকটের সময় শেষ পর্যন্ত সরকারকেই সরবরাহ নিশ্চিত করতে হতে পারে।

 

রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই অর্থনীতিবিদ।

 

ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের পরিকল্পনার কথা তুলে তিনি বলেন, দেশে পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ চলার মধ্যে বড় পরিমাণ পরিশোধিত তেল সরাসরি বেসরকারি খাতে আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে রাষ্ট্রায়ত্ত পরিশোধন সক্ষমতার বাজার ও আর্থিক সম্ভাবনার ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে।

 

বর্তমান আইনি কাঠামোর বিষয়ে ঋতুর মত হল, বেসরকারি কোম্পানিকে সরাসরি পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বিপণনের যে সুযোগ দেওয়ার আলোচনা চলছে, সেটি বিদ্যমান ব্যবস্থায় স্পষ্টভাবে নেই বলেই নতুন নীতিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, “রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্ব জনস্বার্থ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে লোকসান নিয়েও সরবরাহ ধরে রাখতে পারে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই ধরনের দায় নিশ্চিত না করে বাজারের বড় অংশ তাদের হাতে দিলে তা জনস্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।”

 

বসুন্ধরার আবেদন দিয়ে আলোচনা সামনে

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বিপণনের সুযোগ দেওয়ার আলোচনা নতুন করে সামনে আসে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের একটি আবেদনের পর।

 

বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড ২৪ মে সরকারের কাছে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও ফার্নেস অয়েল সরাসরি আমদানি এবং নিজেদের ব্যবস্থায় বাজারজাত করার অনুমতি চায়।

 

ওই কোম্পানি বছরে ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে। এর সঙ্গে ২ লাখ টন অকটেন, দেড় লাখ টন পেট্রোল এবং ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ টন ফার্নেস অয়েল আমদানির সুযোগ চেয়েছে।

 

সর্বোচ্চ পরিমাণ ধরে হিসাব করলে বছরে ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বিপণনের অনুমতি চেয়েছে বসুন্ধরা।

 

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭৪ লাখ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিপিসি প্রায় ৪৬ লাখ ১০ হাজার টন পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করেছে।

 

সেই হিসাবে বসুন্ধরার চাওয়া সর্বোচ্চ পরিমাণ বর্তমান বার্ষিক জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশের সমান।

 

বসুন্ধরার আবেদনটি পরীক্ষা করতে ১৪ জুলাই ১১ সদস্যের একটি কমিটি করে বিপিসি। কমিটিকে আবেদনটির আইনি দিক ও আমদানির পরিমাণের পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বিতরণ সক্ষমতা দেখতে বলা হয়।

 

পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার বাজার হিস্যা, রাজস্ব এবং ব্যবসার ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও ছিল তাদের পর্যালোচনার বিষয়। জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার থাকবে কি না, সেটিও দেখতে বলা হয়েছিল।

 

গত ৬ অগাস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বিপিসিকে ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা-২০২৬’-এর খসড়া করতে বলে। ১০ অগাস্টের মধ্যে তা জ্বালানি বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ ছিল।

 

তবে সোমবার বিপিসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি শোনেননি। তার জানা মতে, খসড়াও তখন পর্যন্ত প্রস্তুত হয়নি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

বাজারে গিয়ে মাছ-মাংসের দাম শুনে ফিরে আসতে হচ্ছে অনেককে। সন্তানের পছন্দের খাবার কেনার ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্যে কুলাচ্ছে না। কোনো পরিবারের খাবারের তালিকা থেকে বাদ পড়ছে মাছ-মাংস, আবার কারও সংসারে চাল, ডাল আর আলুই হয়ে উঠেছে প্রধান ভরসা। এমনকি কোনো কোনো পরিবারে সন্তানের জন্য দুধ কেনার টাকাও জুটছে না। সংসারের খরচ সামলাতে কেউ কমিয়েছেন খাবারের পরিমাণ, কেউ বাদ দিয়েছেন প্রয়োজনীয় পণ্য। তবু মাস শেষে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছেন না স্বল্প আয়ের মানুষ।   নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দামে নিম্নবিত্তের পাশাপাশি চাপে পড়েছেন মধ্যবিত্তরাও। সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযুদ্ধে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন সংকট। একদিকে বাজারের বাড়তি খরচ, অন্যদিকে যাতায়াত, রান্না ও অন্যান্য ব্যয়। কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি আয়। বরং কারও কারও কাজ ও উপার্জন কমেছে। ফলে সংসার চালাতে গিয়ে বিলাসিতা তো দূরের কথা, মৌলিক প্রয়োজনেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে। কমছে খাবারের বৈচিত্র্য, সঞ্চয়ে পড়ছে টান, অপূর্ণ থাকছে সন্তানের আবদার।   রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা, বিক্রেতা ও নানা পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে এমন চিত্র। তাদের অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট, দ্রব্যমূল্যের চাপ এখন আর শুধু বাজারের হিসাব নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, খাদ্যাভ্যাস ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সংকট।   ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রিফাতের সংসারে তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে তার ব্যবসায়ও। আগে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা আয় হলেও এখন তা নেমে এসেছে প্রায় তিন হাজার টাকায়। আয় কমে যাওয়ায় সংসার ও ব্যবসার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।   রিফাত বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। আগে যে আয় হতো, এখন তা হচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় জিনিসও কিছুটা ত্যাগ করতে হচ্ছে। কোনোভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে আছি, আর কি।’   রাস্তার পাশের আরেক দোকানি মিজানের অবস্থা আরও করুণ। আগে সপ্তাহে এক-দুবার মাছ-মাংস খেতে পারলেও এখন সবজি কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। দৈনিক আয় ছয় থেকে সাতশ টাকা হলেও খরচ হচ্ছে সাত থেকে আটশ টাকা। ঘাটতি মেটাতে খাবারের খরচ কমানো ছাড়া উপায় নেই তার।   মিজান বলেন, ‘আমরা নিম্নমধ্যবিত্তরা বেশি কষ্টে আছি। অতি নিম্নবিত্তরা কারও কাছে হাত পাততে পারে, কিন্তু আমরা তো পারি না। সন্তানের আবদার পূরণ করা তো দূরের কথা, প্রয়োজনও ঠিকমতো মেটাতে পারছি না।’   বাজারের বাড়তি খরচে দিশাহারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মধ্যবিত্তরাও। এক দম্পতি জানান, বাজারে ঢুকলেই অন্তত দুই হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। কয়েক ধরনের সবজি কিনতেই চলে যায় পাঁচশ টাকা। মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বেতন হলে বাজারের খরচেই ব্যয় হয় অর্ধেকের বেশি। এরপর যাতায়াত ও অন্যান্য পারিবারিক ব্যয় তো রয়েছেই।   একটি পোশাক কারখানায় মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কাজ করেন সাইফ। তার মতে, পণ্যের দাম বাড়ারও একটি সহনীয় সীমা রয়েছে। সেই সীমা পেরিয়ে গেলে মানুষের পক্ষে আগের জীবনযাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।   সাইফ বলেন, ‘আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার। আবেগের জায়গা থেকে সব সময় যেটা খেতে অভ্যস্ত, সেটাই খেতে চাই। কিন্তু সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত নিজেদের চাহিদার সঙ্গেও আপস করতে হচ্ছে। একেবারে খাওয়া বন্ধ করার সুযোগ নেই, তাই কমিয়ে-বাড়িয়ে খেতে হচ্ছে।’   আগে কম টাকায় বেশি পণ্য কেনা গেলেও এখন কেনাকাটায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। বাজারে এসে বেশি দাম দেখে অনেক সময় প্রয়োজনীয় পণ্য না কিনেই ফিরতে হয়। আবার একান্ত প্রয়োজনের কারণে কোনো কোনো পণ্য বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে।   খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন, ক্রেতারা আগের মতো কেনাকাটা করছেন না। অনেকে প্রয়োজনের তালিকা ছোট করেছেন, কমিয়েছেন পণ্যের পরিমাণ। আহাদ আলী নামে এক বিক্রেতা বলেন, ‘ক্রেতা খুবই কম। সবাই হিসাব করে কেনাকাটা করছেন। আমরা পাইকারিতে আগে যে দামে পণ্য কিনতাম, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে।’   তিনি বলেন, গত এক বছরে পাম তেল ও পোলাওয়ের চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে পাইকারিতে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে পাম তেল কিনতেন। এখন সেই দামে আর কিনতে পারছেন না। ফলে বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দরে। বিক্রির দাম গিয়ে ঠেকেছে ১৮৫ থেকে ১৮৬ টাকায়।   মাছ বিক্রেতা শাকিলের অভিজ্ঞতাও একই। তিনি বলেন, ‘তিন-চার বছর আগে ১৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে মোটামুটি ভালো পরিমাণে বাজার করা যেত। এখন শুধু সবজি কিনতেই পাঁচশ টাকা খরচ হয়ে যায়। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো সামঞ্জস্য হচ্ছে না।’   দিনমজুর আমীন আলীর জীবনেও সংকটের শেষ নেই। আগে একটি কাজ করে পাঁচ থেকে আটশ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারতেন। এখন কাজই পান কম, পেলেও অনেক সময় আয় হয় মাত্র চার-পাঁচশ টাকা। সেই টাকায় সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটানো এবং রান্নার জ্বালানির ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।   আমীন আলী বলেন, ‘আমাদের জীবন অনেক কষ্টে আছে। কাজ পাই না। যা আয় হয়, তাতে অনেক কষ্টেই চলছি।’ গরুর মাংসের কথা উঠতেই আক্ষেপ ঝরে তার কণ্ঠে। বলেন, ‘গরুর মাংস আমাদের জন্য না, এটা বড় লোকদের খাবার। আমার আয় যদি ছয়-সাতশ টাকা হয় আর গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকা, তাহলে এক কেজি গরুর মাংস কিনলে চাল-তেল কিনব কিভাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে মাসে দুইবার মাছ-মাংস খেতে পারলেও এখন একবারও পারি না। আমাদের মতো মানুষের এখন দুই-বেলা চাল, ডাল কেনাই কঠিন।’ তার ভাষ্য, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য চাল, ডাল, তেল, আলু—এই চারটি জিনিসের দাম কমলেই আমরা খুশি। আমাদের আর কিছু লাগবে না।’   সংসারের টানাপোড়েনের সবচেয়ে নির্মম চিত্র উঠে আসে এক মধ্যবয়স্ক বাবার কথায়। পাঁচ বছর আগেও সীমিত আয়ে সংসার চালানো তুলনামূলক সহজ ছিল। এখন রান্নার জ্বালানি জোগাড় করতেও বাড়তি খরচ হচ্ছে। গ্যাস না থাকায় কখনো কাঠের চুলা, কখনো কেরোসিন ব্যবহার করতে হয়।   তিনি বলেন, ‘আগে সীমিত আয়েও চলতে পারতাম। এখন মরা ছাড়া বাঁচার পথ নাই।’ সন্তানের খাবারের প্রসঙ্গ তুলতেই অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘সন্তানের দুধ কেনার টাকা নেই। সাবু জ্বাল দিয়ে খাওয়াতে হয়। বাচ্চা খেতে চায় না। সন্তানদের কিছুই দিতে পারিনি।’   সংসারের ব্যয় সামলাতে স্ত্রীকেও কাজে পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন সেলাইয়ের কাজ করা মিলন। তিনি জানান, ‘বাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে পারি না। সবকিছুর দাম অনেক বেড়েছে। বাধ্য হয়ে বউকেও বাইরে কাজে পাঠিয়েছি। কী করব, তিনটা সন্তান আছে, সংসার তো চালাতে হবে।’   সাধারণ মানুষের এমন দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বাড়তি দ্রব্যমূল্যের চাপ সামাল দেওয়ার সামর্থ্য সচ্ছল মানুষের থাকলেও নিম্ন আয়ের মানুষের সেই সুযোগ নেই। ফলে তাদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে।   গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক গ্রাহক নিয়মিত গ্যাস না পেলেও বিল দিচ্ছেন। টাকা দিয়েও সেবা না পাওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।   এদিকে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. জহিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, উৎপাদন পর্যায় থেকে পণ্য ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে কয়েক দফা হাতবদল ও পরিবহন খরচের কারণে দাম বাড়ে। চালের দাম জাত ও মানভেদে ভিন্ন। ডিমের দামও বর্তমানে ক্রেতাদের নাগালে রয়েছে। অন্যদিকে ভোজ্যতেলের দাম সরকার নির্ধারণ করছে। বাজারে চাল নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কিনা, সে বিষয়েও অধিদপ্তর নজর রাখছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে ডিএসইএক্স, শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত

ছবি: সংগৃহীত

জি-পে গ্রাহকদের জন্য এমটিবি ও সমাধানের নতুন ‘টাকা-পে’ প্রিপেইড কার্ড চালু

ডিসেম্বরের আগেই রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হতে পারে

সংগৃহীত ছবি
তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি উদ্যোগ’ নামের এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫৬ জেলার তরুণদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে।   রবিবার (১ নভেম্বর) থেকে তরুণ উদ্যোক্তাদের আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। ৫৬ জেলার সব উপজেলার উদ্যোক্তারা এ আবেদন করতে পারবেন। এর আগে প্রাথমিক পর্যায়ে আট জেলার আবেদন নেওয়া হয়।       এই কর্মসূচির আওতায় একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ এবং সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেয়া হবে। অর্থাৎ, ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পাবেন। ঋণ ও অনুদানের অর্থ এককালীন একসঙ্গে দেওয়া হবে।     অনুদান আসবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে। এদিকে দেশের উপজেলা পর্যায়ের সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের অনুসন্ধান, প্রকৃত উদ্যোক্তা নির্বাচন ও অর্থায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত ‘উদ্যোগ’ : উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’র প্রাথমিক পর্যায়ে আট জেলার ৬৪টি উপজেলা থেকে মোট ১৮ হাজার ৪৪৪টি আবেদন জমা পড়েছে।     কর্মসূচির সক্রিয়করণ পর্যায়ে আট বিভাগের আটটি জেলা- মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনার সব উপজেলায় আবেদন গ্রহণ করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের শাখায় তরুণ উদ্যোক্তারা আবেদন জমা দেন।       প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলাভিত্তিক আবেদনের সংখ্যা হলো- মানিকগঞ্জে ১,৩৪৩টি, ফেনীতে ১,২৬১টি, নওগাঁয় ২,৪৫৬টি, ঝিনাইদহে ২,১৯১টি, ভোলায় ১,৫৪৫টি, হবিগঞ্জে ১,৫৫২টি, রংপুরে ২,৭৪৫টি এবং নেত্রকোনায় ৫,৩৫১টি।     এর ধারাবাহিকতায় উল্লিখিত আট জেলা ছাড়া অবশিষ্ট ৫৬ জেলার সব উপজেলার আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তারা ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত আবেদন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে পারবেন। আবেদন ফরম বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে।      কর্মসূচির নীতিমালা গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-০৫-এর মাধ্যমে জারি করা হয়েছে। নীতিমালাটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট (www.bb.org.bd) এবং এসএমই পোর্টালে (www.bb.org.bd/smespd_portal) পাওয়া যাবে।     দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসারে তরুণ উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।     ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছিলেন, যে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে উদ্যোক্তারা ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে একটি কমিটি থাকবে। সেই কমিটিতে ব্যাংকার ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই থেকে নভেম্বরের ১ তারিখ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ১১.৬৯ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত

বাংলা কিউআরে শুরু হলো ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে লেনদেন

ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

ফাইল ছবি
বাংলাদেশ-তুরস্কের বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য

বাংলাদেশ তুরস্কের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব জোরদারের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে চায় বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।   বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় তুরস্কের ১০৩তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   মন্ত্রী বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক সংহতি এবং ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব হিসেবে অভিহিত করেন।   ঢাকার একটি হোটেলে তুরস্কের দূতাবাস এ সংবর্ধনার আয়োজন করে। ১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর প্রজাতন্ত্র ঘোষণার স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথি ও কূটনীতিকরা অংশ নেন।   আসাদুজ্জামান বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে এ ক্ষেত্রে আরও ব্যাপক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।   তিনি বলেন, বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং ব্যবসায়িক পর্যায়ে অংশীদারত্ব জোরদারের মাধ্যমে আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলার ও এর বেশি পর্যায়ে উন্নীত করতে প্রস্তুত।   তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং দুই দেশের জনগণের সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করবে।   মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-তুরস্ক সহযোগিতা এখন রাজনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর ও বহুমুখী করার অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।   দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটে তুরস্কের মানবিক সহায়তা ও অবিচল সংহতির জন্য বাংলাদেশের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিতের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় তুরস্কের সমর্থনের কথাও তুলে ধরেন তিনি।   দুই দেশের জনগণের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কামাল পাশা’ কবিতার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কবিতাটি তুরস্কের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের শ্রদ্ধা ও অনুরাগের প্রকাশ।   বাংলাদেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের অব্যাহত সহযোগিতাও কামনা করেন আইনমন্ত্রী।   অনুষ্ঠানে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন বলেন, বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের আরও সুযোগ অনুসন্ধানে তুরস্ক তার ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে উৎসাহিত করছে। দেশটিতে ইতিমধ্যে তুর্কি কোম্পানিগুলোর উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে।   তিনি বলেন, ঢাকা-ইস্তাম্বুলের মধ্যে সরাসরি যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান চলাচল দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। রাষ্ট্রদূত জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ সম্মেলনের বিশ্বনেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। রাষ্ট্রদূত এ বছরের ৫ ও ৬ জুন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বাংলাদেশ সফর এবং আন্তর্জাতিক বিচার সম্মেলন ২০২৬-এ অংশ নিতে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের সাম্প্রতিক তুরস্ক সফরের কথা স্মরণ করেন।   তিনি জানান, যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের পরবর্তী বৈঠক আগামী ২১ জানুয়ারি, ২০২৭ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকটি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের সামগ্রিক পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করবে। অনুষ্ঠানে তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা গাজী মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ৩০, ২০২৬

এআই খাতে বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে ফের বড় দরপতন

১৩ বছর পর মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে: জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশ আরও তিন বছর সময় পেল

0 Comments