প্রবাসী

কুয়েতে কর্মস্থলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত

আক্তারুজ্জামান জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতে কর্মরত অবস্থায় ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় শাহজালাল মিয়া (৩৬) নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার (৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৭টার দিকে নিয়মিত কাজ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত শাহজালাল মিয়ার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তাঁর বাবার নাম মঙ্গল মিয়া। প্রায় চার বছর আগে তিনি জীবিকার সন্ধানে কুয়েতে যান এবং সেখানে একটি পরিচ্ছন্নতা কোম্পানির অধীনে পৌরসভার ডাম্পিং এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, কাজের সময় ডাস্টবিন বর্জ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি ভারী যান (স্থানীয়ভাবে “কাব্বাসা” নামে পরিচিত) দুর্ঘটনাবশত তাঁর ওপর উঠে গেলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

 

দুর্ঘটনার পর কুয়েতের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

 

এদিকে এ খবর দেশে পৌঁছালে নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং স্থানীয় প্রবাসী কমিউনিটির নেতারা পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
আমিরাতে ১০০ কোটি টাকার লটারি জিতলেন প্রবাসী

১০০ কোটি টাকারও বেশি লটারি জিতে আমিরাতে এক প্রবাসী তরুণের রাতারাতি ভাগ্যবদল হয়েছে। আবুধাবির রুইয়াস শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ওই প্রবাসীর নাম তৈয়ব খান। তিনি ‘ইউএই লটারি’–এর লাকি ডে ড্রতে তিন কোটি দিরহামের বিশাল জ্যাকপট জিতেছেন। তবে ভাগ্যবদলের এই আনন্দ কেবল তাঁর একার নয়; লটারির টিকিট কেনার অংশীদার আরও চার বন্ধুর সঙ্গে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ সমানভাগে ভাগ করে নিচ্ছেন তিনি। ফলে পাঁচ বন্ধুর প্রত্যেকেই পাচ্ছেন ৬০ লাখ দিরহাম করে।   চার বছর আগে নেপাল থেকে আমিরাতে এসেছিলেন তৈয়ব। কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে ফেসবুকে ইউএই লটারির খবর দেখে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে যৌথভাবে টিকিট কেনার সিদ্ধান্ত নেন। প্রতি সপ্তাহে চাঁদা তুলে টিকিট কিনতেন তাঁরা এবং পালাক্রমে নম্বর বাছাই করতেন। কখনো পরিচিত নম্বর মিলিয়ে, আবার কখনো এলোমেলোভাবে নম্বর বাছাই করতেন তাঁরা। এর আগে ছোটখাটো কিছু পুরস্কার জিতলেও, বড় কিছু পাওয়ার আশা তাঁরা কখনোই ছাড়েননি। ড্রয়ের দিন ইমেইলে ফলাফল দেখে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তৈয়ব। তিনি জানান, ইমেইলে তিন কোটি দিরহাম লেখা দেখে তাঁর হাত-পা কাঁপতে শুরু করেছিল। এটি সত্যি কি না, তা নিশ্চিত হতে তিনি নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করেন এবং সেখানে সোনালি অক্ষরে লেখা বিজয়ের অঙ্ক দেখে হতবাক হয়ে যান।   বিজয়ের এই আনন্দ সংবাদ তৈয়ব প্রথমেই তাঁর নেপালে থাকা চাচাকে জানান, যিনি তাঁর আমিরাতে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় সহায় ছিলেন। লটারির এই অর্থ দিয়ে তৈয়বের প্রথম লক্ষ্য হলো নেপালে পরিবারের জন্য একটি সুন্দর বাড়ি নির্মাণ করা। এছাড়া এখন তিনি দুবাইয়ের আবাসন খাতে বিনিয়োগ এবং উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখছেন।

আক্তারুজ্জামান জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতে কর্মস্থলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ায় এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর উদ্যোগে অগ্রগতি, সম্মতি দিল মস্কো

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় প্রবাসীকে বাংলাদেশিকে মারধরের অভিযোগে ২ যুবক রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী কর্মীদের মেডিকেল নিয়ে সৌদির কড়া আইন

প্রবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার মান নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী মেডিকেল পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম, গাফিলতি বা জালিয়াতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে সর্বোচ্চ এক লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে।   সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবাসী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার নির্ভুলতা ও মান বজায় রাখার লক্ষ্যে দেশজুড়ে নিয়মিত পরিদর্শন অভিযান চালানো হবে। অনুমোদিত স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে কর্তৃপক্ষ।   নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতির সঠিক কার্যকারিতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি কর্মরত টেকনিক্যাল স্টাফদের দক্ষতা যাচাই এবং যেকোনো অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে।   সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়ম লঙ্ঘনের মাত্রা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করা হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করারও ক্ষমতা থাকবে কর্তৃপক্ষের হাতে।   কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে মেডিকেল সেক্টরে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীদের সেবায় গণমাধ্যমের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ হাইকমিশন

ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপে আহত প্রবাসী বাংলাদেশির পাশে দূতাবাস

ছবি : সংগৃহীত

লিবিয়ায় অপহরণের পর বাংলাদেশি শ্রমিককে হত্যা, আড়াই মাস পর এলো মৃত্যুর খবর

ছবি: সংগৃহীত
রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: দ্রুত রায় কার্যকরের দাবিতে লন্ডনে প্রবাসীদের প্রতিবাদ সমাবেশ

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকরের দাবিতে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন যুক্তরাজ্য শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।   মঙ্গলবার (৯ জুন) পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। সমাবেশে দেশে সাম্প্রতিক ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়।   সংগঠনের সভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু লস্কর, ড. আজিজুল আম্বিয়া ও জাকির হোসেন সেলিমের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।   প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শামীম চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি সভ্য সমাজ গঠনের জন্য মানবাধিকার, আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সব ধরনের সহিংস ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।   সমাবেশে বক্তারা রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।   বক্তারা আরও বলেন, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ঐক্যবদ্ধ জনমত গড়ে তুলতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে গ্রেটার সিলেট অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে আরাফাত রহমান কোকো টি-১৬ টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতল ঢাকা ফ্রুতাস

ছবি: সংগৃহীত

হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে আমিরাতে ১৫ জুন সরকারি ছুটি ঘোষণা

0 Comments