জাতীয়

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ‘ওয়াই’ আকৃতি নিয়ে বিতর্ক

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৭, ২০২৬

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নতুন গতি পেলেও এর সম্ভাব্য রুট বা অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া রুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পাবনাকে যুক্ত করে ‘ওয়াই আকৃতির’ সেতুর একটি বিকল্প প্রস্তাব সামনে এসেছে। এতে প্রকল্পের ব্যয়, প্রকৌশলগত জটিলতা এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

 

সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর বিকল্প যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে তুলতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য অর্থায়নকারী দেশ হিসেবে চীনের নাম আলোচনায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরেও প্রকল্পটি গুরুত্ব পেতে পারে। তবে, এরই মধ্যে নতুন অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ১২ মে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা নদীর সমীক্ষা-সংক্রান্ত নথি পাঠানো হয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের দপ্তরে।

 

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ের পিআইডিতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু সম্পর্কে সেতুমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়নে হাত দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অবকাঠামো উন্নয়নে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

 

জানা গেছে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর জন্য পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটের কথা বলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ রুটটি দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় নদী পারাপার করিডর হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। মূল পদ্মা সেতু নির্মাণের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষায়ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া অন্যতম আলোচিত বিকল্প ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাওয়া-জাজিরা রুটকে অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়। এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে, প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতুকে পাবনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা যায় কিনা। এ দাবির প্রেক্ষাপটে একটি ‘ওয়াই-জংশন’ বা ত্রিমুখী সেতুর ধারণা সামনে এসেছে, যেখানে মূল সেতুটির দুটি শাখার একটি রাজবাড়ী হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দিকে এবং আরেকটি শাখা পাবনা হয়ে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে চলে যাবে। মূলত স্থানীয় একজন সংসদ সদস্যের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনায় নতুন মোড় নিয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত এপ্রিলে আরিচা-পাটুরিয়া-কাজিরহাট রুটে ওয়াই-জংশন সেতু নির্মাণের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে। আর বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) ২০২৫-২০৫০ মেয়াদি মাস্টার প্ল্যানে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সংযোগ স্থাপনে পাটুরিয়া- গোয়ালন্দ রুটে পদ্মা নদীর ওপর আরিচা-নাটাখোলা অংশে যমুনা নদীর ওপর কিংবা কাছাকাছি উপযুক্ত ভিন্ন কোনো স্থানে সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার পরিকল্পনা রয়েছে। মাস্টার প্ল্যানে পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ সেতু ও আরিচা-নাটাখোলা সেতু দুটি যথাক্রমে ২০৩৫ ও ২০৪০ সালের মধ্যে নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে। সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টার প্ল্যানে সরাসরি কোনো ওয়াই টাইপ বা ত্রিমুখী জংশন সেতুর অন্তর্ভুক্তি নেই।

 

সংস্থাটি আরও বলেছে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এখনো শুরু হয়নি। পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সমীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরই কোনো অ্যালাইনমেন্ট দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই হবে, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাটি এখনই ওয়াই-জংশন প্রস্তাবকে সমর্থন বা বাতিল কোনোটিই করছে না; বরং সমীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষার কথা বলছে।

 

প্রকৌশল ও অবকাঠামো খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাধারণ সেতুর তুলনায় ওয়াই-আকৃতির সেতু অনেক বেশি জটিল। এ ধরনের কাঠামো নির্মাণ করতে হলে অতিরিক্ত স্প্যান, সংযোগ সড়ক, ইন্টারচেঞ্জ, ভূমি অধিগ্রহণ এবং নদীশাসন কাজের প্রয়োজন হবে। ফলে প্রকল্প ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ওয়াই-টাইপ জংশন সেতু কারিগরি দিক থেকে বেশি জটিল ও সংবেদনশীল। এ ছাড়া হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যাল স্থায়িত্ব বজায় রাখার জন্য এবং ভূতাত্ত্বিক বা অপ্রত্যাশিত প্রযুক্তিগত জটিলতা এড়াতে পর্যাপ্ত পরীক্ষানিরীক্ষা করা প্রয়োজন, যাতে সরকারি অর্থ ও সময়ের অপচয় না হয়। নদীর প্রবাহ, পলি সঞ্চয়ন, নদীতল পরিবর্তন এবং ভূতাত্ত্বিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো গভীরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সমীক্ষা ছাড়া এমন কাঠামোর যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

 

সূত্র আরও জানায়, সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টার প্ল্যানে পাবনা-রাজবাড়ী রুটে (সুজানগর-রাজবাড়ী সদর) সেতু নির্মাণের জন্য ২০২৪ সালে প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়। সমীক্ষায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ওই রুটে পদ্মা ও যমুনা নদীর সংযোগস্থল থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার উজানে ৩,৩০০ মিটার (প্রায়) একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা করা হয়।

 

পদ্মা ব্যারাজ কি বদলে দেবে সমীকরণ : ওয়াই-জংশন সেতুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনায় নতুন একটি বিষয় সামনে এসেছে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। গত ১৩ মে অনুমোদন পাওয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলায় (হাবাসপুর) পদ্মা ও যমুনা নদীর সংযোগস্থল থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার উজানে পদ্মা নদীর উপর নির্মাণের জন্য নির্ধারিত হয়েছে। ব্যারাজটির ভৌগোলিক অবস্থান ও নকশা অনুযায়ী এটি রাজবাড়ী ও পাবনা জেলাকে যুক্ত করবে এবং মূল বাঁধের ডেককে রাজবাড়ী ও পাবনা জেলার মধ্যে সরাসরি ২.১ কিলোমিটার চার লেন সড়ক সংযোগের জন্য ব্যবহার করা হবে। প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যারাজের উপর দিয়েই চার লেন সড়ক স্থাপন করা হবে। ব্যারাজ চালু হলে পাবনা ও রাজবাড়ীর মধ্যে সরাসরি সড়ক সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। ফলে, পাবনাকে যুক্ত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় করে পৃথক শাখা নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে মূল্যায়ন করতে হতে পারে।

 

একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, যদি ব্যারাজই সেই সংযোগ নিশ্চিত করে, তাহলে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুকে মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া করিডরেই সীমাবদ্ধ রাখা অর্থনৈতিকভাবে অধিক উপযুক্ত হতে পারে।

 

পরিবহন পরিকল্পনাবিদদের মতে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতু প্রকল্প নয়; এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন কৌশলের অংশ। তাই রাজনৈতিক দাবি বা আঞ্চলিক চাহিদার বাইরে গিয়ে যানবাহনের চাপ, অর্থনৈতিক লাভজনকতা, আঞ্চলিক বাণিজ্য, পরিবেশগত প্রভাব এবং নির্মাণ ব্যয়ের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

 

অনেকের মতে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুট হবে, নাকি পাবনাকে যুক্ত করে ওয়াই-জংশন কাঠামো গ্রহণ করা হবে, সে সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ফলাফলের ওপর। তবে, ইতোমধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তেমন বিতর্ক না থাকলেও এর রুট নি0র্ধারণই এখন প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় নীতিগত ও অর্থনৈতিক প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
দেশে আরও ৩ নতুন উপজেলা, জারি হলো প্রজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলাকে ভাগ করে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলাকে ভাগ করে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ এবং কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে ভাগ করে ‘বাঙ্গরা’ নামে নতুন উপজেলা গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।   বুধবার (৮ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নিকার-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।   প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১২১তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকার চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন: ১. বাগানবাজার, ২. দাঁতমারা, ৩. নারায়ণহাট, ৪. ভজপুর, ৫. হারুয়ালছড়ি এবং ৬. সুয়াবিল-এর সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ উপজেলার বিভিন্ন অফিসের জন্য অফিস সেট-আপ অনুমোদন করা হয়েছে।   আরেক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার আটটি ইউনিয়ন: ১. মশাখালী, ২. পাঁচবাগ, ৩. উস্থি, ৪. লংগাইর, ৫. পাইথল, ৬. দত্তের বাজার, ৭. নিগুয়ারী ও ৮. টাংগাব-এর সমন্বয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এ উপজেলার বিভিন্ন অফিসের জন্য অফিস সেট-আপ অনুমোদন করা হয়েছে।   কুমিল্লার ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন: ১. শ্রীকাইল, ২. আকুবপুর, ৩. আন্দিকোট, ৪. পূর্বধৈইর (পূর্ব) ৫. পূর্বধৈইর (পশ্চিম), ৬. বাঙ্গরা (পূর্ব), ৭. বাঙ্গরা (পশ্চিম), ৮. চাপিতলা, ৯. রামচন্দ্রপুর (উত্তর) এবং ১০. টনকীর সমন্বয়ে বাঙ্গরা উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপজেলার বিভিন্ন অফিসের জন্য অফিস সেট-আপও অনুমোদন করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সাত লাখের বদলে লাগানো হয়েছে দুই লাখ গাছ, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ‘দুঃখজনক’

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতির জন্য গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে বিশেষ সুবিধা

ছবি: সংগৃহীত

মিরপুর বিআরটিএতে দালালবিরোধী অভিযান, তিনজনের ৩০ দিনের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত
বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে আসছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন-২০২৬’

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করতে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগতভাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।   বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।   প্রস্তাবিত আইনের আওতায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের (পিপিপিএ) কার্যক্রম আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন কর্তৃপক্ষকে দেশের কেন্দ্রীয় বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।   সরকারের মতে, নতুন আইনের মাধ্যমে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি, প্রণোদনা, শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা একীভূত ও সহজতর করা হবে। ফলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।   এছাড়া সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, অনুমোদন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার ডিজিটাল রূপান্তর, শিল্পায়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইনটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার।   সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নতুন আইন কার্যকর হলে বিনিয়োগ উন্নয়ন কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে নীতিগত অসামঞ্জস্য ও দায়িত্বের পুনরাবৃত্তি কমবে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সমন্বিত বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে উঠবে।   মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬–২০৩০)-এর খসড়া অনুমোদন এবং ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ রেখে আমদানি নীতি আদেশ (২০২৬–২০২৯)-এর খসড়া অনুমোদন।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় ইতিহাস গড়ল আনসার-ভিডিপি, প্রথমবার অংশগ্রহণ

ছবি: সংগৃহীত

ফেনীতে এনসিপির পদযাত্রায় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, কর্মসূচিতে উত্তেজনা

ছবি: সংগৃহীত

সাফারি পার্কে আহত ‘রাজা বাহাদুর’, চিকিৎসায় দেশীয় মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে থাই বিশেষজ্ঞ

ছবি: সংগৃহীত
বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দেখতে চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন জামায়াতের আমির

টানা বর্ষণ, বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে শুক্রবার (১০ জুলাই) সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।   দলীয় সূত্র জানায়, সফরকালে তিনি বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেবেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়েরও কথা রয়েছে।   জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান মুহাম্মদ শাহজাহান জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার ফ্লাইটে ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন। প্রথমে তিনি বাঁশখালী উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করবেন। এরপর চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতাপ্রবণ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখবেন। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে বিকেলে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।   গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় অসংখ্য মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।   এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি বহু পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সংসদ ভবনে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

সংসদে ‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ সহ দুটি বিল প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের

0 Comments