বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক স্কুলে গুলি, বন্দুকধারীসহ নিহত ৫

মারিয়া রহমান মে ১৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর ক্লেইরমন্ট এলাকায় একটি ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদে বন্দুকধারী দুই কিশোরের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছে। পরে তারা নিজেরাও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সন্দেহভাজন বন্দুকধারীদের একজনের বয়স ১৭ বছর, অন্যজনের ১৯ বছর। 

ইসলামিক সেন্টারটি ক্লেইরমন্ট এলাকায় অবস্থিত। সেখানে সান দিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদটির অবস্থান। পাশাপাশি সেখানে শিশুদের ইসলামী বিদ্যালয়ও রয়েছে। সেখানে যখন এই হামলার ঘটনা ঘটে, তখন মসজিদের ভেতর শিশুরা ক্লাসে ছিল। এই ইসলামিক সেন্টার ক্যাম্পাসের ভেতরেই ‘আল রশিদ স্কুল’ নামে একটি রয়েছে। 

ঘটনার পর ওপর থেকে ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, তখন শিশুরা একে অপরের হাত ধরে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে আশেপাশের অন্যান্য স্কুলগুলোও তাৎক্ষণিকভাবে লকডাউন করা হয়েছিল। হামলাটিকে একটি ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  

পুলিশ জানায়, বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া এক আত্মঘাতী কিশোরের সন্ধানে তদন্তের সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো মসজিদে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছায়। তারা ভবনের সামনে গুলিবিদ্ধ তিনজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। এর পরপরই পুলিশ খবর পায় যে, কাছেই একটি গাড়ি থেকে একজন মালিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। পরে মসজিদ থেকে কিছু দূরে একটি গাড়ির ভেতর থেকে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে। 

নিহতদের মধ্যে মসজিদের একজন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। তিনি হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তার সাহসী পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ব্যাপারে সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‌‘তার এই পদক্ষেপ বীরত্বপূর্ণ। নিঃসন্দেহে তিনি আজ অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ এখনও নিহত তিনজনের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। 

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) ঘটনাটির তদন্ত করছে। এ বিষয়ে সারারণ নাগরিকদের কাছে তথ্যও চেয়েছে। 

সিবিএস-এর বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফবিআই ঘটনাটিকে বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে এই কারণে যে, এক সন্দেহভাজনের মায়ের পাওয়া কিছু লেখা থেকে এই ইঙ্গিত মিলেছে। হামলার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে এক সন্দেহভাজন কিশোরের মা পুলিশকে ফোন করে জানান যে, তার ছেলে বেশ কয়েকটি বন্দুক ও তার গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। তার ছেলের সঙ্গে আরেকজন রয়েছে। তারা দুজনই সামরিক ছদ্মবেশী পোশাকে ছিল। 

স্কট ওয়াহল জানান, ওই তরুণের আচরণ কেবল ‘আত্মঘাতী’ মানুষের মতো ছিল না, বরং তা অন্য কিছুর ইঙ্গিত দেয়। তরুণটি বাড়িতে একটি চিরকুট রেখে যায়, যাতে ‘সাধারণ বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও উগ্র কথাবার্তা’ লেখা ছিল। তবে চিরকুটটিতে ওই নির্দিষ্ট মসজিদ, অন্য কোনো স্থান বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির উল্লেখ ছিল না। তদন্তকারীরা খবর পেয়ে এরই মধ্যে একটি স্থানীয় হাই স্কুলে যান, যেখানে দুই কিশোরের একজন শিক্ষার্থী ছিল। এছাড়া পুলিশ একটি শপিং মলেও তল্লাশি চালায়, যেখানে ওই গাড়িটির অবস্থান ট্র্যাক করা হয়েছিল।

পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল জানিয়েছেন, হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ হওয়ায় এটিকে একটি বিদ্বেষমূলক অপরাধ বলে ধারণা করা হচ্ছে। যখন গুলির ঘটনা ঘটে, তখন পুলিশ কর্মকর্তারা সন্দেহভাজনের মায়ের সাথে কথা বলছিলেন এবং তারা মসজিদ থেকে কিছু দূরে ছিলেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি একটি ‘সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র’ থেকে প্রায় ৩০ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ৯১১-এ কল করেন এবং ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ছুটির দিনগুলোতে এই মসজিদে প্রচুর ভিড় হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভালো যে, ঘটনাটি শুক্রবার ঘটেনি। কারণ সেদিন রাস্তায় মানুষের উপচেপড়া ভিড় থাকে।’ 

ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোর পরিচালক ইমাম ত্বহা হাসান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কোনো উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত জঘন্য ও আপত্তিকর। এই স্থাপনাটি একটি উপাসনালয়, কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়। 

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি এই সহিংস হামলায় ‘স্তম্ভিত ও আতঙ্কিত’। এটি এমন একটি জায়গা ‘যেখানে পরিবার ও শিশুরা একত্রিত হয়। প্রতিবেশীরা শান্তিতে ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উপাসনা করে। ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা ভীতি প্রদর্শন ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সহ্য করবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে একটি ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রাথমিক কিছু তথ্য পেয়েছি। আমরা এই বিষয়টি খুব জোরালোভাবে খতিয়ে দেখব।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
জার্মানির মার্কিন ঘাঁটি থেকে ইসরায়েলে ব্যাপক অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগ

জার্মানিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে গত ২৪ ঘণ্টায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩ সোমবার জানায়, ইসরায়েল থেকে জার্মানিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আসা কয়েক ডজন কার্গো বিমান সেখানে পুনরায় গোলাবারুদ বোঝাই করে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ইসরায়েলে ফিরে যায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের ওপর হামলা পুনরায় শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসরায়েলি প্রশাসনের ভেতরে এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব শিগগিরই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার অনুমোদন দিতে পারেন। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬ হাজার ৫০০ টন গোলাবারুদ ও হালকা সাঁজোয়া যানবাহী দুটি জাহাজ এবং কয়েকটি বিমান ইসরায়েলে পৌঁছেছে। এ সপ্তাহে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলাকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নিবিড় প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

মারিয়া রহমান মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় চিন্তায় ইসরায়েলের সেনাবাহিনী

ছবি: সংগৃহীত

তিন কারণে ইতালিজুড়ে ধর্মঘট

জাতিসংঘের লোগো ও ইসরায়েলের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় সহিংসতা বন্ধে ইসরায়েলকে আহ্বান জাতিসংঘের

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক স্কুলে গুলি, বন্দুকধারীসহ নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর ক্লেইরমন্ট এলাকায় একটি ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদে বন্দুকধারী দুই কিশোরের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছে। পরে তারা নিজেরাও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সন্দেহভাজন বন্দুকধারীদের একজনের বয়স ১৭ বছর, অন্যজনের ১৯ বছর।  ইসলামিক সেন্টারটি ক্লেইরমন্ট এলাকায় অবস্থিত। সেখানে সান দিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদটির অবস্থান। পাশাপাশি সেখানে শিশুদের ইসলামী বিদ্যালয়ও রয়েছে। সেখানে যখন এই হামলার ঘটনা ঘটে, তখন মসজিদের ভেতর শিশুরা ক্লাসে ছিল। এই ইসলামিক সেন্টার ক্যাম্পাসের ভেতরেই ‘আল রশিদ স্কুল’ নামে একটি রয়েছে।  ঘটনার পর ওপর থেকে ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, তখন শিশুরা একে অপরের হাত ধরে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে আশেপাশের অন্যান্য স্কুলগুলোও তাৎক্ষণিকভাবে লকডাউন করা হয়েছিল। হামলাটিকে একটি ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশ জানায়, বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া এক আত্মঘাতী কিশোরের সন্ধানে তদন্তের সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো মসজিদে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছায়। তারা ভবনের সামনে গুলিবিদ্ধ তিনজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। এর পরপরই পুলিশ খবর পায় যে, কাছেই একটি গাড়ি থেকে একজন মালিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। পরে মসজিদ থেকে কিছু দূরে একটি গাড়ির ভেতর থেকে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে।  নিহতদের মধ্যে মসজিদের একজন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। তিনি হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তার সাহসী পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ব্যাপারে সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‌‘তার এই পদক্ষেপ বীরত্বপূর্ণ। নিঃসন্দেহে তিনি আজ অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এখনও নিহত তিনজনের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।  যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) ঘটনাটির তদন্ত করছে। এ বিষয়ে সারারণ নাগরিকদের কাছে তথ্যও চেয়েছে।  সিবিএস-এর বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফবিআই ঘটনাটিকে বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে এই কারণে যে, এক সন্দেহভাজনের মায়ের পাওয়া কিছু লেখা থেকে এই ইঙ্গিত মিলেছে। হামলার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে এক সন্দেহভাজন কিশোরের মা পুলিশকে ফোন করে জানান যে, তার ছেলে বেশ কয়েকটি বন্দুক ও তার গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। তার ছেলের সঙ্গে আরেকজন রয়েছে। তারা দুজনই সামরিক ছদ্মবেশী পোশাকে ছিল।  স্কট ওয়াহল জানান, ওই তরুণের আচরণ কেবল ‘আত্মঘাতী’ মানুষের মতো ছিল না, বরং তা অন্য কিছুর ইঙ্গিত দেয়। তরুণটি বাড়িতে একটি চিরকুট রেখে যায়, যাতে ‘সাধারণ বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও উগ্র কথাবার্তা’ লেখা ছিল। তবে চিরকুটটিতে ওই নির্দিষ্ট মসজিদ, অন্য কোনো স্থান বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির উল্লেখ ছিল না। তদন্তকারীরা খবর পেয়ে এরই মধ্যে একটি স্থানীয় হাই স্কুলে যান, যেখানে দুই কিশোরের একজন শিক্ষার্থী ছিল। এছাড়া পুলিশ একটি শপিং মলেও তল্লাশি চালায়, যেখানে ওই গাড়িটির অবস্থান ট্র্যাক করা হয়েছিল। পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল জানিয়েছেন, হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ হওয়ায় এটিকে একটি বিদ্বেষমূলক অপরাধ বলে ধারণা করা হচ্ছে। যখন গুলির ঘটনা ঘটে, তখন পুলিশ কর্মকর্তারা সন্দেহভাজনের মায়ের সাথে কথা বলছিলেন এবং তারা মসজিদ থেকে কিছু দূরে ছিলেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি একটি ‘সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র’ থেকে প্রায় ৩০ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ৯১১-এ কল করেন এবং ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ছুটির দিনগুলোতে এই মসজিদে প্রচুর ভিড় হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভালো যে, ঘটনাটি শুক্রবার ঘটেনি। কারণ সেদিন রাস্তায় মানুষের উপচেপড়া ভিড় থাকে।’  ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোর পরিচালক ইমাম ত্বহা হাসান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কোনো উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত জঘন্য ও আপত্তিকর। এই স্থাপনাটি একটি উপাসনালয়, কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়।  ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি এই সহিংস হামলায় ‘স্তম্ভিত ও আতঙ্কিত’। এটি এমন একটি জায়গা ‘যেখানে পরিবার ও শিশুরা একত্রিত হয়। প্রতিবেশীরা শান্তিতে ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উপাসনা করে। ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা ভীতি প্রদর্শন ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সহ্য করবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে একটি ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রাথমিক কিছু তথ্য পেয়েছি। আমরা এই বিষয়টি খুব জোরালোভাবে খতিয়ে দেখব।’

মারিয়া রহমান মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে

পশ্চিমবঙ্গে ধর্মভিত্তিক সহায়তা বন্ধ: ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতের ভাতা বাতিল

ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত প্রতিরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ কিমের

ছবি: সংগৃহীত
চীনা পণ্যবাহী জাহাজে রুশ ড্রোন আঘাত করেছে : ইউক্রেন

কৃষ্ণসাগরে গত রাতে  রাশিয়ার ড্রোন চীনের একটি পণ্যবাহী জাহাজে আঘাত হেনেছে। সোমবার ইউক্রেন এ তথ্য জানিয়েছে।  রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেইজিং সফরে যাওয়ার একদিন আগে এ ঘটনা ঘটল। সফরকালে পুতিন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর ওদেসার কাছে বেসামরিক জাহাজে কিয়েভ নিয়মিতই রুশ হামলার অভিযোগ জানিয়ে আসছে। কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। তবে এবারের হামলা এমন এক সময়ে হলো, যখন দুই দিনের সফরে পুতিন বেইজিং যাচ্ছেন। সফরে তিনি ও সি চিনপিং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ দু’টির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে আলোচনা করবেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘ড্রোন ওদেসায় আঘাত হেনেছে। ড্রোনগুলোর একটি চীনের মালিকানাধীন একটি জাহাজে আঘাত করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সমুদ্রে কোন জাহাজ ছিল, সে বিষয়ে রাশিয়ার অজ্ঞাত থাকার সুযোগ নেই।’ ইউক্রেনের নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র এএফপিকে জানান, জাহাজটির সব নাবিকই চীনের নাগরিক। তবে কেউ আহত হননি। হামলার পরও জাহাজটি যাত্রা অব্যাহত রাখে। নৌবাহিনীর মুখপাত্র দিমিত্রো প্লেতেনচুক বলেন, ‘জাহাজটি পণ্য ওঠানোর জন্য বন্দরে প্রবেশ করছিল। রাতে শাহেদ ড্রোনের আঘাতের পর নাবিকরা নিজেরাই পরিস্থিতি সামাল দেন। সৌভাগ্যবশত কেউ আহত হননি। জাহাজটি পরে নির্ধারিত বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখে।’ ইউক্রেনের নৌবাহিনী জাহাজটির নাম জানিয়েছে ‘কেএসএল দেইয়াং।’ তারা একটি ছবিও প্রকাশ করেছে। সেখানে জাহাজটির উপরের ডেকের একটি অংশে আগুনে পোড়া চিহ্ন দেখা যায়। জেলেনস্কি বলেন, রাতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে ৫২৪টি হামলাকারী ড্রোন ও ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল। চীন নিয়মিতই উভয় পক্ষের প্রতি যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর জন্য তারা কখনও রাশিয়ার নিন্দা করেনি।  নিজেদেরকে এই যুদ্ধে নিরপেক্ষ হিসেবেই উপস্থাপন করে আসছে বেইজিং। ২০২২ সালে তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির একটি চুক্তি হয়েছিল। তবে প্রায় এক বছর পর ক্রেমলিন সেই চুক্তি বাতিল করে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছেছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত

ছবি: সংগৃহীত

অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে অভিন্ন অবস্থান খুঁজতে প্যারিসে জি-৭ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশীয় অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি: ১৬টি লাশ উদ্ধারের পর অনুসন্ধান শেষ মালয়েশিয়ার

0 Comments