ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৩ ঘণ্টা আগে ফেসবুকে একটি পোস্টে করেন ওসমান হাদী। পোস্টে তিনি লিখেন, যেহেতু ঢাকা-৮ এ আমার পোস্টার-ফেস্টুন কিছুই নাই, তাই আমার এখন ছেঁড়া-ছিঁড়িরও চাপ নাই। দুদকের সামনে থেইকা জুম্মা মোবারক।
এদিকে, এ ঘটনায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
পোস্টে সাদিক কায়েম লেখেন, ‘ওসমান হাদীকে গুলি করা হলো। চাঁদাবাজ ও গ্যাংস্টারদের কবল থেকে ঢাকা সিটিকে মুক্ত করতে অচিরেই আমাদের অভ্যুত্থান শুরু হবে। রাজধানীর ছাত্র-জনতাকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেওয়ার সাড়ে তিন মাস পরও তাদের সময়ের নানা সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক উপদেষ্টারা। হামে পাঁচ শতাধিক মায়ের বুক খালি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও কুশপুত্তলিকা দাহের ঘটনা ঘটছে। কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টা গণমাধ্যমে এসে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও কথিত ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ নিয়ে মুখ খোলায় নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ আলোচিত ও সরব উপদেষ্টা এখনো অন্তরালে সময় পার করছেন। কেউ বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন। কেউ আবার আগের পেশায় ফিরলেও নিয়মিত অফিস করছেন না। জনসমাগম এড়িয়ে চলছেন। সংশ্লিষ্ট্র সূত্রে জানা গেছে, এত দিন পরও অনেক উপদেষ্টার মধ্যে মব আতঙ্ক কাজ করছে। তবে বিতর্কের বাইরে থাকা কয়েকজন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন। অন্তর্বর্তী সরকার বিদায়ের পর তাঁদের দুর্নীতি তদন্তের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। সম্প্রতি বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানও কিশোরগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী আমলে দুর্নীতির তদন্ত দাবি করে বলেছেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার চারটি জেনারেশন ধ্বংস করে দিয়েছে। যাঁদের বয়স ৩০ হয়নি, তাঁরা উপদেষ্টা হয়ে দেশবিদেশে শত শত কোটি টাকা পাচার করেছেন। এ বিষয়ে গত এপ্রিলে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এরপরই সাবেক উপদেষ্টাদের বিদেশযাত্রা নতুন করে আলোচনায় আসে। বিশেষ করে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সস্ত্রীক অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অধিকাংশ উপদেষ্টাই দেশে আছেন। দায়িত্ব ছাড়ার পর সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গুলশানে নিজস্ব বাসভবনে ওঠেন। অসুস্থ স্ত্রীর সেবায় মন দেন। একই সঙ্গে ‘থ্রি জিরো’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ) রূপকল্প এবং নতুন সামাজিক ব্যবসা নিয়ে কাজ চালিয়ে যান। গত ২৭ মে ঈদের আগের দিন দীর্ঘদিনের সহকর্মী লামিয়া মোরশেদকে সফরসঙ্গী করে ফ্রান্সের প্যারিসের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি। পরে নেদারল্যান্ডসেও নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ৩১ মে ড. ইউনূস ও লামিয়া মোরশেদ জার্মানিতে ‘বার্লিন স্টোরি বাঙ্কার’ মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের হিটলার ও তাঁর প্রেমিকা ইভা ব্রাউনের শোবার ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন ঢাকায় অবস্থান করছেন। সম্প্রতি তিনি একাধিক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, আনুষ্ঠানিক উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে সাত সদস্যের একটি অনানুষ্ঠানিক কিচেন ক্যাবিনেট ছিল, যেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। বিদায়ের ঠিক তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচিত বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা ছিল না। এমনকি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর মন্ত্রণালয়ে অন্য উপদেষ্টাদের অনাকাক্সিক্ষত হস্তক্ষেপের কারণে তিনি অন্তত তিনবার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। নৌপরিবহন ও শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন গবেষণা ও লেখালিখিতে সময় কাটাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফেরার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার নিজের প্রতিষ্ঠান উবিনীগে ফিরেছেন। তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির সমালোচনা করে তা সংসদে আলোচনার দাবি জানাচ্ছেন। লে. জে. (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ক্যান্টনমেন্টের বাসায় নিরিবিলি অলস সময় কাটাচ্ছেন। গতকাল তিনি জানান, সারা দিন টিভিতে সংসদ অধিবেশন দেখেছেন। লেখালিখি এখন আর করছেন না। বিশ্রামে আছেন। খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার লেখালিখি করে সময় পার করছেন বলে জানিয়েছেন। সম্প্রতি তিনিও গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূসের কিচেন ক্যাবিনেট বিষয়টি জানান, যেটি ক্যাবিনেট প্রতি মঙ্গলবার বসত। সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ দীর্ঘদিন পর গতকাল উত্তরায় তাঁর নিজের কর্মস্থল ব্রতীর কার্যালয়ে যান বলে তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন। গিয়েই সহকর্মীদের সঙ্গে নানা পরিকল্পনা নিয়ে দিনভর বৈঠক করেন। এখন থেকে নিয়মিত অফিস করবেন বলে জানিয়েছেন তাঁর অফিসের কর্মীরা। পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ১৭ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ করে ১৮ ফেব্রুয়ারি ফের বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজে যোগ দেন। তবে পরিবেশ রক্ষায় এখনো কোনো নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে দেখা যায়নি তাঁকে। গত পরশু ফোনে জানান, অসুস্থ খালাকে নিয়ে হাসপাতালে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে কাজ করেন এমন কয়েকজন জানান, আগে নিয়মিত দেখা হলেও এখন শুধু হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ হয়। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী উপদেষ্টার দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই অন্তরালে ছিলেন। সম্প্রতি অনেকটা নীরবে স্ত্রী তিশাকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। তাঁর অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাসসহ কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া সমালোচনা করেন এবং ফারুকী আর ফিরবেন না বলে মন্তব্য করেন। ফারুকী প্রতিদিন ফেসবুকে প্রচুর লেখালিখি করলেও বিদেশ সফরের বিষয়ে কিছুই না বলায় গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। অবশেষে গতকাল ফেসবুক পোস্টে গুঞ্জনের জবাব দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয়, এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিই। কিন্তু সেটা যে এইরকম ভয়াবহ হবে এটা ভাবি নাই। আমাদেরকে নিয়া এমনসব মানুষজন কথা বলতেছে, এদের উত্তর দিলেও আমাদের ইজ্জত থাকে না। এদের নিয়া কথা বলা তো দূরের কথা, এদের নামও আমাদের আড্ডায় কেউ কোনোদিন উচ্চারণ করেনি। আর এখন সাংবাদিক ভাই-বোনরা ফোন করে জিজ্ঞেস করে, ভাই, অমুক আপনার সম্পর্কে এই কথা বলছে, আপনার প্রতিক্রিয়া কী? বুঝেন অবস্থা! এখন এদের কথার উত্তর দিতে হইবো আমার? এটাই কাফফারা! যাই হোক, এদের মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা বলে দেয় আমি আমার কাজটা ঠিকমত করতে পারছি।’ তবে তিনি কবে দেশে ফিরবেন এবং কেন অস্ট্রেলিয়া গিয়েছেন এ ব্যাপারে কিছু লেখেননি। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় ফিরে গেছেন। নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন। ব্যাংকিং খাত সংস্কার নিয়ে পরামর্শক হিসেবেও কাজ করছেন। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বারিধারা পার্ক রোডে থাকছেন। দুইটা বই লেখার কাজে হাত দিয়েছেন। খুব একটা বাইরে যান না। অবসর সময়ে ছবি আঁকাআঁকিতে সময় পার করছেন। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন নিজ ব্যবসা আকিজ-বশির গ্রুপে ফিরেছেন। তবে তাঁকে বাইরে, এমনকি মন্ত্রণালয়েও দেখা যায় না। নিজস্ব আকিজ-বশির অ্যাভিয়েশন নিয়ে সবচেয়ে বেশি সময় দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম উপদেষ্টার পদ ছাড়ার পর পুরোনো কর্মস্থল গ্রামীণ ব্যাংকে ফিরলেও হামে শিশুমৃত্যু শুরু হওয়ার পর থেকে অনেকটা আত্মগোপনে আছেন। রাজধানীতে নিজের ফ্ল্যাটে অনেকটা বন্দি জীবন যাপন করছেন। এড়িয়ে চলছেন মানুষজন ও গণমাধ্যম। অনেক নিকট আত্মীয়কেও জানাননি ঠিকানা। ফোন দিলে রিসিভ করছেন না। সহকর্মীদেরও নিষেধ করে দিয়েছেন কাউকে ঠিকানা দিতে। শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান তাঁর পুরোনো এনজিও ‘অধিকার’-এ ফিরেছেন। তবে জনসমক্ষে কোনো কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে না। ২৩ মে গুম ভিকটিমদের স্মরণে আন্তর্জাতিক সপ্তাহ উপলক্ষে অধিকারের পক্ষ থেকে ২৩টি জেলায় সভা-সমাবেশ করলেও তাঁকে দেখা যায়নি। গতকাল গুলশানের ১১৭ নম্বর সড়কে অধিকারের অফিসে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তাপ্রহরী জানান, সকালে বেরিয়েছেন, কখন আসবেন জানা নেই। তবে ভিতরে বিদেশিদের সঙ্গে অন্যদের মিটিং চলছে, প্রবেশ নিষিদ্ধ। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে শিক্ষকতায় ফিরেছেন। প্রথম দিকে মাঝেমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেও এখন নিয়মিত হয়েছেন বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে বর্তমান সরকারের নজরে আসার চেষ্টা করছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান আবারও শিক্ষকতা শুরু করেছেন। তাঁর নতুন কর্মস্থল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে পাঠদানের পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘সেন্টার ফর এনার্জি অ্যান্ড লজিস্টিকস’ পরিচালনার দায়িত্বও নিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান টেকনোক্র্যাট কোটায় নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফিরেছেন। এ ছাড়া শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আববার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা এ এফ এম খালিদ হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা দেশেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসূত্রে যুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীকে গুলি করে দেশি-বিদেশি মুদ্রাসহ একটি ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন (৪৫) আহত হয়েছেন। রোববার (৭ জুন) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর সংলগ্ন জনতা ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লোকমান হোসেন মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনি ওই এলাকায় অবস্থানকালে মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে তার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা। ঘটনার সময় তার হাত ও পায়ে মোট তিনটি গুলি লাগে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, আহত ব্যক্তি মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হামলাকারীরা ব্যাগে থাকা মুদ্রা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, মোট ছয়জন দুর্বৃত্ত তিনটি মোটরসাইকেলে এসে এই হামলা চালায় এবং ঘটনার পর দ্রুত পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ছিনতাই হওয়া ব্যাগে দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও প্রায় ১৭ হাজার মার্কিন ডলার ছিল বলে জানা গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিজ্ঞান শুধু গবেষণাগারের চার দেয়ালে বন্দী কোনো বিষয় নয়, এটি বিশ্বকে বদলে দেওয়ার এক নীরব হাতিয়ার। সেই হাতিয়ার হাতে বিশ্বমঞ্চে এবার দ্যুতি ছড়ালেন বাংলাদেশের তিন গবেষক। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিজ্ঞানবিষয়ক জনপ্রিয় সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট প্রতিবছরের মতো এবারও প্রকাশ করেছে এশিয়ার শীর্ষ ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকা। ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ এই তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন আমাদের তিন বাংলাদেশি গবেষক। বিশ্বের বাঘা বাঘা সব গবেষকের ভিড়ে এই অর্জন দেশের বিজ্ঞানপাড়ায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কারা আছেন সাফল্যের এই তালিকায় এবং কী তাঁদের যুগান্তকারী কাজ। এই তালিকার সবচেয়ে বড় চমক হলেন মারজানা আক্তার। তিনি এবারের তালিকার কনিষ্ঠতম বিজ্ঞানী! বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এই শিক্ষার্থী পোলট্রি (হাঁস-মুরগি) খাতের সম্পূর্ণ নতুন ও আগে শনাক্ত না হওয়া একটি ভাইরাস আবিষ্কার করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। আমাদের দেশের ভাইরাস বা ভাইরোলজি গবেষণায় এটি অত্যন্ত বড় একটি মাইলফলক। মারজানার মেধার স্বীকৃতি মিলেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে জাতিসংঘের ইয়াং উইমেন ফর বায়োসিকিউরিটি ফেলোশিপের জন্য বিশ্বজুড়ে যে মাত্র ১০ জন তরুণীকে বেছে নেওয়া হয়েছিল, মারজানা ছিলেন তাঁদেরই একজন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মারজানা আক্তার পোলট্রি খাতের সম্পূর্ণ নতুন ও আগে শনাক্ত না হওয়া একটি ভাইরাস আবিষ্কার করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তালিকায় দ্বিতীয় নামটি আমাদের অনেকেরই বেশ পরিচিত—তাহমিদ আহমেদ। মা ও শিশুর অপুষ্টি দূরীকরণ, ডায়রিয়া রোগ প্রতিরোধ ও এর চিকিৎসায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনন্য অবদান রেখে চলেছেন। বিশ্বখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি-এর ইতিহাসে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি নির্বাহী পরিচালক, যিনি ২০২১ সাল থেকে সাফল্যের সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করছেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই গুণী মানুষটি আন্তর্জাতিকভাবেও জনস্বাস্থ্য গবেষণার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তৃতীয় জন কাজ করেছেন আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় শিল্পখাত, পোশাকশিল্প নিয়ে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়োন নজর দিয়েছেন পরিবেশবান্ধব পোশাক উৎপাদনে। তাঁর বিশেষ প্রকল্প ‘ডিকার্বনাইজেশন ল্যাব ফর টেক্সটাইল প্রসেস ইনোভেশন’-এর মূল লক্ষ্য, পোশাক কারখানার কার্বন নির্গমন কমিয়ে আনা এবং পরিবেশকে বাঁচানো। কাপড় তৈরির চিরাচরিত ক্ষতিকর পদ্ধতি বদলে ফেলার এই অসাধারণ চেষ্টার কারণে ২০২৫ সালে গ্লোবাল চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ডে বিশ্বের শীর্ষ ১০ উদ্ভাবকের মধ্যে তাঁর নাম উঠে এসেছিল। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়োন নজর দিয়েছেন পরিবেশবান্ধব পোশাক উৎপাদনে। এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বছর বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় এশিয়ার সেরা গবেষকদের একটি তালিকা প্রকাশ করে আসছে। নোবেলজয়ী শিমন সাকাগুচি, সুসুমু কিতাগাওয়া কিংবা গণিতের নোবেলখ্যাত আবেল পুরস্কারজয়ী মাসাকি কাশিওয়ারার মতো বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি একই তালিকায় আমাদের দেশের তিন গবেষকের নাম থাকাটা সত্যিই গর্বের বিষয়। এর আগে, ২০২১ সালে এশিয়ান সায়েন্টিস্টের সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় তিন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁরা হলেন: বাংলাদেশের মডেল লাইভস্টক অ্যাডভান্সমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সালমা সুলতানা, আইসিডিডিআর,বির গবেষক ফেরদৌসী কাদরী এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সায়মা সাবরিনা। এছাড়া ২০২৩ সালে সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান করে নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক গাউসিয়া ওয়াহিদুন্নেসা চৌধুরী এবং অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা।