উইম্বলডন দেখার সময় এক কিশোর ছাত্রের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী ব্রিটিশ জিম শিক্ষিকা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার তার শুনানিতে প্রসিকিউটররা ঘটনার বর্ণনা দেন। তারা জানান, ব্রিটিশ জিম শিক্ষিকা উইম্বলডন দেখার সময় তার কিশোর ছাত্রের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। ওই ছাত্র তাকে ‘মিস’ বলে সম্বোধন করত। কিন্তু অভিযুক্ত সেই সম্মান রক্ষা করতে পারেননি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ বছর বয়সী ব্রনওয়েন জেমস ১৬ বছর বয়সী ছাত্রের সঙ্গে ‘প্রেমপূর্ণ’ সম্পর্ক শুরু করেন। পরে গোপনে স্ন্যাপচ্যাটে মেসেজ পাঠিয়ে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন।
উইনচেস্টার টাউন কোর্টে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের (সিপিএস) যুক্তি অনুসারে, ছাত্রটি আরও দাবি করেছে যে অভিযুক্ত নারী চাইতেন তারা যখন একা থাকতেন, তখন সে তাকে ‘মিস’ বলে ডাকুক।
সিপিএস দাবি করেছে, উইল্টশায়ারের এই শিক্ষিকা কিশোরটির সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। আর এ কাজে ছাত্রকে প্ররোচিত করতে মিথ্যা আশ্বাস দেন। আশ্বাসটি এমন ছিল, তিনি ওই ছাত্রকে ‘ভালোবাসেন’ এবং একসঙ্গে ‘অন্যত্র চলে যেতে’ চান।
ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটনের বিটার্ন পার্ক স্কুলে শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন জেমস এই কাজ করেন।
প্রসিকিউটর এডওয়ার্ড কালভার বলেন, জেমস নিয়মিত ক্লাসের সময় ছাত্রদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করার অনুমতি দিতেন। তখনই ছেলেটি প্রথমবার তার স্ন্যাপচ্যাট হ্যান্ডেলে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছে জানায়। প্রথমে অভিযুক্ত তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
কালভার আদালতকে বলেন, ‘তিনি প্রথমে স্ন্যাপচ্যাটে তাকে যুক্ত করার চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করলেও পরে তা করতে রাজি হন।’
প্রসিকিউটররা বলেন, ‘তারা একে অপরকে মেসেজ করা শুরু করে। মেসেজগুলো প্রেমমূলক হয়ে ওঠে। তারা দুজন দেখা করে। তারা গাড়িতে একে অপরকে চুম্বন করে।’ এক পর্যায়ে জেমসের বাড়িতে ওই ছাত্রকে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে টিভি দেখার ভান করলেও পরে দুজন শারিরীক সম্পর্কে জড়ায়।
ভুক্তভোগী ছাত্রের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে প্ররোচিত করে শারিরীক সম্পর্ক করেন।
তবে জেমস অভিযোগগুলো অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি মামলা চালিয়ে যাবেন। মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে আদালতে প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপন করতে প্রস্তুত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
অস্বাভাবিক শৈবাল বিস্তারের কারণে তীব্র পানি সংকটের মুখে পড়েছে ইসরায়েল। এর ফলে দেশটির বেশিরভাগ বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েলি হামলায় গাজার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত বর্জ্য সমুদ্রে মিশে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলের পরিবেশবাদী সংস্থা ‘জালুল এনভায়রনমেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন’ জানিয়েছে, দূষণ রাজনৈতিক সীমানা মানে না। গাজা উপত্যকা থেকে সমুদ্রে অপরিশোধিত বর্জ্য নিষ্কাশনের ফলে ইসরায়েলি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টগুলোতে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এই বর্জ্যে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের মতো পুষ্টি উপাদান থাকে, যা মাইক্রোঅ্যালগাল এবং সায়ানোব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সীমান্তের অপর প্রান্তে প্রায় ৬০ মাইল বা ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ মাইক্রোঅ্যালগাল বা শৈবালের বিশাল আস্তরণ ইসরায়েলের ছয়টি প্রধান বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টের মধ্যে পাঁচটির ফিল্টার বন্ধ করে দিয়েছে। প্ল্যান্টগুলো কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর বর্তমানে সীমিত পরিসরে চালু রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় তিন বছরের যুদ্ধের পর গাজার ধ্বংসযজ্ঞের পরিবেশগত প্রভাব এখন ইসরায়েলেও ফিরে আসছে। বেন-গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জ্যাক গিলরন জানিয়েছেন, গাজার বর্জ্য ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত ইসরায়েলের পানি উৎপাদন পরিকাঠামোর ওপর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে গাজার ৯০ শতাংশ পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স। কূপ, জলাধার এবং ডিস্যালিনেশন ইউনিটগুলো সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই গাজায় তীব্র পানি ও স্বাস্থ্য সংকট চলছে। অপরিশোধিত বর্জ্য ও সমুদ্রের লোনাপানিতে উপকূলীয় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দূষিত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) জানিয়েছে, শীতকাল ঘনিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা রয়েছে। গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ ও সীমান্ত সংলগ্ন ইসরায়েলি সম্প্রদায়গুলোও বর্জ্য ও ইঁদুরের উপদ্রবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে সাশ্রয়ীভাবে পানি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পানি সরবরাহ কমানো হয়েছে এবং কৃষকদের সেচ কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে, যার ফলে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। ‘জালুল’ এবং ‘ইকোপিস মিডল ইস্ট’ গাজার নিকাশীব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করার জন্য কোয়াগাটকে আহ্বান জানালেও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি সংস্থাটি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আসামের ধুবড়ির চাপরে কয়েকবছর আগেও ছিল ঘরবাড়ি, উঠান, গবাদি পশু, মানুষের কোলাহল। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে একাধিকবার ঘর হারানো পরিবারগুলোর অনেকেই সেখানে তিন থেকে চার দশক ধরে বসবাস করছিলেন। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সেই ঘরগুলোই বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয় আসাম সরকার। উচ্ছেদ হয় ১৪০০-র বেশি বাংলাভাষী মুসলিম পরিবার। সংখ্যায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ। আর এর এক বছর না পেরোতেই সেই জমিতে শুরু হল আদানি পাওয়ারের ৩২০০ মেগাওয়াটের তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ। চাপরের চারুবাখরা, চিরাকুটা ১ ও ২ এবং সন্তোষপুর এলাকায় ২০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের ভিত্তি-প্রস্তর স্থাপন করেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের এই প্রকল্পকে রাজ্যের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প বলে জানিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। প্রথম ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ২০৩০ সালের ডিসেম্বর থেকে। এই প্রকল্পের জমি ঘিরেই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। উচ্ছেদ হওয়া বাংলাভাষী মুসলিম পরিবারগুলোর অভিযোগ, ঘর ভাঙার পরে তাদের পুনর্বাসন হয়নি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩৫০০ বিঘা সরকারি জমি খালি করা হয়। পাশাপাশি জমির কাগজ থাকা বাসিন্দাদের প্রায় ১৭০০ বিঘা জমিও প্রকল্পের কাজে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় মুসলিমদের দাবি। তাদের বক্তব্য, কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও প্রায় অর্ধেক জমির মালিক ক্ষতিপূরণ পাননি। অন্যদিকে পুনর্বাসনের জন্য বাইজার আলগা এলাকায় ৩০০ বিঘা জমি দেওয়া হয়েছিল। মালপত্র সরানোর জন্য পরিবারপিছু এককালীন ৫০ হাজার টাকার কথাও জানানো হয়। কিন্তু অনেকের আপত্তি, ওই এলাকা ব্রহ্মপুত্রের মাঝের নিচু জমি। বর্ষায় সেখানে জল ঢোকার আশঙ্কা থাকে। তাই সেখানে যেতে নারাজ তারা। এদিকে, পরিবেশগত ছাড়পত্রের নথিতে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, প্রকল্প এলাকায় কোনো বসতি নেই এবং পুনর্বাসন বা পুনর্বাসন সংক্রান্ত কোনো দাবি নেই। অথচ উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের ঘরবাড়ি ভেঙেই জমি খালি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি ১৪ জুলাই প্রকল্পটির পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার সুপারিশ করে। সরকারি নথিতেও প্রকল্পের জন্য ৫৮৫ হেক্টর জমির কথা রয়েছে। এই ঘটনা আসামে উচ্ছেদের পুরনো বিতর্কও আবার সামনে এনেছে। ২০১৬ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন জেলায় উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে। একাধিক ঘটনায় বাংলা- ভাষী মুসলিম পরিবারই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় উঠে এসেছে। বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযানে অন্তত ৮ জন মুসলিম নিহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে একটি মানবাধিকার সংগঠনের রিপোর্টে। ২০২১ সালের দরংয়ের উচ্ছেদে পুলিশি গুলিতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৪ সালে কামরূপে উচ্ছেদ ঘিরে আরও দু’জন নিহত হন। এমনকি চলতি সেপ্টেম্বরেও গোলপাড়ায় ৭৩ টি বাংলাভাষী মুসলিম পরিবারের বাড়ি ভেঙে দেওয়া নিয়ে গৌহাটি হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলেছেন। আদালত জানিয়েছেন, নিজেদের কৃষি-জমিতে তৈরি বাড়ি ভাঙার আগে বাসিন্দাদের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কোনো চুক্তি না হলে তিনি ইরানকে ধ্বংস করে দিতে পারেন। তবে জাতিসংঘে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে কি এমন একটি চুক্তি হবে, যা তাদের পুনর্গঠন করতে এবং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক শক্তিশালী একটি দেশ গড়ে তুলতে দেবে?... নাকি আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেব এবং তা দ্রুতই করব, যাতে তারা আর কখনও মানুষ ও দেশগুলোকে হত্যা ও ধ্বংস করার সুযোগ না পায়? মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জাতিসংঘে ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘প্রচার’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘আরও ভয়াবহ, ধ্বংসাত্মক এবং অনির্দেশ্য আঘাত হানার পূর্ণ প্রস্তুতি’ রয়েছে। তবে উত্তপ্ত বক্তব্যের বাইরে, প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটানোর চেষ্টা হিসেবে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, তেলের দাম বেড়েছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোও এতে জড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারীরা ‘সারাদিন দুই পক্ষের মধ্যে যাতায়াত করে’ আলোচনা চালিয়ে গেছেন। উইটকফ আরও বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মঙ্গলবারের আলোচনা ‘গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক’ প্রমাণিত হবে। ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। এসব দেশ যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল পুনরায় চালু করতে আগ্রহী। তবে একই সঙ্গে তারা তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক। এসব দেশের অনেকগুলোতেই বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেগুলো যুদ্ধ চলাকালে ইরানের বারবার হামলার শিকার হয়েছে। নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প বলেন, আমরা মনে করি, ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি (৩ নভেম্বরের) মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই শেষ হতে পারে, হয়তো তার আগেও। আমি জানি না। কখন কী হয়, তা তো বলা যায় না।