সর্বশেষ

এয়ারলাইন্স সেবায় ভোগান্তি, অভিযোগেও মিলছে না সমাধান

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ফ্লাইট ছাড়ছে দেরিতে, যাত্রী উঠিয়ে বসিয়ে রাখা হচ্ছে; অথবা সিট ভাঙা, এসি কাজ করছে না, কর্মীরা দুর্ব্যাবহার করছেন; কিংবা ব্যাগেজ হারিয়ে যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে–এরকম নানা অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাঝেমধ্যেই আলোচনা হলেও কোনো সুরাহা হয় না বলে ক্ষোভ রয়েছে যাত্রীদের।

 

এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এয়ারলাইন্সগুলো এসব অভিযোগ পাত্তা না দেওয়ার বড় কারণ হচ্ছে এখানে ফ্লাইট কম, যাত্রী প্রচুর। সে কারণে ‘লিগ্যাসি ক্যারিয়ারে’র ভাড়া নিয়েও ‘বাজেট ক্যারিয়ার’গুলো ন্যূনতম সেবা না দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারছে।

 

আর বেশিরভাগ যাত্রীও নিজেদের অধিকার নিয়ে সচেতন নয়। বেশিরভাগ সময় নিজেদের অভিযোগটা তারা যথাযথ জায়গায় দাখিল করেন না। ফলে দেশের বিমানবন্দরগুলো পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সুযোগ হয় নিজেদের দায় এড়ানোর।

 

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তালিকা অনুযায়ী, মোট ৪১টি এয়ারলাইন্স এ বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট চালায়। এর মধ্যে মাত্র চারটি দেশি, বাকিগুলো বিদেশি। এসব এয়ারলাইন্স এদেশ থেকে উড়তে পারবে কি না, তা দেখভাল করে বেবিচক, কাজেই নিয়ন্ত্রণটা তাদেরই হাতে।

 

যত অভিযোগ

গত ১১ জুলাই ঢাকা থেকে কলম্বো যাওয়ার জন্য ‘ফিটস এয়ার’ নামের একটি বাজেট এয়ারলাইনের ফ্লাইটে উঠে ব্যাপক ভোগান্তি হওয়ার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন সোনিয়া রিফাত নামের একজন পর্যটন উদ্যোক্তা।

 

তিনি ‘গো গার্লস’ নামে ঘুরে বেড়ানোর একটি পেইজ চালান। পর্যটকদের নিয়ে বেড়াতে গিয়ে ফিটস এয়ারের বিমানে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বসে থাকার অভিজ্ঞতার কথা তিনি বলেছেন।

 

ঢাকা থেকে কলম্বো পৌঁছে এক ভিডিও পোস্টে সোনিয়া বলেন, তাদের ফ্লাইট ছিল রাত ২টা ১৫ মিনিটের। যথাসময়ে যাত্রীদের এয়ারক্রাফটে উঠিয়ে সেই ফ্লাইটটি ছেড়ে যায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা এই যাত্রীদের বিমানবন্দরে প্লেনের ভেতরেই বসিয়ে রাখা হয়।

 

এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তিনি ঠিকমতো তথ্য না দেওয়া এবং দুর্ব্যবহার করার অভিযোগও করেছেন।

 

ফিটস এয়ারের দুর্ভোগ নিয়ে তারা ‘সাফারার অব ফিটস এয়ার’ নামে একটি ফেইসবুক পেইজও খুলেছেন, যেখানে আরও অনেক যাত্রী বিভিন্ন সময় ফিটস এয়ারে তাদের ভোগান্তির বিষয়ে লিখেছেন।

 

এ ঘটনা গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হলেও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোন প্রতিক্রিয়া দেয়নি ফিটস এয়ার। এমনকি তাদের অফিসিয়াল ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে এবং ই-মেইল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

তবে ফিটস এয়ারের ফ্লাইট যে সেদিন সত্যিই দেরি করেছিল, তা নিশ্চিত করেছেন শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগীব সামাদ।

 

তিনি বলছেন, উড়োজাহাজটি ছেড়ে যাওয়ার আগে সেটিতে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম হাইড্রলিক ফ্লুইড রয়েছে বলে সংকেত আসে। এরপর সেটি মেরামত করে ওড়ার উপযোগী করতে বিলম্ব হয়।

 

ফিটস এয়ারের বিরুদ্ধে যাত্রীদের অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রাগীব সামাদ বলেন, এসব বিষয় কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবে।

 

ফিটস এয়ার নিয়ে আলোচনার মাঝেই ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সে চেন্নাই যাওয়া আরেক যাত্রী কাঙ্ক্ষিত সেবা না দেওয়া এবং ‘অপেশাদারত্বের’ অভিযোগ তুলেছেন।

 

সামিয়া শতাব্দী নামে ওই নারী ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, ১২ জুলাই বেলা পৌনে ১১টায় ইউএস বাংলায় তার চেন্নাই যাওয়ার কথা ছিল। সেই ফ্লাইট শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যাা সোয়া ৬টায় ছাড়ে।

 

তার অভিযোগ, যাত্রাপথে উড়োজাহাজের এয়ার কন্ডিশনিং কাজ না করায় যাত্রীদের ঘেমে-নেয়ে একাকার হতে হয়। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর যাত্রীদের অনেকে আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন, চিকিৎসার জন্যই তারা চেন্নাই যাচ্ছিলেন; এসি কাজ না করায় আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

 

ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ বলছে, আবহাওয়া ও কিছুটা যান্ত্রিক কারণে ফ্লাইটটি বিলম্বিত হয়। এর ভেতরে এয়ার কন্ডিশনও চালু ছিল। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, সেটা ‘ঠিকমত ঠান্ডা হচ্ছিল না’।

 

এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র কামরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যাত্রীদের অভিযোগ তারা ‘খুবই গুরুত্বের সঙ্গে’ খতিয়ে দেখেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় একজন যাত্রী সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে অভিযোগ করেন, এয়ারলাইন্সের প্রপার চ্যানেলে সেই অভিযোগটা আর জানান না। চেন্নাইয়ের ওই ঘটনাতেও তাই হয়েছে।

 

তিনি বলেন, একই এয়ারক্রাফটে কিন্তু আমাদের পাইলট এবং অন্যান্য ক্রুরাও ভ্রমণ করছেন। হয়ত ওই এয়ারক্রাফটের এসি শতভাগ কার্যকর ছিল না। কিন্তু এসি চলেনি একথা ঠিক না। আবার ওইদিন আবহাওয়াজনিত ও যান্ত্রিক কারণে ফ্লাইট অনেক ডিলে হয়েছিল।

 

এয়ারক্রাফটি উড্ডয়নযোগ্য হওয়ার পরপরই যাত্রীদের তোলা হয়। এক্ষেত্রে যাত্রীরা ধৈর্য হারাতে পারেন। হয়ত উড়োজাহাজটি পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার আগেই যাত্রীর কাছে মনে হয়েছে এসি কাজ করছে না। ওই ফ্লাইটের আর কোনো যাত্রীর কাছ থেকে এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এমনকি যিনি সোশাল মিডিয়ায় এমন অভিযোগ করেছেন তিনিও প্রপার চ্যানেলে কোনো অভিযোগ জানাননি। আমরা মনে করি, এয়ারলাইন্সের কাছে প্রপার চ্যানেলে অভিযোগ জানানোটা বেশি কার্যকর।

 

ইউএস বাংলার জিএম (জনসংযোগ) কামরুল বলেন, ত্রুটিপূর্ণ এয়ারক্রাফট দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার কোনো প্রশ্ন ওঠে না। টেকনিক্যাল সমস্যা হতে পারে। সেগুলো সঙ্গে সঙ্গেই মেরামত করা হয়।

 

যাত্রীরা জানেন তো?

দেশের এভিয়েশন খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার বলছেন, যাত্রী হিসেবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যে অধিকার রয়েছে, সে বিষয়ে বেশিরভাগ যাত্রীই সচেতন নন।

 

ইউরোপ বা আমেরিকার এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীর লাগেজ সঙ্গে আনতে না পারলে সেই যাত্রীকে দিন হিসেবে গুণে গুণে ক্ষতিপূরণ দেয়। আমাদের এখানে অনেক এয়ারলাইন্স যাত্রীর লাগেজ ‘লেফট বিহাইন্ড’ হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো রীতিই নেই।

 

তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়াভিত্তিক কিছু বাজেট ক্যারিয়ার যাত্রীদের অনেক বেশি পণ্য বহনের সুযোগ দেয়। এর ফলে তারা সব যাত্রীর লাগেজ বহন করতে পারে না। এসব ক্যারিয়ারে নিয়মিতভাবে যাত্রীর লাগেজ বাড় পড়ে এবং তারা পরে সেসব লাগেজ যাত্রীদের ঠিকানায় পৌঁছেও দেয় না। যাত্রীদের কষ্ট করে এসে লাগেজ নিয়ে যেতে হয়।

 

দেড় দশক ধরে দেশের এভিয়েশন খাতে সাংবাদিকতা করে আসা তানজিম বলেন, “নিয়মটা হচ্ছে কোনো যাত্রী যদি ইন ফ্লাইট সেবা কাঙ্ক্ষিতমাত্রায় না পান, তবে তিনি তার গন্তব্যে নেমে ওই এয়ারলাইন্সকে ই-মেইলে অভিযোগ জানাতে পারেন। এয়ারলাইন্স যদি যথাযথভাবে সাড়া না দেয়, তাহলে তিনি নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট এভিয়েশন অথরিটিকে জানাতে পারেন, চাইলে আদালতেও যেতে পারেন। ইউরোপ বা আমেরিকায় যাত্রীরা এরকম অভিযোগ নিয়ে অহরহই আদালতের দ্বারস্থ হন এবং এয়ারলাইন্সগুলো ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়।

 

দেশের এভিয়েশন খাতের একজন বিশেষজ্ঞ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহেদুল আলম বলছেন, প্রতিটি এয়ারলাইন্সের একটি ‘প্যাসেঞ্জার সার্ভিস প্রটোকল’ থাকে। সিভিল এভিয়েশনেরও নিয়ম থাকে যাত্রী ওঠানোর পর কতক্ষণ বিলম্ব করা যাবে। তবে যাত্রী নামানোর নানা সমস্যা আছে, সে সকারণে এয়ারলাইন্সগুলো একবার যাত্রী ওঠালে বিলম্ব হলেও নামাতে চায় না।

 

তবে ফিটস এয়ারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটা এসেছে, সেটা খুবই ভ্যালিড। যাত্রীর অভিযোগে জানা যাচ্ছে, সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা তাদের প্লেনের ভেতর বসে থাকতে হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ আগেও এসেছে। এখন ক্রুদের দুর্ব্যবহারের কথাও উঠছে। ডেফিনিটলি এটা যাত্রী হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। সংক্ষুব্ধরা যদি সিভিল এভিয়েশনের কাছে অভিযোগ করে, তাহলে তারা এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারে এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে।

 

গত ৯ জুলাই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চায়না সাদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট যাত্রী ওঠানোর পর সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি বিলম্বিত হওয়ায় যাত্রীদের ঢাকা রিজেন্সি হোটেলে নিয়ে আসে এয়ালাইন কর্তৃপক্ষ। সে বিষয়টি তুলে ধরে ওয়াহেদুল আলম বলেন, “ফ্লাইটটা ডিলে হওয়ার পর ঢাকায় তারা যাত্রীদের হোটেলে রেখেছে। আবার গুয়াংজুতে যাওয়ার পর প্রত্যেক যাত্রীকে ৪০০ ইউয়ান (৭০০০ টাকা) করে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।

 

ফিটস এয়ার বাজেট ক্যারিয়ার হিসেবে অপারেট করে। যাত্রীদের খাবার দেয় না। শুধু মার্কেট ডিমান্ড থাকে সে কারণে অলমোস্ট লিগ্যাসি ক্যারিয়ারের মতই টাকা নিচ্ছে। লো কস্ট ক্যারিয়ার হয়ে তারা বাড়তি দাম নেয়, এরপরও ন্যূনতম সেবাটা যদি না দেয়, তাহলে তাদের বিষয়টি অবশ্যই দেখা উচিত।

 

তবে যে কর্তৃপক্ষ এসব দেখভাল করবে, তাদের ওপর যাত্রীদের ‘আস্থার ঘাটতি’ আছে বলে মনে করছেন সাংবাদিক তানজিম আনোয়ার।

 

তিনি বলেন, পুরো বাংলাদেশের সব ক্ষেত্রেই এটা এক সমস্যা। কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে সোজাভাবে সমাধান পাব না। যাত্রীদের কিছু সচেতনতার ঘাটতি আছে। বাইরের দেশে যেটা হয়, আমি যদি লাগেজ না পাই বা কঙ্ক্ষিত সেবা না পাই, তারা এয়ারলাইন্সে অভিযোগ করে। ক্ষতিপূরণ দাবি করে। প্রত্যেকটাা এয়ারলাইন্সের নিয়ম আছে, ক্ষতিপূরণের বিধান আছে। তারা যথাযথ ক্ষতিপূরণ না পেলে আদালতেও যায় হরহামেশা।

 

আবার ঢাকামুখী বা অনেকক্ষেত্রে বাংলাদেশি যাত্রীদের প্রতি এয়ারলাইনগুলোর আচরণ ‘বৈষম্যমূলক’ হয় বলে মন্তব্য করেন তানজিম।

 

তিনি বলেন, আপনি যদি পশ্চিম এশিয়ার কোনো এয়ারলাইনের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে আসেন, দেখবেন আমেরিকা থেকে তাদের হাব পর্যন্ত খুবই চমৎকার একটা এয়ারক্রাফট দিয়েছে। আর সেখান থেকে ঢাকার কানেক্টিং ফ্লাইটে উঠেই মনটা খারাপ হয়ে যাবে। ঢাকার ফ্লাইটে ক্রুদের আচরণও থাকে অত্যন্ত কর্কশ। যদিও আমাদের যাত্রীদেরও সমস্যা আছে, তারা একটুতেই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েন।

 

তানজিম বলেন, আমাদের বেশিরভাগ যাত্রীই বিদেশে কাজ করতে যান। তাদের অনেকের জন্য কোনোরকমে ইমিগ্রেশন পার করাটাই চ্যালেঞ্জ। তাই ইন-ফ্লাইট কী সেবা পেলেন বা পেলেন না, সেটা দেখার মত অবস্থায় তারা থাকেন না। কিন্তু এখন অনেক মধ্যবিত্ত ভ্রমণ কিংবা চিকিৎসার জন্য নিয়মিত বিদেশে যান ও বিমানে ভ্রমণ করেন। তারাই কিন্তু এই অভিযোগগুলো তুলছেন।

 

অভিযোগ জানাবেন কোথায়

দেশের কোথায় এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে, সে বিষয়টা জানেন না বেশিরভাগ যাত্রী।

 

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগীব সামাদ বলেন, বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট বুথ রয়েছে, সেখানে যাত্রীরা লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে পারেন। অথবা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে ঢুকে ‘কন্টাক্ট আস’ ট্যাবে ক্লিক করে একটি ফরম ফিলাপ করে অভিযোগ জানাতে পারেন।

 

আবার বাংলাদেশ থেকে অপারেট করে এমন সব এয়ারলাইন্সের তালিকা রয়েছে বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে। যাত্রীরা সেসব এয়ারলাইন্সের ই-মেইলেও অভিযোগ জানাতে পারেন।

 

কর্তৃপক্ষের ওপর অনাস্থার অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে বেবিচকের একজনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, যেভাবে বিষয়গুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসে সেভাবে আমাদের কাছে আসে না। আমি মাঝে মাঝে দেখি কেউ কেউ চেয়ারম্যান স্যার বরাবর অভিযোগ জানিয়ে ই-মেইল করেন। তখন আমরা আবার সেগুলো প্রিন্ট আউট নিয়ে অভিযোগটা আন্ডারলাইন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠিয়ে দিই। লাগেজ হারানোর ক্ষেত্রে অভিযোগ করে যাত্রীরা নিয়মিত ক্ষতিপূরণও পান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
হজ নিবন্ধনে সাড়া কম, এবারও অপূর্ণ থাকতে পারে বাংলাদেশের কোটা

২০২৭ সালের হজের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধন সেরেছেন ১ হাজার ২১৭ জন। ফলে বাংলাদেশ থেকে এবারও হজে যাওয়ার নির্ধারিত সংখ্যা বা কোটা অপূর্ণ থেকে যেতে পারে।   এই আশঙ্কার কারণ হিসেবে ওমরাহ হজের প্রবণতা বেড়ে যাওয়া ও হজের খরচ বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে।   ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের তথ্যানুযায়ী, রোববার পর্যন্ত সরকারি মাধ্যমে ৫২৪ জন এবং বেসরকারি মাধ্যমে ৬৯৩ জন প্রাথমিক নিবন্ধন সেরেছেন।   একই সময়ে সরকারি মাধ্যমে হজে যেতে প্রাক নিবন্ধন সেরেছেন ৩ হাজার ৫৯৩ জন, আর বেসরকারি মাধ্যমে প্রাক নিবন্ধন করেছেন ৬০ হাজার ১২৯ জন।   ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ২০২৭ সালের গাইডলাইন অনুযায়ী, হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের প্রথমে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট দিয়ে ৩০ হাজার টাকা ফি জমা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন সারতে হয়। এই প্রাক-নিবন্ধনের সিরিয়াল অনুযায়ী জাতীয় ডেটাবেজে স্থান নির্ধারণ করা হয়।   সৌদি রোডম্যাপ অনুসরণ করে ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধনের কার্যক্রম ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে, যা চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যদিও প্রতিবছর নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হয়।   প্রাক ও প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিতদের আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে হজের চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করার সময় বেঁধে দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।   গাইডলাইন অনুযায়ী, প্রাক-নিবন্ধিতদের মধ্য থেকে নির্ধারিত ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়। এরপর নির্ধারিত প্যাকেজের অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।   সরকারি বা বেসরকারি (অনুমোদিত হজ এজেন্সি) যেকোনো দুটি মাধ্যমের একটি বেছে নিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।   বেড়েছে হজ প্যাকেজের মূল্য গেল ২১ জুলাই সচিবালয়ে সরকারি মাধ্যমে হজের প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এবার হজের সর্বনিম্ন প্যাকেজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা, যা গতবারের চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি।   ২০২৬ সালে সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজ ছিল ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৭ টাকার। সে হিসাবে এবার হজের খরচ ৩৮ হাজার ৫১১ টাকা বেড়েছে।   তবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দাবি, সার্বিক সেবা ও আনুষঙ্গিক খরচের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে আসল চিত্র উল্টো।   ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ‘হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ২০২৭’ এবং প্রকাশিত ব্যয় বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সালে সরকার ঘোষিত ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৭ টাকার প্যাকেজে হজযাত্রীদের প্রতিদিনের খাবারের খরচ যুক্ত ছিল না। হাজিদের সেই টাকা নিজ উদ্যোগে খরচ করতে হত।   ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সরকারি হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ) এর খরচ ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজাত ৫৯৭ টাকা। ২০২৭ সালে তা কমিয়ে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাতে খরচ কমেছে ৭৫ হাজার ৩৩৪ টাকা।   এছাড়া বেসরকারি এজেন্সির জন্য সর্বনিম্ন মূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।   হজের প্যাকেজ ঘোষণার একদিন পর ২২ জুলাই বেসরকারি মাধ্যমে ৩টি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এবার সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা।   দ্বিতীয় প্যাকেজের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮০ টাকা এবং বিশেষ হজ প্যাকেজের মূল্য রাখা হয়েছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা।   গত বছর বিশেষ হজ প্যাকেজের খরচ ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সাধারণ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এবার সাশ্রয়ী প্যাকেজের ব্যয় বেড়েছে ৩ হাজার ৫৪৫ টাকা।   আর সাধারণ প্যাকেজের ব্যয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৭ হাজার টাকা বেশি।   কোটা পূরণ হচ্ছে না ৩ বছর ধরে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের মতো ২০২৭ সালেও বাংলাদেশের জন্য ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রীর কোটা বহাল রেখেছে সৌদি আরব। তবে গেল তিন বারের হজযাত্রায় কোটা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ।   ২০২৬ সালে বাংলাদেশের কোটার বিপরীতে হজে গিয়েছিলেন ৭৮ হাজার ৫০০ জন। হজ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্য, হজ গাইডসহ সব মিলিয়ে ৭৯ হাজার ১০০ জন সৌদি আরব থেকে হজ পালন শেষে দেশে ফেরেন।   ২০২৫ সালে হজ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যসহ ৮৭ হাজার ১০০ জন বাংলাদেশ থেকে হজ পালন করেন। আর ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৪ হাজার ৬৫৫।   কেন পূরণ হচ্ছে না কোটা? কেন হজের কোটা পূরণ হচ্ছে না জানতে চাইলে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোটা পূরণ না হওয়ার একটি বেসিক কারণ হচ্ছে, আমাদের দেশের অনেক এজেন্সির দালালেরা মানুষকে ফুসলিয়ে ওমরাহ পালনে নিয়ে যায়। তারা ওমরাহ হজের নাম দিয়েছে ছোট হজ। অনেকেই ভাবে, ওমরাহ করলেই হজ পালন হয়ে যায়।   “দুই হজ তো এক নয়। গত বছর ৫ লাখ মানুষ ওমরাহ করেছেন। হয়ত ওমরাহ না করলে এর একটা বড়ো অংশ হজে যেতেন। তাতে আমাদের কোটা পূরণ হওয়ার একটা সম্ভাবনা ছিল। মূলত এ কারণেই হজের কোটা পূরণ হচ্ছে না।”   হজ প্যাকেজের খরচ বাড়াও কোট পূরণে প্রতিবন্ধকতা কিনা জানতে চাইলে ফরিদ বলেন, “খরচের বিষয়টা তো আছেই। এবার খাবারের খরচ প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কিছুটা খরচ বেড়েছে। তবে খরচ বাড়লেও ওমরাহ হজ নিয়ে ভুল প্রচারই অন্যতম কারণ।   “আমরা চেষ্টা করছি। সরকার, আলেম ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে।”   কোটা পূরণ না হওয়ার ‘মূল কারণ’ হিসেবে কোভিড মহামারীর প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দাকে সামনে আনতে চান হাবের সাবেক মহাসচিব ও এয়ার টাচ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা ইয়াকুব শরাফতী।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “মন্দা পরিস্থিতির কারণে অনেকেই হজে যাওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছেন।   “এছাড়া অনেকে ফরজ হজ না করে নফল ওমরাহ পালনে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন, অথচ ওমরাহ কখনো হজের বিকল্প হতে পারে না।”   তিনি বলেন, “ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে শৈশব থেকেই হজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সঞ্চয়ের সরকারি ব্যবস্থা থাকায় তাদের কোটা সহজে পূরণ হয়, যা আমাদের দেশে নেই।”   এই পরিস্থিতি উত্তরণে হজ যে সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য একটি ফরজ ইবাদত, সে বিষয়ে জনগণের মধ্যে ধর্মীয় সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলেও মত তার।   হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অর্থনৈতিক যে অবস্থা, মানে মানুষের কাছে তো টাকা নাই, এক নম্বর। দুই নম্বর হলো, মানুষের একটা ধারণা হলো, তিন-চার লাখ টাকা দিয়ে হজ করবে। এখন তো সাড়ে পাঁচ লাখের নিচে হজই করতে পারবে না।   “মানুষের টাকা জোগাড় না হলে কীভাবে যাবে? মানুষের ইনকাম অনেক কমে গেছে। এজন্য হজে যাওয়া কমে গেছে। তারপরও এ বছর প্রাক-নিবন্ধন প্রায় ৬১ হাজার হয়ে গেছে।    এখন সময় আছে, আরও এক মাস সময় আছে না? ৮০ হাজার থাকবে আশা করছি।”   হজে যেতে ইচ্ছুক অনেকেই বাড়তি খরচের কথা সামনে এনেছেন।   লক্ষ্মীপুরের রামগতির বাসিন্দা আবদুল হান্নান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রত্যেক বছর নানা অজুহাতে হজের খরচ বাড়ে। আমরা হজে যাইতে পাইরতেছি না। আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করমু, ওইখানেও ব্যবসা করার জন্য বসি থাকে। হজের খরচটা যদি আরেকটু কম হইত, আমরা আল্লাহর ঘরটা তাওয়াফ করতে পাইরতাম।”   সরকারের ভাষ্য কী হজের কোটা পূরণে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না জানতে চাইলে ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পূরণ না হলে কোটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে, সেটা ঠিক। তবে আমরা সরকারের তরফ থেকে চেষ্টা করছি কোটা পূরণে কাজ করার। এ নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে।”   সৌদি সরকার ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজ ভিসা দেওয়া শুরু হবে এবং ৮ এপ্রিল শুরু হবে হজ ফ্লাইট। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৫ মে (৯ জিলহজ্ব) হজ হবে।   হজের জন্য সৌদি প্রান্তের খরচের অর্থ নুসুক মাসার প্লাটফর্মের ই-ওয়ালেটে সরাসরি স্থানান্তর কার্যক্রম চলবে এ বছরের ১৫ জুলাই থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।   ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, নুসুক মাসারের মাধ্যমে সামগ্রিক সেবা প্যাকেজ (তাঁবু, সার্ভিস প্যাকেজ, মক্কা ও মদিনায় হোটেল, ক্যাটারিং ও পরিবহন সেবা) নিতে চুক্তি স্বাক্ষর শুরু হয় ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই। শেষ হবে ২০২৭ সালের ২৩ জানুয়ারি।   হজযাত্রীদের ডেটা নুসুক মাসার সিস্টেমে আপলোড করতে হবে ২০২৬ সালের ১৪ অগাস্ট থেকে ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি মধ্যে।   আর হজযাত্রী পরিবহনকারী এয়ারলাইন্সের সঙ্গে চুক্তি সই ও নুসুক মাসারে ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন করতে হবে চলতি বছরের ২৯ জুলাই হতে ৮ নভেম্বরের মধ্যে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিমান ভাড়া আরও কমানোর পরিকল্পনা সরকারের

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষিকা রনজিলা পারভীন হত্যা মামলায় মূল সন্দেহভাজনসহ দুজন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

বৈরী আবহাওয়ায় কাঠমান্ডু যেতে না পেরে ঢাকায় ফিরল চায়না ইস্টার্নের ফ্লাইট

ছবি: সংগৃহীত
চীন থেকে ২০ জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনবে বাংলাদেশ, ব্যয় ২.৩০২ বিলিয়ন ডলার

চীন থেকে ২.৩০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে ২০টি 'জে-১০সিই মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট' কিনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিটি যুদ্ধবিমানের মূল দাম ৬২.৭ মিলিয়ন ডলার হলেও প্রশিক্ষণ, লজিস্টিকস, পূর্তকাজ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যয় যুক্ত হওয়ায় প্রতিটি বিমানের পেছনে খরচ হবে প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ডলার।   প্রস্তাবিত এই ক্রয়সংক্রান্ত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তৈরি একটি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে। এতে অতিরিক্ত ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে— বৈদেশিক ও স্থানীয় প্রশিক্ষণ, অপারেশনাল এসেনসিয়াল আইটেম, টেকনিক্যাল অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট (টিএসটি), ফ্রেইট, বীমা, ভ্যাট, পূর্তকাজসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যয়।   সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ওই প্রতিবেদনে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ধরে ২০টি যুদ্ধবিমান সংগ্রহে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা।   প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান গতকাল (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি কমিটি খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে।   তিনি বলেন, বাংলাদেশ জে-১০ যুদ্ধবিমান কিনতে পারে—এ ধরনের আলোচনা ইতোমধ্যে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, 'ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের সময় চীনের তৈরি জে-১০ যুদ্ধবিমান ভারতের একটি রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার তথ্য এখন প্রতিষ্ঠিত।'   জাহেদ উর রহমান বলেন, 'রাফালকে ৪.৫ প্রজন্মের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে জে-১০সিই খুব ভালো করেছে। তাই বাংলাদেশ বিমানটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।'   তিনি আরও জানিয়েছেন, চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার ও ইউএভি সিস্টেম সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।   জে-১০সিই একটি একক ইঞ্জিন ও একক আসনের আধুনিক মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট। এটি চীনের বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত জে-১০সি ফাইটার বিমানের রপ্তানি সংস্করণ।   প্রাথমিক প্রস্তাবের তুলনায় বেড়েছে ব্যয় বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং জাতীয় আকাশ প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালে চীন থেকে এসব যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু করে।   ওই সময় প্রতিটি যুদ্ধবিমানের দাম ধরা হয়েছিল ৬০ মিলিয়ন ডলার। পরে এসব বিমান কেনার জন্য ২.২০ বিলিয়ন ডলার বা ২৭ হাজার ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রস্তাবে অর্থ মন্ত্রণালয় নীতিগত অনুমোদন দেয়।   তবে চূড়ান্ত প্রস্তাবে প্রতিটি বিমানের দাম বেড়ে ৬২.৭ মিলিয়ন ডলার হয়েছে।   বাড়তি ব্যয়ের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন চেয়ে গত ৪ আগস্ট সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।   সূত্র জানায়, এই ২০টি বিমানের মধ্যে ১০টি বিমান 'টেবিল অব অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট' (টিওঅ্যান্ডই)-এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, এই ১০টি বিমান সরাসরি বিমানবাহিনীতে যুক্ত হবে। বাকি ১০টি বিমান টিওঅ্যান্ডইয়ের বাইরে থাকবে।   বিমানবাহিনীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈদেশিক ও স্থানীয় প্রশিক্ষণ, অপারেশনাল এসেনসিয়াল আইটেম, টেকনিক্যাল অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট (টিএসটি) এবং ফ্রেইট বাবদ ব্যয় হবে ৮৮৮ মিলিয়ন ডলার।   বীমা, ভ্যাট ও পূর্তকাজ বাবদ ব্যয় হবে আরও ১৫৮ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া ৮০০ লিটার ও ১ হাজার ৭০০ লিটারের এক্সটারনাল ফুয়েল ট্যাংক বাবদ প্রয়োজন হবে ২.২৮ মিলিয়ন ডলার।   সরকার-থেকে-সরকার (জিটুজি) আলোচনার মাধ্যমে চীনের রাষ্ট্রীয় সংস্থা চায়না ন্যাশনাল অ্যারো-টেকনোলজি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএটিআইসি) থেকে এসব বিমান কেনা হচ্ছে।   সিএটিআইসি চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সামরিক ও বিমান চলাচল শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এটি মূলত সামরিক ও বেসামরিক বিমান, যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি ও রপ্তানি করে থাকে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব বিমান কেনার চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।   যুদ্ধবিমানগুলোর ব্যয় মেটাতে ২০৩৫-৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে থোক বরাদ্দ দিতে হবে অর্থ মন্ত্রণালয়কে।   ২০২৫ সালের মার্চে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরের সময় এসব বিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে ওই সফরের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছিল।   পরে একই বছরের এপ্রিলে এসব যুদ্ধবিমান কেনার জন্য আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি চূড়ান্ত করতে বিমানবাহিনীর প্রধানকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৮, ২০২৬

বাংলাদেশে প্রথম মাতৃগর্ভে যমজ শিশুর সফল অস্ত্রোপচার ঢামেকে

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ আরও একজন

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ ফুট লম্বা বার্মিজ অজগর উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আসাদুর রহমানের ওপর হামলা: গ্রেপ্তার আদিলের ৫ দিনের রিমান্ড

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার জীবন ওরফে আদিলের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।   মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত শুনানি শেষে এ রিমান্ডের আদেশ দেন।   এর আগে গত ১৯ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আতিকুজ্জামান আসামি জীবন ওরফে আদিলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত দিনে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।   রিমান্ড আবেদনের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী শুনানি করেন। তবে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।   মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট শান্তিনগর এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখা শেষে মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরছিলেন অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান। শান্তিনগর এলাকায় পৌঁছালে জীবন ওরফে আদিলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জন তার সিএনজির পথরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারা অধ্যাপক আসাদুর রহমানকে সিএনজি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করেন। একপর্যায়ে জীবন ওরফে আদিল তার ডান চোখে সজোরে ঘুষি মারেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।   ঘটনার পর ১৮ আগস্ট অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

একরামুল হত্যা মামলা: ট্রাইব্যুনালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ

ছবি: সংগৃহীত

মেসেঞ্জারে কবুল বললে কি বিয়ে হয়ে যাবে, যা বললেন আহমাদুল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত

নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড

0 Comments