সারাদেশ

সোনামসজিদ দিয়ে দুই দিনে ১১৬ টন কাঁচা মরিচ আমদানি

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে ২৫টি ট্রাকে মোট ১১৬ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে।

 


মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মহদীপুর স্থলবন্দর হয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ১৩টি ট্রাকে ৮১ টন কাঁচা মরিচ এসেছে। এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) একই পথে ১২টি ট্রাকে ৩৫ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়।

 

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর পরিচালনাকারী বেসরকারি অপারেটর প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল খান। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বরের পর সোমবার থেকে আবারও সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার নাইম এন্টারপ্রাইজ, আবিদ এন্টারপ্রাইজ, শফিকুল ইন্টারন্যাশনাল, জুঁই ট্রেডার্স ও মাসুম এন্টারপ্রাইজসহ কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাঁচামরিচ বন্দরে প্রবেশ করেছে। ইতোমধ্যে আরো কয়েকটি আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতেও কাঁচা মরিচ আমদানি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

এদিকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের (প্লান্ট কোয়ারেন্টাইন) উপপরিচালক কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র জানান, দেশে কাঁচা মরিচের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পর্যন্ত সোনামসজিদ স্থলবন্দরের জন্য আমদানিকারকদের ৯১টি আমদানি অনুমতিপত্রের (আইপি) বিপরীতে ভারত থেকে ৩২ হাজার ৩৫০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

 

 


তিনি আরো জানান, কাঁচা মরিচ আমদানির জন্য আরো আমদানি অনুমতিপত্র দেওয়া হচ্ছে। ফলে আমদানি আরো বাড়তে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার ৩২ বাস রুটের প্রাথমিক অনুমোদন

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার আওতায় আনতে বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পে নতুন গতি এসেছে। প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে ৩২টি বাস রুটের বিন্যাস (এলাইনমেন্ট) নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব রুটকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার জন্য সমন্বিত বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বাস মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বৈঠকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে। বৈঠকে প্রথম ধাপে কোনো দুই বা তিনটি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা শুরু হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।     ডিটিসিএর জারি করা ‘সভার নোটিশ’ অনুযায়ী, আজ দুপুর ১২টায় ডিটিসিএ ভবনে ‘ঢাকা মহানগরীর মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান’ বিষয়ক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পরিবহন মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন।     রুট রেশনালাইজেশন বিষয়ে জানা গেছে, নতুন রুটগুলো এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে একই করিডোরে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা কমে আসে এবং যাত্রীরা নির্ধারিত রুটভিত্তিক সেবা পান। এর মাধ্যমে যানজট, বিশৃঙ্খলা ও যাত্রী ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।       সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের কাঠামোগত পরিবর্তনের সূচনা হবে। প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত ৩২টি রুটের মধ্যে রয়েছে নন্দন পার্ক–ডেমরা, নন্দন পার্ক–কাঁচপুর, দিয়াবাড়ী–সদরঘাট, শ্রীপুর–ঢাকেশ্বরী মন্দির, কোনাবাড়ী–কেরানীগঞ্জ, গাবতলী–শিমুলতলী, ঘাটারচর–সালনা, নবীনগর–বাবুবাজার, সাভার–কাঁচপুর, গাবতলী–ডেমরা, গাবতলী–কুড়াতলী, কাঁচপুর–গাজীপুর, সাভার–আড়াইহাজার ইত্যাদি।     এসব রুটের মাধ্যমে বিমানবন্দর, গাবতলী, মহাখালী, কুড়িল, গুলিস্তান, মতিঝিল, সায়েদাবাদ, কাঁচপুর, সদরঘাট, সাভার, টঙ্গী, গাজীপুর, কেরানীগঞ্জসহ রাজধানীর প্রধান পরিবহন কেন্দ্রগুলোকে একই নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।       এ বিষয়ে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান কালবেলাকে বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ৩২টি রুট নির্ধারণ করেছি এবং এটি নিয়ে মঙ্গলবার বাস মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার প্রাথমিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হবে। প্রথম পর্যায়ে দুই বা তিনটি রুটে এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোনো রুট কর্তৃপক্ষ থেকে চাপিয়ে দেওয়া হবে না।’     তিনি আরও বলেন, ‘মালিক ও শ্রমিকরা যে রুটগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ও বাস্তবায়নযোগ্য মনে করবেন, সেগুলোই অগ্রাধিকার পাবে। বৈঠকেই প্রথম ধাপের রুট চূড়ান্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।’     বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম কালবেলাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত ৩২টি বাস রুট এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এগুলো খসড়া বা প্রস্তাবিত পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি হবে। এরপর ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি, কোন ধরনের বাস চলবে এবং কী ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করা হবে; সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’     তিনি বলেন, ‘রুট চূড়ান্ত করার আগে প্রতিটি করিডোরে যাত্রীর চাপ, সড়কের প্রশস্ততা ও পরিচালনার সক্ষমতা বিবেচনায় সমীক্ষা করা হবে। সেই সমীক্ষার ভিত্তিতে কোন রুটে কী ধরনের বাস প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হবে।’ তার মতে, ঢাকা-গাজীপুর বা ঢাকা-সাভারের মতো ব্যস্ত করিডোরে পরীক্ষামূলকভাবে আধুনিক বাস পরিচালনা শুরু করা যেতে পারে।     সাইফুল আলম বলেন, ‘বাস রুট রেশনালাইজেশনের উদ্দেশ্য শুধু নতুন রুট নির্ধারণ নয়; বরং পুরো গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করা। এজন্য ডিজিটাল ভাড়া আদায়, নির্দিষ্ট স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা, প্রতিটি স্টপেজে বাসের আগমনের সময় জানাতে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড এবং যাত্রী ও চালকদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান মালিক ও শ্রমিকদের সম্পৃক্ত রেখেই ধাপে ধাপে নতুন ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হবে।’     তিনি আরও বলেন, ‘প্রয়োজনীয় নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহায়তা পেলে বেসরকারি মালিকরা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রস্তুত। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনার জন্য চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’       বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির একটি সূত্র জানায়, বাস রুট রেশনালাইজেশন নিয়ে সরকারের সঙ্গে মালিকদের কোনো মতপার্থক্য নেই। রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার আওতায় আনতে তারাও আগ্রহী। প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১০০টি বাস সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। আংশিক ডাউন পেমেন্টের ভিত্তিতে বাসগুলো সরবরাহের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক বাসের জন্য প্রয়োজনীয় চার্জিং অবকাঠামোও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।     এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. এম শামসুল হক বলেন, ‘ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার আওতায় আনতে বাস রুট রেশনালাইজেশন অনেক আগেই বাস্তবায়ন হওয়া উচিত ছিল। স্মার্ট সিগন্যাল বা ইলেকট্রিক বাসের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সুশৃঙ্খল বাস ব্যবস্থা, যা বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতির মাধ্যমে গড়ে তোলা সম্ভব।’     তিনি বলেন, ‘বর্তমানে একই করিডোরে একাধিক বাসের প্রতিযোগিতার কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। কোম্পানিভিত্তিক পরিচালনা চালু হলে বাসের নেটওয়ার্ক আরও কার্যকর হবে, মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার করবে, যানজট কমবে এবং মেট্রোরেলের ওপর চাপও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।’     ড. শামসুল হক বলেন, ‘এই সংস্কারের জন্য সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য। সরকার সফল হলে রাজধানীর গণপরিবহনে দীর্ঘদিনের অরাজকতা দূর করে একটি আধুনিক, যাত্রীবান্ধব ও টেকসই বাস ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। তবে বর্তমানে যেসব মালিক বাস খাতে বিনিয়োগ করেছেন, তাদের বাদ দিয়ে নতুন ব্যবস্থা চালু করা উচিত হবে না। বরং কোম্পানিভিত্তিক ব্যবস্থায় তাদের ইক্যুইটি বা অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সোনামসজিদ দিয়ে দুই দিনে ১১৬ টন কাঁচা মরিচ আমদানি

ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরার হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট

ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট, গাজী সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি : সংগৃহীত
বেনাপোল দিয়ে শুরু কাঁচা মরিচ আমদানি, প্রথম চালানে এলো ৯ টন

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে ভারত থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে।   সোমবার প্রথম চালানে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে একটি ভারতীয় ট্রাকে ৯ টন ২০০ কেজি কাঁচা মরিচ দেশে প্রবেশ করে। বন্দরের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর রাতেই আমদানিকৃত কাঁচা মরিচ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। এ চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শিমু এন্টারপ্রাইজ। আর বন্দর থেকে খালাস কার্যক্রম পরিচালনা করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স। বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বলেন, “মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সীমান্তের ওপারে আরও কয়েকটি ট্রাক কাঁচা মরিচ নিয়ে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।” রান্নার নিত্য প্রয়োজনীয় উপাদান কাঁচা মরিচের কেজি রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা থেকে ৩৬০ টাকায়। অথচ গত সপ্তাহেও একই মানের কাঁচা মরিচ বিভিন্ন বাজারে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। দাম বৃদ্ধি কারণ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়াকে দায়ি করছেন বিক্রেতারা। এমন পরিস্থিতিতে কাঁচা মরিচ আমদানির ওপর বিদ্যমান কর কমানো হচ্ছে এবং কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ। মরিচ আমদানিকারক শাহজাহান জানান, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে তার মোট খরচ পড়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। তিনি বলেন, “আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম কমে আসবে। তবে কাস্টমসের হয়রানি ও পণ্য ছাড়করণে জটিলতার কারণে রাজস্ব বেশি গুনতে হচ্ছে।” এতে আমদানিকারকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন এবং আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শাহজাহান। বেনাপোল বন্দরের কাঁচাবাজারে সোমবার প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ভূমি অফিসে চরম অনিয়ম ও অবহেলা: জেলা প্রশাসকের কঠোর ব্যবস্থা

ছবি: সংগৃহীত

একযোগে বরখাস্ত কাশিমপুর ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী

ছবি: সংগৃহীত

মৃত শিক্ষকের পরিচয়ে ২০ বছর বেতন উত্তোলনের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

রুহুল কবির রিজভী।
প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বিশ্বজুড়েই প্রচলিত: রিজভী

সরকার পরিবর্তনের পরে প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন সরকার নিজেদের লোক নিয়োগ দেয়, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্রচলিত।  যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পয়েলস সিস্টেমে’র উদাহরণ দিয়ে রিজভী বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার পদে নতুন নিয়োগ হয়। এটি বেআইনি নয়। এটিও রাষ্ট্র চালানোর একটি প্রক্রিয়ার অংশ।  গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই: স্মরণ ও প্রত্যয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। জামায়াতে ইসলামী সরকারগঠন করলে নিয়োগে বড় অনিয়ম হবে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দলীয়করণ ঘটবে। এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সময়ে তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমে এটি স্পষ্ট হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনীতির সমালোচনা করে রিজাভী বলেন, তরুণদের রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা হওয়া উচিত প্রগতিশীল ও অগ্রগামী। দেশকে নতুন কিছু দেওয়ার প্রত্যয় থেকেই তরুণদের রাজনীতি করা উচিত। কিন্তু তরুণদের দল এনসিপি একটি পশ্চাদমুখী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করেছেন। রাজনৈতিক দর্শনের দিক থেকেও এটি সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। রাজনীতিতে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ শেখ হাসিনার অপসংস্কৃতির প্রতিফলন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিয়মিত মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাতেন। আমরা তাকে ফ্যাসিস্ট ও খুনি বলেছি, কিন্তু কখনো অশালীন ভাষা ব্যবহার করিনি। এখন কিছু তরুণ নেতার বক্তব্যে যে ভাষা দেখা যাচ্ছে, তা গণতন্ত্র, সভ্যতা কিংবা উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির সহায়ক নয়। এই ভাষা শেখ হাসিনার অপসংস্কৃতিরই প্রতিফলন। নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের উচিত সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী। সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম, অধ্যাপক মামুনুর রশীদ, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খালেকুজ্জামান মিজান, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, রাজশাহী সিটি করেপারেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী এশা প্রমুখ।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস না পেয়ে লক্ষ্মীপুরে সিএনজিচালকদের সড়ক অবরোধ

ছবি: সংগৃহীত

টঙ্গীতে ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসে’ পাথর নিক্ষেপ, আহত ২

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনায় ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

0 Comments