অর্থনীতি

ফার্নেস অয়েলে তিক্ত অভিজ্ঞতা, বেসরকারি জ্বালানি তেল আমদানিতে যে ঝুঁকি দেখছে বিপিসি

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় ফার্নেস অয়েল আমদানি করা কিছু বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র তেল আনা বন্ধ রাখে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে তখন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছ থেকে তারা তেল নেয়, তাতে তৈরি হয় বাড়তি চাপ।

 

এখন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের বাজার যদি বেসরকারি খাতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, তাতে একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিপিসি।

 

রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থার আশঙ্কা, স্বাভাবিক সময়ে ব্যবসা লাভজনক থাকলে বেসরকারি কোম্পানি তেল আনবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে কিংবা ডলারের সংকট হলে তারা আমদানি কমিয়ে দিতে পারে।

 

অথচ দেশের পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানির চাহিদা তখনও থাকবে। ওই ঘাটতি পূরণের দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরই পড়বে।

 

সরকার অবশ্য বলছে, বিপিসিকে সরিয়ে দিয়ে বেসরকারি কোম্পানির হাতে পুরো জ্বালানি তেলের বাজার তুলে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিকে পাশাপাশি রেখে প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।

 

বিপিসিবিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, নতুন ব্যবস্থাতেও সরকার তেল আমদানি করবে, পাশাপাশি বেসরকারি খাতও আমদানির সুযোগ পাবে। তবে এ বিষয়ে নীতিমালা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

 

বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের নীতিমালা তৈরির উদ্যোগের মধ্যে এর সম্ভাব্য সুবিধা ও ঝুঁকি বুঝতে বিপিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

 

লিখিত জবাবে সম্ভাব্য কিছু সুবিধার কথা স্বীকার করলেও বড় কিছু ঝুঁকির কথাও বলেছে।

 

সংস্থাটির মতে, বেসরকারি কোম্পানিকে সরাসরি পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বিপণনের সুযোগ দিলে আপাতদৃষ্টিতে সরবরাহের উৎস বাড়বে এবং সরকারের আমদানি ব্যয় বা অর্থায়নের চাপ কমবে। তবে এর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা ও জ্বালানি ব্যয় বাড়ার ঝুঁকিও থাকবে।

 

ফার্নেস অয়েলের অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশে বেসরকারি কোম্পানির জন্য জ্বালানি আমদানির সুযোগ একেবারে নতুন নয়। বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগের অনাপত্তি নিয়ে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিজেদের ব্যবহারের জন্য ফার্নেস অয়েল আমদানি করতে পারে।

 

বিপিসিবিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, নতুন ব্যবস্থাতেও সরকার তেল আমদানি করবে, পাশাপাশি বেসরকারি খাতও আমদানির সুযোগ পাবে। তবে এ বিষয়ে নীতিমালা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

 

বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের নীতিমালা তৈরির উদ্যোগের মধ্যে এর সম্ভাব্য সুবিধা ও ঝুঁকি বুঝতে বিপিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

 

লিখিত জবাবে সম্ভাব্য কিছু সুবিধার কথা স্বীকার করলেও বড় কিছু ঝুঁকির কথাও বলেছে।

 

সংস্থাটির মতে, বেসরকারি কোম্পানিকে সরাসরি পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বিপণনের সুযোগ দিলে আপাতদৃষ্টিতে সরবরাহের উৎস বাড়বে এবং সরকারের আমদানি ব্যয় বা অর্থায়নের চাপ কমবে। তবে এর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা ও জ্বালানি ব্যয় বাড়ার ঝুঁকিও থাকবে।

 

ফার্নেস অয়েলের অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশে বেসরকারি কোম্পানির জন্য জ্বালানি আমদানির সুযোগ একেবারে নতুন নয়। বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগের অনাপত্তি নিয়ে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিজেদের ব্যবহারের জন্য ফার্নেস অয়েল আমদানি করতে পারে।

 

বিপিসির ভাষ্য, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলে এসব কোম্পানির কোনো কোনোটি ফার্নেস অয়েল আমদানি থেকে বিরত থাকে। তখন তারা বিপিসির কাছ থেকে তেল নিতে চাপ তৈরি করে।

 

এরকম পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সরকার ও বিপিসিকে ভর্তুকি দিয়ে এসব কেন্দ্রে ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করতে হয়েছে।

 

তবে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র কখন নিজেদের ব্যবস্থায় তেল আমদানি করবে আর কখন বিপিসির কাছ থেকে নেবে, সেই সিদ্ধান্ত শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওপর নির্ভর করে না। ব্যবসার শর্ত বদলালেও তাদের সিদ্ধান্ত বদলানোর নজির রয়েছে।

 

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিজস্ব ব্যবস্থায় ফার্নেস অয়েল আমদানির সার্ভিস চার্জ ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করে পিডিবি। এরপর বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন-বিপ্পার তৎকালীন সভাপতি কে এম রেজাউল হাসনাত বলেছিলেন, এই হার থাকলে তারা নিজেরা তেল আমদানি না করে বিপিসির কাছ থেকে নেবেন।

 

বিদ্যুৎ বিভাগও তখন বলেছিল, বেসরকারি কেন্দ্রগুলো নিজেরা আমদানি না করলে বিপিসি তাদের জ্বালানি সরবরাহ করবে।

 

এরপর ২০২৫ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ফার্নেস অয়েলের চাহিদা ১২ লাখ ৩৯ হাজার ২৩১ টন থেকে বাড়িয়ে ৩৫ লাখ ৫১ হাজার ৪৮ টন করা হয়।

 

বিপিসিকে মাসে প্রায় ৫ লাখ টন পর্যন্ত ফার্নেস অয়েল আমদানির প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে হিসাব মেলেনি। ওই বছরের মার্চে পিডিবি বিপিসির কাছ থেকে নেয় মাত্র ৭০ হাজার টন ফার্নেস অয়েল।

 

অথচ এপ্রিলের মাঝামাঝি বিপিসির মজুদাগার প্রায় পূর্ণ হয়ে যায়। এর মধ্যে নতুন তেলের জাহাজও আসছিল। ফলে সময়মত জাহাজ থেকে তেল নামানো না গেলে ডেমারেজ বা জাহাজ আটকে থাকার জরিমানার ঝুঁকি তৈরি হয়।

 

পিডিবি সংশ্লিষ্টরা তখন বলেছিলেন, সার্ভিস চার্জ কমানোর পর কিছু বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র বিপিসির কাছ থেকে তেল নেওয়ার কথা বলেছিল। পরে তাদের অনেকে আবার নিজেদের ব্যবস্থায় আমদানি শুরু করে। ফলে যে চাহিদা ধরে বিপিসি তেল আমদানির প্রস্তুতি নিয়েছিল, বাস্তবে সেই পরিমাণ তেল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নেয়নি।

 

এই ঘটনা সরাসরি বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণে আমদানি বন্ধের উদাহরণ নয়। তবে বেসরকারি কোম্পানির বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত বদলালে বিপিসির জাতীয় আমদানি ও মজুদ পরিকল্পনায় কী ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে, এ ঘটনা তা দেখিয়েছে।

 

ওই সময় বেসরকারি কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বিপিসির তেলের মান এবং কেনার শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, নিজেরা আমদানি করলে এলসির মাধ্যমে চার থেকে পাঁচ মাস পরে অর্থ পরিশোধের সুযোগ পাওয়া যায়। বিপিসির কাছ থেকে তেল কিনলে তাৎক্ষণিক অর্থ দিতে হয়।

 

ওই অভিজ্ঞতাই নতুন নীতিমালার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনছে। আর তা হল, পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির সুযোগ বেসরকারি খাতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে ব্যবসার প্রতিকূল সময়েও তাদের আমদানি ও সরবরাহ অব্যাহত রাখার বাধ্যবাধকতা থাকবে কি না।

 

বিপিসি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি ডলার সংকটকেও ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। এর আগেও এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ।

 

২০২২ সালে বিদেশি মুদ্রার সংকটের মধ্যে বেসরকারি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর তেল আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। পিডিবির কাছে বিল বকেয়া থাকায় কয়েকটি কোম্পানির ব্যাংকঋণ পরিশোধ এবং নতুন এলসি খুলতে সমস্যা হচ্ছিল।

 

কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রয়োজন অনুযায়ী ফার্নেস অয়েল আনতে না পারায় তাদের মজুদ কমে গিয়েছিল। বিপ্পাও তখন ফার্নেস অয়েলের মজুদ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল।

 

বিপিসির আশঙ্কা, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে বা দেশে ডলারের সরবরাহে সংকট হলে বেসরকারি আমদানিকারকের একই ধরনের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত পুরো জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।

 

তবে বেসরকারি কোম্পানি তেল আমদানি করলেই যে খরচ বেশি হবে, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তেমনও নয়।

 

২০২৫ সালের অক্টোবরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিজেদের ব্যবস্থায় আনা ফার্নেস অয়েলের ব্যয় ছিল গড়ে প্রায় ৭০ টাকা লিটার। একই সময়ে বিপিসির কাছ থেকে পিডিবিকে ফার্নেস অয়েল নিতে হচ্ছিল ৮৬ টাকা লিটার দরে।

 

মন্ত্রী বলছেন, সরকারও থাকবে

জ্বালানিমন্ত্রী টুকু এ উদ্যোগকে রাষ্ট্রীয় বাজার বেসরকারি খাতের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা হিসেবে দেখতে রাজি নন।

 

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি ব্যবস্থা করার কথা ভাবছে যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানিও তেল আমদানি ও বিক্রি করবে। সরকার নিজে তেল আনা বন্ধ করবে না।

 

ভারতের উদাহরণ দিয়ে টুকু বলেন, সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ইন্ডিয়ান অয়েলের পাশাপাশি বেসরকারি রিলায়েন্সও জ্বালানি ব্যবসায় রয়েছে।

 

ফার্নেস অয়েলের অভিজ্ঞতার কথা তুললে মন্ত্রী বলেন, নতুন ব্যবস্থায় সরকার বেসরকারি কোম্পানিকে এমনিতেই তেল দিয়ে দেবে, বিষয়টি সে রকম হবে না। সেই ব্যবস্থা কী হবে, তা ঠিক করা হবে নীতিমালায়।

 

নীতিমালা চূড়ান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “ফাইনাল হয় নাই।”

 

কবে নাগাদ তা কার্যকর হতে পারে, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, “কাজ চলছে।”

 

প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরবরাহ নিয়েও শঙ্কা

বিপিসির উদ্বেগ শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে আমদানি কমে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে সীমিত নয়।

 

তাদের আশঙ্কা, বেসরকারি কোম্পানি বেশি লাভের বাজারকে অগ্রাধিকার দিতে পারে। ঢাকা, চট্টগ্রাম বা বড় শিল্পাঞ্চলে তুলনামূলক কম খরচে বেশি তেল বিক্রি করা সম্ভব। কিন্তু প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় জ্বালানি পৌঁছাতে খরচ হয় বেশি।

 

বিপিসি মনে করছে, বেসরকারি কোম্পানি কম লাভের এলাকায় সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারে। বর্তমান ব্যবস্থায় বিপিসি এবং এর অধীন তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে সারাদেশে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা ধরে রাখতে হয়। বেসরকারি আমদানিকারকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বাধ্যবাধকতা থাকবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

 

বিপিসি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও মজুদের ঝুঁকিও দেখছে। তাদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার আভাস পেলে বেশি মুনাফার জন্য তেল ধরে রাখার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

 

সরকারের সঙ্গে নীতিগত বিরোধ তৈরি হলেও কোনো কোম্পানি সরবরাহ কমিয়ে বাজারে চাপ তৈরি করতে পারে।

 

বিপিসির সক্ষমতা কমে গেলে কী হবে

বাজারের বড় অংশ বেসরকারি কোম্পানির কাছে গেলে বিপিসির নিজস্ব সক্ষমতার ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। দেশের বার্ষিক জ্বালানি চাহিদা ধরে বিপিসি আমদানি পরিকল্পনা করে। সেই হিসাবে মজুদাগার, জনবল এবং পরিবহন ব্যবস্থা ধরে রাখে।

 

বেসরকারি কোম্পানি বাজারের বড় অংশ নিলে বিপিসির ব্যবসা কমবে। তার সঙ্গে সরকারি অবকাঠামো ও জনবলের প্রয়োজনও কমে যেতে পারে।

 

কিন্তু বড় কোনো আন্তর্জাতিক সংকটে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আমদানি কমিয়ে দিলে ঘাটতি পূরণের দায়িত্ব আবার বিপিসির ওপর আসতে পারে।

 

বিপিসির আশঙ্কা, এর আগেই সরকারি সক্ষমতা কমিয়ে ফেললে তখন স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তেল এনে সরবরাহ করা কঠিন হবে।

 

সংস্থাটি পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েলের ব্যবসার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে।

 

জনস্বার্থের সুরক্ষা কীভাবে হবে?

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম মনে করেন, বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দেওয়ার আগে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো থাকা জরুরি।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলো যথেষ্ট কার্যকর না হলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো সংকটের সময় সরবরাহ কমিয়ে মুনাফা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। বিপিসি ফার্নেস অয়েল আমদানির ক্ষেত্রে যে অভিজ্ঞতার কথা বলেছে, সেটিকেও এই ঝুঁকির একটি উদাহরণ হিসেবে দেখাচ্ছেন তিনি।

 

তার মতে, বাজারে কয়েকটি বড় কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ তৈরি হলে ‘অলিগোপলি’ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তখন সংকট বা সরবরাহ ঘাটতির সুযোগ নিয়ে তারা মুনাফা বাড়াতে পারে এবং বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

 

শামসুল আলম বলেন, “জ্বালানির মত কৌশলগত পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তাই সরকারি ব্যবস্থার দুর্বলতা থাকলে সেটি শক্তিশালী করার বদলে বাজারের বড় অংশ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া সমাধান নয়।”

 

বেসরকারি কোম্পানিকে বাজারে আনার আগে সরকারের নিয়ন্ত্রণ, মূল্য তদারকি এবং সংকটের সময় বাধ্যতামূলক সরবরাহ নিশ্চিত করার সক্ষমতা শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি।

 

প্রস্তাবিত নীতিমালার আইনি দিক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্যাবের এই জ্বালানি উপদেষ্টা। সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের ভূমিকার যে ধারণা রয়েছে, তার সঙ্গে জ্বালানি খাতের এ ধরনের বেসরকারিকরণ সাংঘর্ষিক কি না, সেই বিতর্কের নিষ্পত্তি হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু মনে করেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দিলে প্রথম দিকে সরবরাহের উৎস বাড়ার সুবিধা দেখা যেতে পারে। তবে কয়েকটি বড় কোম্পানি বাজারের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণে নিলে পরে সরকারের ওপর চাপ তৈরির ঝুঁকি থাকবে।

 

তিনি বলেন, “চিনি ও এলপিজির বাজারে বেসরকারি কোম্পানির ভূমিকার অভিজ্ঞতা থেকে এই ঝুঁকি দেখা যায়। কয়েকটি কোম্পানি বাজারের বড় অংশ দখলে নিলে তারা একসঙ্গে দাম বাড়ানোর অবস্থানে যেতে পারে।”

 

জ্বালানিমন্ত্রী কয়েকটি কোম্পানিকে আমদানির সুযোগ দিয়ে প্রতিযোগিতা তৈরির যে কথা বলেছেন, তার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন ঋতু।

 

তার মতে, শুধু একাধিক কোম্পানিকে লাইসেন্স দিলেই প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিত হয় না। বাজারের বড় অংশ অল্প কয়েকটি কোম্পানির হাতে চলে গেলে মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতা কমতে পারে।

 

বিপিসির ফার্নেস অয়েল আমদানির অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেসরকারি কোম্পানি মুনাফাকেই গুরুত্ব দেবে। ব্যবসায় লাভ কমে গেলে তারা আমদানি বা সরবরাহের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে। ফলে সংকটের সময় শেষ পর্যন্ত সরকারকেই সরবরাহ নিশ্চিত করতে হতে পারে।

 

রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই অর্থনীতিবিদ।

 

ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের পরিকল্পনার কথা তুলে তিনি বলেন, দেশে পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ চলার মধ্যে বড় পরিমাণ পরিশোধিত তেল সরাসরি বেসরকারি খাতে আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে রাষ্ট্রায়ত্ত পরিশোধন সক্ষমতার বাজার ও আর্থিক সম্ভাবনার ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে।

 

বর্তমান আইনি কাঠামোর বিষয়ে ঋতুর মত হল, বেসরকারি কোম্পানিকে সরাসরি পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বিপণনের যে সুযোগ দেওয়ার আলোচনা চলছে, সেটি বিদ্যমান ব্যবস্থায় স্পষ্টভাবে নেই বলেই নতুন নীতিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, “রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্ব জনস্বার্থ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে লোকসান নিয়েও সরবরাহ ধরে রাখতে পারে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই ধরনের দায় নিশ্চিত না করে বাজারের বড় অংশ তাদের হাতে দিলে তা জনস্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।”

 

বসুন্ধরার আবেদন দিয়ে আলোচনা সামনে

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বিপণনের সুযোগ দেওয়ার আলোচনা নতুন করে সামনে আসে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের একটি আবেদনের পর।

 

বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড ২৪ মে সরকারের কাছে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও ফার্নেস অয়েল সরাসরি আমদানি এবং নিজেদের ব্যবস্থায় বাজারজাত করার অনুমতি চায়।

 

ওই কোম্পানি বছরে ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে। এর সঙ্গে ২ লাখ টন অকটেন, দেড় লাখ টন পেট্রোল এবং ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ টন ফার্নেস অয়েল আমদানির সুযোগ চেয়েছে।

 

সর্বোচ্চ পরিমাণ ধরে হিসাব করলে বছরে ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বিপণনের অনুমতি চেয়েছে বসুন্ধরা।

 

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭৪ লাখ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিপিসি প্রায় ৪৬ লাখ ১০ হাজার টন পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করেছে।

 

সেই হিসাবে বসুন্ধরার চাওয়া সর্বোচ্চ পরিমাণ বর্তমান বার্ষিক জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশের সমান।

 

বসুন্ধরার আবেদনটি পরীক্ষা করতে ১৪ জুলাই ১১ সদস্যের একটি কমিটি করে বিপিসি। কমিটিকে আবেদনটির আইনি দিক ও আমদানির পরিমাণের পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বিতরণ সক্ষমতা দেখতে বলা হয়।

 

পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার বাজার হিস্যা, রাজস্ব এবং ব্যবসার ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও ছিল তাদের পর্যালোচনার বিষয়। জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার থাকবে কি না, সেটিও দেখতে বলা হয়েছিল।

 

গত ৬ অগাস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বিপিসিকে ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা-২০২৬’-এর খসড়া করতে বলে। ১০ অগাস্টের মধ্যে তা জ্বালানি বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ ছিল।

 

তবে সোমবার বিপিসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি শোনেননি। তার জানা মতে, খসড়াও তখন পর্যন্ত প্রস্তুত হয়নি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
বহুজাতিক কোম্পানির ৮৫ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়লেন বিদেশিরা

দেশের শেয়ারবাজারে বহুজাতিক কোম্পানি মারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের শেয়ার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের টানা বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট—ছয় মাসে কোম্পানিটির প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার শেয়ার বিক্রি করেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এসব শেয়ারের বাজারমূল্য প্রায় ৮৫ কোটি টাকা।   ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, মার্চে মারিকো বাংলাদেশের মোট শেয়ারের ১ দশমিক ৯১ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ছিল। আগস্ট শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশে। অর্থাৎ ছয় মাসে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের হিসাবে বিদেশি মালিকানা কমেছে ১ শতাংশ পয়েন্ট।     ডিএসইর মাসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্চের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে মারিকোর শেয়ার কমিয়েছেন বিদেশিরা। এপ্রিলে বিদেশি মালিকানা নেমে আসে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশে। মে মাসে তা আরও কমে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৮০ শতাংশে। জুনে ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং জুলাইয়ে শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশে নামে। সর্বশেষ আগস্টে তা আরও কমে শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।   মারিকোর অন্যতম প্রধান বিদেশি বিনিয়োগকারী নরওয়ের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলও কোম্পানিটির শেয়ার কমিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম এই সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের হাতে থাকা মারিকোর শেয়ার ২০২৫ সালে শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে কমে শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশে নেমে এসেছে।   বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসময় তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে পছন্দের শেয়ার হিসেবে বিবেচিত ছিল মারিকো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন চাপের কারণে কোম্পানিটির প্রতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমেছে। তাদের মতে, কোম্পানিটির মূল ব্যবসায় বড় ধরনের অবনতি না ঘটলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।   তবে বিদেশি মালিকানা কমলেও তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের দিক থেকে এখনও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মারিকো বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটির ওপরে রয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ এবং বাটা শু কোম্পানি (বাংলাদেশ)।   আগস্ট শেষে মারিকো বাংলাদেশের মোট শেয়ারের ৯০ শতাংশ স্পনসর ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার।   এদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির সময়ে কোম্পানিটির মুনাফাতেও পতন হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে মারিকো বাংলাদেশের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমে ১৭০ কোটি ৪৭ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। গত চার বছরের মধ্যে এটাই কোম্পানিটির প্রথম কোনো প্রান্তিকে মুনাফা কমার ঘটনা।   তবে একই সময়ে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে মারিকোর রাজস্ব ৪ শতাংশ বেড়ে ৫৩১ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কোম্পানি জানিয়েছে, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং আর্থিক আয় কমে যাওয়ায় মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।   এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমে ৫৪ টাকা ১২ পয়সায় নেমেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬১ টাকা ৭৭ পয়সা। একইভাবে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ৬৬ টাকা ৭৩ পয়সা থেকে কমে ২০ টাকা ২৮ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধ বেড়ে যাওয়ায় নগদ প্রবাহে এই চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানি।   অন্যদিকে, ৩০ জুন ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৬ টাকা ১৪ পয়সায়। মার্চে এই মূল্য ছিল ৯২ টাকা ২ পয়সা।   মুনাফা কমলেও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বড় অঙ্কের অন্তর্বর্তী ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে মারিকো বাংলাদেশ। কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ৫০০ শতাংশ অন্তর্বর্তী ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে, অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ৫০ টাকা ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়া হবে। কোম্পানিটির ভারতীয় মূল কোম্পানি মারিকো লিমিটেডে মুনাফা পাঠানোর ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও এই উচ্চ ডিভিডেন্ডকে দেখা হচ্ছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)

শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩৬ শতাংশ: আইএমএফ

ছবি: সংগৃহীত

সাড়ে ৫ বছরের মধ্যে ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী টাকার অবস্থান

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়তে পারে পণ্যের দাম

ছবি: সংগৃহীত
রং-হার্ডওয়্যার পণ্যের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ শতাংশ

ঊর্ধ্বমুখী বাজার পরিস্থিতির ছাপ পড়েছে রং ও হার্ডওয়্যার সরঞ্জামের বাজারেও। দুই বছরের ব্যবধানে রকমভেদে রং ও বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত। এমনকি গত ছয় মাসের ব্যবধানে দুই দফায় বেড়েছে রঙের দাম। বাজারের এই অস্থিরতার কারণ হিসেবে জ্বালানি তেল, লোহা ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধিসহ বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থাকে দায়ী করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।   সবশেষ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আগামী মাসে আরও এক দফা মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই বাজার পরিস্থিতির কারণে প্রভাব পড়ছে কেনাবেচায়ও। যশোরের হার্ডওয়্যার বাজার ঘুরে এমন চিত্র উঠে এসেছে।   যশোর শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক হার্ডওয়্যার ও রঙের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে যশোর হার্ডওয়্যার দোকান মালিক সমিতির সদস্য সংখ্যা ১২০। শহরের বিভিন্ন হার্ডওয়্যার দোকান ঘুরে দেখা গেছে, এখানে সাধারণ ডিসটেম্পার প্রতি গ্যালন (৩ দশমিক ৬৪ লিটার) ৫০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছয় মাস আগে এই রঙের দাম ছিল ৪৫০-৬০০ টাকা। প্লাস্টিক পেইন্ট ১৩০০-১৮০০ টাকা গ্যালন দরে বিক্রি হচ্ছে। ছয় মাসে আগে এই রং ১১০০-১৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রঙের কাজে ব্যবহৃত তারপিন (৪ লিটার) বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকায়, যা ছয় মাস আগে ছিল ৯৬০ টাকা।   ইমালশন রং, কোম্পানিভেদে এটি ‘ওয়েদার কোট’ নামেও পরিচিত। এই রং প্রতি গ্যালন ১৭০০-২০০০ টাকা এবং ১৮ লিটারের ড্রাম ৭৮০০-১০০০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। যা আগে গ্যালন ১৫০০-১৮০০ টাকা এবং ড্রাম ৬-৯ হাজার টাকার মধ্যে ছিল। তবে কোম্পানি ও পেইন্টের কালারভেদে বাজারে দামেরও কিছু তারতম্য রয়েছে। যশোরের বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে বার্জার ও এশিয়ান পেইন্টের রং। এর বাইরে এলিট পেইন্ট, রক্সি, ডুলাক্সসহ আরও কয়েকটি কোম্পানির পণ্য রয়েছে।   যশোর শহরের চিত্রা মোড়ের কালাম হার্ডওয়্যার স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আবুল কালাম জানান, গত ছয় মাসে রং-তারপিনের দাম দুই দফায় বেড়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কোম্পানিগুলো রঙের দাম বাড়িয়েছে। কোনো কোনো রঙের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বেচাকেনা অনেক কমে গেছে।   দীর্ঘদিন ধরে রঙের কাজ করা শহরের শংকরপুর এলাকার রংমিস্ত্রি মোহাম্মদ আলী জানান, বর্ষা চলে গেলে রঙের কাজ বেশি হয়। সামনেই সেই সিজন। কিন্তু জিনিসের দাম বেড়ে গেলে অনেকে কাজ করাতে চান না। ফলে বাজারও যেমন মন্দা হয়, তেমনি তারাও কাজের অভাবে পড়েন।   বাজারে রং ছাড়াও হার্ডওয়্যার পণ্যের মধ্যে পেরেক বা তারকাঁটা প্রতিকেজি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যদিও কয়েক মাস আগে এই পেরেকের দাম ১৬০ টাকা পর্যন্ত কেজি পৌঁছেছিল। অবশ্য দুই বছর আগে পেরেকের দাম ৮০-৯০ টাকা কেজি ছিল। আর তার (রড বাঁধার কাজে ব্যবহৃত) প্রতিকেজি ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই তারের দামও ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। দুই বছর আগে এর দাম ছিল ১০০ টাকার নিচে। পাশাপাশি হার্ডওয়্যারের অন্যান্য সামগ্রী, যেমন-দরজার কবজা, ছিটকিনি, হ্যাজবোল্টসহ প্রায় সব পণ্যেরই কমবেশি দাম বেড়েছে।   যশোরের হাটখোলা রোডের হার্ডওয়্যার পণ্য বিক্রেতা নিউ যশোর ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী অখিল রায় বলেন, ‘রডের দাম বাড়লে অনেক হার্ডওয়্যার পণ্য বিশেষ করে পেরেক, তারের দাম বেড়ে যায়। রডের দাম যখন ১০৮ টাকা কেজিতে পৌঁছেছিল, তখন পেরেক-তারের দাম ১৬০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছিল। এখন একটু কমেছে। আর হার্ডওয়্যারের অন্যান্য পণ্য যেগুলো বিদেশ থেকে আসে, সেগুলোর দাম ডলারের দামের ওপরেও নির্ভর করে। তবে সব পণ্যের দামই গড়ে ২০ টাকা হারে বেড়ে গেছে।’   যশোর হার্ডওয়্যার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মানিক চন্দ্র কর। তিনি জানান, গত ছয় মাসে দুই দফায় রঙের দাম বেড়েছে। সবশেষ রোববার মধ্যরাতে ফের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় অক্টোবরে রঙের দাম আরও এক দফা বৃদ্ধির আভাস রয়েছে। বড় কোম্পানিগুলো দাম বাড়িয়ে দিলে সঙ্গে সঙ্গে অন্যরাও দাম বাড়িয়ে দেন।   তিনি বলেন, মূলত বর্ষা মৌসুম পার হলে কাজ বাড়ে। তখন রংসহ হার্ডওয়্যার পণ্যের চাহিদাও বাড়ে। এখন এমনিতেই মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজার পরিস্থিতি মন্দা। তার ওপর আগামী মাসে আবার দাম বাড়লে কী হবে তা নিয়ে তারা শঙ্কায় রয়েছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

১৯ দিনেই দেশে এলো ২৩ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স

ছবি: সংগৃহীত

দেশে গ্যাসের উৎপাদন বেড়ে ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি

ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স নিয়ে সরকারের নতুন ভাবনা: অর্থমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
প্রাইজবন্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সঞ্চয়কারীরা

সরকারের গ্যারান্টি থাকা সত্ত্বেও সঞ্চয়কারীদের আগ্রহ হারাচ্ছে প্রাইজবন্ড। একদিকে নতুন করে প্রাইজবন্ড কেনা কমেছে, অন্যদিকে এ খাত থেকে মূল অর্থ ও পুরস্কারের অর্থ দেওয়ার পরিমাণও তলানিতে ঠেকেছে। ফলে প্রাইজবন্ড থেকে সরকারের সরাসরি ঋণ পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে এসেছে।   সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রচারের অভাব এবং বাজারে আরও সহজলভ্য ও লাভজনক বিকল্প সঞ্চয় মাধ্যম থাকায় প্রাইজবন্ডের প্রতি মানুষের এই অনীহা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও প্রাইজবন্ডকে আবার জনপ্রিয় করতে ১ হাজার টাকা মূল্যমানের নতুন প্রাইজবন্ড চালুর পাশাপাশি পুরস্কারের অঙ্ক বড় করার প্রস্তাব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।   জনগণের জন্য সরকারের বিনিয়োগ প্রকল্প বা সঞ্চয়ী উপকরণ হিসেবে ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রাইজবন্ড চালু করা হয়। বর্তমানে বাজারে ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড চালু রয়েছে। ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে এটি চালু করা হলেও প্রথমদিকে ১০ টাকা ও ৫০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড ছিল। মূল্যস্ফীতির হার বাড়ার কারণে সেগুলো ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে বাতিল করা হয়। শুরুর দিকে এই বন্ড বিয়ে, জন্মদিন বা নানা পারিবারিক উৎসবে উপহার হিসাবে দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। প্রিয়জনদের নানা উপলক্ষ্যেও দেওয়া হতো প্রাইজবন্ড। কারণ এটি বেশ সহজলভ্য। একই সঙ্গে যার হাতে যাবে সেই হবে এর মালিক। সময়ের বিবর্তনে এর গুরুত্ব ও জনপ্রিয়তা কমেছে।   নগদ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে কোনো শাখা অফিস, বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা, ডাকঘর ও জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের যে কোনো শাখা থেকে খুব সহজে নগদ টাকার বিনিময়ে প্রাইজবন্ড কেনা যায়। এটি কেনার ক্ষেত্রে কোনো বিনিয়োগ সীমা নেই। এতে কোনো সুদ বা মুনাফা দেওয়া হয় না। তবে প্রতি তিন মাস পরপর বছরে চারবার এর লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে পুরস্কার দেওয়া হয়।   প্রাইজবন্ডের ৪৬টি সিরিজ রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি নম্বরের ৪৬টি প্রাইজবন্ড আছে। প্রতি সিরিজের জন্য রয়েছে পুরস্কার। মোট ৪৬টি পুরস্কার দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম পুরস্কার ১টি ৬ লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ১টি সোয়া ৩ লাখ টাকার। তৃতীয় পুরস্কার ২টি প্রতিটি ১ লাখ টাকা করে, চতুর্থ পুরস্কার ২টি প্রতিটি ৫০ হাজার টাকা করে এবং পঞ্চম পুরস্কার ৪০টি প্রতিটি ১০ হাজার টাকা করে। প্রতি সিরিজের জন্যই এসব পুরস্কার রয়েছে। সব মিলে প্রতি ড্রতে ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকার পুরস্কার দেওয়া হয়। ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার দুই বছরের মধ্যে পুরস্কার দাবি করতে হয়। অর্থ স্থানান্তরের আগে ২০ শতাংশ হারে আয়কর কেটে রাখা হয়।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাইজবন্ড বিক্রির সংখ্যা বেশ কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯৯ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রাইজবন্ড বিক্রি হয়েছিল। গত অর্থবছরে বিক্রি হয়েছে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রাইজবন্ড। এক বছরের ব্যবধানে এর বিক্রি কমেছে ২১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বা ২১ দশমিক ৫৫ শতাংশ।   ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল বিনিয়োগ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৬৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। একই সময়ে লটারির ড্র বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। মূল অর্থ পরিশোধ বাবদ অর্থ বাদ দিয়ে নিট বিক্রি ছিল ৩২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। মূল টাকা ও লটারির ড্র এই দুটি মিলে মোট পরিশোধ করা হয়েছে ১১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অর্থাৎ গ্রস বিক্রির চেয়ে পরিশোধ করা হয়েছে ১৫ কোটি ১০ লাখ টাকা বেশি। এই বাড়তি অর্থ সরকারকে অন্য খাত থেকে এনে জোগান দিতে হয়েছে।   গত অর্থবছরে এ খাতেও অর্থ পরিশোধ কম হয়েছে। মূল অর্থ পরিশোধ করা হয় ৫৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং লটারির ড্র বাবদ পরিশোধ করা হয় ২৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। মূল অর্থ পরিশোধ বাদ দিয়ে নিট বিক্রি হয়েছিল ২১ কোটি ৫০ লাখ টাকার। মূল অর্থ ও লটারির ড্র এ দুটি মিলে পরিশোধ করা হয় ৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। গ্রস বিক্রির চেয়ে পরিশোধ বেশি করা হয় ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ অর্থও অন্য খাত থেকে জোগান দেওয়া হয়েছে।   প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তুলনায় গত অর্থবছরে প্রাইজবন্ডের মূল অর্থ পরিশোধ কমেছে ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা ১৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। একই সময়ে লটারির ড্র বাবদ পরিশোধ কমেছে ১৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ৪০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ওই সময়ে নিট বিক্রি কমেছে ১০ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ৩৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।   অথচ আগে প্রাইজবন্ডের বিক্রি বেশি ছিল। ফলে তা থেকে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করেও উদ্বৃত্ত থাকত। যা সরকার জনগণের কাছ থেকে ঋণ হিসাবে নিত। এখন এর বিক্রি কমায় সরকার নিট ঋণ নিতে পারছে না।   প্রাইজবন্ডের বিক্রি কমে যাওয়ার কারণ প্রচারণার ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি এবং বিকল্প সঞ্চয় মাধ্যমের আকর্ষণ প্রধান ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা। তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রাইজবন্ড সম্পর্কিত স্বচ্ছ ধারণার অভাব রয়েছে, কারণ এ বিষয়ে আগের মতো আর জোরালো প্রচারণা চালানো হয় না।   মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণে ১০০ টাকা এখন তেমন মূল্যবান না। সময়ের প্রয়োজনে এখন ১ হাজার টাকা, ৫০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড ছাড়া যেতে পারে। এছাড়া ব্যাংকগুলোতে এখন নানা ধরনের সঞ্চয়ী উপকরণ আছে। সেগুলো নিয়ে বেশ প্রচারও চলছে। ফলে গ্রাহকরা এখন সেদিকে ঝুঁকছেন। তবে প্রাইজবন্ডের সুবিধাগুলোর প্রচার করা দরকার। পাশাপাশি এর মুনাফার ওপর কর তুলে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে, বলেন এই কর্মকর্তা।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে কাল ১২.৫ মিলিয়ন, ৩-৪ মাসে আরও ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বাসস

বন্ধ হয়ে আছে ৪৫ হাজার তাঁত কারখানা, বেকার ৯৬ হাজার শ্রমিক

ওভারফ্লাই ফি থেকে শাহজালালের রেকর্ড আয়: এক বছরে ৮০৫ কোটি

0 Comments