শোবিজ অঙ্গনে তারকাদের পর্দার বাইরের গল্প মানেই ভক্তদের সীমাহীন কৌতূহল। প্রেম, বিচ্ছেদ আর বিয়ে— এই তিন শব্দের খবরেই যেন সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এবার হালের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল। সহকর্মী রাফসান ও জেফারের বিয়েতে প্রাণখোলা হাসি আর উচ্ছ্বাসে ভরা উপস্থিতি দর্শকদের মনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—তাহলে কি নিজের জীবনের নতুন অধ্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সুনেরাহ?
বন্ধুদের বিয়েতে আনন্দে মাতলেও নিজের বিয়ের প্রসঙ্গে বরাবরের মতোই সংযত এই অভিনেত্রী। তবে গুঞ্জন আর জল্পনার ভিড়ে সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুনেরাহ ভাঙলেন নীরবতা। স্পষ্ট কণ্ঠে জানালেন তার বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, যা শুনে ভক্তদের কৌতূহল আরও এক ধাপ বেড়ে গেল।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে কবে বিয়ে করছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে কিছুটা হাসিমুখে অভিনেত্রী বলেন, ‘বিয়ের কোনো পরিকল্পনা আমার আপাতত নেই। যা নিয়ে এখনো কোনো ভাবনাই শুরু করিনি, তা নিয়ে বানিয়ে কী বলব?’
বন্ধুদের বিয়েতে সরব উপস্থিতির বিষয়ে অভিনেত্রী জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সবারই শুভাকাঙ্ক্ষী। তার ভাষ্যমতে, ‘আমার কাছের মানুষদের খুশি দেখতে আমার ভালো লাগে।’
আমি সবসময় ইতিবাচকভাবে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। পরিবার বা বন্ধুদের যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারাটা আমার কাছে আনন্দের। বর্তমানে সুনেরাহ নিজের অভিনয় ও ক্যারিয়ার নিয়েই বেশি ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এখনই সংসারী হওয়ার কোনো ভাবনা তার মনে নেই বললেই চলে। ভক্তদের উদ্দেশ্যে তিনি জানিয়েছেন, সময় হলেই সবাই সব জানতে পারবেন। আপাতত কাজ দিয়েই দর্শকদের হৃদয়ে টিকে থাকতে চান এই গ্ল্যামার কন্যা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট সম্প্রতি জনপ্রিয় কৌতুকভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘ইন্ডিয়াজ গট ল্যাটেন্ট’-এ অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। অনুষ্ঠান চলাকালে সঞ্চালক সময় রায়নার একাধিক মন্তব্য ও রসিকতাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আসন্ন স্পাই থ্রিলার চলচ্চিত্র ‘আলফা’র প্রচারণার অংশ হিসেবে সহ-অভিনেত্রী শর্বরী ওয়াঘকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন আলিয়া। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে সময় রায়না আলিয়ার অভিনয় জীবন, সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার উপস্থিতি নিয়ে একাধিক রসিকতা করেন। এক পর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেন, তাদের অনুষ্ঠানে আলিয়ার উপস্থিতি গর্বের বিষয় হলেও এটি অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের কঠিন সময়গুলোর একটি। পাশাপাশি কান চলচ্চিত্র উৎসবে আলিয়ার অভিজ্ঞতা নিয়েও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন তিনি। পরবর্তীতে আলিয়ার সাধারণ জ্ঞান এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও রসিকতা করা হলে অভিনেত্রী কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে আলিয়া বলেন, “তোমার অনুষ্ঠানে আসাটাই আমার ভুল হয়েছে।” এর জবাবে সময় রায়নাও মজার ছলে আলিয়ার অভিনীত ‘জিগরা’ সিনেমার প্রসঙ্গ তুলে মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের এই অংশের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেক দর্শক ও ভক্তের মতে, বিনোদনের নামে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে বিব্রত করা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে অন্য একটি অংশের মত, এটি অনুষ্ঠানটির প্রচলিত ‘রোস্ট’ সংস্কৃতির অংশ এবং পুরো বিষয়টিই ছিল হাস্যরসের পরিসরে। উল্লেখ্য, সময় রায়না অতীতেও বিভিন্ন মন্তব্য ও উপস্থাপনার কারণে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। নতুন এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছেন তিনি।
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল ফারিন খান বর্তমানে নাটক ও ওয়েব কনটেন্টের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি তিনি অভিনয় করেছেন ‘রোদের জোছনা’ শিরোনামের নতুন একটি নাটকে। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন আবু হুরায়রা তানভীর। নাটকটিতে ফারিনকে দেখা যাবে ‘জোছনা’ চরিত্রে। নাটকটি প্রসঙ্গে ফারিন জানান, এটি একটি আবেগঘন গল্প। এক নবদম্পতির সুখের সংসার, হঠাৎ ঘটে যাওয়া একটি মৃত্যু এবং সেই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানা অনুভূতি ও টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে কাহিনি। ঈদের পর এই নাটকের মাধ্যমেই নতুন করে কাজ শুরু করছেন তিনি। তবে নাটকের ব্যস্ততার মাঝেও বড় পর্দার পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সিনেমার চিত্রনাট্য তার হাতে এসেছে। যদিও এখনো কোনো সিনেমার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবুও ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্র পেলে চলতি বছরই সিনেমায় দেখা যেতে পারে তাকে। ফারিন জানান, তার প্রথম সিনেমা ‘ধ্যাততেরিকি’ মুক্তি পেয়েছিল প্রায় ৯ বছর আগে। তখন তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। অল্প বয়স, পড়াশোনার চাপ এবং পারিবারিক অনিচ্ছার কারণে চলচ্চিত্রে নিয়মিত হওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে অভিনয়ে বিরতি নিতে হয়েছিল তাকে। তিনি বলেন, ‘সিনেমায় কাজ করার ইচ্ছা কখনোই শেষ হয়ে যায়নি। তাই বিরতির পর ছোট পর্দায় কাজ করে নিজেকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছি। এখন মনে হয়, যদি সিনেমায় ফিরি তাহলে সেটা যেন যথাযথভাবে হয়।’ অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিংয়েও সরব রয়েছেন ফারিন। সম্প্রতি একটি নতুন বিজ্ঞাপনের কাজ শেষ করেছেন, যা শিগগিরই প্রচারে আসবে। সব মিলিয়ে নাটক, বিজ্ঞাপন ও ওয়েব কনটেন্টে ব্যস্ত থাকলেও তার দৃষ্টি এখন বড় পর্দার দিকেও। ফলে শিগগিরই দর্শকরা তাকে নতুন কোনো সিনেমায় দেখতে পাবেন বলে আভাস দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় ও আলোচিত নায়িকা সাহারা এখন বিনোদন জগতের আলোচনার বাইরে। বহু বছর ধরে তাকে আর কোনো চলচ্চিত্র, শুটিং বা মিডিয়া অঙ্গনে দেখা যায় না। ফলে এক সময়ের পর্দা কাঁপানো এই অভিনেত্রী এখন প্রায় পুরোপুরি আড়ালে। চলচ্চিত্রে তার অভিষেক হয় পরিচালক শাহাদাত হোসেন লিটনের ‘রুখে দাঁড়াও’ সিনেমার মাধ্যমে। অভিষেক ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফল না হলেও সাহারার উপস্থিতি ও সাহসী উপস্থাপন তাকে আলোচনায় আনে। এরপর ‘ভাড়াটে খুনি’সহ একাধিক ছবিতে অভিনয় করে তিনি ধীরে ধীরে পরিচিতি পান। পরবর্তীতে অ্যাকশন ঘরানার ছবিতে আলেকজান্ডার বো-এর সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘অর্ডার’, ‘লাকি সেভেন’ ও ‘ড্যাম কেয়ার’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছান সাহারা। বিশেষ করে ‘অর্ডার’ ছবির একটি গানে তার উপস্থিতি তাকে ব্যাপক আলোচনায় নিয়ে আসে। এরপর রুবেল ও রিয়াজের মতো তারকাদের সঙ্গে বড় বাজেটের সিনেমায় কাজ করেন তিনি। তবে ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে ব্যক্তিগত জীবনে পরিবর্তন আসে। প্রযোজক মাহবুবুর রহমান মনির সঙ্গে প্রেম ও পরবর্তীতে ২০১৫ সালে বিয়ের পর তিনি ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। বিয়ের পর চলচ্চিত্র জগৎকে বিদায় জানিয়ে পুরোপুরি সংসার জীবনে মনোযোগী হন সাহারা। এরপর থেকে আর কোনো সিনেমা, মিডিয়া ইভেন্ট বা তারকাদের আড্ডায় তাকে দেখা যায়নি। ফলে ঢালিউডের এক সময়ের আলোচিত এই নায়িকা এখন দর্শকদের কাছে কেবলই এক সোনালী স্মৃতি, যিনি হঠাৎ করেই রূপালী পর্দা থেকে হারিয়ে গেছেন।