বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শেষ হওয়ার পর সোমবার অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর র্যাংকিং (১-৪৮) নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে ফিফা। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে স্পেন আছে সবার ওপরে। দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ স্থানে পর্যায়ক্রমে আছে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স।
সেমিফাইনালের আগের ধাপ থেকে যেসব দল বিদায় নিয়েছে, তাদের র্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়েছে কয়েকটি মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে। যেমন, ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত মোট পয়েন্ট (পেনাল্টি শুটআউটে গড়ানো ম্যাচ ড্র হিসেবে গণ্য), গোল ব্যবধান, সব ম্যাচ মিলিয়ে করা মোট গোলের সংখ্যা।
এসব মানদণ্ড প্রয়োগ করার পর সমতায় থাকা দুই বা এর বেশি দল র্যাংকিংয়ে সমান অবস্থান ভাগাভাগি করেছে। যেমন- ইকুয়েডর ও দক্ষিণ আফ্রিকা যথাক্রমে ২৫তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।
১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা নরওয়ে র্যাংকিংয়ের পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে। এরপর দশম স্থান পর্যন্ত আছে যথাক্রমে বেলজিয়াম (৬), মরক্কো (৭), সুইজারল্যান্ড (৮), মেক্সিকো (৯) ও কলম্বিয়া (১০)।
একাদশ থেকে ২০তম স্থানে আছে টপ ফেভারিট হিসেবে এবারের আসর খেলতে যাওয়া কয়েকটি দল। ব্রাজিলের (১১) পর জায়গা করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র (১২), পর্তুগাল (১৩), কানাডা (১৪), মিসর (১৫), প্যারাগুয়ে (১৬), নেদারল্যান্ডস (১৭), জার্মানি (১৮), আইভরি কোস্ট (১৯) ও ক্রোয়েশিয়া (২০)।
র্যাংকিংয়ে বাকি দলগুলোর অবস্থান যথাক্রমে জাপান (২১), অস্ট্রেলিয়া (২২), ডিআর কঙ্গো (২৩), ঘানা (২৪), ইকুয়েডর ও দক্ষিণ আফ্রিকা (২৫), সুইডেন (২৭), অস্ট্রিয়া (২৮), বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা (২৯), আলজেরিয়া (৩০), সেনেগাল (৩১), কেপ ভার্দে (৩২), ইরান (৩৩), কোরিয়া প্রজাতন্ত্র (৩৪), তুরস্ক (৩৫), স্কটল্যান্ড (৩৬), উরুগুয়ে (৩৭), সৌদি আরব (৩৮), চেক প্রজাতন্ত্র (৩৯), নিউজিল্যান্ড (৪০), কাতার (৪১), কুরাসাও (৪২), পানামা (৪৩), জর্ডান (৪৪), হাইতি (৪৫), উজবেকিস্তান (৪৬), তিউনিশিয়া (৪৭) এবং ইরাক (৪৮)।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
২০২৫ সালের আগস্টে হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ-ভারত সিরিজটি। পরে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সম্মতিতে সিরিজটি পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারণ করা হয়। তবে বর্তমান সূচি অনুযায়ী এবারও সিরিজটি আয়োজনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবু সিরিজ বাতিলের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টির এই সিরিজ আয়োজনের জন্য নতুন সময়সূচি খুঁজতে বিসিবি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। রোববার (৩০ আগস্ট) ক্রীড়া প্ল্যাটফর্ম ‘নট আউট নোমান’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তামিম বলেন, সিরিজটি আয়োজনের ব্যাপারে দুই বোর্ডই আন্তরিক এবং সম্ভাব্য নতুন সময় খুঁজছে। তামিম বলেন, ‘ভারত সিরিজ হবে না, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। দুটো বোর্ডই বিষয়টি নিয়ে খুব আন্তরিক। বিসিসিআই এবং বিসিবি; দুই পক্ষই সম্ভাব্য সময়সূচি খুঁজছে। কোন সময়ে সিরিজটি আয়োজন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।’ মূলত দুই দলের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কারণেই সিরিজটির জন্য নতুন সময় বের করা সহজ হচ্ছে না বলে জানান বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মাঝখানে তিনটি সিরিজ আছে। ভারত ও বিসিসিআইও তাদের ম্যাচ নিয়ে খুব ব্যস্ত। তারপরও আমরা এ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করছি। তারিখগুলো নিয়ে কাজ হচ্ছে।’ ২০২৫ সালের আগস্টে তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতের। পরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও বিসিবির আলোচনায় সফরটি এক বছরের বেশি সময় পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারণ করা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বরেও সিরিজটি আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রতিবেশী দুই দেশের সিরিজটি শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যেতে পারে; এমন আলোচনাও রয়েছে। তবে তামিম আশাবাদী, দুই বোর্ডের ইতিবাচক মনোভাবের কারণে সিরিজটি আয়োজনের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। তিনি বলেন, ‘কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বিসিবি সভাপতি হিসেবে আমি সেই সীমা অতিক্রম করতে চাই না। তবে দুই পক্ষের মনোভাব খুবই ইতিবাচক। আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।’ দুই বোর্ড নতুন একটি উপযুক্ত সময় বের করতে পারলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ছয় ম্যাচের সীমিত ওভারের সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছে বিসিবি। তবে কবে নাগাদ নতুন সূচি চূড়ান্ত হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
জিডি ট্রফিতে অনূর্ধ্ব-২৩ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলা চলছিল মিরপুরে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটারদের এই লড়াইয়ের সময় শের-ই-বাংলায় দেখা গেল দেশের ক্রিকেটের বড় তারকাদের। উত্তরসূরীদের লড়াইয়ে তারা চোখ রাখলেন বটে, তবে হোম অব ক্রিকেটে এ দিন তাদের আনাগোনার মূল উদ্দেশ্য নিজের খেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা। সামনের বিপিএল নিয়ে বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল ক্রিকেটারদের সংগঠন। বিপিএল নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে আলোচনার পর রোববার ক্রিকেটারদের সঙ্গেও বসলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। আলোচনার ফলাফলে সন্তুষ্টির কথাই জানাল ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। প্রয়োজনীয় সংস্কার করে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বোর্ডকে সময় দিতে রাজি ক্রিকেটাররা। তবে অন্য কোনো টুর্নামেন্ট বা আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার কোনো পথ বের করার অনুরোধও জানিয়ে এসেছেন তারা। তামিম ছাড়াও বিসিবির হয়ে বৈঠকে ছিলেন বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা, ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল খসরু, নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবুসহ কয়েকজন পরিচালক। কোয়াবের হয়ে এই সভায় উপস্থিত ছিলেন পেশাদার ক্রিকেটারদের সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাইফ হাসান, নাসির হোসেন, মার্শাল আইয়ুব, এনামুল হক, ইয়াসির আলি চৌধুরি, ফজলে মাহমুদ রাব্বিসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার। বৈঠক শেষে সংগঠনটির প্রতিনিধি হয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন নাসির হোসেন। তার পাশে ছিলেন ইয়াসির, ফজলে রাব্বি, মার্শালসহ কয়েকজন ক্রিকেটার। সেখানে তিনি জানান বিসিবির সঙ্গে ক্রিকেটারদের কী ধরনের আলোচনা হয়েছে। বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পরই তামিম বলেছিলেন, খুব ভালোভাবে করতে না পারলে এবার তারা বিপিএল আয়োজন করবেন না। সেই ধারাবাহিকতায় কদিন আগে তিনি একরকম নিশ্চিত করে দেন, এই মৌসুমে টুর্নামেন্টটি হচ্ছে না। গত দুই আসরে বিপুল আর্থিক ক্ষতির কথা খোলাসা করেন বিসিবি প্রধান, পাশাপাশি বিপিএল নিয়ে বরাবরের দুর্নাম-বিতর্ক তো ছিলই। উপযুক্ত কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনা ছাড়া এই টুর্নামেন্ট চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতি নন দেশের সাবেক এই অধিনায়ক। এই সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যে তিন ফ্রাঞ্চাইজির কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছে বোর্ড। বিপিএলের স্বার্থে এক বছর অপেক্ষা করতে রাজি তারা। বোর্ডের যুক্তিতে ক্রিকেটারদেরও সন্তুষ্টির কথা জানাল কোয়াব। তবে আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার আলোচনার কথা জানালেন নাসির। “ক্রিকেট বোর্ড সবসময় খেলোয়াড়দের পাশে ছিল এবং এখনও আছে। আমরা মূলত বিপিএল নিয়ে কথা বলেছি, কেন এবার বিপিএল হচ্ছে না। বোর্ড সুন্দরভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে। বিপিএল না হলে খেলোয়াড়রা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই বিপিএলের জায়গায় কী করলে খেলোয়াড়দের জন্য ভালো হয় এবং ক্রিকেট বোর্ড কী করতে পারে, সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।” “বোর্ড আমাদের সঙ্গে যেভাবে কথা বলেছে, তাতে এটা মোটামুটি নিশ্চিত এবার বিপিএল হচ্ছে না। তবে, খেলোয়াড়রা কীভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে, তা নিয়েই আলোচনা চলছে।” সাধারণত প্রতি বছর ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বিপিএল আয়োজনের সময় বরাদ্দ রাখা হয়। ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টুর্নামেন্ট আয়োজিত না হলে এই সময়ে অন্য কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে বলে আশা রাখছে কোয়াব। “আমরা তো বিভিন্ন সংস্করণের খেলায় ব্যস্ত থাকবই (ওই সময়টায়)। তবে বিপিএলের জন্য নির্ধারিত দেড় মাসে যদি অন্য কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যায়, তবে খুব ভালো হয়। এমন টুর্নামেন্ট হবে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত নয়। পরবর্তী সভায় বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।” এই টুর্নামেন্টের দাবি শুধু ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নয়। বরং এখান থেকে ক্রিকেটাররা যেন আর্থিকভাবে লাভবান হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখার আহবান ছিল ক্রিকেটারদের সংগঠনটির পক্ষ থেকে। এ জন্য বিসিবি ও কোয়াব দুই পক্ষই পরস্পরকে নিজেদের প্রস্তাব দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়, তা জানা যেতে পারে দুই পক্ষের পরবর্তী সভায়। “তারা (বিসিবি) কিছু প্রস্তাব দিয়েছে, আবার আমাদের পক্ষ থেকেও কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। আমরা পরবর্তীতে আবারও বসব এবং আলোচনা করব।” “আমরা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারিনি। হয়তো আরও দু-একবার বসতে হবে। তবে যতটুকু আলোচনা হয়েছে, খেলোয়াড়রা তাতে মোটামুটি সন্তুষ্ট। খুব ভালো একটি আলোচনা হয়েছে। আশা করি পরবর্তী সভায় সুন্দর সমাধান আসবে।” বিপিএল ছাড়াও অন্যান্য বিষয় নিয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করেছে বিসিবি। এর মধ্যে একটি ছিল সুনির্দিষ্ট বর্ষপঞ্জি। কোয়াবের প্রতিনিধি হয়ে নাসির জানান, এমন উদ্যোগের অপেক্ষায় আছেন তারাও। “একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার থাকলে ক্রিকেটারদের জন্য অনেক সুবিধা হয়। কোন মাসে কী খেলা বা টুর্নামেন্ট থাকবে, তা আগে থেকেই জানা যাবে। এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে সব খেলোয়াড়ই স্বাগত জানাবে।” “ক্রিকেট বোর্ড কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। যতটুকু বুঝলাম, খেলোয়াড়দের ভবিষ্যত এবং আগামী ৫–১০ বছর পর খেলোয়াড়রা কোথায় থাকবে, বোর্ড সেদিকেই বেশি জোর দিচ্ছে। আমাদের কাছে যে প্রস্তাব এসেছে, তা খারাপ মনে হয়নি।”
গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফির (জিডি ট্রফি) দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। রোববার (৩০ আগস্ট) মিরপুর শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে ৪ রানে হারিয়েছে যুবারা। শেষ ওভারে নাটকীয়ভাবে ম্যাচের জয় নিশ্চিত করে অনূর্ধ্ব-১৯ দল। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ওপেনিংয়ে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুহি ও জারিফ সিয়াম মিলে দলকে এগিয়ে নেন। ২৩ বলে ১৯ রান করে জারিফ ফিরলে একই ওভারে আউট হন আদ্রিতোও। এক প্রান্ত আগলে রাখা মুহি ৪৬ বলে ৪০ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এরপর আহসান আল মুমিন ৫৬ বলে ৩৭ রান করেন। দলের ইনিংসকে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নেন রবিউল হাসান অনিক। তার সঙ্গে ফারহান সাদিক ও আল রাফিও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ফারহান করেন ২৬ বলে ২৯ রান, আর আল রাফির ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ১২ রান। শেষ পর্যন্ত অনিকের অপরাজিত ৬৫ রানের ইনিংসে ভর করে ২২৬ রানে অলআউট হয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ৮২ বলের ইনিংসে তিনি নিজের ব্যাটিং দৃঢ়তার পরিচয় দেন। অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বোলারদের মধ্যে শেখ পারভেজ জীবন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। আজিজুল হাকিম ও আহরার আমিন পিয়ান শিকার করেন দুটি করে উইকেট। একটি উইকেট পান মাহফুজুর রাব্বি। ২২৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতে ভালো অবস্থানেই ছিল অনূর্ধ্ব-২৩ দল। খালিদ হাসান ২৮ বলে ৩৪ রান করে ফেরেন। জাওয়াদ আবরার করেন ৩০ বলে ২৬ রান। তবে তিন নম্বরে নামা আজিজুল হাকিম তামিম বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ৪৫ বলে ২৮ রান করে বিদায় নেন তিনি। এরপর কালাম সিদ্দিকী অলিন ৪৫ বলে ৩২ এবং রিজান হোসাইন ৭৫ বলে ৪৪ রান করে দলকে জয়ের পথে রাখার চেষ্টা করেন। আহরার আমিন পিয়ান ২৪ বলে ২৫ রান করেন। শেষ দিকে মাহফুজুর রহমান রাব্বি লড়াই চালিয়ে গেলেও দলকে জয়ের বন্দরে নিতে পারেননি। ২৬ বলে ১৬ রান করেন তিনি। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৬ রান, হাতে ছিল মাত্র একটি উইকেট। প্রথম বল ডট হওয়ার পর দ্বিতীয় বলে আসে এক রান। তৃতীয় বলেই শেষ উইকেট হারায় অনূর্ধ্ব-২৩ দল। ফলে ২২২ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস। ৪ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। জয়ী দলের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন আবদুর রহিম। তিনি ৪ উইকেট শিকার করেন। আল রাফি ও তাফিউল আলম তামিম নেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া এসকে জারিফ সিয়াম ও রবিউল হাসান অনিক একটি করে উইকেট পান।