হাতে থাকা ছোট একটি লোহার টুকরা দিয়ে ইটের ওপর থেকে পলেস্তারা সরাচ্ছিলেন পারুল বেগম। একটি ইট কিছুটা পরিষ্কারের পর তিনি দেয়াল থেকে পরের ইটটি আলাদা করতে শুরু করেন। মাথার ওপর পাহাড়সম মাটির স্তূপ। সেই মাটির নিচেই চাপা পড়েছে তাঁর শেষ সম্বলের ঘর। পুনর্বাসন না করেই নদী খননের মাটি ঘরের ওপর ফেলায় পারুলসহ দেড় শতাধিক মানুষ বিপদে পড়েছেন। আশ্রয়ণের শেষ সম্বল হারিয়ে দিশাহারা অবস্থায় দিন পার করছেন তাঁরা।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আপার ভদ্রা নদী পুনঃখননের কাজের কারণে চুকনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পারুল বেগমসহ দেড় শতাধিক মানুষের ঘরের এখন কোনো অস্তিত্ব নেই। মাটি সরিয়ে পারুলের ইট সরানোর কারণ—ভবিষ্যতে যদি কখনো আবার ঘর তৈরির সুযোগ পাওয়া যায়। পারুল বেগম এখন চুকনগর গরুর হাটের মাঠে একটি অস্থায়ী খুপরিতে থাকছেন। তাঁর মতো আরও অসংখ্য পরিবার সেখানে অস্থায়ী আবাস গড়েছে।
আমাদের ঘর, বাথরুম কিছুই নেই। সব ভেঙে দিয়েছে। সবকিছু ভেঙেচুরে মাটির তলে। আমাদের কোনো আশ্রয় নেই। এখন কোনো পথ দেখছি না।
সেখানকার বাসিন্দা রিজিয়া বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘গাঙকাটা ওয়ালারা ঘর একদম ভেঙে দিয়ে গেছে। পাঁচ-ছয় মাস হয়ে গেছে এই ঘটনা। আমরা এখন গরুর হাটের মাঠে থাকছি। ভোটের আগে নেতারা এসে বলেছিল, ঘর দেবে। কিন্তু এখন তো কেউ কিছু বলে না। আমাদের ঘর নেই, বাথরুম নেই। একটু বৃষ্টি হলে মাঠে পানি ওঠে। পানির তলে ভাসতিছি। কয়টা টিউবওয়েল ছিল এখানে, একটাও নেই। সব মাটির নিচে।’
রিজিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় পাশে ছিলেন হাজেরা। আশ্রয়ণের ১৭ নম্বর ঘরটি তাঁর ছিল। হতাশ কণ্ঠে বললেন, ‘যখন কাটতে আসছিল, তখন চাপায়–চুপায়ে দেছে। আমরা ঘর বাঁচাতি পারিনি। শুধু টিনগুলো খুলে নিয়েছিলাম। এখন গরুর হাটের মাঠে আছি, ইজারাদারেরা উঠে যেতে বলে। এমপি পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন। ইউএনও একবার এসেছিলেন। পরে ডেকে নিয়ে ৩০ কেজি চাল দিয়েছেন। ওই শেষ।’
হাজেরার কথা শেষ হওয়ার আগেই আরও কয়েকজন এসে জড়ো হলেন। রাবেয়া বেগম নামের একজন বলেন, ‘আমাদের ঘর, বাথরুম কিছুই নেই। সব ভেঙে দিয়েছে। সবকিছু ভেঙেচুরে মাটির তলে। আমাদের কোনো আশ্রয় নেই। এখন কোনো পথ দেখছি না।’
চুকনগর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে কাঁঠালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্প। আপার ভদ্রা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ওই আশ্রয়ণের ঘরের ওপরও মাটির স্তূপ জমেছে। সেখানে ১৩টি ঘরের ওপর এখন মাটির স্তূপ। কোনো ঘরের চাল ভেঙেছে, কোনো ঘরের দরজা-জানালা মাটিচাপা পড়েছে। আবার কোনোটির দেয়াল মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৩টি ঘরের বেশির ভাগেই এখন কেউ থাকছেন না।
কাঁঠালতলা আশ্রয়ণের ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ নম্বর ঘরের বাসিন্দা তানিয়া বেগম বলেন, ‘কোরবানির ঈদের পর এই অবস্থা হয়েছে। আগেও মাটির স্তূপ ছিল, তবে ঘরের এত ক্ষতি হয়নি। এখন টিনের চালে মাটি উঠে গেছে, বারান্দা ভেঙে পড়েছে। এখানে ১৩টি ঘরে কেউ কেউ আছে, কেউ কেউ অন্য জায়গায় চলে গেছে। এখন সরকার যদি সাহায্য করে, তা ছাড়া আর কী করব।’
চুকনগর ও কাঁঠালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশাপাশি বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পেরও ২৪টি ঘর মাটিচাপা পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি সেখানে ঘরের ওপর মাটি ফেলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্লি বিবি চুকনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকতেন। সেখানে ঘর মাটিচাপা পড়ায় কাঁঠালতলা আশ্রয়ণে মেয়ের ঘরে এসে উঠেছেন। তিনি বলেন, ‘চুকনগরে পাওয়া ঘরের সামনে শাকসবজি লাগিয়েছিলাম। ওখানে তো আর জায়গা নেই। আমার ঘর ভেঙে দিছে। কোনো চিহ্ন নেই। কাঁঠালতলায় জামাইয়ের বাড়ি আসছি। আমি এখানে থাকায় মেয়ের সংসারে অসুবিধা হচ্ছে।’
কাঁঠালতলা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প। সেখানেও ২৪টি ঘর মাটিচাপা পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি সেখানে ঘরের ওপর মাটি ফেলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মাটিচাপা পড়ে ২৪টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখান থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ নিজেরাই মাটি সরিয়ে ঘর বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো মেরামতের কাজও শুরু হয়েছে।
বরাতিয়া আশ্রয়ণের ৫৪ নম্বর ঘরের বাসিন্দা তপতী দাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিন-চার দিন আগে মাটি ঘরের ওপর ফেলা হয়েছে। আমাদের টয়লেট বন্ধ। কেউ টয়লেট ব্যবহার করতে পারছে না। মাটির চাপে ঘরের দরজা–জানালা খোলা যাচ্ছে না। চাল ভেঙে গেছে। ঘর এখন ঠিক করে দিচ্ছে; কিন্তু বাথরুমের কোনো ব্যবস্থা হয়নি।’
স্বামী রাশেদ শেখকে সঙ্গে নিয়ে পাশের ঘরের ভেতর থেকে মাটি সরাচ্ছিলেন তহমিনা খাতুন। তিনি বলেন, ‘দুই দিন ধরে মাটি সরাচ্ছি। দেখি কতক্ষণ লাগে। ঘরের চাল, বাথরুম সব ভেঙে গেছে। এখানকার কলটা মাটির নিচে ডুবে গেছে।’
আরেক বাসিন্দা আসমা বেগম বলেন, এখানে ৪৮টি ঘরের মধ্যে ২৪টির ক্ষতি হয়েছে। এই মাটি কিনেছেন শাহজাহান জমাদ্দার নামের এক ইটভাটার ব্যবসায়ী। তিনি সময়মতো মাটি সরাননি। সেই মাটির ওপর আবার মাটি ফেলায় এ অবস্থা হয়েছে।
তবে শাহজাহান জমাদ্দারের মালিকানাধীন ইটভাটার ব্যবস্থাপক কৃষ্ণপদ মণ্ডল বলেন, নদী খননের মাটি কীভাবে কেনা হয়েছে, তা শাহজাহান জমাদ্দার জানেন। বরাতিয়া প্রকল্পের পাশের মাটি তাঁদের। সেখানকার মাটি সরানো হয়েছে। অল্প কিছু মাটি সরানো বাকি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে সেনাবাহিনী ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, আগে মাটি সরানোর পরিবেশ ছিল না। এখানে জায়গা কম। এ জন্য মাটি সরাতে একটু সময় লেগেছে।
বরাতিয়া প্রকল্পের একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখা গেল, ক্ষতিগ্রস্ত একটি ঘর মেরামতের কাজ চলছে। ঘরটি ইমন ধরের। তিনি বলেন, ‘চার-সাড়ে চার বছর ধরে এখানে আছি। গাঙ কাটার সময় এখানে মাটি পড়ে উঁচু ছিল। পরে আবার মাটি তুলেছে। তখন ঘরের ক্ষতি হয়েছে। এখন ঠিকাদারের লোক ঠিক করে দিচ্ছে।’ ঘর মেরামতের কাজ করা আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘এখানে যে কয়টা ঘর নষ্ট হয়েছে, সব ঠিক করা হবে। আজ দুপুরে আমরা কাজ শুরু করেছি।’
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার প্রথম আলোকে বলেন, নদী খননের প্রকল্পটি যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে। বরাতিয়ায় আশ্রয়ণের ঘরের পাশে যে মাটি ফেলা হয়েছে, তিনি নিজে গিয়েছেন। পাউবোর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাধানে মাটি সরানো শুরু হয়েছে। কারও ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে পাউবো জানিয়েছে।
কাঁঠালতলা আশ্রয়ণের বিষয়ে ইউএনও বলেন, ‘যশোর পাউবো সব বিষয়ে অবগত আছে এবং ব্যবস্থা নিচ্ছে।’ চুকনগরের বিষয়ে বলেন, ‘চুকনগরে আমরা কয়েকবার গিয়েছি। তাঁদের কেউ গরুর হাটের মাঠে আছেন, কেউ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অন্য জায়গায় চলে গেছেন। নতুন করে পুনর্বাসনের বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। আমাদের কিছু আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ফাঁকা পড়ে আছে। সেখানে সাময়িকভাবে তাঁদের থাকার অনুরোধ করলেও তাঁরা রাজি হননি। নতুন করে তাঁদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। আমরা এসব বিষয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখেছি।’ পুনর্বাসন না করে ঘরের ওপর মাটি ফেলা হলো কেন—প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বললে ভালো হয়।’
এ বিষয়ে জানতে পাউবো যশোর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাউবোর যশোর কার্যালয় সূত্র জানায়, কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) আওতায় সেনাবাহিনী ছয়টি নদী পুনঃখননের কাজ করছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৯ কোটি ৯৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় অভয়নগরের ভবদহ ২১-ভেন্ট স্লুইসগেট থেকে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাশিমপুর পর্যন্ত হরি নদের ১৫ কিলোমিটার, কাশিমপুর থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত তেলিগাতী নদীর ৫ কিলোমিটার, যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বাকোশপোল থেকে কেশবপুর উপজেলার বরেঙ্গা পর্যন্ত হরিহর নদের ৩৫ কিলোমিটার, কেশবপুর উপজেলার বরেঙ্গা থেকে কাশিমপুর পর্যন্ত আপার ভদ্রা নদীর ১৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, অভয়নগর উপজেলার গোঘাটা থেকে ভবদহ ২১-ভেন্ট স্লুইসগেট পর্যন্ত টেকা নদীর ৭ কিলোমিটার এবং মনিরামপুর উপজেলার লেহালপুর বাজার এলাকায় শ্রী নদীর ১ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হচ্ছে। আগামী বছরের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। নদী কাটার পর সেনাবাহিনীর কাছ থেকে নকশা অনুযায়ী কাজ বুঝে নেওয়া হবে। নদীর সীমানা নির্ধারণ করেছে সেনাবাহিনী। সেই অনুযায়ী নদী খননের কাজ চলছে।
কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও পাউবো যশোর পানি উন্নয়ন সার্কেল খুলনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বি এম আবদুল মোমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলাকে ভাগ করে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলাকে ভাগ করে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ এবং কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে ভাগ করে ‘বাঙ্গরা’ নামে নতুন উপজেলা গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। বুধবার (৮ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নিকার-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১২১তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকার চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন: ১. বাগানবাজার, ২. দাঁতমারা, ৩. নারায়ণহাট, ৪. ভজপুর, ৫. হারুয়ালছড়ি এবং ৬. সুয়াবিল-এর সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ উপজেলার বিভিন্ন অফিসের জন্য অফিস সেট-আপ অনুমোদন করা হয়েছে। আরেক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার আটটি ইউনিয়ন: ১. মশাখালী, ২. পাঁচবাগ, ৩. উস্থি, ৪. লংগাইর, ৫. পাইথল, ৬. দত্তের বাজার, ৭. নিগুয়ারী ও ৮. টাংগাব-এর সমন্বয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এ উপজেলার বিভিন্ন অফিসের জন্য অফিস সেট-আপ অনুমোদন করা হয়েছে। কুমিল্লার ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন: ১. শ্রীকাইল, ২. আকুবপুর, ৩. আন্দিকোট, ৪. পূর্বধৈইর (পূর্ব) ৫. পূর্বধৈইর (পশ্চিম), ৬. বাঙ্গরা (পূর্ব), ৭. বাঙ্গরা (পশ্চিম), ৮. চাপিতলা, ৯. রামচন্দ্রপুর (উত্তর) এবং ১০. টনকীর সমন্বয়ে বাঙ্গরা উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপজেলার বিভিন্ন অফিসের জন্য অফিস সেট-আপও অনুমোদন করা হয়েছে।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করতে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগতভাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। প্রস্তাবিত আইনের আওতায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের (পিপিপিএ) কার্যক্রম আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন কর্তৃপক্ষকে দেশের কেন্দ্রীয় বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের মতে, নতুন আইনের মাধ্যমে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি, প্রণোদনা, শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা একীভূত ও সহজতর করা হবে। ফলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, অনুমোদন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার ডিজিটাল রূপান্তর, শিল্পায়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইনটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নতুন আইন কার্যকর হলে বিনিয়োগ উন্নয়ন কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে নীতিগত অসামঞ্জস্য ও দায়িত্বের পুনরাবৃত্তি কমবে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সমন্বিত বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে উঠবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬–২০৩০)-এর খসড়া অনুমোদন এবং ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ রেখে আমদানি নীতি আদেশ (২০২৬–২০২৯)-এর খসড়া অনুমোদন।
টানা বর্ষণ, বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে শুক্রবার (১০ জুলাই) সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। দলীয় সূত্র জানায়, সফরকালে তিনি বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেবেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়েরও কথা রয়েছে। জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান মুহাম্মদ শাহজাহান জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার ফ্লাইটে ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন। প্রথমে তিনি বাঁশখালী উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করবেন। এরপর চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতাপ্রবণ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখবেন। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে বিকেলে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় অসংখ্য মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি বহু পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।