বিশ্ব

এসডিজি ভিলেজ পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১০, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘এসডিজি ভিলেজ পাইলট প্রকল্প’-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।

 

প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত গ্রামগুলো হলো- রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর।

 

এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের আলোকে এই গ্রামগুলোতে পর্যায়ক্রমে দারিদ্র্য হ্রাস, জলাবদ্ধতা নিরসন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো এবং বিশুদ্ধ পানি ও আধুনিক স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হবে।

 

দেশের টেকসই উন্নয়নে বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটির ভবিষ্যৎ কী

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা, হুমকি প্রতিরোধ এবং মিত্রদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলায় এসব ঘাঁটি ও স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির পর ওয়াশিংটনের সামরিক উপস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে আলোচনা থমকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে কমসংখ্যক সেনা মোতায়েন কিংবা কিছু সামরিক সক্ষমতা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আরও পশ্চিমে সরিয়ে নেওয়ার বিষয় বিবেচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।   ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক ঘাঁটি বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চল ও এর আশপাশে অন্তত ২০টি সামরিক ঘাঁটিতে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোর মধ্যে কাতারের আল-উদেইদ, বাহরাইনের নৌসদর দপ্তর, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও ক্যাম্প বুহরিং, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের হামলায় অন্তত ১৫টি মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটির রাডার ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, বাহরাইনের নৌসদর দপ্তর, গুদাম ও যোগাযোগ অবকাঠামো এবং কুয়েতের বিমান ও লজিস্টিকস-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা এর মধ্যে রয়েছে। এতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর প্রচলিত প্রতিরোধব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ এসব ঘাঁটি উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে দেশগুলোকে ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকির মধ্যেও ফেলেছে। তবে মার্কিন সহায়তায় গড়ে ওঠা সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   নিরাপত্তা কাঠামোয় পরিবর্তনের আভাস সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক রাবদান সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ক্রিস্টিয়ান আলেকজান্ডারের মতে, ইরানের পাল্টা হামলা প্রচলিত প্রতিরোধ কৌশলের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে সুরক্ষিত অবকাঠামো, বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরক্ষা এবং বিকল্প সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন হবে। তার মতে, স্বাগতিক দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী পরিস্থিতিতে এবং কীভাবে রক্ষা করবে—এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট রাজনৈতিক সমঝোতাও প্রয়োজন। এদিকে, মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির দুর্বল সংকেত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে নিজেদের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবে দেখে এসেছে। এসব ঘাঁটির সংখ্যা কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের কৌশল নতুন করে বিবেচনা করতে পারে।   বিকল্প নিরাপত্তা অংশীদার খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। জিসিসির সমন্বিত সামরিক কমান্ড, যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও সামরিক মহড়ার পাশাপাশি তুরস্ক, ইউরোপ, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহের উৎস বৈচিত্র্যময় করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সাম্প্রতিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র মতো নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বও আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে মার্কিন সামরিক ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা সক্ষমতা ও অবকাঠামোর বিকল্প তৈরি করা উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য কঠিন হবে।   কমতে পারে মার্কিন ঘাঁটির ওপর নির্ভরতা চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো আহমেদ আবুদুহ মনে করেন, সংঘাত শেষ হলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে নিউ লাইনস ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসির বিশ্লেষক ডানিয়া আরায়েসির মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিনিয়োগ কমতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি অঞ্চল থেকে সরে যাবে। তার মতে, ভবিষ্যতে সরাসরি বড় সংখ্যক সেনা মোতায়েনের পরিবর্তে সামরিক প্রশিক্ষণ, অংশীদারত্ব, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্র বেশি গুরুত্ব দিতে পারে। এক্ষেত্রে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের সামরিক জোট শক্তিশালী করার পাশাপাশি অস্ত্রের উৎস বৈচিত্র্যময় করা এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারে।   চীনেরও বাড়তে পারে ভূমিকা আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় পরিবর্তন এলে চীনের ভূমিকাও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতার উদাহরণ সামনে এনে বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতে তেহরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সংলাপেও বেইজিং ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পাকিস্তান, ওমান, ইরাক কিংবা কাতারের মতো দেশও সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প এখনো নেই তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে—এমনটা মনে করছেন না অনেক বিশেষজ্ঞ। ক্রিস্টিয়ান আলেকজান্ডারের মতে, গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিকস, নৌ ও বিমান শক্তি, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং বিশ্বব্যাপী সামরিক শক্তি দ্রুত প্রয়োগের যে সমন্বিত সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ বিকল্প বর্তমানে কোনো দেশের হাতে নেই। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প নিরাপত্তা অংশীদার খুঁজলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সামরিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম।   সম্ভাব্য ‘বিকেন্দ্রীভূত প্রবেশাধিকার’ মডেল বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে বিশাল ও স্থায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পরিবর্তে ভবিষ্যতে ‘বিকেন্দ্রীভূত প্রবেশাধিকার’ মডেল চালু হতে পারে। এতে স্থায়ীভাবে বিপুলসংখ্যক সেনা রাখার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমিক সেনা মোতায়েন, বিভিন্ন দেশে সামরিক সরঞ্জাম আগে থেকেই মজুত রাখা, যৌথ সামরিক সুবিধা ব্যবহার, নৌ ও বিমান শক্তির দ্রুত প্রয়োগ এবং বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন বাহিনীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা থাকতে পারে। এর পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর নিজস্ব বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। এমন ব্যবস্থা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন তার সামরিক প্রবেশাধিকার ও প্রতিরোধ সক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে, অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোও নিজেদের নিরাপত্তায় আরও বেশি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অর্জন করতে পারবে। সব মিলিয়ে, ইরানের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে যে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে, তা শুধু ঘাঁটি সরানো বা সেনা কমানোর প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে উপসাগরীয় অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব, ইরানের আঞ্চলিক ভূমিকা এবং চীন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর সম্ভাব্য উত্থান। ফলে এই পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতার ভারসাম্যেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬

ভারতীয়দের বিদেশে বিয়ে-ভ্রমণ ও স্বর্ণ কেনা বন্ধের আহ্বান নরেন্দ্র মোদির

প্রধান শিক্ষকের সিদ্ধান্তে বেঁচে গেলো ১৬৪৩ নেপালি শিশুর প্রাণ

বাংলাদেশ-পাকিস্তানে এলএনজি সরবরাহ বাতিল করলো কাতারএনার্জি

ইরানে পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা নেই: ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।    সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি নাকচ করছেন কি না।   জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সাধারণত এ বিষয়ে এমন কিছু বলি না, তবে উত্তর হলো—হ্যাঁ। এর কোনো কারণ নেই। কী অযৌক্তিক প্রশ্ন!’   ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা সামরিকভাবে পুরোপুরি পরাজিত। আর এখন আমি তাদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করব? কী অযৌক্তিক প্রশ্ন!’   ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য এলো। এর আগে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিলেও দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দেননি।   সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬

প্রতি রাতে ৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হচ্ছে: ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা সীমিত করার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

সমুদ্রে আটকে থাকা ইরানি তেলের মজুত মাত্র ৩ কোটি ব্যারেল: যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে আবার হামলা চালানো হবে, হুমকি ট্রাম্পের

  ইরানের লারাক দ্বীপে গত রোববার রাতে আকস্মিকভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের সেনাসহ কয়েকজন বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হন। এ হামলার পর জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান।   আর এই পাল্টা হামলার জন্য ইরানে আবারও হামলা চালানো হবে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে বলেছেন, “আমরা তাদের ওপর কঠোর হামলা চালাতে যাচ্ছি। ইরানিদের হামলার জবাব দেওয়া হবে।”   এরআগে সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানের ব্যাপক সমালোচনা করে নতুন করে পোস্ট দিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে ইরানকে ‘মৃত’ দেশ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আর অবশিষ্ট নেই। যদিও তিনি যুদ্ধের শুরু থেকেই এ দাবি করে আসছেন।   ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। এটি মৃত! তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, বিমানবাহিনী নেই, তাদের কোনো মুদ্রাও নেই। তারা তাদের সেনা ও পুলিশ সদস্যদের কোনো বেতন দিচ্ছে না। মুদ্রাস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে। ইরানের নেতারা বিশৃঙ্খল অবস্থায় আছে এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম নয়।”   জুলাইয়ের পর গত রোববার রাতে দুই দেশ আবারও হামলা ও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র কয়েকদিন ধরে বলে আসছে অস্ত্রের যুদ্ধের বদলে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালানো হবে। কিন্তু নতুন এ হামলা দেখিয়েছে, কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়া যে কোনো সময় লড়াই শুরু হয়ে যেতে পারে।   ট্রাম্প তার পোস্টে আরও দাবি করেছেন, ইরান সরকারবিরোধী এক লাখ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে। আর বিক্ষোভ দমন করেই তারা টিকে আছে।   গত জানুয়ারিতে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। ইরানের সরকারি তথ্যে মতে ওই সময় নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যসহ ৩ হাজার ১১৭ জনের মৃত্যু হয়। তবে ট্রাম্প এক লাখ সংখ্যা কোথা থেকে পেয়েছেন সেটি স্পষ্ট নয়। যদিও এর আগে তার সরকার ৬০ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল।   সূত্র: আলজাজিরা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
সোমবার ষষ্ঠ দিনের মতো জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। ছবি: রয়টার্স

নেপালে বন্যা ও ভূমিধস: জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গে নিখোঁজ কর্মীদের ঘিরে উৎকণ্ঠা

ছবি: সংগৃহীত

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে আগ্রহী আরও ৬-৭ মুসলিম দেশ: পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর মোদির

0 Comments