নির্বাচনী প্রচার শেষে বাড়ি ফেরার পথে গোপালগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সিপন ভূঁইয়াকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দিলে পড়ে গিয়ে তিনি আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়ার নতুন চর ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন আহত প্রার্থী।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সিপন ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচনী প্রচার শেষে গাড়িভাড়া দেওয়ার জন্য টাকা নিতে বাড়িতে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় বাড়ির রাস্তায় যাওয়ার পথে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে গেলে পড়ে গিয়ে আহত হন তিনি। তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তিনি তা বলতে পারেননি।
পুলিশের গোপীনাথপুর তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মোহাম্মদ মোমেনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
রাজধানীর কাঁটাবনে একটি ১৪ তলা আবাসিক ভবনের ১২ তলার দুটি ফ্ল্যাটে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এতে দুইজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত ৩টা ৮ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় ভবনটি থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন মো. জনি (২৫) ও মো. আব্দুস সালাম (১৯)। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আগুন লাগার পর আহত অবস্থায় ওই দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর মধ্যে জনিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এবং আব্দুস সালামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে দুই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ফায়ার সার্ভিস আরও জানিয়েছে, ভবনের ভেতরে বর্তমানে আর কেউ আটকে নেই এবং নতুন করে কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
শরীয়তপুরের নাওডোবা এলাকায় চলন্ত নসিমনকে পেছন থেকে একটি যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দিলে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এ সময় ঢাকা থেকে নিজ জেলা যশোরে ফিরছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা। চলতি পথে দুর্ঘটনার চিত্র তার চোখে পড়লে দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে নিজ গাড়িতে হাসপাতালে চলে যান তিনি। পরে আহতদের মধ্যে এক নারীর মৃত্যু হয়। শুক্রবার (২৬ জুন) বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শেফালি বেগম (৪৫) শরিয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পাঁচড় গ্রামের সুলতান মাতুব্বরের স্ত্রী। আহতরা হলেন, একই গ্রামের রমজান মোল্লার স্ত্রী রওশনা বেগম, কামাল খানের স্ত্রী রুনা বেগম ও রমজান মোল্লার মেয়ে মোছা. জুঁই। স্থানীয় লোকজন জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে নছিমনটি শরিয়তপুরের নাওডোবা এলাকায় ঢাকাগামী ছিল। এ সময় একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দিরে তারা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা। পরে সেখান থেকে আহতদের উদ্ধার করে নিজ গাড়িতে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার তানসিভ জুবায়ের বলেন, একজন নারী সংসদ সদস্য সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তিন নারীকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। এরমধ্যে শেফালি বেগম মারা যান। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়ারুল ইসলাম বলেন, একজন সংসদ সদস্য সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে নিজ গাড়িতে হাসপাতালে এনেছেন এমন সংবাদ শুনেছি। বাকি তথ্য হাইওয়ে পুলিশ দিতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। যশোরের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সাবিরা সুলতানা বলেন, আমি আমার মানবিক দৃষ্টিকোণ ও দায়িত্ববোধ থেকে তা করেছি। এ সময় নিহত শেফালী বেগমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে পরপর কয়েকটি মৃদু ভূমিকম্প এবং ফিলিপাইনসহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা বাংলাদেশেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ভূতাত্ত্বিক অবস্থান বিবেচনায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা অমূলক নয়। আর এমন একটি দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে রাজধানী ঢাকা। শুধু ঢাকা নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও মাঝেমধ্যে মৃদু থেকে মধ্যম মাত্রার ভূমিকম্প হচ্ছে। ফলে যে কোনো সময় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের মাত্রা ও তীব্রতা দুটোই বেশি হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ৬ থেকে ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প রাজধানীতে আঘাত হানলে অসংখ্য ভবন ধসে পড়তে পারে, প্রাণহানি ঘটতে পারে ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষের। পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে কয়েক বিলিয়ন ডলারে। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সম্ভাব্য এই বিপর্যয়ের জন্য শুধু প্রাকৃতিক কারণ নয়, মানবসৃষ্ট কারণও অনেকাংশে দায়ী। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিল্ডিং কোড উপেক্ষা করে নির্মিত দুর্বল ভবন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তদারকির ঘাটতি ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রকৌশলবিদ্যায় বহুল প্রচলিত একটি কথা হলো—‘ভূমিকম্প মানুষ মারে না, দুর্বল ভবনই মানুষকে মারে।’ যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৫টি ভূমিকম্প ঘটে। অন্যদিকে কম্প্রিহেনসিভ আর্থকোয়াক ক্যাটালগ (কমক্যাট) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক তথ্যভান্ডারের তথ্যে দেখা যায়, প্রতিবছর গড়ে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ১৫ থেকে ১৬টি বড় ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। এসব তথ্যই প্রমাণ করে যে ভূমিকম্প পৃথিবীর স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও ঘনবসতিপূর্ণ নগরীতে এর প্রভাব হতে পারে ভয়াবহ। ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ এমন একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা সবসময়ই রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি ‘রিটার্ন পিরিয়ড’ বা পুনরাবৃত্তি চক্র রয়েছে, যা সাধারণত ৩০০ থেকে ৩৫০ বছর পরপর দেখা যায়। ইতিহাসে ১৭৬২ সালে আরাকান অঞ্চলে ৮ বা তার কাছাকাছি মাত্রার এবং ১৮৯৭ সালে ডাউকি ফল্টে ৮.১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছিল। তবে এ ধরনের ভূমিকম্প কখন আবার ঘটবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, দেশে ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে। অতীতের রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৮৬৯ সালে আসামের কাছাড়ে ৭.৫ মাত্রার, ১৮৮৫ সালে বেঙ্গল ভূমিকম্পে ৭.১ মাত্রার, ১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭.৬ মাত্রার এবং ১৯৩০ সালে ধুবড়িতে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। এসব ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তির সময়কাল বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশে ৭ মাত্রার একটি বড় ভূমিকম্প এখন যে কোনো সময় ঘটতে পারে। তিনি জানান, বাংলাদেশের চারপাশে বেশ কয়েকটি সক্রিয় চ্যুতি বা ফল্ট লাইন রয়েছে। ময়মনসিংহ থেকে সিলেট হয়ে ভারতের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাউকি ফল্টকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া আরাকান ফল্ট, নোয়াখালী থেকে সিলেট পর্যন্ত বিস্তৃত প্লেট বাউন্ডারি এবং সিলেট থেকে কাছাড় অঞ্চলের প্লেট বাউন্ডারিগুলো পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরে মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, জাইকা ও সিডিএমপির এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর সুনির্দিষ্ট তালিকা এখনো প্রস্তুত করা হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে বর্তমানে প্রায় ২১ লাখ বাসযোগ্য স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ ছোট ভবন, টিনশেড ঘর বা বস্তি, যেগুলো ভেঙে পড়লেও বহুতল ভবনের তুলনায় প্রাণহানির ঝুঁকি তুলনামূলক কম। কিন্তু বাকি প্রায় ৬ লাখ বহুতল পাকা ভবনই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। এসব ভবনের অন্তত ৪০ শতাংশ চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য এই দুর্যোগ মোকাবিলায় এখনই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত করা, নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। অন্যথায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য শহরের জন্য ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।