বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে তার প্রভাব এখনো দেখা যায়নি। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ ২০ নভেম্বর স্বর্ণের দাম কমায়, এবং সেই সমন্বিত দামই ২৯ নভেম্বর থেকে বাজারে কার্যকর রয়েছে। বর্তমানে ভালো মানের এক ভরি (২২ ক্যারেট) স্বর্ণ কিনতে লাগছে ২ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকা।
বাজুস জানায়, দেশে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন দেশের বাজারে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭০ হাজার ৩১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৮ টাকা।
স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যুক্ত হবে। গহনার নকশা ও মান অনুযায়ী মজুরির পার্থক্য হতে পারে।
এর আগে ১৯ নভেম্বর স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলে ভরিতে ২ হাজার ৬১২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৯ হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ২০ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়। একই সময় ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও সমন্বয় করা হয়।
স্বর্ণের নতুন দামে পরিবর্তন এলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারেট রুপার এক ভরি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়। ২১ ক্যারেট রুপা ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০১ টাকায়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জনশক্তি রফতানি ঘিরে বিদেশে এক ধরনের নেতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে। এর মূলে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের নথি জালিয়াতির মাধ্যমে বিদেশগমন। ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকে শুরু করে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ইত্যাদির মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেলে একের পর এক দেশ বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা প্রদান স্থগিত, এমনকি বন্ধ ঘোষণা করার নজিরও রয়েছে। অর্থাৎ বৈদেশিক শ্রমবাজার বেদখল হওয়ার পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ভিসা আবেদনের জন্য ইস্যু করা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করার যে নির্দেশ দিয়েছে, তা ক্ষয়িষ্ণু ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়। পাশাপাশি বৈদেশিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশীদের উপস্থিতি বৃদ্ধিতেও অবদান রাখবে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে, গত এক বছরে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ এনে প্রায়ই বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া বন্ধের ঘোষণা দিচ্ছে জনশক্তি আমদানিকারক দেশগুলো। বিগত সময়ে ওমান, বাহরাইন, ইরাক, লিবিয়া, সুদান, মিসর, রোমানিয়া, ব্রুনাই ও মালদ্বীপে বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে গেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া সিন্ডিকেট বাণিজ্যের কারণে বাংলাদেশী কর্মী নেয়া বন্ধ করেছে প্রায় দুই বছর। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ না হলেও ২০২৪-এর জুলাই থেকেই ভিসা ইস্যু বন্ধ করেছে দেশটি। গত বছর কাতারও একই পথে হেঁটেছে। এর পেছনে নানা কারণ থাকলেও জাল নথিপত্রের ব্যাপক ব্যবহার যে একটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ কম। এটাও অবৈধ অভিবাসনেরই একটা প্রক্রিয়া। আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ স্পষ্টই জানিয়েছে জাল নথিপত্র দিয়ে ভিসা নেয়ার পথ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রক্রিয়া সহজ করবে না। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধের পেছনেও নানা রিক্রুটিং এজেন্সির অনিয়ম ও নথি জালিয়াতির অভিযোগ বড় ভূমিকা রেখেছে। এ প্রেক্ষাপটে নানা সময়ে ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের মিশন যৌথভাবে আহ্বান জানিয়েছিল যে জাল নথি ব্যবহারে শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা, আইনি জটিলতা ও সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিও রয়েছে, যা এরই মধ্যে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। একটি দূতাবাস একাই প্রায় ৩০০টি পর্যটন ভিসা আবেদনে একই ব্যাংকের জাল স্টেটমেন্ট শনাক্ত করেছে বলে জানা যায়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ প্রতারণা একটি সংগঠিত রূপ নিয়েছে। দালাল চক্র ও অননুমোদিত ভিসা এজেন্সির একটি বড় অংশ ব্যাংক স্টেটমেন্টের তথ্য পরিবর্তন করে, সাময়িকভাবে টাকা জমা দেখিয়ে কিংবা সম্পূর্ণ ভুয়া স্টেটমেন্ট তৈরি করে ভিসাপ্রত্যাশীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। এ চক্র ভাঙতে না পারলে বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমিকের বাজার টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পদক্ষেপটি নিঃসন্দেহে সময়োচিত। এ উদ্যোগের যৌক্তিকতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু বাস্তবায়নের পথে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়েও কাজ করা প্রয়োজন। প্রথমত, দেশের ব্যাংক খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। বড় বেসরকারি ব্যাংকগুলো যেখানে এরই মধ্যে উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামোয় কাজ করছে, সেখানে অনেক সরকারি ও ক্ষুদ্র ব্যাংক এখনো মৌলিক ডিজিটাইজেশনের প্রক্রিয়ার মধ্যে আটকে আছে। ৯০ দিনের মধ্যে সবার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য কিউআর কোড চালুর যে নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়েছে তা বিদ্যমান বাস্তবতায় বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। তাছাড়া কিউআর কোডের মাধ্যমে ব্যাংকিং ডেটাবেজে প্রবেশাধিকার তৈরি হলে সেখানে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টিও সংগত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে সাইবার নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করা হলেও সেটি কতটা এনক্রিপ্টেড ও সুরক্ষিত হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশিকা দেয়া হয়নি। অন্যদিকে প্রতিটি ব্যাংকের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিনিয়োগ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে সেই প্রশ্নও রয়ে গেছে। সুতরাং ভুয়া নথির মাধ্যমে ভিসা আবেদনের পথ বন্ধ করতে হলে পূর্বশর্ত হিসেবে এসব সমস্যার সমাধান অপরিহার্য। আবার কেবল কিউআর কোড থাকলে প্রতারণা বন্ধ হবে—এটা নিশ্চিত ধরে নেয়া যায় না। কারণ যে চক্র বর্তমানে জাল স্টেটমেন্ট তৈরি করছে, তারা ভবিষ্যতে ভিন্ন কোনো পন্থাও অবলম্বন করতে পারে। তাই কেবল প্রযুক্তিগত সমাধান যথেষ্ট নয়, আইনি প্রতিকারও জরুরি। এসব বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত হবে একটি কেন্দ্রীয় যাচাই-বাছাই সার্ভার (সেন্ট্রালাইজড ভেরিফিকেশন পোর্টাল) তৈরি করা, যেখানে সব ব্যাংক তাদের নথির তথ্য একীভূত করবে। এতে প্রতিটি ব্যাংকের আলাদা সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হবে না এবং বিনিয়োগও সাশ্রয়ী হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে বাংলা কিউআর কোড নিয়ে কাজ করছে এবং জুলাই থেকে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছে—এ অবকাঠামো কাজে লাগানো যেতে পারে। পাশাপাশি জাল নথি তৈরি ও ব্যবহারে যুক্ত দালাল ও এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ কঠোর করতে হবে। প্রতারকদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি না হলে প্রযুক্তিগত সমাধান কেবল সাময়িক সমাধান হিসেবে কাজ করবে। বিদেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের মর্যাদা পুনরুদ্ধার একদিনে সম্ভব নয়, কিন্তু এ পথে ধীরে ধীরে এগোনো প্রয়োজন। কিউআর কোডের নির্দেশনা সেই পথে একটি ধাপ হতে পারে, যদি বাস্তবায়ন করা যায়। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে আরো তৎপর হতে হবে এবং সরকারকেও এদিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দুই বিমা কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্স গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ রয়েছে। অন্যদিকে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স তাদের আলোচিত হিসাব বছরের জন্য ৩৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ) সূত্রে জানা যায়, কোম্পানি দুটির পরিচালনা পর্ষদের পৃথক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (EPS) দাঁড়িয়েছে ১.৬৮ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম। কোম্পানিটির এজিএম ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে এবং রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ জুন। ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এজিএম অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জুন, আর রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ জুন।
আর্থিক খাতসহ দেশের অর্থনৈতিক সেক্টরগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী । তিনি বলেছেন, ব্যাংকিং, বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক নিয়োগ বা হস্তক্ষেপ থাকবে না। বরং এসব প্রতিষ্ঠান শতভাগ পেশাদার কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হবে। আজ মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কম্পানি (বিএসআইসি)’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি কেবল একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান ও গতিশীল করার একটি প্ল্যাটফর্ম।’ তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি যে মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে, ভবিষ্যতে তা আরো সম্প্রসারিত হবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রধান দুটি সংকট—অর্থায়নের অভাব এবং জামানত দিতে না পারা—উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই বাধা দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার। অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রামীণ ও শহুরে তরুণদের অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের আর্থিক খাত সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সরকার পুঁজিবাজার সংস্কার এবং ‘সিরিয়াস ডিরেগুলেশন’-এর পথে এগোচ্ছে। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার ব্যবস্থাপনায় দক্ষ ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীরাও সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। তিনি বলেন, দেশের ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের আন্ডার-ক্যাপিটালাইজেশন দূর করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার জন্যও নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের একাধিক ব্যাংকের যৌথ অংশগ্রহণে গঠিত এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।