সারাদেশ

বরিশাল–রংপুরে কাজে ধীরগতি, খুলনায় বাতিল প্রকল্প

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞানশিক্ষা, মহাকাশবিষয়ক জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষামূলক পর্যটনের প্রসার ঘটাতে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে নভোথিয়েটার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। শত শত কোটি টাকার এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক জায়গায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বরিশাল ও রংপুরে নভোথিয়েটার প্রকল্পের ব্যয় ও সময়সীমা দুই দফা বাড়ানোর পরও কাজ শেষ হয়নি। অন্যদিকে এক যুগের বেশি সময় ধরে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে খুলনার প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে গেছে।

 

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বরিশাল ও রংপুরে দুটি প্রকল্পের অবকাঠামোর প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে গণপূর্ত বিভাগের একটি সূত্র বলছে, বাস্তবে অবকাঠামো দৃশ্যমান হলেও মূল প্রযুক্তিগত অংশ এখনো অসম্পূর্ণ। বিশেষ করে ডোম, টেলিস্কোপ, ডিজিটাল প্রজেকশন ও অন্যান্য ইলেকট্রোমেকানিক্যাল সরঞ্জামের স্থাপন এখনো হয়নি। এসব যন্ত্র বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

 

নভোথিয়েটারগুলো চালু হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মহাকাশবিজ্ঞান চর্চার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদেরা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. খোরশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, এখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও টেলিস্কোপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মহাকাশ সম্পর্কে জানতে পারবে। এতে তাদের বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা ও আগ্রহ বাড়বে।

 

অবকাঠামো শেষ, অপেক্ষা সরঞ্জামের

গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, বরিশাল’ নামে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নাম পরিবর্তন করে ‘বরিশাল নভোথিয়েটার’ করা হয়। প্রথমে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষের কথা ছিল। পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর করা হয়। এরপরও কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কন্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড।

 

নগরের দক্ষিণে কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব পাশে চর আইচা এলাকায় ১০ একর জমিতে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। শুরুতে ব্যয় ধরা হয় ৪১২ কোটি টাকা। ইলেকট্রোমেকানিক্যাল সরঞ্জামের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরে ব্যয় বাড়িয়ে ৪৬০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চারটি প্রধান অংশে বিভক্ত নভোথিয়েটারে প্ল্যানেটারিয়াম, কার্যালয় ভবন, প্লাজা, ডরমিটরি ও দুটি বৃহৎ ডোমসহ মোট ২৬টি অবকাঠামো থাকছে। দর্শনার্থীদের জন্য ১৭৫টি গাড়ি পার্কিং সুবিধা, ৩০৪ আসনের গ্যালারি ও ১৭৫ আসনের আধুনিক অডিটোরিয়ামের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য ছয়টি শিশুপার্ক, ভাস্কর্য ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক রাইড থাকছে।

 

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৈদ্যুতিক কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। শিগগির বিদ্যুৎ-সংযোগ দিয়ে কমিশনিং করা হবে। তবে ডোম, টেলিস্কোপ, ডিজিটাল প্রজেকশন ও অন্যান্য ইলেকট্রোমেকানিক্যাল সরঞ্জাম এখনো স্থাপন করা হয়নি। এগুলো বিদেশ থেকে আমদানির পর বসানো হবে।

 

গত ৩০ এপ্রিল দেখা যায়, শ্রমিকেরা ওঠার সিঁড়িতে টাইলস স্থাপন করছেন। কেউ মেঝেতে ঢালাই দিচ্ছেন। আবার একদল শ্রমিক তৈরি করছেন স্টিলের অবকাঠামো। তবে অবকাঠামোর সাজসজ্জার অনেক কাজ এখনো বাকি। সেখানে কর্মরত শ্রমিকেরা জানালেন, তাঁরা অনেক শ্রমিক এখানে কাজ করছেন। তবে এখনো যে কাজ বাকি, তাতে নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে কি না, সন্দেহ আছে।

 

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম প্রথম আলোকে বলেন, এটি দেশের আইকনিক একটি প্রকল্প। প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করেছেন, প্রকল্পের নির্ধারিত সময়—চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে। কাজে বিলম্বের বিষয়ে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে শুরু থেকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। কীর্তনখোলার তীরবর্তী ঢালু জমিতে কাজ হওয়ায় বেজমেন্ট তৈরিতেই প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে। বর্ষাকালে কাজ ব্যাহত হওয়ায় ব্যয় ও সময় বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২০০ শ্রমিক কাজ করছেন এবং কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।

 

অবকাঠামো নির্মাণ ৮০ শতাংশ শেষ

রংপুর নগর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে দেবীপুরে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের পাশে ১০ একর জমিতে নভোথিয়েটার নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস জামাল অ্যান্ড কোম্পানি। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর কয়েক মাস প্রকল্পটির কাজ বন্ধ ছিল। এ ছাড়া জমি উন্নয়নকাজেও দেরি হয়। ইতিমধ্যে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

 

২০২১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদন পায় রংপুর নভোথিয়েটার প্রকল্প। প্রায় ৪১৮ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম ও দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৪৪৫ কোটি টাকা। এরপরও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের শতভাগ বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় আছে।

 

সম্প্রতি দেখা যায়, নভোথিয়েটারের প্ল্যানেটেরিয়াম ভবন, কার্যালয় ও ডরমিটরির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। টাইলস মার্বেলের কাজ চলমান। অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতের কাজও চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, অবকাঠামো নির্মাণের তেমন কোনো কাজ বাকি নেই। টাইলসের কিছু কাজ বাকি। আগামী আগস্টের মধ্যে নির্মাণাধীন অবকাঠামো হস্তান্তর করা হতে পারে।

 

নভোথিয়েটার রংপুর স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবদুল হালিম প্রথম আলোকে বলেন, অবকাঠামোগত কাজ ৮০ শতাংশ হয়েছে। ইমারসিভ সিমুলেশন থিয়েটার চলে এসেছে। সায়েন্টিফিক এক্সিবিট, ডিজিটাল এক্সিবিট, প্লানেটেরিয়ামসহ অন্য সরঞ্জামের দরপত্র হয়েছে। সেগুলোও চলতি বছরের মধ্যে চলে আসবে। আগামী ডিসেম্বরে মেয়াদ থাকার সময়ের মধ্যে তাঁরা কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন।

এক যুগ পর প্রকল্প বাতিল

এক যুগের বেশি সময় ধরে আলোচনা, স্থান নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা, একনেকে অনুমোদন, জমি হস্তান্তর ও দরপত্র প্রস্তুতির পরও শেষ পর্যন্ত খুলনার নভোথিয়েটার নির্মাণ প্রকল্পটি বাতিল হয়ে গেছে। খুলনা নগরের জোড়াগেট সিঅ্যান্ডবি কলোনি এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণ করা হলেও খেলার মাঠ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের আপত্তির মুখে মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাতিল করে দেয়।

 

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় নভোথিয়েটার নির্মাণের জন্য ৫ একর জমি নির্ধারণে ২০১২ সালে প্রথম খুলনা সিটি করপোরেশনকে (কেসিসি) চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়। পরে ২০১৩ সালের ১১ জুন নগরের মোংলা পোর্ট স্কুল-সংলগ্ন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে শিল্পব্যাংকের পেছনের জমি এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ডে আহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতির জমির মধ্যে যেকোনো একটি স্থানে নভোথিয়েটার নির্মাণের প্রস্তাব দেয় কেসিসি। কিন্তু এসব জমি পাওয়া কঠিন হওয়ায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প স্থান খোঁজার পরামর্শ দেয় মন্ত্রণালয়। পরে নগরের মুজগুন্নি এলাকায় পর্যটন করপোরেশনের জমির প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেটি পাওয়া যায়নি।

 

সূত্রটি জানায়, নগরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় কৃষ্ণনগর মৌজার ১০ একর জমি পছন্দ হলেও অধিগ্রহণ ব্যয় বেশি হওয়ায় বাদ পড়ে যায়। সর্বশেষ ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নগরের জোড়াগেট সিঅ্যান্ডবি কলোনি এলাকায় ১০ একর জমিতে নভোথিয়েটার নির্মাণের প্রকল্প একনেকে পাস হয়। ব্যয় ধরা হয় ৫৫৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সেই অনুযায়ী কাজও শুরু হয়। কিন্তু খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে ওই জমি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন আপত্তি তুলে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেয়। পরে প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়।

 

গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, সিঅ্যান্ডবি কলোনিকে ঘিরে একটি মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পুরোনো ভবন ভেঙে আধুনিক আবাসন, পার্ক ও নতুন খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। সেই মোতাবেক কাজও চলছিল। অনেকেই সেটিকে নভোথিয়েটার প্রকল্পের অংশ মনে করে বিরোধিতা করেন। তবে নভোথিয়েটারের সঙ্গে এসব কার্যক্রমের সম্পর্ক ছিল না বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

 

গণপূর্ত বিভাগের খুলনা-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল সিঅ্যান্ডবি কলোনির ৮ দশমিক ৩৫১ একর জমি নভোথিয়েটার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাতিল করে দেয়। ওই জায়গায় ভবিষ্যতে কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত সরকার নেবে।


বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই খুলনা উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। নগরের সিঅ্যান্ডবি কলোনিতে নভোথিয়েটারটি নির্মাণের কথা ছিল। নাম ও স্থান পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তারপরও স্থানীয় আপত্তির অজুহাতে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিকল্প স্থানেও এটি বাস্তবায়ন করা যেত।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামী গ্রেফতার

গাজীপুরের পূবাইলে স্ত্রী হত্যা মামলার আসামি মেহেদী হাসান মারুফ নামে এক যুবককে কুষ্টিয়া থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   গ্রেফতার মেহেদী হাসান মারুফ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পূবাইল থানার ৪১ নং ওয়ার্ডের খিলগাঁও এলাকার সাদেক মিয়ার ছেলে। আর নিহত আফসানা আক্তার স্নিগ্ধা (২১) সিটি করপোরেশনের একই ওয়ার্ডের সাতানীপাড়া এলাকার মো. আফসার মিয়ার মেয়ে।   এর আগে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪২ নং ওয়ার্ডের পূবাইল থানার তালটিয়া মধ্যপাড়ায় ভাড়া বাসা থেকে আফসানা আক্তার স্নিগ্ধা নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে প্রবাসে থাকা অবস্থায় মেহেদী হাসান মারুফের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বিয়ে হয় স্নিগ্ধার। পরে দেশে ফিরে কাজির মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন মারুফ। তবে তার পরিবারের সদস্যরা স্নিগ্ধাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে না নেওয়ায় তারা আলাদা বাসায় বসবাস করছিলেন। এ সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও পরিবারের সদস্যদের কাছে জানিয়েছিলেন স্নিগ্ধা।    নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ১০টার মধ্যে যেকোনো সময় বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে স্নিগ্ধাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর বাসা থেকে পালিয়ে যান মারুফ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আফসার মিয়া বাদী হয়ে জিএমপির পূবাইল থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া সদর এলাকা থেকে মারুফকে গ্রেফতার করেন।    শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রিসোর্টে আগুনের পর নিখোঁজ নাহিদসহ পরিবারের চারজন

ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরায় গণপিটুনিতে হত্যা মামলা, প্রধান আসামি আমিনী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

উখিয়ায় রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, নারী-শিশুসহ ১০ পর্যটক নিহত

ছবি: সংগৃহীত
পিস্তল হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

এক হাতে হ্যান্ড মাইকের মাউথপিস, আরেক হাতে পিস্তল নিয়ে গাড়ি থেকে নেমেই একদল লোককে তাড়া শুরু করলেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।   পিস্তলের স্লাইড টেনে সেটিকে গুলি করার জন্য প্রস্তুত করে লোকগুলোর দিকে তাক করে “অ্যাই দাঁড়া, দাঁড়া” বলে চিৎকার করতে দেখা যায় তাকে।   শনিবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক পেইজে এরকম একটা ভিডিও আপলোড করা হয়।   ভিডিওর ক্যাপশন লেখা, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’।   ঘটনাটি গেণ্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় শনিবার ঘটেছে বলে ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়েছে।   ভিডিওতে ইশরাক ছাড়াও সাদা পোশাকের আরও একজনকে অস্ত্র হাতে কিছু লোককে তাড়া করতে দেখা যায়।   গেণ্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, "উনারা ৬ জনকে ধরে মাদকসেবী বলে জানালে আমরা গিয়ে নিয়ে আসি। তাদের কাছে কিছু পাউডার পাওয়া গেছে, সেগুলো কী, তা পরীক্ষায় জানা যাবে।”   তারা এ ধরনের 'অভিযান' চালানোর সময় পুলিশকে জানিয়েছিল কিনা জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি ওসি।   ঘটনার বিষয়ে পুলিশের ওয়ারি বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা বলেন, “আমরা যতটুকু জেনেছি, ছয়-সাতজনকে ধরে তিনি থানায় দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় (অভিযানের বিষয়ে) পুলিশকে আগে থেকে জানাননি, আমরা পরে বিষয়টি জেনেছি।”   পিস্তল হাতে একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর এরকম অভিযানের ঘটনায় নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।   ইশরাকের ভিডিওর নিচে সাখাওয়াত হোসেন খান নামের একটি আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, “এভাবে ওপেন কেউ পিস্তল ব্যবহার করতে পারে!”   তার মন্তব্যের নিচে ৪৫টি মন্তব্য পড়েছে। বেশির ভাগ উত্তরে বলা হয়েছে, পিস্তলের লাইসেন্স থাকলে এভাবে ব্যবহার করতে পারে।   মো. হোসেইন আক্তার তানজিন নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “গরীবের ফাটাকেষ্ট”।   মো. মাসুম নামে একজন লিখেছেন, “প্রথমে ভাবছিলাম কোনো ছবির শ্যুটিংয়ের দৃশ্য,পরে দেখি বাস্তব ঘটনা।”   মোহাম্মদ হোসেইন লিখেছেন, “দেশে পুলিশের অভাব পড়ছে?”   সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ইশরাকের ভিডিওতে পাঁচ হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন।   সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক পেইজে আরেকটি পোস্টে আসে। সেখানে বলা হয়, “ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।   তিনি বলেছেন, মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তাঁর শাস্তি আরও বড় হবে।”   পোস্টে আরও বলা হয়, এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন ইশরাক হোসেন। আসনটিকে মাদকমুক্ত করতে এ অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘সামাজিক প্রতিরোধে’ সতর্ক করতেই অস্ত্র দেখিয়েছি: ইশরাক

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাজারে আগুন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৮ জন প্রবীণ ও দক্ষ মৃৎশিল্পীকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে বিশেষ সম্মাননা পেলেন ১৮ মৃৎশিল্পী

ছবি: সংগৃহীত
শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজের গতিবিধি দেখবেন যাত্রীরা, বসছে ৩২ ক্যামেরা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, লাগেজের নিরাপত্তা জোরদার এবং লাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এই ব্যবস্থার আওতায় বিমানবন্দরের ৮টি লাগেজ বেল্ট এলাকায় ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ৬৫ ইঞ্চি আকারের ১৮টি মনিটর স্থাপন করা হয়েছে।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।   নতুন এই উদ্যোগের ফলে বিমানবন্দরে নামার পর যাত্রীরা লাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো, নির্ধারিত স্থানে পরিবহন, বাছাই করা এবং শেষ পর্যন্ত লাগেজ বেল্টে পৌঁছানো—পুরো প্রক্রিয়ার দৃশ্য বসানো মনিটরগুলোতে সরাসরি (লাইভ) দেখতে পাবেন যাত্রীরা।   এর মাধ্যমে যাত্রীরা তাদের লাগেজ পরিবহনের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাবেন এবং লাগেজ সংগ্রহের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকতে পারবেন। এই প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগের ফলে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় সার্বিক স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।   বেবিচকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষা, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মীসহ দেশি-বিদেশি সব যাত্রী যেন ভ্রমণ শেষে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই নির্বিঘ্নে ও নিশ্চিন্তে তাদের লাগেজ সংগ্রহ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে প্রযুক্তি নির্ভর ও যাত্রীবান্ধব সেবার সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখা হয়েছে।   দেশের প্রধান এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার সার্বিক মান আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে বেবিচকের এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সনদবিহীন অপারেটরের মাধ্যমে পরীক্ষা: পপুলার ডায়াগনস্টিকের সঙ্গে ফাইব্রোস্ক্যান সেবা বন্ধ করল কেএনএস কানাডা

ইনানীর রিসোর্টে আগুনে মৃত্যুর ঘটনায় ম্যানেজার আটক

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে

0 Comments