সারাদেশ

সাবেক এমপি-বিমান কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অযোগ্যরাও পাইলট!

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

জোহরা মেহজাবিন মন্দিরা ছয় বছর ধরে বাংলাদেশ বিমানের পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি ফিজিক্সে ‘ই’ এবং ম্যাথেমেটিকসে ‘বি’ গ্রেডে পাস করেছেন। অথচ বিমান বাংলাদেশের অপারেশন ম্যানুয়াল বা নীতিমালা অনুযায়ী, ম্যাথ ও ফিজিক্সে সর্বনিম্ন ‘বি’ গ্রেড না থাকলে কেউ পাইলট হিসেবে আবেদনই করতে পারেন না। তাহলে কীভাবে তিনি পাইলট হলেন—এই প্রশ্ন উঠেছে।

 

এ বিষয়ে জানতে বিমান ভবনে গেলে জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বসরা ইসলাম বিষয়টিকে পুরোনো ঘটনা বলে এড়িয়ে যান। তবে আলোচনায় উঠে আসে, এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করে মামলা করেছে। তিনি বলেন, ‘পুরোনো জিনিস। অনেক পুরোনো জিনিস। এটা তো মামলা হয়েছে। দুদক মামলা করছে, এখন সেটা সেখানে হবে।’

তদন্তে উঠে আসে, শুধু মন্দিরা নন—২০১৮ সালের ক্যাডেট পাইলট নিয়োগে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ৩০ জনকে অবৈধভাবে পরীক্ষার সুযোগ দেয়া হয়েছিল বাংলাদেশ বিমানে। নীতিমালা অনুযায়ী, ওই বিজ্ঞপ্তিতে থাকা শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় তাদের আবেদন করার সুযোগই ছিল না।

তদন্তে আরও জানা যায়, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ২১ দিনের মধ্যেই নীতিমালা ভঙ্গ করে শিক্ষাগত যোগ্যতার গ্রেড কমিয়ে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। লিখিত পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়ায় ২৫ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয় ১০০ নম্বরে। সেখানে পছন্দের প্রার্থীদের ইচ্ছেমতো নম্বর দেয়া হয়। তাতেও অভিযুক্তরা এগিয়ে না থাকায় ১০ থেকে ৩০ নম্বর পর্যন্ত গ্রেস মার্ক দেয়া হয়।

প্রশ্ন উঠেছে; যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে কেন অযোগ্যদের হাতে তুলে দেয়া হলো বাংলাদেশ বিমানের পাইলটের দায়িত্ব? কারা করেছেন এমন নজিরবিহীন কাণ্ড?

মেহজাবিন মন্দিরা তৎকালীন সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহেদা তারেক দীপ্তির মেয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তার মেয়েকে পাইলট বানাতে সাবেক বিমানমন্ত্রী ফারুক খানের সহায়তা নেন। আর তার আশীর্বাদেই যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও মন্দিরা পাইলট হন।

একইভাবে মুক্তাদির আহমেদ পাইলট হয়েছেন তার চাচা তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুসাদ্দিক আহমেদ এবং বাবা ক্যাপ্টেন মাসুদ আহমেদের প্রভাব খাটিয়ে। রেজোয়ানুল ইসলাম রোজেল পাইলট হয়েছেন সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী দীপু মনির ক্ষমতার ব্যবহার করে; এমন অভিযোগও উঠে এসেছে। মোট ১৩ জনের তালিকায় এমন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যাদের আবেদনের যোগ্যতা না থাকলেও পাইলট হয়েছেন বিমানে কর্মরত প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও ক্ষমতাসীনদের প্রভাব খাটিয়ে।

অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। দুই সপ্তাহ ঘুরে পাইলট অ্যাসোসিয়েশন থেকেও কোনো বক্তব্য মেলেনি। অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিনিধি জানান, কর্মকর্তারা না থাকায় মন্তব্য দেয়া সম্ভব নয়।

তবে তখনকার বিমানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নজিরবিহীন এমন নিয়োগ কাণ্ড ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুসাদ্দিক আহমেদ, ফ্লাইট অপারেশনস পরিচালক ফরহাদ হাসান জামিল এবং প্রাক্তন পরিচালক প্রশাসন পার্থকুমার পণ্ডিতের বিরুদ্ধেও। এদের মধ্যে দুজন বর্তমানে বেসরকারি এয়ারলাইন্সে কর্মরত। তবে তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মূল অভিযুক্ত তৎকালীন বিমান বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুসাদ্দিক আহমেদের মুখোমুখি হলে বেরিয়ে আসে আরও ভয়াবহ তথ্য। তিনি দাবি করেন, বিমানে পাইলট নিয়োগে নীতিমালা ভঙ্গ নতুন কিছু নয়। তিনি বলেন, ‘বিমানের ইতিহাসে নিয়োগ ৫০-৫০ ছাড়া কখনো হয়নি। এটা শুরু থেকেই চলছে।’

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের নীতিমালা লঙ্ঘন সরাসরি যাত্রী নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওহিদুল আলম বলেন, ‘অবশ্যই ঝুঁকি তো আছে। এই ম্যানুয়ালগুলো এমনি এমনি কেউ তৈরি করেনি। এগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই করা হয়েছে। আমরা যখন এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাই, তখন অবশ্যই কোনো না কোনোভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ি। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’

বিষয়টি নিয়ে ২০১৯ সালে বিমান মন্ত্রণালয় তদন্ত করে এসব নিয়োগকে ‘মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করে। একইসঙ্গে অযোগ্য পাইলটদের নিয়োগ বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়। তবে এখনো অদৃশ্য শক্তির বলে বিমান উড়াচ্ছেন এসব অযোগ্য পাইলটরা। অযোগ্যরা পাইলট হওয়ায় যোগ্য মেধাবীরা বাদ পড়ছেন প্রতি নিয়োগে।

এদিকে নিয়োগ জালিয়াতির শিকার নূরে মোহাম্মদ জুয়েল জানান, দেশের উচ্চ আদালত গত বছরের ৩০ জুলাই ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তাকে নিয়োগের নির্দেশ দিলেও তা মানছে না বিমান বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘আমি আদালত ও বিমানের দ্বারে ঘুরছি, কিন্তু যারা অনিয়ম করেছে তারা ঠিকই বহাল আছে।’

সব তথ্য-প্রমাণ নিয়ে আবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে গেলে বক্তব্য তো দূরের কথা, মেলেনি ভেতরে প্রবেশের অনুমতিও।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরে বহুতল ভবনে আগুন, ৫ ইউনিটের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণে

গাজীপুর মহানগরের বোর্ডবাজার এলাকায় একটি সাততলা বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ভবনটির তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।   ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে ভবনটির তৃতীয় তলায় আগুন লাগে। ওই তলায় প্রিমিয়ার ব্যাংকসহ কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আগুনের খবর পেয়ে ভোগড়া বাইপাস ফায়ার স্টেশন ও টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের পাঁচটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।   ভোগড়া বাইপাস ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ হিরণ মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আগুন লাগার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।   ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রায়হান মিয়া বলেন, অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।   ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৬, ২০২৬
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ‘ওয়াসিম আকরাম’। ছবি : সংগৃহীত

আজ জুলাইয়ের অন্যতম শহীদ ওয়াসিমের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক অতিরিক্ত এসপি তোহিদুল বরখাস্ত

রেলওয়ের বিজ্ঞাপনে জি কে শামীমের একক নিয়ন্ত্রণের আবেদন, তোলপাড়

ছবি: সংগৃহীত
মহাখালীর অতিরিক্ত বাস পূর্বাচলে স্থানান্তর, কমবে ঢাকার যানজট

ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনালে অলস পড়ে থাকা বাসগুলো পূর্বাচলে অস্থায়ী ডিপোতে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।   বুধবার দুপুরে ২০টি বাস সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়।   এ উদ্যোগের ফলে মহাখালী এলাকায় যানজট কমে আসবে বলে মনে করছেন সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।   এ কার্যক্রম শুরুর আগে আলোচনা সভা হয়, যেখানে শিমুল বিশ্বাস ছাড়াও ঢাকা পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন ও অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।   যানজটকে ‘বড় সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করে শিমুল বিশ্বাস বলেন, “এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ঢাকার ভেতরের টার্মিনালগুলোকে পুনর্বিন্যাস করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তারই অংশ হিসাবে মহাখালী টার্মিনালে অযথা পড়ে থাকা বাসগুলোকে সরিয়ে পূর্বাচলে নেওয়া হচ্ছে।   “এগুলোর যখন ট্রিপ হবে, সে অনুযায়ি বাসগুলো টার্মিনালে সিরিয়াল অনযায়ী ঢুকবে।”   পূর্বাচলের ৩ নম্বর সেক্টরে ১০ একর রাজউকের জায়গায় এই বাসগুলো রাখা হবে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন।   তার হিসাবে, সেখানে ৫০০ বাস বাস রাখার সুযোগ রয়েছে।   এরআগে গত জুনে সচিবালয়ে ঢাকার যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন সংক্রান্ত সভায় চারটি বাস টার্মিনাল অতিদ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর থেকেই এ নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়।   এই চারটি টার্মিনাল হচ্ছে ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল।   শিমুল বিশ্বাস বলেন, “ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত হবে। সেখানে বড় জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। গাবতলী বাস টার্মিনালটি হেমায়েতপুরে নেওয়া সিদ্ধান্ত হলেও আপাতত টার্মিনালের পাশে কৃষি মন্ত্রণালয়ে একটি খালি জায়গা রয়েছে। সেখানে সম্প্রসারিত করা হবে।   “সায়েদাবাদ টার্মিনালটি কাঁচপুরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। সেখানেও সংস্কারের কাজ চলছে।”   মহাখালী বাস টার্মিনালের ট্রিপ না থাকা বাস আপাতত পূর্বাচলে নেওয়া হলেও পরে সেগুলোকে স্থায়ীভাবে টঙ্গীর কাছে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান শিমুল বিশ্বাস।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আন্দোলনে ছেলের অংশ নেওয়ার জেরে বগুড়ায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার

ছবি: সংগৃহীত

সামান্য টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং

বাংলাদেশি ধাতব মুদ্রা। ছবি : সংগৃহীত

বাজারে অচল ১ টাকার কয়েন, ভিক্ষুকও নিতে নারাজ

ছবি : সংগৃহীত
রাস্তা নয়, যেন ধানের জমি! জলাবদ্ধ সড়কে চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় জলাবদ্ধতা ও কাদায় পরিণত হওয়া সড়কে ধানের চারা রোপণ করে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা।   মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগ সড়কে ধানের চারা লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন স্থানীয়রা।   এলাকাবাসী জানান, প্রায় ১২ বছর ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পুরো সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে কাদা ও পানির কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।   তাদের অভিযোগ, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও রোগীরাই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রায় দুই হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।   ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, বছরের পর বছর পানিতে ডুবে থাকা এই সড়ক এখন আর রাস্তা নেই, ধান চাষের জমিতে পরিণত হয়েছে। এ কারণেই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সড়কের কাদামাটিতে ধানের চারা রোপণ করেছেন তারা।   এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

তিস্তার পানি কমে বিপৎসীমার নিচে

ক্যামেরা। ছবি: সংগৃহীত

এআই ক্যামেরার পর ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ প্রযুক্তি আনছে ডিএমপি

সংগৃহীত ছবি

জাবিতে ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণে ছাড়া পেল ৬ বাস

0 Comments