বিশ্ব

বাজি ধরে ১৩ বিলিয়ন ডলারে ‘হাগিং ফেস’ কিনছে এনভিডিয়া

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে জনপ্রিয় এআই ডেভেলপার প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেস কিনতে যাচ্ছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া। ওপেন এআই মডেলের বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে এই বড় বিনিয়োগ করছে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এই চুক্তির খবর প্রকাশের পর এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এটি এনভিডিয়ার সবচেয়ে বড় কেনাকাটার চুক্তিগুলোর একটি। রয়টার্সের খবর।

 

হাগিং ফেস এমন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে এআই নিয়ে কাজ করা ডেভেলপাররা বিভিন্ন এআই মডেল তৈরি, পরীক্ষা ও একে অন্যের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন। ব্যবহারকারীরা এসব মডেল নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ডাউনলোড করে ব্যবহার ও পরিবর্তনও করতে পারেন।

 

ওপেন এআই ও অ্যান্থ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের এআই মডেল যেখানে তুলনামূলকভাবে বন্ধ ব্যবস্থার মধ্যে থাকে, সেখানে হার্গিং ফেস মূলত সবার জন্য উন্মুক্ত এআই মডেল নিয়ে কাজ করে। ফলে এই প্ল্যাটফর্মটি বিশ্বজুড়ে এআই ডেভেলপারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

 

সম্প্রতি কম খরচে ভালো ফল দিতে পারে এমন ওপেন এআই মডেলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। চীনের ডিপসিক ও জি-ডট-এআই এর মতো প্রতিষ্ঠানও এই খাতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের তৈরি এআই মডেল কোড লেখা ও বিভিন্ন জটিল কাজেও ভালো ফল দিচ্ছে।

 

এদিকে এআই প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ার কারণে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে চীনের তৈরি এআই মডেলের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

 

এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং বলেছেন, এনভিডিয়া হাগিং ফেস কিনলেও প্ল্যাটফর্মটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। হাগিং ফেসে এআই মডেল তৈরি বা ব্যবহার করতে এনভিডিয়ার চিপ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক হবে না।

 

চুক্তি অনুযায়ী, হাগিং ফেসের বিনিয়োগকারীদের প্রায় ১১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার দেবে এনভিডিয়া। এছাড়া হাগিং ফেসের যেসব কর্মী এনভিডিয়াতে যোগ দেবে, তাদের ধরে রাখতে সর্বোচ্চ ১ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারভিত্তিক সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

এর আগে থেকেই এনভিডিয়া ও হাগিং ফেস একসঙ্গে কাজ করছে। হাগিং ফেস প্ল্যাটফর্মে ডেভেলপারদের এনভিডিয়ার কম্পিউটিং সেবা ব্যবহারের সুযোগ দিতে দুই প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করে আসছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, হাগিং ফেস কেনার ফলে শুধু এআই চিপ নয়, এআই মডেল ও ডেভেলপারদের প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রেও এনভিডিয়ার প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
হোটেল না পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে ফুটপাতেই রাত কাটাচ্ছেন বাংলাদেশি রোগীরা

কলকাতার নিউ মার্কেটের পর এবার ঠাকুরপুকুর এলাকাতেও আবাসিক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। থাকার জায়গা না পেয়ে অনেক বাংলাদেশি রোগী ও পরিবারের সদস্যকে হাসপাতালের আশপাশের ফুটপাত ও দোকানের শেডের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে।   কলকাতার ঠাকুরপুকুরে অবস্থিত ডা. সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, যা ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতাল নামে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও নিয়মিত বহু রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দেশে ঠাকুরপুকুর এলাকার অধিকাংশ আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে চিকিৎসার জন্য আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়েছেন বিপাকে। বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালের বাইরে গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাত ও বিভিন্ন দোকানের শেডের নিচে রোগী ও তাদের স্বজনদের অনেকেই অবস্থান করছেন। কেউ বসে ছিলেন, আবার কেউ মশার উপদ্রব ও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে সেখানেই শুয়ে ছিলেন। এক বাংলাদেশি নারী বলেন, ‘এখানে মশা-মাছির অনেক উপদ্রব। শৌচাগারেরও ব্যবস্থা নেই। সীমান্ত পার হয়ে ভারতে আসার পর কেউ আমাদের এই সমস্যার কথা জানায়নি। এখানে এসে এত টাকা-পয়সা খরচ করার পর এখনই ফিরে যাওয়াও সম্ভব নয়। হোটেলে থাকার সব ব্যবস্থা থাকলেও তারা আমাদের রাখতে চাইছে না।’ ক্যান্সারে আক্রান্ত আরেক নারী জানান, গত দুই দিন তিনি কলকাতার পিজি হাসপাতালের সামনে একটি হোটেলে ছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতাল অনেক দূরে হওয়ায় নিয়মিত যাতায়াত করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। পরে থাকার জায়গা না পেয়ে রাস্তায় অবস্থান করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একদিন থাকার সুযোগ দিয়েছিল, পরে বের করে দেয়। পুলিশকে জানালেও তারা এখানে থাকতে নিষেধ করেছে। স্থানীয় সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, অন্তত রোগীদের কথা বিবেচনা করে গেস্ট হাউসগুলো খুলে দেওয়া হোক।’ পরিস্থিতি বিবেচনায় গত কয়েকদিন ধরে মানবিক কারণে রোগী ও তাদের স্বজনদের পাশে দাঁড়িয়েছে ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের নিজস্ব পরিকাঠামো ও সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনদের সাময়িক থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বুধবার কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. অর্ণব গুপ্ত। এর পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন মিশনের কর্মকর্তারা। তারা হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পাশাপাশি চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি রোগী এবং হাসপাতাল চত্বরে সাময়িক অবস্থান করা রোগীদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় মিশনের কর্মকর্তারা হোটেল সমস্যায় পড়া বাংলাদেশি রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। মিশন কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও স্থান সংকুলানের সমস্যায় পড়তে পারে। এতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি রোগীদের ভর্তি নেওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। এমনকি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশিদের ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রেও কঠোরতা আরোপ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় মিশনের পক্ষ থেকে রোগী ও স্বজনদের নিকটবর্তী কোনো হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য মিশন কর্তৃপক্ষ হোটেলের একটি তালিকা দিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, মিশনের দেওয়া তালিকায় থাকা হোটেলগুলোর নম্বরে যোগাযোগ করেও অনেক ক্ষেত্রে থাকার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো হোটেল থেকে বলা হচ্ছে কক্ষ নেই, আবার কোনো প্রতিষ্ঠান জানাচ্ছে তারা বিদেশিদের থাকার ব্যবস্থা করে না। কয়েকটি হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশ প্রশাসনের চাপ থাকার কথাও জানিয়েছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের। ফলে বৃহস্পতিবার বিকেলে মিশন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পরও রাতে থাকার জায়গা না পেয়ে অনেকেরই শেষ পর্যন্ত ফুটপাতেই আশ্রয় নিতে হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরপুকুর এলাকায় আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউস রয়েছে প্রায় ৩৫টি। এর প্রায় সবই বর্তমানে বন্ধ। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশনার কারণেই তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এর আগে গত ১৯ আগস্ট কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর আবাসিক হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর অবস্থান নেয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে নিউ মার্কেটসহ মধ্য কলকাতার একাধিক হোটেল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কলকাতায় প্রায় চার শতাধিক হোটেলের দরজায় তালা পড়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি নাগরিকসহ দেশি-বিদেশি পর্যটক ও চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা রোগী-স্বজনরা নতুন করে আবাসন সংকটে পড়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
বসনিয়া সীমান্তে আটকদের একাংশ। ছবি : সংগৃহীত

অবৈধ অভিবাসনের অভিযোগে বসনিয়ায় ৩৬ বাংলাদেশিসহ আটক ৯৬

ব্রনওয়েন জেমস। ছবি: সংগৃহীত

কিশোর ছাত্রের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে ব্রিটিশ শিক্ষিকা বিচারের মুখে

ছবি: সংগৃহীত

বাজি ধরে ১৩ বিলিয়ন ডলারে ‘হাগিং ফেস’ কিনছে এনভিডিয়া

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলা এখনো নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নয় : ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলা এখনও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নয় এবং এ জন্য তাদের আরও কিছু সময় প্রয়োজন। এমনটি মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মনোভাব ব্যক্ত করেন।   বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন কেন কারাকাসকে নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে চাপ দিচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় না তারা এখনও প্রস্তুত। জানেনই তো, বিষয়টি একেবারেই নতুন।’   তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের একটি স্বৈরশাসন থেকে বের করে এনেছি এবং সরকারের সঙ্গে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস খুব, খুব ভালো কাজ করছেন এবং তিনি খুবই সম্মানিত মানুষ।’   নির্বাচনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ডেলসি এটা চান, কিন্তু তারা এখনও প্রস্তুত নয়’। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা এখনও এর জন্য প্রস্তুত হতে পারবে না। তবে শিগগিরই আমরা এটি (নির্বাচন আয়োজন) করার অপেক্ষায় আছি।’   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডেনমার্কে নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া, গোয়েন্দা সতর্কতা

ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে সরাতে চায় ইসরায়েল: কাটজ

ফাইল ছবি

ট্রাম্পের নাগরিকত্ব নীতিতে ফের আদালতের বাধা

দাম্মামে ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ কনস্যুলার ক্যাম্প

সৌদি আরবের দাম্মামে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য আগামী ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ কনস্যুলার ক্যাম্প পরিচালনা করবে বাংলাদেশ দূতাবাস। রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাম্মামে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা দেয়ার লক্ষ্যে দূতাবাসের একটি বিশেষ কনস্যুলার টিম ২৮ আগস্ট থেকে দাম্মামে কনস্যুলার ক্যাম্প পরিচালনা করছে, যা ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৯ দিন চলবে।   এদিকে ই-পাসপোর্টের মোবাইল এনরোলমেন্ট কিটের নির্ধারিত সক্ষমতা ও সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন অনুযায়ী আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১৫ হাজার ২০০ জনকে পর্যায়ক্রমে ই-পাসপোর্ট সেবা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যেসব প্রবাসীর ই-পাসপোর্টসহ কনস্যুলার সেবা প্রয়োজন, তাদের জন্য ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর দাম্মামে ই-পাসপোর্টসহ বিশেষ কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হবে।   এছাড়া ১৫ হাজার ২০০ সিরিয়ালের পর কোনো ব্যক্তি বর্তমান ক্যাম্প চলাকালীন সময়ে উপস্থিত থাকলে তিনি ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বরের সিরিয়াল গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে দূতাবাস।   দাম্মামে কনস্যুলার ক্যাম্পটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনায় অভ্যন্তরীণ সহযোগিতার জন্য সেখানে বসবাসরত সব বাংলাদেশী প্রবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬

দীর্ঘ ২০০ বছর এবং টানা পাঁচ প্রজন্মের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পরিবারে জন্ম নিলো কন্যাসন্তান

এক ডলারে মিলছে ২২ লাখ ইরানি রিয়াল

আবারও হামলার হুমকি ট্রাম্পের, জবাব দিলো ইরান

0 Comments