জাল নোট তৈরি, পরিবহন, বাজারজাত বা লেনদেনের পাশাপাশি জেনেশুনে নিজের কাছে জাল নোট রাখলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন আনছে সরকার। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি মোকাবিলায় অর্থ মন্ত্রণালয় ‘জাল মুদ্রা প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রণীত আট পৃষ্ঠার এই খসড়া ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জনমত জানতে খসড়াটি বিভাগের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।
খসড়া আইনে জাল নোট তৈরি, তৈরির চেষ্টা, বিশেষ কাগজ, কালি বা নিরাপত্তা উপকরণ সংগ্রহ, জাল নোট আমদানি-রপ্তানি, পরিবহন, বিক্রি ও বাজারজাত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেনেশুনে জাল নোট নিজের কাছে রাখা বা লেনদেনে ব্যবহার করলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বর্তমানে দণ্ডবিধিসহ বিভিন্ন আইনে জাল মুদ্রাসংক্রান্ত বিধান থাকলেও সেগুলো বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়। নতুন আইনের মাধ্যমে সব ধরনের অপরাধকে একক আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খসড়ায় জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত কম্পিউটার, প্রিন্টিং মেশিন, বিশেষ কাগজ, কালি ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ এবং আদালতের নির্দেশে সেগুলো ধ্বংস করার বিধানও রাখা হয়েছে। ফলে শুধু জাল নোট উদ্ধার নয়, উৎপাদন ব্যবস্থাও ভেঙে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, ‘মতামত গ্রহণ শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।’
প্রস্তাবিত আইনে প্রথমবারের মতো জাল মুদ্রার বিভিন্ন ধরন আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
এর ফলে সম্পূর্ণ নকল নোটের পাশাপাশি আসল নোট বিকৃত করে প্রতারণার ঘটনাও একই আইনের আওতায় আসবে।
খসড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোনীত কারেন্সি অফিসারকে সন্দেহজনক নোট পরীক্ষা করে সেটি জাল কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়ন দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আদালতে এই প্রত্যয়ন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রস্তাবিত আইনে অধিকাংশ অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ফলে পুলিশ সরাসরি মামলা গ্রহণ ও তদন্ত করতে পারবে এবং সহজে জামিন বা আপসের সুযোগ থাকবে না।
২০১৫ সালের পর থেকে দেশে জাল নোট তৈরির কৌশলে বড় পরিবর্তন এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক কম্পিউটার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রঙিন প্রিন্টার ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাল নোট তৈরির প্রবণতা বেড়েছে। ঈদসহ বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে জাল নোটের বিস্তার রোধে র্যাব, সিআইডি, ডিবি ও বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকও ব্যাংকগুলোতে নোট যাচাই যন্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা, গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যাচাই করে লেনদেনের পরামর্শ দিয়ে আসছে। চলতি বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সময়ে রাজধানীর টঙ্গী ও গুলিস্তানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
এই সংস্করণে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি বাদ দেওয়া হয়েছে, তথ্যগুলো উপশিরোনামে ভাগ করা হয়েছে এবং সংবাদটি ওয়েব পোর্টালের জন্য আরও পাঠযোগ্য করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বিশ্ববাজারে বুধবার (১৯ আগস্ট) প্রাথমিক লেনদেনে স্বর্ণের দাম সামান্য বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার সাম্প্রতিক উচ্চতা থেকে কিছুটা কমে আসায় এ দাম বাড়ার পেছনের কারণ। তবে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪২ দশমিক ৩৩ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছিল। অন্যদিকে, ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৯৬ দশমিক ৩০ ডলারে লেনদেন হয়। বাজার বিশ্লেষকদের নজর এখন ফেডের বৈঠকের কার্যবিবরণীর ওপর। সেখানে সুদের হার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ নীতির সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত মিলতে পারে। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার ও ট্রেজারি বন্ডের ফলন কমলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ বাড়ে। ফলে ফেডের পরবর্তী নীতি নিয়ে যে কোনো ইঙ্গিত মূল্যবান ধাতুটির বাজারে নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে।
স্পট মার্কেটের তুলনায় কম দামে ২ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনছে সরকার। ওমানভিত্তিক ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার দরে দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে বাজারদরের তুলনায় সরকারের প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) অনলাইনে অনুষ্ঠিত জরুরি সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৬ মাসে সরবরাহের জন্য জেকেএমভিত্তিক এলএনজির প্রযোজ্য মূল্য ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ১৬ দশমিক ৮০৮ মার্কিন ডলার। তবে ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির সঙ্গে দরকষাকষির মাধ্যমে দুই কার্গোর জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার মূল্য নির্ধারণ করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ১৭-১৮ আগস্ট এবং ২২-২৩ আগস্ট দুই কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির মূল প্রস্তাব ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ১৩ মার্কিন ডলার। তবে এলএনজির বাজারে অস্থিরতা, স্পট মার্কেটে তুলনামূলক বেশি দাম, অন্য উৎস থেকে কার্গো সংগ্রহে সময়ের স্বল্পতা এবং অর্থ সাশ্রয়ের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মূল্যায়ন কমিটি দরকষাকষি করে নতুন দাম নির্ধারণ করে। জ্বালানি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ১১ আগস্ট স্পট মার্কেটে জেকেএমভিত্তিক এলএনজির দাম ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ২১ দশমিক ২৮৯ মার্কিন ডলার। এই বাজারদরের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫০ ডলার দরে দুই কার্গো কেনায় সরকারের আনুমানিক ৩ কোটি ৭ দশমিক ৫ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, একই বৈঠকে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় আরও পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ২৩-২৪ আগস্টের জন্য একটি কার্গো এবং ৪-৫ সেপ্টেম্বরের জন্য আরেকটি কার্গো কিনতে বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেডকে সরবরাহকারী হিসেবে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। বিপি সিঙ্গাপুর থেকে ২৩-২৪ আগস্টের কার্গোটি প্রতি এমএমবিটিইউ ২১ দশমিক ৮৭৮ মার্কিন ডলার দরে কিনতে এআইটিসহ মোট ৯২৭ কোটি ৫০ লাখ ৬০ হাজার ৮৩৩ টাকা ৯২ পয়সা এবং ৪-৫ সেপ্টেম্বরের কার্গোটি প্রতি এমএমবিটিইউ ২১ দশমিক ৭৭৮ মার্কিন ডলার দরে কিনতে এআইটিসহ ৯২৩ কোটি ২৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬৯ টাকা ৯২ পয়সা ব্যয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহের মাধ্যমে এসব এলএনজি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে সরাসরি ক্রয়ের জন্য দরকষাকষির সুযোগও রয়েছে। সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট ক্রয়বিধির বিধান অনুসরণ করে এ ধরনের ক্রয়প্রক্রিয়ায় নেগোসিয়েশনের সুযোগ রয়েছে।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের দামে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি জোরদার করায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে আন্তঃব্যাংকে এর দাম কমেছে ১ টাকা ৪ পয়সা। ৬ আগস্ট আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলারের গড় দাম ছিল গড়ে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা। রোববার পর্যন্ত তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৭৮ পয়সায়। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এলসি খোলার ক্ষেত্রেও এর দাম কিছুটা কমেছে। ৬ আগস্ট এলসিতে গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৯৭ পয়সা। রোববার তা কমে গড় দাম দাঁড়ায় ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সায়। এলসিতে ডলারের দাম কমেছে গড়ে ৩২ পয়সা। সূত্র জানায়, সাম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংক ডলারের দামে বেশ কারসাজি করে। তারা পরিকল্পিতভাবে এর দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘটনাটি জানতে পেরে কয়েকটি ব্যাংকে বিশেষ তদন্ত করে। এতে ডলার নিয়ে কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ব্যাংকগুলো বিষয়টি অবহিত হয়ে তারা পর্যায়ক্রমে এর দাম কমাতে শুরু করে। ৬ আগস্টের পর থেকে রোববার পর্যন্ত আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম কমেছে ১ টাকা ৪ পয়সা। এদিন আন্তঃব্যাংকে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ১২৩ টাকা ৫ পয়সা ছিল। সর্বনিম্ন দাম ছিল ১২২ টাকা ৬৩ পয়সা। গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৭৮ পয়সা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা কমেনি বরং আরও বেড়েছে। চাহিদা বাড়ার পর যেখানে ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, সেখানে এর দাম কমছে। ৯ আগস্ট ব্যাংকগুলোতে ডলার সোয়াপ (স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি ঋণ) হয়েছিল ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত সোমবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলারে। মঙ্গলবার তা কমে দাঁড়ায় ৫ কোটি ১৩ লাখ ডলার ও বুধবার ৫ কোটি ডলার সোয়াপ হয়। ব্যাংকগুলোতে আমদানির এলসি খোলার প্রবণতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের মাত্রাও বেশি। রেমিট্যান্স কেনার ডলারের দামও কমেছে। আগস্টের প্রথম দিকে রেমিট্যান্সের ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সায় ওঠেছিল। এখন তা কমে ১২৩ টাকা ৮৫ পয়সায় নেমে এসেছে। তবে কিছু দুর্বল ব্যাংকে এখনো ডলার সংকট আছে। তারা বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কিনছে।