জাতীয়

সাফারি পার্কে আহত ‘রাজা বাহাদুর’, চিকিৎসায় দেশীয় মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে থাই বিশেষজ্ঞ

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর সাফারি পার্কে অন্য একটি হাতির আক্রমণে গুরুতর আহত ‘রাজা বাহাদুর’ নামে একটি হাতি প্রায় দেড় মাস ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার ভাঙা পায়ের চিকিৎসায় দেশীয় বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি থাইল্যান্ড থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলও কাজ করছে।

 

বিষয়টি বৃহস্পতিবার বিকেলে নিশ্চিত করেছেন সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী চিকিৎসক ডা. হাতেম সাজ্জাদ মো. জুলকার নাইন।

 

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৪ মে হাতিশালায় শেকলে বাঁধা অবস্থায় থাকা প্রায় ১০ বছর বয়সী রাজা বাহাদুরের ওপর চার বছর বয়সী স্ত্রী হাতি ‘জয়িতা’ হঠাৎ আক্রমণ চালায়। এতে রাজা বাহাদুরের একটি পা ভেঙে যায় এবং অপর পায়েও গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনার পর থেকে হাতিটি দাঁড়াতে পারছে না।

 

চিকিৎসকদের মতে, বড় আকারের কোনো প্রাণী দীর্ঘ সময় দাঁড়াতে না পারলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ, বিশেষ করে লিভারসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই হাতিটির অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

 

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ঘটনার পরপরই একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় থাইল্যান্ড থেকে দুই সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল আনা হয়। বর্তমানে দেশীয় চিকিৎসক, থাই বিশেষজ্ঞ এবং শ্রীলঙ্কার বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ সমন্বয় করে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

 

গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বলেন, হাতিশালায় এক হাতির সঙ্গে আরেক হাতির সংঘর্ষ মাঝেমধ্যেই ঘটে। ওই ঘটনায় রাজা বাহাদুর পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে সে দাঁড়াতে পারছে না এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। পার্কে এখন রাজা বাহাদুরসহ মোট ১০টি হাতি রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকায় অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল রাজা বাহাদুরকে। পরে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট হাতিটিকে উদ্ধার করে গাজীপুর সাফারি পার্কে নিয়ে আসে। উদ্ধারকালে তার বয়স ছিল প্রায় ৯ বছর, বর্তমানে বয়স ১০ বছরের বেশি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাবে ঢাকা

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও খুলে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই বাংলাদেশ থেকে নতুন করে কর্মী পাঠানো শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।   বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৩টায় কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "সবার আগে বাংলাদেশ" নীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় যাত্রা শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।   মালয়েশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালু করায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, দুই দেশের আন্তরিক সহযোগিতার ফলেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।   প্রবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্ব মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমবাজার খুলে যাওয়ায় অনেকেই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে সবাইকে ধৈর্য ধরে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বৈধ ও সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণের অনুরোধ জানান তিনি।   দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দালাল ও অসাধু চক্রের প্রতারণা থেকে রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দেশে ফিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে কেউ প্রতারণার শিকার না হন। একই সঙ্গে দালালচক্র সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।   শুরু হচ্ছে যৌথ কারিগরি কার্যক্রম তিনি জানান, খুব শিগগিরই বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে টেকনিক্যাল পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হবে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ঢাকায় মালয়েশিয়া হাইকমিশন যৌথভাবে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে। এছাড়া মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও গতিশীল করা হবে।   প্রথম ধাপে অগ্রাধিকার পাবে বোয়েসেল মাহদী আমিন জানান, প্রথম ধাপের কর্মী নিয়োগে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল (BOESL)-কে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়া সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তার ভাষায়, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে অভিবাসন ব্যয় কমানো, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মীদের বিদেশে পাঠানো।   রিক্রুটিং এজেন্সি চূড়ান্ত করবে মালয়েশিয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পাঠানো ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ভিত্তিতে মালয়েশিয়া নিজস্ব যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত এজেন্সির সংখ্যা নির্ধারণ করবে। বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চসংখ্যক বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিকে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধও জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।   দুর্নীতিবাজ ও সিন্ডিকেটের স্থান হবে না মাহদী আমিন বলেন, বিগত সময়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের লাইসেন্স ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থান পাবে না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান মালয়েশিয়া সরকারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।   বিনিয়োগ, গ্যাস ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত তিনি জানান, শ্রমবাজারের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে। মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান অ্যাজিয়াটা ও এমএমসি পোর্টস-এর মতো বড় বিনিয়োগকারীদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা চলছে।   গ্যাস সংকট নিরসনে পেট্রোনাসের সঙ্গে আলোচনা বাংলাদেশের চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাস কীভাবে দ্রুত গ্যাস সরবরাহে সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।   কূটনৈতিক উদ্যোগেই খুলল শ্রমবাজার মাহদী আমিন বলেন, অতীতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পুনরায় উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ফলেই অবশেষে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সফর শেষে শুক্রবার ভোরে তাদের ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীসহ হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সিঙ্গাপুর থেকে এলএনজি আমদানি করবে সরকার, ব্যয় প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে দীর্ঘ যানজট, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ছবি: সংগৃহীত

ডেভিড ইমনের কাছ থেকে উদ্ধার ভারতীয় আধার কার্ড, নাম ‘আজহার খান’

ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁয় সুগন্ধি চালের বাজারে অস্থিরতা, কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা

ধান ও চাল উৎপাদনের জন্য দেশের অন্যতম শীর্ষ জেলা নওগাঁ। এখানকার সুগন্ধি আতপ চালের রয়েছে সারা দেশে বিশেষ কদর। তবে গত কয়েক সপ্তাহে নওগাঁর চালের বাজারে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অস্থিরতা। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সুগন্ধি আতপ চালের দাম—মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা।   নওগাঁ শহরের প্রধান খুচরা চাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া সুগন্ধি আতপ চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে। একই সঙ্গে কাটারি, শর্টার ও নন-শর্টারসহ বিভিন্ন ধরনের সরু চালের দামও বেড়েছে।   সরু চালেও বাড়তি দাম: ব্যবসায়ীরা জানান, গত তিন সপ্তাহে প্রায় সব ধরনের সরু চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া কাটারি চালের দাম ৭৬ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা। স্বর্ণা-৫ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫১ টাকা, আর বিআর-২৮ চালের দাম বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা কেজি।   ক্রেতাদের ভোগান্তি: হঠাৎ দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। নওগাঁ সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় এলাকার বাসিন্দা মোসলেম উদ্দিন বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য আতপ চাল কিনতে এসে তিনি জানতে পারেন প্রতি কেজিতে ৭০-৮০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।   একই ধরনের অভিযোগ করেন বালুভরা গ্রামের কৃষক আল ফারুক। তিনি বলেন, দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের জন্য চাল কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।   ব্যবসায়ীদের অভিযোগ: বড় মিলারদের মজুত: নওগাঁ পৌর ক্ষুদ্র চাল বাজারের ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন, ৪০ বছরের ব্যবসায় এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তিনি কখনও দেখেননি। তার মতে, আতপ চালের এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া কঠিন।   আরেক ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, কিছু বড় মিলার ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান মৌসুমের শুরুতেই বিপুল পরিমাণ চাল কিনে মজুত করেছে, যার প্রভাব এখন বাজারে পড়ছে।   মিল মালিকদের ব্যাখ্যা: তবে মজুতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিল মালিক ও ব্যবসায়ী নেতারা। মফিক উদ্দিন অটোমেটিক রাইস মিলের মালিক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার কয়েক মাস ধরেই আতপ চাল রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। ফলে বড় পরিসরে রপ্তানি হওয়ায় বাজারে আতপ চালের সরবরাহ কমে গেছে এবং দাম বেড়েছে।   তিনি আরও বলেন, আতপের ঘাটতির কারণে অনেক ক্রেতা কাটারি ও অন্যান্য সরু চালের দিকে ঝুঁকছেন, ফলে সেগুলোর দামও বাড়ছে।   ধানের দামও বেড়েছে: নওগাঁ চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার জানান, বর্তমানে প্রতি মণ কাটারি ধান কিনতে হচ্ছে প্রায় ১,৮০০ টাকা, আর আতপের জন্য উপযোগী ধানের দাম উঠেছে ৩,৭০০ টাকা পর্যন্ত। ধানের উচ্চমূল্যের কারণেই চাল উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।   প্রশাসনের অবস্থান: নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফরহাদ খন্দকার বলেন, আতপ চাল রপ্তানির কারণে বাজারে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। জেলায় প্রায় সাড়ে ৪০০ অটোমেটিক ও হাসকিং রাইস মিল রয়েছে এবং খাদ্য বিভাগ নিয়মিত বাজার ও মিলগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। অবৈধ মজুতের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।   চালের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতা ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘আজ থেকে আর কোনো কথা বলবো না, চুপ থাকবো’ — নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি: সংগৃহীত

হত্যা ও অস্ত্র মামলায় ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার, আদালতে পক্ষে ছিল না কোনো আইনজীবী

সংগৃহীত ছবি

হজযাত্রার খরচ কমাতে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা : বিমান প্রতিমন্ত্রী

হাম আক্রান্ত শিশু ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লোগো। ছবি: সংগৃহীত
হামের প্রকোপে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, দেশে প্রাণহানি বেড়ে ৮৩৫

দেশে হামের প্রকোপে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৮৩৫ জনে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত একদিনে নতুন করে আরও এক হাজার পাঁচজনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে শুধু ঢাকা বিভাগেই দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর প্রাণহানি হয়েছে।   সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭৩৯ জন এবং হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।   এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১৩৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৮৭০ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে।   এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট এক লাখ ২৭ হাজার ৪১০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সময়ে মোট ১৫ হাজার ৮৭৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট এক লাখ ১০ হাজার ১৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে এক লাখ ছয় হাজার ৫৩ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু আগস্টের শেষ সপ্তাহে : মাহদী আমিন

সংগৃহীত ছবি

‘ভোল পাল্টানো লোকজনই এখন বড় জুলাই-যোদ্ধা’—মির্জা ফখরুল

সম্পত্তি লিখে দেওয়া হচ্ছে এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও ভোগ-দখলের অধিকার থাকবে বাবা-মায়ের : আইনমন্ত্রী

0 Comments