অর্থনীতি

সংসদে পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে ১৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

মারিয়া রহমান জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে সরকারের নেওয়া অগ্রাধিকার ১৭ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেন বলেন,‘দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর।’


বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসকে আজিজুল বারীর তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।


এসকে আজিজুল বারীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নটি সংসদে উত্থাপন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন।


বর্তমান সরকার শেয়ার মার্কেটের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’


স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি যদি গতকাল বা আজকের গণমাধ্যম খেয়াল করে দেখেন, দেখবেন যে, ধীরে ধীরে পুঁজিবাজার অবস্থার পরিবর্তন করছে এবং এটি ভালো করছে ধীরে ধীরে।’


প্রধানমন্ত্রী সংসদে সরকারের নেওয়া অগ্রাধিকার ১৭ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেন।


এগুলো হচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পুঁজিবাজার বিষয়ে দক্ষ এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনারকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে নিয়োগ প্রদান, নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বাজারে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, লাভজনক সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিসমূহের শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণে উদ্বুদ্ধ করা।


এ ছাড়া বহুজাতিক কোম্পানিসহ উচ্চ মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিসমূহের শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা, এসএমই কোম্পানিসহ ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা, পুঁজিবাজার কারসাজি বন্ধে অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ ও প্রদানকারীর প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও উৎসাহ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের হিসাব নিরীক্ষা, উপযুক্ত অডিটরের মাধ্যমে নিরীক্ষার নিমিত্তে নীতিমালা প্রণয়ন করা।


ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট অনবোর্ডিং পোর্টাল চালু, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান সংস্কার, ওয়ান স্টপ সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান সার্ভিস চালু, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাসকরণ, লভ্যাংশ আয়ে দ্বৈত কর বাতিল এবং বিও অ্যাকাউন্ট খোলা ও মূলধন প্রত্যাবসান প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়ের সংক্রান্ত বিধান সিকিউরিটিজ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা, পুঁজিবাজারের সংস্কারকল্পে একটি ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ এবং অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা, পুঁজিবাজারে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কেট ও পণ্য উভয়ই সম্প্রসারিত করা, ই-কেওয়াইসি-এর মাধ্যমে অনলাইন ও মোবাইলভিত্তিক বিও হিসাব খোলা ও ট্রেডিং সুবিধা চালু করা, বিনিয়োগবান্ধব ও যুক্তিসঙ্গত করনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া, ব্যাংক ও এমএফএস-এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা প্রদান করা।


এআইভিত্তিক শক্তিশালী নজরদারির মাধ্যমে বাজারের অনিয়ম ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রাখা, তালিকাভুক্ত ইস্যুয়ার কোম্পানিসমূহে সুশাসন জোরদারকরণে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে অর্জিত সুদ আয়ের অংশ বিশেষ বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলে জমা করার বিধান প্রণয়ন করা, আইনকানুন যুগোপযোগী করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ আরও সুরক্ষিত করা এবং সরকারি সিকিউরিটিজসমূহের (ট্রেজারি বন্ড, ট্রেজারি বিল ও সরকারি সুকুক) লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে নিষ্পন্ন করার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা।


বিকাল তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচিতে প্রথম ত্রিশ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী চারজন সংসদ সদস্যের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং ৯ জন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।


বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুঁজিবাজারে ধসের কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।’


তিনি বলেন, ‘পরিচালিত কার্যক্রমে শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের পেছনে কারণগুলো ছিল বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো, কিছু কোম্পানির আইপিও, বন্ড ও অন্যান্য ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বল তদারকি এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং বাজারে আস্থার সংকট, নীতিগত অসঙ্গতি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এবং পুঁজিবাজারবান্ধব করনীতির অভাব।’


এই বিষয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির অভিযোগ দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির সঙ্গে আরও অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত কিনা তা উদঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া দায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণে গঠিত তদন্ত কমিটির গঠন ও প্রদত্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে।’


চট্টগ্রাম পুঁজিবাজারও শক্তিশালী করা হবে উল্লেখ করে সংসদ সদস্য সরোয়ার জামাল নিজামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকারের অন্যতম একটি মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সমাজে বা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেখানে যেখানে বৈষম্য আছে, যার জন্য মানুষ বিভিন্নভাবে ডিপ্রাইভ হচ্ছে, সেই বৈষম্যকে দূর করা এবং পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি প্রযোজ্য।’


তিনি বলেন, ‘মূল প্রশ্নের জবাবে আমি বলেছিলাম যে, আমরা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়েছি, তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং অবশ্যই আমরা আশা করি যে তাঁরা আমাদের সঠিক পরামর্শ দেবেন, যার ভিত্তিতে শুধু ঢাকা নয়, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকেও আমরা ইনশাআল্লাহ শক্তিশালী স্টক এক্সচেঞ্জে রূপান্তর করতে পারব।’


বীমা কোম্পানির অর্থ লুটপাট প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, বীমা কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বা ইডরা আছে। এর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আপনার যে অভিযোগ আপনি তুললেন, অলরেডি এর ভেতরেই চেয়ারম্যান এটি তদন্ত করছেন। এ ধরনের যেসব অভিযোগ আছে, সবগুলো তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষ হলে তখন আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সংসদে পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে ১৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে সরকারের নেওয়া অগ্রাধিকার ১৭ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেন বলেন,‘দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর।’ বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসকে আজিজুল বারীর তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। এসকে আজিজুল বারীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নটি সংসদে উত্থাপন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন। বর্তমান সরকার শেয়ার মার্কেটের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’ স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি যদি গতকাল বা আজকের গণমাধ্যম খেয়াল করে দেখেন, দেখবেন যে, ধীরে ধীরে পুঁজিবাজার অবস্থার পরিবর্তন করছে এবং এটি ভালো করছে ধীরে ধীরে।’ প্রধানমন্ত্রী সংসদে সরকারের নেওয়া অগ্রাধিকার ১৭ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেন। এগুলো হচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পুঁজিবাজার বিষয়ে দক্ষ এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনারকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে নিয়োগ প্রদান, নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বাজারে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, লাভজনক সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিসমূহের শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণে উদ্বুদ্ধ করা। এ ছাড়া বহুজাতিক কোম্পানিসহ উচ্চ মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিসমূহের শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা, এসএমই কোম্পানিসহ ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা, পুঁজিবাজার কারসাজি বন্ধে অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ ও প্রদানকারীর প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও উৎসাহ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের হিসাব নিরীক্ষা, উপযুক্ত অডিটরের মাধ্যমে নিরীক্ষার নিমিত্তে নীতিমালা প্রণয়ন করা। ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট অনবোর্ডিং পোর্টাল চালু, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান সংস্কার, ওয়ান স্টপ সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান সার্ভিস চালু, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাসকরণ, লভ্যাংশ আয়ে দ্বৈত কর বাতিল এবং বিও অ্যাকাউন্ট খোলা ও মূলধন প্রত্যাবসান প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়ের সংক্রান্ত বিধান সিকিউরিটিজ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা, পুঁজিবাজারের সংস্কারকল্পে একটি ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ এবং অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা, পুঁজিবাজারে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কেট ও পণ্য উভয়ই সম্প্রসারিত করা, ই-কেওয়াইসি-এর মাধ্যমে অনলাইন ও মোবাইলভিত্তিক বিও হিসাব খোলা ও ট্রেডিং সুবিধা চালু করা, বিনিয়োগবান্ধব ও যুক্তিসঙ্গত করনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া, ব্যাংক ও এমএফএস-এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা প্রদান করা। এআইভিত্তিক শক্তিশালী নজরদারির মাধ্যমে বাজারের অনিয়ম ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রাখা, তালিকাভুক্ত ইস্যুয়ার কোম্পানিসমূহে সুশাসন জোরদারকরণে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে অর্জিত সুদ আয়ের অংশ বিশেষ বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলে জমা করার বিধান প্রণয়ন করা, আইনকানুন যুগোপযোগী করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ আরও সুরক্ষিত করা এবং সরকারি সিকিউরিটিজসমূহের (ট্রেজারি বন্ড, ট্রেজারি বিল ও সরকারি সুকুক) লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে নিষ্পন্ন করার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা। বিকাল তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচিতে প্রথম ত্রিশ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী চারজন সংসদ সদস্যের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং ৯ জন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুঁজিবাজারে ধসের কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।’ তিনি বলেন, ‘পরিচালিত কার্যক্রমে শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের পেছনে কারণগুলো ছিল বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো, কিছু কোম্পানির আইপিও, বন্ড ও অন্যান্য ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বল তদারকি এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং বাজারে আস্থার সংকট, নীতিগত অসঙ্গতি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এবং পুঁজিবাজারবান্ধব করনীতির অভাব।’ এই বিষয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির অভিযোগ দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির সঙ্গে আরও অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত কিনা তা উদঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া দায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণে গঠিত তদন্ত কমিটির গঠন ও প্রদত্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে।’ চট্টগ্রাম পুঁজিবাজারও শক্তিশালী করা হবে উল্লেখ করে সংসদ সদস্য সরোয়ার জামাল নিজামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকারের অন্যতম একটি মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সমাজে বা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেখানে যেখানে বৈষম্য আছে, যার জন্য মানুষ বিভিন্নভাবে ডিপ্রাইভ হচ্ছে, সেই বৈষম্যকে দূর করা এবং পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি প্রযোজ্য।’ তিনি বলেন, ‘মূল প্রশ্নের জবাবে আমি বলেছিলাম যে, আমরা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়েছি, তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং অবশ্যই আমরা আশা করি যে তাঁরা আমাদের সঠিক পরামর্শ দেবেন, যার ভিত্তিতে শুধু ঢাকা নয়, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকেও আমরা ইনশাআল্লাহ শক্তিশালী স্টক এক্সচেঞ্জে রূপান্তর করতে পারব।’ বীমা কোম্পানির অর্থ লুটপাট প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, বীমা কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বা ইডরা আছে। এর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আপনার যে অভিযোগ আপনি তুললেন, অলরেডি এর ভেতরেই চেয়ারম্যান এটি তদন্ত করছেন। এ ধরনের যেসব অভিযোগ আছে, সবগুলো তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষ হলে তখন আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।’

মারিয়া রহমান জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি-সংগৃহীত

প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে ব্র্যাকের পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিনপ্যাক’ কারখানার যাত্রা শুরু

ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড পুনর্গঠনে দোটানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দাবির সময়সীমা নিয়ে স্পষ্ট করল বাংলাদেশ ব্যাংক

আকুর বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ এখন ৩৬.৫২ বিলিয়ন ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক অবস্থান বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৭ জুলাই) পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।   একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালান্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম–৬) পদ্ধতিতে হিসাব করা ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।   এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে সোমবার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল বাবদ ১ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। এসিইউ পরিশোধের পরও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি রয়েছে, যা আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং বৈদেশিক লেনদেনের সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিএসইসির অনুমোদন পেল নতুন মিউচ্যুয়াল ফান্ড ‘ব্লু-ওয়েলথ ফার্স্ট’

নাহিদ রহমান। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদে নাহিদ রহমানের পদোন্নতি

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৭.৮৪ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত
জুনে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়াল ৯.১৬ শতাংশ

খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি কমে আসায় জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।   সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বিবিএসের মাসিক মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও সামান্য কমে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ।   জাতীয় ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) মে মাসের ১৪৫ দশমিক ৬১ পয়েন্ট থেকে বেড়ে জুনে ১৪৬ দশমিক ১১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মাসভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও বার্ষিক মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা কমেছে।   মাসওয়ারি হিসাবে জুনে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ।   খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও তা এখনও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রয়েছে। জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা এক বছর আগে একই মাসে ছিল ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।   গ্রামের তুলনায় শহরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কম ছিল।   বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকায় জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে।   গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ হয়েছে।   তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। জুনে গ্রামীণ এলাকায় এ হার ছিল ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।   এদিকে সর্বশেষ মজুরি হার সূচকেও (ওয়েজ রেট ইনডেক্স) মজুরি বৃদ্ধির গতি সামান্য কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   জুনে জাতীয় পর্যায়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মজুরি হার বেড়েছে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। তবে এটি আগের বছরের জুন মাসের সমান রয়েছে।   দেশের ৬৪ জেলার তথ্যের ভিত্তিতে এ সূচক প্রস্তুত করা হয়েছে।   খাতভিত্তিক হিসাবে, কৃষি খাতে জুনে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং এক বছর আগে ছিল ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।   শিল্প খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার মে মাসের ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে জুনে ৮ দশমিক ১১ শতাংশে নেমে এলেও, ২০২৫ সালের জুনের ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশের তুলনায় বেশি রয়েছে।   সেবা খাতে জুনে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং এক বছর আগে ছিল ৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি প্রধান খাতেই মাসওয়ারি মজুরি বৃদ্ধির হার সামান্য কমলেও সামগ্রিকভাবে মজুরি প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রয়েছে।   এদিকে, ১২ মাসের চলমান গড় মূল্যস্ফীতি আরও কমে এসেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। এতে সামগ্রিক মূল্যচাপ ধীরে ধীরে কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।   সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।   ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।   একই সময়ে গড় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। আর গড় খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ হয়েছে।   বিবিএস জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরকে ভিত্তিবছর ধরে এ হিসাব করা হয়েছে। দেশের ১৫৪টি বাজার থেকে ৩৮৩টি পণ্য ও সেবার মূল্য সংগ্রহ করে সিপিআই প্রণয়ন করা হয়েছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের জুন মাসের মূল্য ২০২৫ সালের জুন মাসের মূল্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল লেনদেনে বাংলা কিউআর ব্যবহারে কি বাড়বে গ্রাহকের লেনদেন খরচ

ছবি: সংগৃহীত

অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান ৬০ শতাংশে উন্নীত করা হবে: শিল্পমন্ত্রী

ছবি - সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব এড়াতে সতর্ক থাকার নির্দেশনা

0 Comments