ইংলিশ ফুটবলে এক যুগের আধিপত্যের অবসান ঘটাতে যাচ্ছেন কিংবদন্তি কোচ পেপ গার্দিওলা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার (২৪ মে) অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচের পরই ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব ছাড়তে যাচ্ছেন তিনি। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি, তবে ক্লাবের ভেতরে তার বিদায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে একাধিক ব্রিটিশ গণমাধ্যম।
বিবিসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতিহাদ স্টেডিয়ামে গার্দিওলার অধ্যায়ের সমাপ্তি ধরে নিয়েই এগোচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি। ক্লাব কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে দাবি করছে, কাতালান এই কোচের চুক্তির মেয়াদ এখনো এক বছর বাকি এবং তিনি আগামী মৌসুমেও থাকবেন বলে তাদের আশা।
তবে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ অনেকেই মনে করছেন, অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষের ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে তার শেষ ম্যাচ।
শুধু কর্মকর্তারাই নন, দলের খেলোয়াড়রাও নাকি সম্ভাব্য বিদায়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এমনকি গার্দিওলার বিদায়কে কীভাবে স্মরণীয় করে রাখা যায়, তা নিয়েও ভাবছে সিটি।
জানা গেছে, সদ্য সম্প্রসারিত ‘নর্থ স্ট্যান্ড’-এর নাম গার্দিওলার নামে করার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।
২০১৬ সালে ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্লাবটিকে বদলে দিয়েছেন গার্দিওলা। তার অধীনে সিটি জিতেছে ২০টি ট্রফি, যার মধ্যে রয়েছে ৬টি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ৩টি এফএ কাপ এবং ৫টি ইএফএল কাপ। শুধু ট্রফিই নয়, তার হাত ধরেই আধুনিক ফুটবলে নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী ক্লাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে ম্যানসিটি।
এই মৌসুমেও শিরোপার দৌড়ে রয়েছে সিটি। ইতোমধ্যে এফএ কাপ জিতেছে দলটি। প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়েও এখনো টিকে আছে তারা। ফলে গার্দিওলা চাইলে সপ্তম লিগ শিরোপা জিতে বিদায় নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
কয়েক মাস ধরেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছিল। সংবাদ সম্মেলনে একাধিকবার এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তবে প্রতিবারই গার্দিওলা বলেছেন, তার চুক্তির এখনো এক বছর বাকি।
এফএ কাপ ফাইনালের আগে বিবিসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি এখানেই আছি, আমার চুক্তি রয়েছে।’
বোর্নমাউথ ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনেও একই প্রশ্ন করা হলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে গার্দিওলা বলেন, ‘পরের প্রশ্ন করুন। অনেকবার বলেছি— আমার আরও এক বছর বাকি আছে।’
তবে এসব বক্তব্যের পরও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, গার্দিওলার ঘনিষ্ঠ মহলে তার বিদায়ের বিষয়টি অনেকটাই ‘ওপেন সিক্রেট’ হয়ে গেছে। এমনকি ক্লাবের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ স্পন্সরকেও সম্ভাব্য বিদায়ের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে ডেইলি মেইল।
গার্দিওলার উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন এনজো মারেস্কা। ইতালিয়ান এই কোচ আগে ম্যানচেস্টার সিটিতে গার্দিওলার সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। পরে তিনি চেলসির দায়িত্বও পালন করেন। দ্য অ্যাথলেটিকের দাবি, সিটির পরবর্তী কোচ হওয়ার দৌড়ে বর্তমানে তিনিই এগিয়ে।
৭৮ বছর বয়সী ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকাটের পর গার্দিওলার নামই আধুনিক ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী কোচ হিসেবে উচ্চারিত হয়। টিকিটাকা দর্শন থেকে শুরু করে পজিশনাল ফুটবলের নতুন মাত্রা— সবকিছুতেই তার ছাপ স্পষ্ট। ফলে তার বিদায় শুধু ম্যানচেস্টার সিটির জন্য নয়, পুরো ইংলিশ ফুটবলের জন্যই হতে যাচ্ছে একটি যুগের সমাপ্তি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অলিম্পিক গেমসে স্বর্ণ জিতলেই নগদ পুরস্কার হিসাবে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা পাবেন দুই কোটি টাকা। রুপাজয়ীরা পাবেন দেড় কোটি টাকা এবং ব্রোঞ্জ পদকজয়ীরা পাবেন এক কোটি টাকা করে। এ পুরস্কার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সূচিত হয়েছে এক নতুন যুগের। প্রণোদনা ও ভাতা কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে জাতীয় ক্রীড়া উন্নয়ন তহবিল নীতিমালা, ২০২৬ এর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে। ২৯ এপ্রিল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া-১ শাখা থেকে জারি করা এ নীতিমালা রোববার বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। নীতিমালায় বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ অসংখ্য আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরি করেছে। তবে তাদের বড় একটি অংশ ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে চরম অর্থকষ্টে ভোগেন। এই বাস্তবতা থেকেই একটি টেকসই, প্রাতিষ্ঠানিক ও সুরক্ষাভিত্তিক ক্রীড়া কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ জিতলে এক কোটি, রুপা জিতলে ৫০ লাখ এবং ব্রোঞ্জ জিতলে মিলবে ৩০ লাখ টাকা। কমনওয়েলথ গেমসে এ পুরস্কারের হার যথাক্রমে ৫০ লাখ, ৩০ লাখ ও ২৫ লাখ টাকা। বিশ্বকাপ ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে পদকজয়ীরা পাবেন ৩০ লাখ, ২০ লাখ ও ১০ লাখ টাকা। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ান (এসএ) গেমসে স্বর্ণের জন্য পাঁচ লাখ, রুপার জন্য তিন লাখ এবং ব্রোঞ্জের জন্য দুই লাখ টাকা পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে কোনো অর্জনের জন্য পৃথকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিশেষ পুরস্কার এবং চিকিৎসা সহায়তা হিসাবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তার বিধান রাখা হয়েছে নীতিমালায়। নীতিমালার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ক্রীড়াবিদদের জন্য মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আওতায় আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ও জাতীয় পর্যায়ের সেরা ক্রীড়াবিদরা মাসিক এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। জাতীয় দলের নিয়মিত খেলোয়াড়রা (যারা অন্তত দুই বছরে দুটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন) পাবেন এক লাখ টাকা এবং সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা। জাতীয় ক্রীড়া উন্নয়ন তহবিল পরিচালিত হবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে। এই তহবিল গঠিত হবে সরকারি অনুদান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বাজেটের ন্যূনতম ১০ শতাংশ বরাদ্দ, ক্লাব ও ফেডারেশনের লাইসেন্স ফি, স্পন্সরশিপ ও সম্প্রচার স্বত্ব থেকে ন্যূনতম ২৫ শতাংশ আয়, দান-অনুদান এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার মাধ্যমে। তহবিল পরিচালনায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাহী পরিচালক, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং পরিচালক (প্রশাসন) এই তিনজনের মধ্যে যে কোনো দুজনের যৌথ স্বাক্ষরে তহবিলের অর্থ উত্তোলনের বিধান রাখা হয়েছে। দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকবে নির্বাহী পরিচালকের ওপর। নীতিমালায় ক্রীড়াবিদ নির্বাচনের জন্য তিন স্তরের মূল্যায়ন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমে কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন কমিটি পারফরম্যান্স, ফিটনেস ও শৃঙ্খলার ভিত্তিতে প্রাথমিক তালিকা তৈরি করবে। এরপর ক্রীড়াবিদ বাছাই কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে সুপারিশ প্রেরণ করবে। সবশেষ পর্যায়ে ক্রীড়াবিদ বাছাই জাতীয় কমিটি চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন করে সরকারের কাছে পাঠাবে এবং গেজেটে প্রকাশ করা হবে। প্রতি তিন মাস অন্তর পারফরম্যান্স মূল্যায়নের মাধ্যমে তালিকা হালনাগাদ করা হবে। রিভিউ বোর্ডকে দেওয়া হয়েছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা, যার সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক এবং আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ কর্মদিবস। নীতিমালায় বলা হয়েছে, এই ভাতা শুধু সহায়তা নয়, বরং ক্রীড়াবিদদের পেশাগত ভবিষ্যতের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার একটি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা বিমা চালু করা হবে, যার সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম তহবিল থেকে বহন করা হবে। চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা বৃত্তি, জরুরি আর্থিক সহায়তা এবং পরিবারভিত্তিক সুবিধাও এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। অসুস্থ, আহত, অবসরপ্রাপ্ত বা অসমর্থ ক্রীড়াবিদদের জন্য মাসিক তিন হাজার টাকা ভাতার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কোচ, রেফারি, ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়া সাংবাদিকদের জন্যও কল্যাণ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দীর্ঘ এক দশকের সম্পর্কের ইতি টানতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেই সমর্থকদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের জীবনের অন্যতম বড় ভুলের কথা স্বীকার করলেন এই ফরাসি তারকা। রোববার জিরোনার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে অ্যাতলেতিকোর জার্সিতে শেষবার মাঠে নামেন গ্রিয়েজমান। ম্যাচে জয়সূচক গোলে অ্যাসিস্টও করেন তিনি। এরপর মেট্রোপলিতানোতে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ি বক্তব্যে ২০১৯ সালে বার্সোলানায় যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য আবারও ক্ষমা চান। গ্রিজমান বলেন, ‘অনেকেই আমাকে ক্ষমা করেছেন, কেউ কেউ হয়তো এখনো করেননি। কিন্তু আমি আবারও ক্ষমা চাইছি। তখন আমি খুবই তরুণ ছিলাম। বুঝতে পারিনি এই ক্লাব আমাকে কতটা ভালোবাসে। বার্সেলোনায় যাওয়া ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। পরে আমি সেটা বুঝেছি এবং ফিরে আসার জন্য সবকিছু করেছি, যাতে এই ক্লাবের জার্সিতে আবার খেলতে পারি।’ বিদায়ি বক্তব্যে কোচ দিয়েগো সিমিওনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গ্রিয়েজমান। গ্রিয়েজমান বলেন, ‘এই ক্লাবকে বদলে দিয়েছেন সিমিওনে। তার কারণেই আমি বিশ্বকাপ জিতেছি এবং নিজেকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন মনে করেছি।’ এছাড়া অ্যাতলেতিকো অধিনায়ক কোকে, নিজের স্ত্রী ও পরিবারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। আতলেতিকোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ক্লাব ছাড়ছেন গ্রিজমান। এবার তার গন্তব্য অরলান্ডো সিটি। তবে বিদায়ের দিনে সমর্থকদের ভালোবাসাকেই নিজের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরেছেন এই বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার।
ঢাকা, ১৮ মে ২০২৬ (বাসস) : মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট জয়ের জন্য পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংস থেকে পাওয়া ৪৬ রানের লিডকে সাথে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২.২ ওভার ব্যাট করে ৩৯০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। মুশফিক ১৩৭ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন। টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭৮ ও পাকিস্তান ২৩২ রান করেছিল। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১১০ করেছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় দিন বাংলাদেশকে বড় লিড এনে দিতে পঞ্চম উইকেটে লিটন দাসের সাথে ১২৩, সপ্তম উইকেটে তাইজুল ইসলামের সাথে ৭৭ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। সেই সাথে টেস্টে ১৪তম সেঞ্চুরিও পূর্ণ করেন তিনি। এই শতকে মোমিনুল হককে টপকে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক হন মুশি। শেষ ব্যাটার হিসেবে মুশফিক আউট হলে ৩৯০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৩৩ বলে ১৩৭ রান করেন মুশফিক। এছাড়া লিটন ৬৯ ও মাহমুদুল হাসান জয় ৫২ ও তাইজুল ২২ রান করেন। পাকিস্তানের খুররাম শাহজাদ ৪টি, সাজিদ খান ৩টি ও হাসান আলি ২টি উইকেট নেন।