আরও একবার বৈভব সূর্যবংশীর তাণ্ডব দেখল আইপিএল। আজ মঙ্গলবার প্লে-অফের লড়াইয়ের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একপ্রকার অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেই নিজের দলকে জয় উপহার দিলেন ১৫ বছরের কিশোর। মূলত বৈভবের ৯৩ রানের ইনিংসের সুবাদেই রাজস্থান রয়্যালস ৭ উইকেটে হারাল লক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসকে। এই জয়ের ফলে প্লে-অফের আরও কাছে চলে এল রাজস্থান। একই সঙ্গে রাস্তা কঠিন হয়ে গেল কেকেআরের।
এদিন প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২২০ স্কোর তুলে এলএসজি। আইপিএলের প্রথম দিকে ওপেনিং জুটি সেভাবে পারফর্ম করতে পারছিল না তাদের। যার প্রভাব পড়ছিল দলের ব্যাটিংয়ে। জশ ইংলিশ আসার পর সেই সমস্যা অনেকটাই কেটেছে। মিচেল মার্শের সঙ্গে তাঁর জুটিতে বেশ ভালো শুরু করছে এলএসজি। এদিনও যেমন পাওয়ার প্লে-তে কোনও উইকেট না হারিয়েই তারা তুলে ফেলে ৮৩। ওপেনিং জুটিতে আট ওভারেই ১০৫ উঠে যায়। দুরন্ত ব্যাটিং করেন ইংলিশ (২৯ বলে ৬০)। একটুর জন্য সেঞ্চুরি পেলেন না মার্শ (৯৬)। তার ৫৭ বলের ইনিংস সাজানো ১১ চার এবং পাঁচ ছক্কায়। তবে নিকোলাস পুরান (১৬) এবং ঋষভ পন্থ (২৩ বলে ৩৫) রান তোলার গতি সেভাবে ধরে রাখতে পারেননি। ফলে যে রানটা হয়তো ২৪০ হতে পারত, সেটাই থেমে যায় ২২০-তে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা প্রত্যাশিতভাবেই বিধ্বংসী করে রাজস্থান রয়্যালস। প্রথম উইকেটের জুটিতে মাত্র সাড়ে ৬ ওভারে ৭৫ রান তুলে দেয় তারাও। এদিন অধিনায়কত্বের দায়িত্বে থাকা জয়সওয়াল ২৩ বলে করেন ৪৩ রান। তবে আসল কাজটা আরও একবার করে যায় ১৫ বছরের বৈভব।
অন্যদিনের মতো এদিন শুরুটা অতটা মসৃণ হয়নি বৈভবের। কিন্তু পাওয়ার প্লে-র পর যেন অন্য রূপে দেখা গেল তাকে। শেষপর্যন্ত অল্পের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও ৩৮ বলে ৯৩ রানের ইনিংসে রাজস্থানের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেয় বৈভব। সেই সঙ্গে অনবদ্য রেকর্ডও গড়েছে সে। আইপিএলের এক মৌসুমে ৫০০ রানের বেশি করা ব্যাটারদের মধ্যে বৈভবের স্ট্রাইক রেটই সবচেয়ে বেশি। চলতি মৌসুমে তার স্ট্রাইক রেট ২৩৬-এরও বেশি। এর আগে ২০১৯ সালে আন্দ্রে রাসেল ৫০০-র বেশি রান করেন ২০৪ স্ট্রাইক রেট রেখে। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় রাজস্থান। শেষে ধ্রুব জুড়েল করেন ৫৩ রান।
এদিনের জয়ের ফলে ১৩ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এল রাজস্থান। বৈভবদের সামনে প্লে-অফের অঙ্কটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। নিজেদের শেষ ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারালেই প্লেঅফে চলে যাবে রাজস্থান।
সেক্ষেত্রে অন্য কোনও দলের দিকে তাকিয়েও থাকতে হবে না তাদের। বৈভবদের এদিনের জয় রাস্তা কঠিন করল কেকেআরের জন্যও। শেষ ম্যাচে রাজস্থান যদি মুম্বইয়ের কাছে না হারে, তাহলে নাইটদের আর কোনও সম্ভাবনা থাকবে না। এদিকে এবারের আইপিএলে প্রথম দল হিসেবে প্লে-অফ দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছে লক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টস। এখন মূলত অন্যের যাত্রাভঙ্গই মূল কাজ তাদের। এদিন সেটা করতে পারলে খানিকটা সুবিধা হত নাইটদের।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান চট্টগ্রামে পুলিশের হাতে অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর এবং থানায় নিয়ে গিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই)সহ তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকায়। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষে রাত ১০টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছান নাঈম হাসান। এরপর তিনি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের একটি দল গাড়ি থামায়। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তারা চালকের কাগজপত্র পরীক্ষা করে এবং পরে নাঈম হাসানকে গাড়ি থেকে নামিয়ে আনা হয়। নাঈমের অভিযোগ, জাতীয় দলের ক্রিকেটার পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয় এবং এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। সাদা পোশাকে থাকা আরও এক ব্যক্তি পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করেন বলেও তিনি দাবি করেন। ঘটনার সময় স্থানীয়ভাবে ১০০ থেকে ২০০ জন মানুষ জড়ো হয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। এরপরও পুলিশ তাকে ‘আসামি’ বলে মন্তব্য করে চুপ থাকতে বলে এবং পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে খুলশী থানায়ও তাকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাঈম হাসান। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম জানান, ওই সিএনজি অটোরিকশার বিরুদ্ধে চোরাচালানের তথ্য ছিল। তবে অভিযানের সময় কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট নিয়ম-কানুন ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযানের বিষয়টি এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে আগে জানাননি। পরে থানায় আনার পর নাঈম হাসানের পরিচয় জানা যায়। এরপর তাকে সম্মানের সঙ্গে থানা থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং ইতোমধ্যে অভিযানে থাকা তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
লা লিগার ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে চলমান সমালোচনাকে ‘অন্যায্য’ ও ‘সীমা ছাড়ানো’ বলে মন্তব্য করেছেন তার জাতীয় দলের সতীর্থ উসমান দেম্বেলে। ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক ‘মার্কা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেম্বেলে বলেন, এমবাপ্পেকে নিয়ে যেভাবে সমালোচনা করা হচ্ছে, তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। ২০২৪ সালে ফ্রি ট্রান্সফারের মাধ্যমে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কঠিন সময় পার করছেন এমবাপ্পে। প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না থাকায় তিনি সমর্থকদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এমনকি ঘরের মাঠেও তার বিরুদ্ধে দুয়ো দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে তার সাবেক ক্লাব প্যারিস সাঁ জার্মেই একই সময়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করায় তুলনামূলক আলোচনা আরও বেড়েছে। দেম্বেলে বলেন, “তাকে নিয়ে যে সমালোচনা হচ্ছে তা অত্যন্ত অন্যায্য। কিলিয়ান একজন অসাধারণ খেলোয়াড় এবং মাঠের বাইরেও খুব ভালো মানুষ। তার সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত নয়।” তিনি আরও বলেন, “সে জুতার ফিতা বাঁধল কি না, মোজা ঠিক করল কি না—এমন ছোট বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়, যা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়।” ফ্রান্স জাতীয় দলে এমবাপ্পেকে গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে দেম্বেলে বলেন, তিনি সবসময় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দিদিয়ের দেশমের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে। তার পর সম্ভাব্যভাবে জিনেদিন জিদানকে ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে—এমন গুঞ্জনও রয়েছে। দেম্বেলে বলেন, দেশম ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে একজন কিংবদন্তি কোচ। তবে ভবিষ্যতে জিদানকে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দেখতে তিনি আশাবাদী। উল্লেখ্য, ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের সদস্য ছিলেন দেম্বেলে। ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেও এমবাপ্পে শিরোপা জিততে পারেননি। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই আক্ষেপ ঘোচাতে মাঠে নামছে ফ্রান্স দল।
বিশ্বকাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে পৌঁছানোর আগেই চুরির শিকার হয়েছে ইংল্যান্ড ফুটবল দল। ঠিক কী কী সরঞ্জাম চুরি হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অনুশীলনের জন্য ব্যবহৃত বল, বুটসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী চুরি হয়ে থাকতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের সরঞ্জাম বহনকারী কয়েকটি গাড়ি কানসাস সিটির সোয়োপ সকার ভিলেজ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যাওয়ার পথে ভেঙে ফেলা হয় এবং সেখান থেকেই চুরির ঘটনা ঘটে। আজ শনিবার বিকেলে কানসাস সিটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল এবং তার খেলোয়াড়দের। তাদের আগমনের আগেই সব সরঞ্জাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। গতকাল শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে তদন্ত শুরু করে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে এফএর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিষয়টি তদন্ত করছে। আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইংল্যান্ড।