ছিনতাই করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে এক পা হারিয়ে ধরেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার হ্যান্ডেল। রিকশা চালানোর আড়ালে শুরু করেন মাদক কারবার।
ধীরে ধীরে পল্লবী-মিরপুরের মাদক কারবারে নিজের প্রভাব বিস্তার করেন রুবেল। এরপর মাদক কারবারের বিরোধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলাতেও নাম জড়ান তিনি।
যে রুবেল একসময় রিকশায় চড়ে মাদক পৌঁছে দিতেন, সেই তিনিই এখন চার চাকার গাড়িতে সিনেমার কায়দায় প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে মুহূর্তেই উধাও হয়ে যান।
পুলিশ আর স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পা হারানোর পর ‘ল্যাংড়া রুবেল’ নামে পরিচিতি পান মো. রুবেল।
গত ৭ অগাস্ট পল্লবীতে মাদক কারবারের বিরোধের জেরে আলমগীর হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে রুবেল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
ওই ঘটনায় আলমগীরের স্ত্রী রিনা খাতুন পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় রুবেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী পাপ্পু ওরফে পাপ্পা ওরফে শাকির আহমেদকেও আসামি করা হয়।
ঘটনার পর গা ঢাকা দেন রুবেল ও তার সহযোগীরা। তিন দিন পর সোমবার রাজধানীর অদূরে আমিনবাজার, সাভার, গাজীপুর ও কুষ্টিয়ায় অভিযান চালিয়ে রুবেলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মিরপুর বিভাগ।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন পাপ্পা, হামিদুর ওরফে মাখন, পারভেজ ও রাব্বি। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি কার, একটি ভক্সওয়াগন গাড়ি এবং এক হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে ডিবি। এই ঘটনায় শহীদুল নামে আরও একজন সহযোগী গ্রেপ্তার হয় পল্লবী থানা পুলিশের হাতে।
ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান মঙ্গলবার বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা ঢাকার বাইরে চলে গিয়েছিলেন।
“ঘটনা ঘটিয়ে তারা কেউই ঢাকার ভেতরে ছিল না। গাজীপুরের কিছু জায়গা থেকে আমরা প্রথমে একজনকে ধরেছি; তারপরে একজনকে আমিনবাজার থেকে, একজনকে সাভার থেকে। এমনকি একজনকে কুষ্টিয়া থেকেও পিক করা হয়েছে।”
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গুলি করার পর রুবেল ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন বলে তথ্য পেয়েছেন তারা।
পুলিশের নথি ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রুবেলের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয় চুরি ও ছিনতাই দিয়ে। ২০১১ সালে চুরি ও দস্যুতার অভিযোগে পুলিশের তালিকায় তার নাম ওঠে। এরপর তার বিরুদ্ধে আরও অন্তত ১০টি মামলা হয়। এসব মামলার অধিকাংশই মাদকসংক্রান্ত।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে পল্লবীর ‘ডি’ ব্লক এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় পুলিশের গুলিতে রুবেলের এক পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতে শুরু করেন। অটোরিকশা চালকের পরিচয়ের আড়ালে তখন থেকেই মাদক পরিবহন ও সরবরাহে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই সময় থেকেই স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ল্যাংড়া রুবেল’ নামে পরিচিতি পান।
পুলিশের হিসাবে, ২০২৪ সালের পর রুবেলের বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ‘পেপার সানি’ নামে তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর পল্লবীর মাদক কারবারে রুবেলের প্রভাব আরও বাড়ে।
সরজমিন ঘুরে পল্লবীর ৩৯টি বিহারি ক্যাম্প, বাউনিয়া বাঁধ, কাফরুল, মিরপুরের ১০ ও ১১ নম্বর এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক মাদক বিক্রির ‘স্পট’ দেখা গেছে।
ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজার মতো মাদক এসব এলাকায় সরবরাহের ক্ষেত্রে রুবেলের একটি নেটওয়ার্কও রয়েছে। রুবেলের ভাই পাপ্পা ওই নেটওয়ার্কের ‘ম্যানেজার’ হিসেবে কাজ করেন। বিভিন্ন স্পটে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়া ও সেসবের হিসেব রাখার কাজটি মূলত পাপ্পাই করেন।
মিল্লাত ক্যাম্পের মাদক কারবারের স্পটগুলো দেখভাল করেন পারভেজ।
মাখনসহ আরও কয়েকজন রুবেলের হয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন। তাদের কাজের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক কারবারীদের গতিবিধির তথ্য সংগ্রহ এবং রুবেলের কাছ থেকে মাদক না নিয়ে অন্য সরবরাহকারীর কাছ থেকে মাদক নেওয়া কারবারীদের ওপর চাপ তৈরির অভিযোগ রয়েছে।
পল্লবীর মাদক কারবারের সঙ্গে একসময় যুক্ত ছিলেন, এমন তিনজন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
তাদের কেউ নাম প্রকাশ করে কথা বলতে চাননি। ওই তিনজনের একজন বর্তমানে পলাতক। তিনি সোমবার বলেন, একসময় পল্লবীর এডিসি ক্যাম্পে ভাড়া থাকতেন রুবেল। তার দাবি, হকি সুমন ও রিয়াজ নামে দুজন তাকে (রুবেল) আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন।
“যদি রুবেলের মাদক কোনো কারবারী বিক্রি না করে, তাহলে তাদের ওপর ব্যাপক অত্যাচার করে রুবেল ও তার লোকজন।”
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, পল্লবীর বিভিন্ন ঘটনায় রুবেল ও তার সহযোগীদের নাম বারবার এসেছে।
তিনি বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরেই তাকে ধরার চেষ্টা করছিলাম। প্রযুক্তিগতভাবে নিজেকে আড়াল করে রাখা ও কোনো সিম ব্যবহার না করায় আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী তাকে ধরা সম্ভব হচ্ছিল না। মাদক ব্যবসা করে রুবেল বিপুল টাকার মালিক হয়েছেন। সেই টাকা দিয়ে নানা ‘লিংক-লবিং’ করে বারবার পুলিশের হাত থেকে বেঁচে গেছে এই চিহ্নিত মাদক কারবারী ও কিলার।”
মিরপুর-১১ নম্বরের ‘বি’ ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের পশ্চিম পাশে মিল্লাত ক্যাম্প। ক্যাম্পের ভেতরের সরু গলিগুলো অনেকটা গোলকধাঁধার মতো। সোমবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে কয়েকটি গলিতে ইয়াবা ও গাঁজার মতো মাদক প্রকাশ্যে বিক্রির দৃশ্য দেখা যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হেরোইনও পাওয়া যায়; তবে সেজন্য নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় যোগাযোগ করতে হয়। ক্যাম্পের কয়েকটি ঘরে মাদক সেবনের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। নিয়মিত যারা সেখানে যান, তারা কারবারীদের কাছে ‘বান্ধা কাস্টমার’ হিসেবে পরিচিতি।
ক্যাম্পের বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মাদক কেনাবেচা সবচেয়ে বেশি জমে ওঠে।
পঞ্চাশোর্ধ এক নারী বলেন, “বিক্রি হয়, এটা তো সবাই জানে। পুলিশও জানে। এই একটু আগেই পুলিশ এসে ঘুরে গেল এখান থেকে। তবে এসব নিয়ে কেউ কথা বলবে না।”
শুধু মিল্লাত ক্যাম্প নয়, মিরপুরের আরও কয়েকটি ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। পল্লবী থানার কাছাকাছি কালশীর মোড়ে বিকালের পর সড়কের পাশে বসে থাকা মানুষের ভিড়ের মধ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যস্ত সড়কের পাশে সারি সারি মানুষ বসে আছেন। তাদের মধ্যে মাদক বিক্রেতারাও মিশে থাকেন। কখনও চোখের ইশারায়, কখনও সরাসরি পথচারীকে জিজ্ঞেস করা হয় মাদক লাগবে কি না। আগ্রহ দেখালে সড়কের পাশেই ইয়াবা সরবরাহ করা হয়।
সম্প্রতি ঢাকার ৫০ থানার মাদক কারবারীদের তালিকা হালনাগাদ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর। ওই তালিকায় ৫০ থানায় মোট ৩৬৩ জন মাদক কারবারীর নাম রয়েছে। পুলিশের ওই তালিকায় ল্যাংড়া রুবেলের মতো মাদক কারবারীর পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতা ও শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যদের নামও রয়েছে।
তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পল্লবী থানার আওতাধীন ১৭টি এলাকায় ১৭ জনকে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
তালিকা অনুযায়ী, মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের ব্লক-বি, মিল্লাত ক্যাম্পের ৪ নম্বর সড়কে ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক কারবার করেন রাজিয়া খাতুন (৪৫)।
পুলিশের নথিতে তাকে ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারী হিসেবে তুলে করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ডিলার’ হিসেবে পরিচিত বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার অধীনে অন্তত ১০ জন নারী-পুরুষ খুচরা বিক্রেতা হিসেবে কাজ করেন বলেও নথিতে বলা রয়েছে।
সেকশন-১১-এর ব্লক-এ, বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে তালিকায় রয়েছে ফাতেমা বেগম ওরফে ফতেহ (৪৩)-এর নাম। একই সেকশনের ব্লক-ই এলাকায় লাভলী বেগম (৫১) এবং সেকশন-১২-এর ব্লক-ই, পূর্ব কুর্মিটোলা ক্যাম্পের শাহ পরান বস্তিতে শাহনাজ (৪৪) মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের তালিকায় বলা হয়েছে।
সেকশন-১২-এর শাহ পরান বস্তিতে হালিমা ওরফে নাজ খাতুন (২৬), সেকশন-১১-এর ব্লক-বি এলাকায় নাদিম (৩৯) এবং একই সেকশনের জল্ল্যাক্যাম্প এলাকায় জুম্মন (৬০)-এর নামও রয়েছে ওই তালিকায়। এছাড়া সেকশন-১১-এর ব্লক-ডি, বাউনিয়াবাদ এলাকায় সাহাজামান ওরফে সাবু (৩১), একই সেকশনের ব্লক-বি, মিল্লাত ক্যাম্প এলাকায় জুম্মন ওরফে নাটা জুম্মন (৩৫) এবং ব্লক-সি, বড় মসজিদের সামনে বট রনি (৩২) মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের তালিকায় মাদক কারবারে জড়িত হিসেবে থাকা অন্যদের মধ্যে রয়েছেন রজনী আক্তার (৩০), শারমিন (৩১), শাহিনুর বেগম (৩১), বিনা সুন্দরী (৫৫), রুবেল ওরফে ল্যাংড়া রুবেল (৩৬), আফসানা ওরফে পুতুল (৩৫) এবং রুমা (৪৩)। পুলিশের নথি অনুযায়ী, রুবেল ওরফে ল্যাংড়া রুবেল সেকশন-১১-এর ব্লক-সি, এডিসি ক্যাম্প এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। আফসানা ওরফে পুতুল একই সেকশনের ব্লক-বি, তালাব ক্যাম্প এলাকায় এবং রুমা সেকশন-১২-এর ব্লক-ই, কুর্মিটোলা ক্যাম্প এলাকায় মাদক কারবারে জড়িত বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, পুলিশের হালনাগাদ তালিকায় পল্লবী থানার আওতাধীন ১৭টি স্পটে ১৭ জনকে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রুবেল ওরফে ল্যাংড়া রুবেলের নামও রয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর বিভাগের উপ কমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত এদের ধরছি। তারা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার একই কাজে লিপ্ত হচ্ছে।”
গত শুক্রবার বিকালে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন আলমগীর হোসেন। এ সময় একটি লাল রঙের কার এসে কিছুটা দূরে দাঁড়ায়। গাড়ি থেকে চারজন নেমে আলমগীরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। প্রায় ২০ সেকেন্ডের মধ্যে গুলি ছুড়ে তারা আবার ওই গাড়িতে করেই ঘটনাস্থল ছাড়েন। হামলাকারীদের ছোড়া তিনটি গুলি আলমগীরের মাথা ও পিঠে লাগে। এ সময় জ্যোৎস্না নামে এক পথচারীর পায়েও গুলি লাগে।
ঘটনার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীর সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, হামলাকারীদের মধ্যে দুজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন। তারা হলেন রুবেল ও পাপ্পা। ঘটনাস্থলের দুটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজেও আলমগীরের বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিত্র পাওয়া গেছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগ ও ডিবির মিরপুর বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, রুবেলের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকার ইয়াবা নিয়ে বিক্রি করেন আলমগীর। বিক্রির পর সেই টাকার ভাগ রুবেলকে না দেওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ওই বিরোধের জেরেই প্রতিশোধ হিসেবে আলমগীরকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল তথ্য দিয়েছেন।
তবে পুলিশের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন আলমগীরের স্ত্রী ও মামলার বাদি রিনা খাতুন। মঙ্গলবার রিনা বলেন, “এগুলো সব মিথ্যা কথা। বিভিন্ন সাংবাদিক ও রুবেলের লোকেরা এসব ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আমার হাসব্যান্ড যেহেতু রাজনীতি করে, সেহেতু তার নামে এসব রটানো হচ্ছে।”
তার দাবি, গত বছর রাকিবুল হাসান সানি ওরফে ‘পেপার সানি’ হত্যার ঘটনায় রুবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তার স্বামী এর প্রতিবাদ করেছিলেন। ওই সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দিয়েছিলেন আলমগীর।
রিনা বলেন, “‘পেপার সানি’ খুনের অভিযোগ উঠেছিল রুবেলের বিরুদ্ধে। এটার প্রতিবাদ করে সে সময় বিভিন্ন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন আমার স্বামী। তখন থেকেই রুবেল খ্যাপা। এজন্যই তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল।”
চিকিৎসাধীন থাকায় পুলিশের অভিযোগের বিষয়ে আলমগীরের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পল্লবীতে মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে গত কয়েক বছরে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মাদক কারবারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তির পাশাপাশি রয়েছেন সাধারণ মানুষও।
এর মধ্যে গত বছরের জুনে মিরপুর-১১ নম্বরের বি ব্লকের ৩ নম্বর লাইন, মিল্লাত ক্যাম্প এলাকায় রাকিবুল হাসান সানি ওরফে ‘পেপার সানি’কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
স্থানীয়ভাবে মাদক কারবারী হিসেবে পরিচিত সানির মা ওই ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় ল্যাংড়া রুবেল, বোমা কাল্লু, স্বপন, জিন্দা ও টানা আকাশকে। মিরপুর এলাকার সন্ত্রাসীদের নিয়ে পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, এদের সবাই ল্যাংড়া রুবেল গ্রুপের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত।
২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর মিরপুর-১১ নম্বরের লালমাটি টেম্পোস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় মাদক কারবারীদের দুই পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে প্রাণ হারান আয়েশা আক্তার।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদক কারবারের আধিপত্য নিয়ে সেদিন দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে গোলাগুলি হয়। এ সময় ঘরের জানালার পাশে থাকা আয়েশা আক্তারের মাথায় গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। ওই ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা হয়। মামলায় মমিন, শাবু, সম্রাট ও শামিমসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়।
একই বছরের ১৬ মার্চ পল্লবীর একটি বিহারি ক্যাম্প এলাকায় প্রকাশ্যে ফয়সাল নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ঘটনার তদন্তে নামে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মাদক ব্যবসার টাকা এবং কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে পেপার সানি গ্রুপ ও সাইমুন গ্রুপের বিরোধের জেরে ফয়সালকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের নেতা আকাশ, রাব্বি ও ইমরানসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিবি।
এর পরের মাসেই পল্লবী থানা এলাকায় পাভেল নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়। ডিবির তদন্তে বলা হয়, এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অবৈধ চাঁদাবাজি থেকে পাওয়া টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পাভেলকে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হাবিব, হানিফ ও আনিছসহ ছয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়।
মাদক কারবারীদের তালিকা আছে; কারা হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলো ঘটাতে পারে, পুলিশ সবাইকে চেনে। তবুও এসব ঘটনা এড়ানো যাচ্ছে না কেন?
এসব প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, “নিয়মিত অভিযানে আমরা সব মাদক কারবারীদের ধরছি। আমার কাছে সাম্প্রতিক যে পরিসংখ্যান, তাতে মার্ডারের মতো ঘটনা তো তেমন দেখছি না। পল্লবীতে যিনি গুলির ঘটনা ঘটিয়েছেন, তিনি অলরেডি গ্রেপ্তার হয়েছেন। মাদক ও খুনোখুনি এড়াতে ডিএমপি সচেষ্ট রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকার একটি বাসা থেকে কিছু হাতবোমা ও বোমা তৈরির উপকরণসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে অভিযান শুরুর পর বাসাটি ঘিরে রাখা হয়েছে, পাশাপাশি গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিয়ে আরও অভিযান চলছে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ আরিফ ‘নব্য জেএমবি’ সদস্য। তাকে নিয়ে আরো অভিযান চালানো হচ্ছে। সাভারের অভিযানে অংশ নেওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এ বাসাতেও পাইপ বোমা পাওয়া গেছে। এখানে এমন কিছু বোমা বানানোর আলামত দেখা গেছে। এ পাইপ বোমার সঙ্গে কিছুদিন আগে মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনে পাওয়া পাইপ বোমার মিল পাওয়া গেছে। মতিঝিলের পাইপ বোমার সঙ্গে এখানকার বোমার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা এ পুলিশ কর্মকর্তার। অভিযানটি যৌথভাবে পরিচালনা করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি) ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের সদস্যরা। সেখানে সাভার থানা পুলিশও রয়েছে। এর আগে পুলিশের এক বার্তায় বলা হয়, ঢাকার মতিঝিলসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তার নিয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করবে পুলিশ। বাসাটির মালিক আব্দুল জলিল নামে এক ব্যক্তি। তিনি পক্ষঘাতগ্রস্থ ও শয্যাশায়ী। তার মেয়েরা বাসাটির দেখাশোনা করেন। রাত ২টার দিকে তার বড় মেয়ে বলছেন, গত ৫ অগাস্ট আব্বাস আলী নামের পরিচয়পত্র দিয়ে এক ব্যক্তি মাসে চার হাজার টাকা ভাড়ায় একটি ঘর নেন। বাসায় ওঠার সময় বলেছিলেন তিনি একজন প্রাইভেট কার চালক। পাশেই শ্যামপুর প্রাইমারি স্কুল হওয়ায় সেখানে বাচ্চাদের ভর্তি করাবেন, সেজন্য বাসাটি পছন্দ তার। ১০০০ টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন। একটি ফ্যান লাগিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর তাকে আর দিনের বেলায় দেখা যায়নি। এখন যেসব জিনিসপত্র পুলিশ উদ্ধার করছে সেগুলো তিনি রাতের বেলায় কোনো এক ফাঁকে নিয়ে এসেছিলেন। মাঝে মাঝে রাতের বেলায় নিচতলা থেকে জিনিসপত্র জোরে জোরে রাখার শব্দ তারা পেয়েছেন। এর আগে রাতের অভিযান নিয়ে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে হেমায়েতপুরের শ্যামপুর থেকে হাতবোমাগুলো উদ্ধার করা হয়। “একই এলাকার শ্যামপুর সরকারি প্রাইমারি স্কুলের পেছনে আরও হাতবোমা সংরক্ষিত আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।” ওসি বলেন, “স্থানটি নিরাপত্তা বেষ্টনি দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এসেছে।” বোমা উদ্ধারসহ অভিযান চালাতে সেখানে গিয়েছে সিটিটিসির সোয়াট ও বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। মঙ্গলবার রাতে সাভারের অভিযান নিয়ে সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, “গত ডিসেম্বরে কেরানীগঞ্জের মাদ্রসায় আমরা বোমা তৈরির অন্যতম উপকরণ টিএটিপি (ট্রাই এসিটোন ট্রাই পারঅক্সাইড) পেয়েছিলাম। সাভারেও টিএটিপি পাওয়া গেছে। ধরন দেখে মনে হচ্ছে এরা লিংকড। “এছাড়া কেরানীগঞ্জে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনার পরে চেকপোস্টে পুলিশকে ছুরিকাঘাতের আরিফ নামে একজন উগ্রবাদীর যোগসাজশের তথ্য তখনই পাওয়া গিয়েছিল। আমরা এখনো সেসব তথ্য যাচাই করতে পারিনি।” তবে আশুলিয়ায় যে প্রেসার কুকার বোমাটি পাওয়া গিয়েছিল, সেটি হেমায়েতপুরের এই বাসায় তৈরি বলে ধারনার কথা জানিয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, “আশুলিয়ার বোমার সূত্র ধরেই এই আরিফকে শনাক্ত করা হয়। বিস্ফোরণের ধরন দেখে মনে হচ্ছে, আশুলিয়ার বোমাটি হেমায়েতপুরের এ বাসাতেই তৈরি হয়েছিল।” গ্রেপ্তার আরিফকে নিয়ে আরো অভিযান চালানো হচ্ছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, “আরিফ তার একজন গুরুর কথা বলেছেন, যিনি পেশায় হোমিও চিকিৎসক। আমরা সেখানে অভিযান চালাচ্ছি। আমাদের স্যার কাল বিস্তারিত বলবেন।” গত ২৬ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জের উম্মুল কুরা নামে একটি মাদ্রাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনায় আল আমিন নামে মাদ্রাসার পরিচালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি নব্য জেএমবি সন্দেহে এর আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তখন তার সহযোগী হিসেবে মোহাম্মদ আরিফ নামে একজনের যোগসাজশের বিষয়ে আভাস দিয়েছিল পুলিশ। এরপর ফেব্রুয়ারিতে যাত্রাবাড়ীতে তল্লাশীর সময় পুলিশকে ছুরিকাঘাত করে বোমার ব্যাগ ফেলে পালানো, মার্চে কুমিল্লার শিব মন্দিরে বিস্ফোরণ ও একই মাসে সায়দাবাদে পুলিশের তল্লাশীর সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মোহাম্মদ আরিফের যুক্ততার বিষয়ে জানায় পুলিশ। তবে উগ্রবাদী অভিযান নিয়ে কিছুটা ‘রক্ষণশীল’ পুলিশ তখন আরিফের বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।
চট্টগ্রামে এবার ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর ভবন লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন হামজারবাগ এলাকায় রুনা টাওয়ার নামে একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ভবনটির মালিক প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইউসুফ। তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানের শ্বশুর। সিএমপির পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম বলেন, হামজারবাগ এলাকায় একটি ভবনের গেট লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়েছে। এরই মধ্যে এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভবনটির মালিকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। এ ঘটনায় তারা মামলা করার কথা জানিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভবনের দারোয়ান মো. আলমগীর বলেন, রবিবার দুপুরে ভবনের মালিকের ছেলে শওকতের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি বিদেশি মোবাইল নম্বর থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে ভয়েস মেসেজ পাঠানো হয়। চাঁদা না দিলে পরিবারের সদস্যদের গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় ওই ভয়েস মেসেজে। তিনি বলেন, সোমবার রাতে দুই যুবক এসে ভবনের গেট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তারা গেট লক্ষ্য করে দুটি গুলি ছোড়ে। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ওই দুই যুবক পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, গুলির ঘটনার পর আতঙ্কে রয়েছে প্রবাসী ব্যবসায়ী ইউসুফের পরিবার। মঙ্গলবার সকালে ইউসুফের পরিবারের সদস্যরা পাশের এক আত্মীয়ের বাসায় চলে যান। বর্তমানে তার ফ্ল্যাট তালাবদ্ধ রয়েছে।
রাজধানীর হাজারীবাগে থানা সংলগ্ন টি জে কর্পোরেশনের একটি ডাইং কারখানায় অভিযান চালিয়ে দুটি অবৈধ গ্যাস সংযোগ শনাক্ত করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করেন। তিতাস কর্তৃপক্ষ জানায়, কারখানাটিতে ৩ টন ধারণক্ষমতার একটি বয়লার এবং ৫০০ কেজি ধারণক্ষমতার আরেকটি বয়লার রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ১৪টি ড্রায়ার মেশিন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে আসছিল। এতে বছরে প্রায় ৪ কোটি টাকার গ্যাস অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে প্রায় আড়াই ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে কারখানাটিতে দুটি অবৈধ গ্যাস সংযোগের লাইন শনাক্ত করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। ধানমন্ডি জোনের তিতাস গ্যাসের ম্যানেজার প্রকৌশলী লুৎফরনেসা লতা বলেন, এর আগেও ২০২০-২১ সালে টি জে কর্পোরেশনে অভিযান চালানো হয়েছিল। সে সময় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে জরিমানা করা হয়। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করে আসছিল। এবার প্রায় আড়াই ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে দুটি অবৈধ গ্যাস সংযোগ শনাক্ত করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে তিতাস গ্যাসের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে। হাজারীবাগ থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের অভিযানে পুলিশ সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।