ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এক সাক্ষাৎকারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি বলেছেন, বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠন করতে পারবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিজের দলীয় কার্যালয়ে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে এ অবস্থান জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো, জেনজি প্রজন্মের ভোট এবং রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও কথা বলেন।
আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীকে। দলটি আগে নিষিদ্ধ থাকলেও বর্তমানে আবার রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে আসছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করেছিল। জামায়াত জানিয়েছে, তারা দেশকে স্থিতিশীল করতে একটি ঐক্য সরকার গঠনের মাধ্যমে আবারও অংশীদার হতে আগ্রহী।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশ একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি দীর্ঘদিনের মিত্র দেশের সুরক্ষায় রয়েছেন।
তবে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধীদলই বা কে হবে?
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি জানি না তারা কতটি আসন পাবে। তবে যদি তারা বিরোধীদলে থাকে, আমি আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধীদল হবে।’
বিএনপি সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়লাভে আত্মবিশ্বাসী। দলটি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, আর বাকি আসনগুলোতে তাদের মিত্ররা প্রার্থী দিয়েছে।
তারেক রহমান নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না করলেও বলেন, সরকার গঠনের জন্য বিএনপির পর্যাপ্ত আসন থাকবে বলে তারা আত্মবিশ্বাসী।
সাম্প্রতিক সময়ে করা মতামত জরিপগুলোতে সাধারণভাবে বিএনপির জয় অনুমান করা হয়েছে। যদিও সেখানে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের শক্ত চ্যালেঞ্জের কথাও উঠে এসেছে। এই জোটে জেনজি প্রজন্মের একটি দলও রয়েছে, যারা যুব-নেতৃত্বাধীন শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে এসেছে।
শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার ভারতের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। গত বছর ঢাকার একটি আদালত শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
নির্বাচিত হলে বাংলাদেশ ভারতের দিক থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকবে কি না—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সক্ষম এমন অংশীদার প্রয়োজন বাংলাদেশের।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সরকারে আসি, আমাদের তরুণদের জন্য চাকরি দিতে হবে। দেশে ব্যবসা আনতে হবে, যাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন পায়। বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ বা পক্ষ আমাদের জনগণ ও দেশের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব হবে—কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।’
শেখ হাসিনার সন্তানরা বিদেশ থেকে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যদি কেউ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হন এবং মানুষ তাকে স্বাগত জানায়, তাহলে রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
উৎসব, অতিথি আপ্যায়ন, পারিবারিক আয়োজন আর ও ছুটির দিনগুলোর বিশেষ পদ মানেই যেন গরু অথবা খাসির মাংস। কিন্তু সময় বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে মানুষের জীবনযাপনের ধরন। এখন হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে বাড়তি কোলেস্টেরলের মতো রোগগুলোর বাড়বাড়ন্তি দেখা যাচ্ছে। ফলে লাল মাংস (রেড মিট) খাওয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—কোন বয়স পর্যন্ত এটি তুলনামূলক নিরাপদ, আর কোন বয়স থেকে ধীরে ধীরে এতে লাগাম টানা ভালো। কেন লাল মাংস বলে যেসব মাংসে মায়োগ্লোবিনের পরিমাণ বেশি থাকে ও কাঁচা অবস্থায় টকটকে লাল দেখায়, সেগুলোই হলো লাল মাংস। গরু, খাসি, ভেড়া কিংবা মহিষের মাংসকে সাধারণত রেড মিট বা লাল মাংস বলে। লাল মাংসের পুষ্টিগুণ পুষ্টিগুণের দিক থেকে লাল মাংস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন, জিংক, ভিটামিন বি–১২সহ নানা প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান, যা শরীর গঠন, পেশি মজবুত ও রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমস্যা কোথায় লাল মাংসের মূল সমস্যা হলো এর অতিরিক্ত সম্পৃক্ত চর্বি বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট। এই সম্পৃক্ত চর্বি বেশি বেশি গ্রহণ করলে একটা বয়সের পর রক্তে খারাপ চর্বির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। তখন হৃদ্রোগ ও মস্তিষ্কে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। লিভার বা যকৃতে চর্বি জমে বাড়তে পারে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরও বদলাতে থাকে। যে খাবার একসময় সহজেই হজম হতো, যে খাবার খেয়ে শরীরেও তেমন প্রভাব পড়ত না, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে একই খাবার কখনো কখনো রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। লাল মাংসের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনেকটা এমন। শিশু–কিশোর ও তরুণ বয়সে শরীরের বৃদ্ধি হয় দ্রুত। এ সময় পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিন বি–১২ শরীরের জন্য খুব প্রয়োজন। লাল মাংস এসব পুষ্টির ভালো উৎস। তাই তরুণ বয়স পর্যন্ত (বিশেষ করে ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে) সুস্থ ও সক্রিয় জীবন যাপন করলে পরিমিত লাল মাংস তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ। এই বয়সে শরীরের বিপাকক্রিয়াও তুলনামূলক দ্রুত থাকে, ফলে অতিরিক্ত চর্বি সহজে জমে না। যাঁরা খেলাধুলা করেন, নিয়মিত পরিশ্রম করেন বা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকেন, তাঁদের শরীর অতিরিক্ত ক্যালরি ও চর্বি সহজেই ঝরাতে পারেন। তবে বয়স ৩০ পেরোলেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। হাঁটাচলা, খেলাধুলা কমে যায়, বাড়ে বসে বসে কাজের প্রবণতা। ওজন বাড়তে থাকে, শরীরে জমতে শুরু করে অতিরিক্ত চর্বি। এই বয়সে লাল মাংসের অতিরিক্ত সম্পৃক্ত চর্বি রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে। বাড়তে পারে হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি। লাল মাংসে এমন কিছু স্বাস্থ্যকর উপাদান আছে, যা আমাদের শরীরের জন্য উপকারী যাঁদের পরিবারের নিকট আত্মীয়ের মধ্যে হৃদ্রোগের ইতিহাস আছে, আরও আগে থেকেই তাঁদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বয়স ৪০–এর কোঠায় গেলে লাল মাংসে লাগাম টানা ভালো। তার মানে এই নয় যে লাল মাংস পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। এই বয়সে খাওয়ার প্লেট থেকে লাল মাংসের পরিমাণ কমানো দরকার। বদলে মাছ, মুরগি, ডাল ও শাকসবজির দিকে ঝোঁক বাড়ানো ভালো। সপ্তাহে এক বা দুই দিন, অথবা মাঝেমধ্যে অল্প পরিমাণে চর্বি ছাড়া টাটকা মাংস খাওয়া তুলনামূলক নিরাপদ। তবে প্রক্রিয়াজাত লাল মাংস এড়িয়ে চলা উচিত। আর যাঁরা ইতিমধ্যেই হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, শরীরের ওজন অতিরিক্ত বা রক্তে উচ্চ মাত্রার খারাপ কোলেস্টেরল আছে, তাঁদের লাল মাংস গ্রহণে আরও সতর্ক হওয়াই ভালো। আর ৩০ বছরের পরও যাঁরা জানেন না, তাঁদের রক্তচাপ, রক্তের কোলেস্টেরল এবং সুগারের মাত্রা কত, তাঁদের উচিত এগুলো পরীক্ষা করে জেনে নেওয়া। লাল মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে রান্নার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে পারেন। মাংস বড় টুকরা করে না কেটে, পাতলা স্লাইস করে কেটে নিন। অতিরিক্ত চর্বি ফেলে কম তেলে রান্না করুন। তাতে অতিরিক্ত চর্বিজনিত ঝুঁকি কমে। একবার রান্না করা মাংস বারবার গরম করে খাওয়া ঠিক নয়। এতে অক্সিডাইজড ফ্যাট ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। লাল মাংস পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়, তবে বয়স, শারীরিক সক্রিয়তা ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে পরিমিত গ্রহণই সবচেয়ে নিরাপদ। সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে ঘোষিত আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন লাদাখের জনপ্রিয় সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তার এই সিদ্ধান্তের পরই নতুন করে আলোচনায় এসেছে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচি। সোনম ওয়াংচুক শুধু একজন পরিবেশকর্মী নন, তাকে বলিউডের বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর বাস্তব অনুপ্রেরণা হিসেবেও দেখা হয়। শিক্ষা, পরিবেশ এবং হিমালয় অঞ্চলের মানুষের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরব এই সমাজকর্মীর আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ককরোচ জনতা পার্টি আগামী ৬ জুন দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। সাম্প্রতিক শিক্ষা ব্যবস্থার নানা বিতর্ক, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দলটি। ওয়াংচুক ঘোষণা করেছেন, ৫ জুনের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে তিনি নিজে দিল্লির বিক্ষোভে অংশ নেবেন। তার মতে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঘিরে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক মহলের সাড়া ফেলেছে। এদিকে ককরোজ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীও আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে দেশে ফিরছেন। দলটি ইতোমধ্যে নতুন মুখপাত্র নিয়োগ করে সংগঠনকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ঘোষিত এই কর্মসূচি নিয়ে রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর ৬ জুনের দিকে। কারণ মোদি সরকারের সমালোচকদের মতে, সোনম ওয়াংচুকের মতো জনপ্রিয় মুখ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় কর্মসূচিটি জাতীয় পর্যায়ে আরও বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা শাখার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। জেলা নেতৃত্বের দাবি, সম্প্রতি ঘোষিত উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি যথাযথ সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গঠন করা হয়নি। আজ বুধবার (৩ জুন) বিকেলে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে দিনাজপুর জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদকবৃন্দ স্বাক্ষর করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২ জুন পার্বতীপুর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিলো। পরবর্তীতে জেলা পর্যায়ের পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট কমিটি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সাংগঠনিক নির্দেশনা অনুসরণ না করেই গঠিত হয়েছে। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কমিটির সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃত্বের পরবর্তী নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ঘোষিত ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং লোকমান হোসেন (খোকন) কে সদস্যসচিব করা হয়। তবে কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।