বিনোদন

মা হওয়া মানেই অভিনয়জীবনে ইতি টানা নয়: পরিণীতি চোপড়া

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩০, ২০২৬
বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

মাতৃত্ব জীবনের এক নতুন অধ্যায়, কিন্তু মা হওয়া মানেই কি অভিনয়জীবনে ইতি টানা? এই ধারণার সঙ্গে একমত নন বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সন্তান জন্ম দিয়েছেন বলে কাজের সুযোগ হারাতে চান না তিনি। বরং সংসার, সন্তান ও পেশাগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে আরও ভালো কাজ করতে চান। নতুন ওয়েব সিরিজ ট্রাস্ট নো ওয়ান (Trust No One)-এ অভিনয়, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা, স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতা এবং মাতৃত্বের পর ক্যারিয়ার নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানালেন এই অভিনেত্রী।

 


আড়াই ঘণ্টায় পড়ে ফেলেছিলেন পুরো চিত্রনাট্য

কোনো একটি কাজের প্রতি ভালো লাগা কখনও কখনও প্রথম পরিচয়েই তৈরি হয়ে যায়। পরিণীতির ক্ষেত্রেও ট্রাস্ট নো ওয়ান সিরিজের চিত্রনাট্য ছিল তেমনই এক অভিজ্ঞতা। চিত্রনাট্যটি হাতে পাওয়ার পর কী ঘটেছিল, তা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, বই পড়া তার অন্যতম প্রিয় অভ্যাস। তবে পড়তে বসলে মাঝেমধ্যে মনোযোগ অন্যদিকে চলে যায়। সে কারণে অনেক সময় অন্য কাউকে দিয়ে পড়ে শোনতে পছন্দ করেন তিনি।

 


কিন্তু সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা ও রেনসিল ডি’সিলভা যখন সিরিজটির চিত্রনাট্য পাঠান, তখন পরিণীতি শহরের বাইরে ছিলেন। তার ধারণা ছিল, পুরো চিত্রনাট্য শেষ করতে দু-তিন দিন সময় লাগবে। বাস্তবে ঘটেছিল ঠিক উল্টোটা। মাত্র আড়াই ঘণ্টায় এক বসায় পুরো চিত্রনাট্য পড়ে শেষ করেন তিনি।

 

 

শেষ পাতা পড়ার পরই তার মনে হয়েছিল, এই সিরিজে অভিনয় করতেই হবে। গল্পের আকর্ষণই তাকে সবচেয়ে বেশি টেনেছিল। পাশাপাশি কাজটির সঙ্গে যুক্ত মানুষদের নিয়েও যথেষ্ট আশাবাদী ছিলেন অভিনেত্রী।

 

 

পরিণীতির কথায়, চিত্রনাট্য এতটাই ভালো ছিল যে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো কারণই ছিল না। তার সঙ্গে নেটফ্লিক্সের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজের সুযোগ, প্রযোজক সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা এবং পরিচালক রেনসিল ডি’সিলভার মতো অভিজ্ঞ মানুষের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি তার কাছে বিশেষ হয়ে ওঠে।

 

 

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিং, পাশে ছিল পুরো পরিবার

ট্রাস্ট নো ওয়ান সিরিজের শুটিংয়ের সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন পরিণীতি। জীবনের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। তবে শুটিংয়ের পরিবেশ এবং সহকর্মীদের সহযোগিতা তার অভিজ্ঞতাকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল।

 

 

অভিনেত্রী জানান, শুটিংয়ের সময় ইউনিটের সবাই তার শারীরিক অবস্থার প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন। কাজের পরিবেশে বাড়তি চাপ ছিল না, বরং সবাই একে অপরকে সহযোগিতা করেছেন। ফলে শুটিংয়ের সময়সূচি সামলাতেও বড় কোনো সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি তাকে।

 

 

পরিবারের সদস্যরাও এই সময়ে পরিণীতির পাশে ছিলেন। বিশেষ করে স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতার কথা বলতে গিয়ে তার কণ্ঠে ফুটে ওঠে কৃতজ্ঞতা। সুখবরটি শোনার পরই রাঘব শিমলায় ছুটে গিয়েছিলেন। পরিণীতির মা, শাশুড়ি এবং ভাইয়েরাও তাকে দেখতে সেখানে পৌঁছে যান।

 

 

পরিবারের সবার এমন উপস্থিতি নিয়ে মজার ছলে পরিণীতি বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল, তার পুরো পরিবারই বুঝি শুটিংয়ে চলে এসেছে!

 

 

সেই সময়ের স্মৃতি মনে করে অভিনেত্রী আরও জানান, তারা মজা করে বলতেন, এই সিরিজ যেমন তার ছেলে নীরের অভিষেকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তেমনই ওয়েব দুনিয়ায় তার নিজেরও অভিষেক। তাই কাজটি তার কাছে বরাবরই বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে।

 

 

মা হওয়ার পরও কাজের সুযোগ চান পরিণীতি

মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা পরিণীতির জীবনকে নতুনভাবে সাজিয়েছে। তবে মা হওয়ার কারণে অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই। বরং সন্তান জন্মের পর একজন অভিনেত্রীর কাজের সুযোগ কমে যেতে পারে—এই আশঙ্কাই তাকে বেশি ভাবায়।

 

 

পরিণীতির মতে, মা হওয়া জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার কারণে পেশাগত জীবনে পিছিয়ে পড়তে হবে, এমনটা হওয়া উচিত নয়।

 

 

তিনি মনে করেন, কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না; অভিনেত্রীদের কাজের প্রস্তাবও পেতে হবে। মাতৃত্বের পরও যদি শুধু মা হওয়ার কারণে কোনো শিল্পী কাজের সুযোগ হারান, তবে তা তার কাছে অত্যন্ত হতাশাজনক হবে।

 

 

বলিউডে মাতৃত্বের পরও নিয়মিত কাজ করে চলেছেন এমন অভিনেত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। বিষয়টিকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখেন পরিণীতি। উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে আলিয়া ভাট, দীপিকা পাড়ুকোন এবং তার দিদি প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নাম।

 

 

পরিণীতির মতে, তাদের প্রজন্মের অভিনেত্রীরা মাতৃত্বের পরও নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন, যা আনন্দের বিষয়। প্রিয়াঙ্কা যেমন বলিউডের বাইরেও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে কাজ করছেন, তেমনই অন্য অভিনেত্রীরাও নিজেদের পেশাগত জায়গা ধরে রেখেছেন। তার বিশ্বাস, তারা এখন ভালো কাজ করছেন এবং অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে আরও ভালো কাজ করার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

 

 

সংসার, সন্তান, নিজের সময়—সবকিছুরই গুরুত্ব রয়েছে

কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনকেও বরাবর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিণীতি। পরিবার, বন্ধু, ভ্রমণ, ছুটি কাটানো, উৎসব কিংবা একান্তে নিজের জন্য কিছুটা সময়—জীবনের এই ছোট ছোট আনন্দগুলো তার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

 

 

তবে মা হওয়ার পর সময়ের হিসাব অনেকটাই বদলে গেছে। এখন নিজের কাজের পাশাপাশি সন্তানের প্রয়োজন এবং পরিবারের দায়িত্বও সমান গুরুত্ব পায়। তাই জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি আগের চেয়ে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

 

পরিণীতির কাছে সাফল্য মানে শুধু পেশাগত অর্জন নয়; বরং জীবনের বিভিন্ন দিককে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও প্রিয়জনদের সময় দেওয়া এবং নিজের ভালো থাকার দিকে নজর রাখা—এই দুইয়ের সমন্বয়ই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

ছেলের দায়িত্ব মা-বাবার দুজনেরই

রাজনীতির ব্যস্ততায় সময় কাটে রাঘব চাড্ডার, অন্যদিকে অভিনয়, শুটিং ও প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকেন পরিণীতি। ফলে তাদের ছোট্ট ছেলের দেখাশোনা কীভাবে হয়, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।

 

 

এ বিষয়ে পরিণীতির উত্তর একেবারেই স্পষ্ট— সন্তানের দায়িত্ব তারা দুজন সমানভাবে ভাগ করে নিয়েছেন।

 

 

 

অভিনেত্রীর কথায়, তারা দুজনেই মা-বাবা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই সন্তানের দায়িত্বও দুজনেরই। পরিণীতি যখন কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন রাঘব ছেলের সঙ্গে সময় কাটান। আবার রাঘবের কাজ থাকলে সন্তানের দায়িত্ব সামলান পরিণীতি।

 

 

অর্থাৎ, সংসার ও সন্তান পালনের দায়িত্বকে তারা একজনের ওপর চাপিয়ে দেননি। বরং নিজেদের কাজের সময় এবং প্রয়োজন বুঝে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।

 

 

পরিণীতির কাছে স্বামীর এই সহযোগিতা বিশেষভাবে মূল্যবান। কারণ, অভিনয়ের ব্যস্ততা সব সময় একই রকম থাকে না। কোনো দিন শুটিং বা কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েন তিনি। তখন রাঘবের আশ্বাস তাকে নতুন করে সাহস জোগায়।

 

 

পরিণীতি জানান, এমন অনেক দিন যায়, যখন কাজের শেষে তিনি একেবারে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে রাঘব তাকে আশ্বস্ত করেন, তিনি নিশ্চিন্তে কাজে যেতে পারেন, বাকি সব দায়িত্ব তিনি সামলে নেবেন।

 

 

স্বামীর এই ভরসা তার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। কারণ, পেশাগত জীবন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সন্তানকে সময় দেওয়ার ক্ষেত্রেও দুজনের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।

 

 

 

অভিনয় আর রাজনীতি—দুজনের জগৎ আলাদা

পরিণীতি চোপড়া ও রাঘব চাড্ডার পেশাগত জগৎ সম্পূর্ণ আলাদা। একজন অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত, অন্যজন রাজনীতির মানুষ। সংসারে তাদের বোঝাপড়া ভালো হলেও কাজের ক্ষেত্রে একে অপরকে পরামর্শ দেওয়ার অভ্যাস খুব একটা নেই।

 

 

রাজনীতির জটিল হিসাব, সংসদীয় বক্তৃতা কিংবা নির্বাচনের বিষয়ে নিজের বিশেষ জ্ঞান নেই বলেই জানান পরিণীতি। তাই এসব বিষয়ে রাঘবকে পরামর্শ দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। অন্যদিকে সিনেমার চিত্রনাট্য বা অভিনয়ের জগতেও রাঘবের অভিজ্ঞতা সীমিত।

 

 

এই প্রসঙ্গে মজার একটি ঘটনাও শোনান অভিনেত্রী। কোথাও তার নিজের গান বাজছিল, অথচ গানটি যে তারই, তা রাঘবকে আলাদা করে জানাতে হয়েছিল তাকে!

 

 

ঘটনাটি বলতে গিয়ে হেসে ফেলেন পরিণীতি। তার বক্তব্য, কাজের ক্ষেত্রে দুজনের জগৎ আলাদা থাকাই ভালো। একে অপরের পেশাগত পরিসরে অযথা হস্তক্ষেপ না করেও যে ভালো বোঝাপড়া বজায় রাখা যায়, তাদের সম্পর্ক যেন তারই উদাহরণ।

 

 

মাতৃত্বের সঙ্গে স্বপ্নের সহাবস্থান

পরিণীতি চোপড়ার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার গল্পে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক। একদিকে রয়েছে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিং চালিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে মা হওয়ার পরও নিজের পেশাগত পরিচয় ধরে রাখার দৃঢ় ইচ্ছা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতা, পরিবারের সমর্থন এবং দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার বাস্তব চিত্র।

 

 

তাঁর বক্তব্যের মূল সুর একটাই— মাতৃত্ব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলেও তা কোনো নারীর পেশাগত স্বপ্নের সমাপ্তি হতে পারে না। একজন নারী একই সঙ্গে মা এবং সফল পেশাজীবী হতে পারেন, যদি তার কাজের সুযোগ থাকে এবং পরিবার ও কর্মক্ষেত্র থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা মেলে।

 

 

পরিণীতির কাছে তাই মা হওয়া মানে অভিনয়জীবন থেকে সরে দাঁড়ানো নয়। বরং জীবনের নতুন দায়িত্বকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলা। আর সেই পথচলায় নিজের পরিচয়, ভালোবাসার মানুষদের সময় দেওয়া এবং কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা—সবকিছুকেই সমান গুরুত্ব দিতে চান তিনি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বিনোদন

আরও দেখুন
বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
মা হওয়া মানেই অভিনয়জীবনে ইতি টানা নয়: পরিণীতি চোপড়া

মাতৃত্ব জীবনের এক নতুন অধ্যায়, কিন্তু মা হওয়া মানেই কি অভিনয়জীবনে ইতি টানা? এই ধারণার সঙ্গে একমত নন বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সন্তান জন্ম দিয়েছেন বলে কাজের সুযোগ হারাতে চান না তিনি। বরং সংসার, সন্তান ও পেশাগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে আরও ভালো কাজ করতে চান। নতুন ওয়েব সিরিজ ট্রাস্ট নো ওয়ান (Trust No One)-এ অভিনয়, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা, স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতা এবং মাতৃত্বের পর ক্যারিয়ার নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানালেন এই অভিনেত্রী।   আড়াই ঘণ্টায় পড়ে ফেলেছিলেন পুরো চিত্রনাট্য কোনো একটি কাজের প্রতি ভালো লাগা কখনও কখনও প্রথম পরিচয়েই তৈরি হয়ে যায়। পরিণীতির ক্ষেত্রেও ট্রাস্ট নো ওয়ান সিরিজের চিত্রনাট্য ছিল তেমনই এক অভিজ্ঞতা। চিত্রনাট্যটি হাতে পাওয়ার পর কী ঘটেছিল, তা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, বই পড়া তার অন্যতম প্রিয় অভ্যাস। তবে পড়তে বসলে মাঝেমধ্যে মনোযোগ অন্যদিকে চলে যায়। সে কারণে অনেক সময় অন্য কাউকে দিয়ে পড়ে শোনতে পছন্দ করেন তিনি।   কিন্তু সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা ও রেনসিল ডি’সিলভা যখন সিরিজটির চিত্রনাট্য পাঠান, তখন পরিণীতি শহরের বাইরে ছিলেন। তার ধারণা ছিল, পুরো চিত্রনাট্য শেষ করতে দু-তিন দিন সময় লাগবে। বাস্তবে ঘটেছিল ঠিক উল্টোটা। মাত্র আড়াই ঘণ্টায় এক বসায় পুরো চিত্রনাট্য পড়ে শেষ করেন তিনি।     শেষ পাতা পড়ার পরই তার মনে হয়েছিল, এই সিরিজে অভিনয় করতেই হবে। গল্পের আকর্ষণই তাকে সবচেয়ে বেশি টেনেছিল। পাশাপাশি কাজটির সঙ্গে যুক্ত মানুষদের নিয়েও যথেষ্ট আশাবাদী ছিলেন অভিনেত্রী।     পরিণীতির কথায়, চিত্রনাট্য এতটাই ভালো ছিল যে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো কারণই ছিল না। তার সঙ্গে নেটফ্লিক্সের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজের সুযোগ, প্রযোজক সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা এবং পরিচালক রেনসিল ডি’সিলভার মতো অভিজ্ঞ মানুষের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি তার কাছে বিশেষ হয়ে ওঠে।     অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিং, পাশে ছিল পুরো পরিবার ট্রাস্ট নো ওয়ান সিরিজের শুটিংয়ের সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন পরিণীতি। জীবনের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। তবে শুটিংয়ের পরিবেশ এবং সহকর্মীদের সহযোগিতা তার অভিজ্ঞতাকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল।     অভিনেত্রী জানান, শুটিংয়ের সময় ইউনিটের সবাই তার শারীরিক অবস্থার প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন। কাজের পরিবেশে বাড়তি চাপ ছিল না, বরং সবাই একে অপরকে সহযোগিতা করেছেন। ফলে শুটিংয়ের সময়সূচি সামলাতেও বড় কোনো সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি তাকে।     পরিবারের সদস্যরাও এই সময়ে পরিণীতির পাশে ছিলেন। বিশেষ করে স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতার কথা বলতে গিয়ে তার কণ্ঠে ফুটে ওঠে কৃতজ্ঞতা। সুখবরটি শোনার পরই রাঘব শিমলায় ছুটে গিয়েছিলেন। পরিণীতির মা, শাশুড়ি এবং ভাইয়েরাও তাকে দেখতে সেখানে পৌঁছে যান।     পরিবারের সবার এমন উপস্থিতি নিয়ে মজার ছলে পরিণীতি বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল, তার পুরো পরিবারই বুঝি শুটিংয়ে চলে এসেছে!     সেই সময়ের স্মৃতি মনে করে অভিনেত্রী আরও জানান, তারা মজা করে বলতেন, এই সিরিজ যেমন তার ছেলে নীরের অভিষেকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তেমনই ওয়েব দুনিয়ায় তার নিজেরও অভিষেক। তাই কাজটি তার কাছে বরাবরই বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে।     মা হওয়ার পরও কাজের সুযোগ চান পরিণীতি মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা পরিণীতির জীবনকে নতুনভাবে সাজিয়েছে। তবে মা হওয়ার কারণে অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই। বরং সন্তান জন্মের পর একজন অভিনেত্রীর কাজের সুযোগ কমে যেতে পারে—এই আশঙ্কাই তাকে বেশি ভাবায়।     পরিণীতির মতে, মা হওয়া জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার কারণে পেশাগত জীবনে পিছিয়ে পড়তে হবে, এমনটা হওয়া উচিত নয়।     তিনি মনে করেন, কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না; অভিনেত্রীদের কাজের প্রস্তাবও পেতে হবে। মাতৃত্বের পরও যদি শুধু মা হওয়ার কারণে কোনো শিল্পী কাজের সুযোগ হারান, তবে তা তার কাছে অত্যন্ত হতাশাজনক হবে।     বলিউডে মাতৃত্বের পরও নিয়মিত কাজ করে চলেছেন এমন অভিনেত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। বিষয়টিকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখেন পরিণীতি। উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে আলিয়া ভাট, দীপিকা পাড়ুকোন এবং তার দিদি প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নাম।     পরিণীতির মতে, তাদের প্রজন্মের অভিনেত্রীরা মাতৃত্বের পরও নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন, যা আনন্দের বিষয়। প্রিয়াঙ্কা যেমন বলিউডের বাইরেও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে কাজ করছেন, তেমনই অন্য অভিনেত্রীরাও নিজেদের পেশাগত জায়গা ধরে রেখেছেন। তার বিশ্বাস, তারা এখন ভালো কাজ করছেন এবং অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে আরও ভালো কাজ করার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।     সংসার, সন্তান, নিজের সময়—সবকিছুরই গুরুত্ব রয়েছে কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনকেও বরাবর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিণীতি। পরিবার, বন্ধু, ভ্রমণ, ছুটি কাটানো, উৎসব কিংবা একান্তে নিজের জন্য কিছুটা সময়—জীবনের এই ছোট ছোট আনন্দগুলো তার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।     তবে মা হওয়ার পর সময়ের হিসাব অনেকটাই বদলে গেছে। এখন নিজের কাজের পাশাপাশি সন্তানের প্রয়োজন এবং পরিবারের দায়িত্বও সমান গুরুত্ব পায়। তাই জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি আগের চেয়ে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।     পরিণীতির কাছে সাফল্য মানে শুধু পেশাগত অর্জন নয়; বরং জীবনের বিভিন্ন দিককে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও প্রিয়জনদের সময় দেওয়া এবং নিজের ভালো থাকার দিকে নজর রাখা—এই দুইয়ের সমন্বয়ই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।     ছেলের দায়িত্ব মা-বাবার দুজনেরই রাজনীতির ব্যস্ততায় সময় কাটে রাঘব চাড্ডার, অন্যদিকে অভিনয়, শুটিং ও প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকেন পরিণীতি। ফলে তাদের ছোট্ট ছেলের দেখাশোনা কীভাবে হয়, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।     এ বিষয়ে পরিণীতির উত্তর একেবারেই স্পষ্ট— সন্তানের দায়িত্ব তারা দুজন সমানভাবে ভাগ করে নিয়েছেন।       অভিনেত্রীর কথায়, তারা দুজনেই মা-বাবা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই সন্তানের দায়িত্বও দুজনেরই। পরিণীতি যখন কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন রাঘব ছেলের সঙ্গে সময় কাটান। আবার রাঘবের কাজ থাকলে সন্তানের দায়িত্ব সামলান পরিণীতি।     অর্থাৎ, সংসার ও সন্তান পালনের দায়িত্বকে তারা একজনের ওপর চাপিয়ে দেননি। বরং নিজেদের কাজের সময় এবং প্রয়োজন বুঝে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।     পরিণীতির কাছে স্বামীর এই সহযোগিতা বিশেষভাবে মূল্যবান। কারণ, অভিনয়ের ব্যস্ততা সব সময় একই রকম থাকে না। কোনো দিন শুটিং বা কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েন তিনি। তখন রাঘবের আশ্বাস তাকে নতুন করে সাহস জোগায়।     পরিণীতি জানান, এমন অনেক দিন যায়, যখন কাজের শেষে তিনি একেবারে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে রাঘব তাকে আশ্বস্ত করেন, তিনি নিশ্চিন্তে কাজে যেতে পারেন, বাকি সব দায়িত্ব তিনি সামলে নেবেন।     স্বামীর এই ভরসা তার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। কারণ, পেশাগত জীবন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সন্তানকে সময় দেওয়ার ক্ষেত্রেও দুজনের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।       অভিনয় আর রাজনীতি—দুজনের জগৎ আলাদা পরিণীতি চোপড়া ও রাঘব চাড্ডার পেশাগত জগৎ সম্পূর্ণ আলাদা। একজন অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত, অন্যজন রাজনীতির মানুষ। সংসারে তাদের বোঝাপড়া ভালো হলেও কাজের ক্ষেত্রে একে অপরকে পরামর্শ দেওয়ার অভ্যাস খুব একটা নেই।     রাজনীতির জটিল হিসাব, সংসদীয় বক্তৃতা কিংবা নির্বাচনের বিষয়ে নিজের বিশেষ জ্ঞান নেই বলেই জানান পরিণীতি। তাই এসব বিষয়ে রাঘবকে পরামর্শ দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। অন্যদিকে সিনেমার চিত্রনাট্য বা অভিনয়ের জগতেও রাঘবের অভিজ্ঞতা সীমিত।     এই প্রসঙ্গে মজার একটি ঘটনাও শোনান অভিনেত্রী। কোথাও তার নিজের গান বাজছিল, অথচ গানটি যে তারই, তা রাঘবকে আলাদা করে জানাতে হয়েছিল তাকে!     ঘটনাটি বলতে গিয়ে হেসে ফেলেন পরিণীতি। তার বক্তব্য, কাজের ক্ষেত্রে দুজনের জগৎ আলাদা থাকাই ভালো। একে অপরের পেশাগত পরিসরে অযথা হস্তক্ষেপ না করেও যে ভালো বোঝাপড়া বজায় রাখা যায়, তাদের সম্পর্ক যেন তারই উদাহরণ।     মাতৃত্বের সঙ্গে স্বপ্নের সহাবস্থান পরিণীতি চোপড়ার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার গল্পে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক। একদিকে রয়েছে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিং চালিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে মা হওয়ার পরও নিজের পেশাগত পরিচয় ধরে রাখার দৃঢ় ইচ্ছা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতা, পরিবারের সমর্থন এবং দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার বাস্তব চিত্র।     তাঁর বক্তব্যের মূল সুর একটাই— মাতৃত্ব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলেও তা কোনো নারীর পেশাগত স্বপ্নের সমাপ্তি হতে পারে না। একজন নারী একই সঙ্গে মা এবং সফল পেশাজীবী হতে পারেন, যদি তার কাজের সুযোগ থাকে এবং পরিবার ও কর্মক্ষেত্র থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা মেলে।     পরিণীতির কাছে তাই মা হওয়া মানে অভিনয়জীবন থেকে সরে দাঁড়ানো নয়। বরং জীবনের নতুন দায়িত্বকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলা। আর সেই পথচলায় নিজের পরিচয়, ভালোবাসার মানুষদের সময় দেওয়া এবং কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা—সবকিছুকেই সমান গুরুত্ব দিতে চান তিনি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের নেতৃত্বে অভিনেতা শিবা শানু, নিয়োগ এক বছরের

0 Comments