আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা: জিম্মি সংকট মূল কারণ

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজছেন। আপাতদৃষ্টিতে দুই পক্ষ বিষয়গুলো নিয়ে সাধারণ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বাস্তবে, ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি মানসিকতা নিয়ে আলোচনার টেবিলে রয়েছে। 

 

যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনাকে দেখছে ক্ষমতার চোখ দিয়ে, আর ইরান দেখছে নিয়ন্ত্রণে রাখার মানসিকতা থেকে। ওয়াশিংটন চায় অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানকে নতিস্বীকার করাতে। অপরদিকে, ইরানের লক্ষ্য হলো মূল্যবান কিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তা ফেরত না দেওয়ার মাধ্যমে উল্টো যুক্তরাষ্ট্রকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে।

বাস্তবতা হলো–জিম্মি সংকট ক্ষমতার ভারসাম্যকে ভেঙে দেয়। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের কূটনীতিক হিসেবেও টেবিলে ইরানের এই কৌশলের কাছে মার্কিন কর্মকর্তাদের অসহায় থাকতে হয়েছে। কারণ, তেহরান এমন কিছু নিজেদের দখলে রেখেছে, যা ওয়াশিংটন ফেরত চায়। নির্দিষ্ট মূল্য পরিশোধ করে জিম্মি উদ্ধার ছাড়া ওয়াশিংটনের আর কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে সময় সর্বদা ইরানের পক্ষে কাজ করে, কারণ তারা তাড়াহুড়ো না করে চাপ বাড়ার জন্য অপেক্ষা করে। 

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এভিন কারাগার থেকে পাঁচ মার্কিন নাগরিকের মুক্তির বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা ইরানের ৬০০ কোটি ডলার কাতারে স্থানান্তর করতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর ওয়াশিংটন আবারও সেই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দেয়, যা আজও বহাল।

 

একই কৌশলের বড় প্রয়োগ, জিম্মি বিশ্ব অর্থনীতি 
বর্তমানে ইরান একই কৌশল আরও বড় পরিসরে প্রয়োগ করেছে। এবার তাদের জিম্মি কোনো মার্কিন নাগরিক নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ধমনি ‘হরমুজ প্রণালি’। বিশ্ব খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং নিজস্ব কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এটি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। তেহরানের চোখে, হরমুজ প্রণালি এখন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান জিম্মি।

সম্প্রতি ইরানের সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই এক সাক্ষাৎকারে জানান, ওয়াশিংটন যতক্ষণ না তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ফেরত দেবে, ততক্ষণ এই প্রণালি বন্ধই থাকবে। এই অর্থের মধ্যে ২০২৩ সালের সেই ৬০০ কোটি ডলারও রয়েছে। অর্থাৎ, ইরানের কাছে বর্তমান আলোচনাটি আরেকটি জিম্মি চুক্তি, যেখানে এবার জিম্মি খোদ বিশ্ব অর্থনীতি এবং দাবির অঙ্ক চার গুণ বড়। 

 

মার্কিন চাপের সীমাবদ্ধতা 
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে তেল রপ্তানি বন্ধের মাধ্যমে তেহরানের ওপর প্রচণ্ড অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ফলে ইরান তীব্র মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতিতে পড়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। কিন্তু তেহরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব জনগণের এই অর্থনৈতিক কষ্টকে পরোয়া করে না।

সামরিকভাবে হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার মার্কিন চেষ্টাও মুখ থুবড়ে পড়েছে। ট্রাম্প যদি আবারও সামরিক পথ বেছে নেন, তবে ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। মহসেন রেজাইয়ের মতে, অবরোধ না তুললে তারা যুদ্ধকে ভারত মহাসাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং লোহিত সাগরে টেনে নিয়ে যাবে। অর্থাৎ, তারা আরও নতুন জিম্মি তৈরি করবে। 

 

ওয়াশিংটনের সামনে তিনটি পথ 
এই কারণে আলোচনা এখন পুরোপুরি স্থবির। ওয়াশিংটনের সামনে এখন তিনটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথম পথ হলো ধৈর্য ধরা। অর্থাৎ বিশ্ববাজারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ এবং তেলের দাম বাড়ার ধাক্কা সহ্য করে ইরানের অভ্যন্তরীণ ভাঙনের জন্য দীর্ঘকাল অপেক্ষা করা। দ্বিতীয় পথ নতিস্বীকার করা। অর্থাৎ ট্রাম্পের জন্য প্রচণ্ড অবমাননাকর হলেও, ইরানকে কোটি কোটি ডলার দিয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়া। আর তৃতীয় উপায় হলো আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেত্রে হিসাবটি আরও সোজা, মূল্যবান সম্পদটি দখলে রাখো এবং অপেক্ষা করো। যতক্ষণ না এই সমীকরণের পরিবর্তন ঘটবে, ততক্ষণ ইরান সহজে হাল ছাড়বে না। দুই পক্ষ ছাড় না দিলে আলোচনাও এ অচলাবস্থায় আটকে থাকবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
রাজস্থানে এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ বাস-ট্রেইলার সংঘর্ষ, আগুনে নিহত ৭

ভারতের রাজস্থানে দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে একটি স্লিপার বাস ও ট্রেইলারের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২২ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার গভীর রাতে দৌসা জেলার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ঋষিকেশ থেকে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরগামী বাসটি রাত প্রায় আড়াইটার দিকে একটি ট্রেইলারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের পরপরই বাস ও ট্রেইলার—উভয় যানবাহনেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছে দুটি যানবাহন এবং ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীরা সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন।   কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, দুর্ঘটনার সময় বাসের ওপরের তলায় থাকা কয়েকজন যাত্রী নিচে ছিটকে পড়েন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন অগ্নিদগ্ধ হয়ে এবং দুজন মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে প্রাণ হারান।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। খবর পেয়ে দমকল ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে। আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। তাদের দৌসা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বাসচালকের তন্দ্রা বা ঘুমিয়ে পড়া এবং অতিরিক্ত গতি—দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।   এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব করায় আগুনে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগে যায়।   স্থানীয়দের আরও দাবি, বাসের লাগেজ রাখার অংশে বিপুল পরিমাণ সিগারেটের প্যাকেট থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি নিহত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আলোচনায় অগ্রগতি না হলেও যুক্তরাষ্ট্র অনড় থাকবে: জেডি ভ্যান্স

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের আমন্ত্রণ পেয়েও খামেনির জানাজায় কেন যাচ্ছেন না মোদি?

ছবি: সংগৃহীত

ভারত-চীনের সহযোগিতায় এ শতাব্দীকে এশিয়ার শতাব্দী করতে চাই: চীনা কূটনীতিক

ছবি: সংগৃহীত
বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে ইসরায়েল

গাজায় গণহত্যা, লেবাননে আগ্রাসন এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই চরম কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ও বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া তীব্র ক্ষোভের মুখে নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করতে এবং স্বীকৃতি পেতে এখন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর দিকে ঝুঁকছে ইসরায়েল।   এই কৌশলের অংশ হিসেবে ইসরায়েলের সর্বশেষ নতুন মিত্র হয়ে উঠেছে বসনিয়ার সার্ব-নিয়ন্ত্রিত বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল রিপাবলিকা স্রেপস্কা। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মূলত ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐক্য নস্যাৎ করতেই ইসরায়েল এই ধরনের বিতর্কিত পদক্ষেপ নিচ্ছে।   সম্প্রতি বসনিয়ার ত্রিদলীয় প্রেসিডেন্সির সার্ব সদস্য জেলকা সভিজানোভিচ ইসরায়েলে সপ্তাহব্যাপী এক সফর শেষ করেছেন। সফরে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সাআরের মতো শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে এই বৈঠকটি তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় তুলেছে। বৈঠকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, সভিজানোভিচ বসনিয়ার প্রেসিডেন্সির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তার পাশে বসনিয়ার কোনও জাতীয় পতাকা ছিল না। এর পরিবর্তে নেতানিয়াহুর পাশে স্থান পেয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল রিপাবলিকা স্রেপস্কার পতাকা।   ইসরায়েলের অপর এক নতুন মিত্র সোমালিল্যান্ড-এর মতো স্রেপস্কাও একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। সভিজানোভিচের দল অ্যালায়েন্স অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ এই অঞ্চলটিকে বসনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছে, যা বসনিয়ার মোট ভূখণ্ডের প্রায় অর্ধেক। এই বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় বসনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলমেদিন কোনাকোভিচ কূটনৈতিক প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং বসনিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের অভিযোগে ইসরায়েলকে একটি প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছেন।   কিংস কলেজ লন্ডনের ওয়ার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ভুক ভুকসানোভিচ বলেন, রিপাবলিকা স্রেপস্কার নেতৃত্ব হিসাব কষে দেখেছে যে এই মুহূর্তে তাদের ইসরায়েলের মতো শক্তিশালী অংশীদার প্রয়োজন। তারা ইসরায়েল এবং তার লবিস্ট গ্রুপগুলোকে মার্কিন হোয়াইট হাউসে প্রবেশের পথ হিসেবে মনে করে।   ভুকসানোভিচ আরও বলেন, ইসরায়েল ইউরোপে এমন নতুন বন্ধু খুঁজছে যারা ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইউরোপের ঐক্যকে দুর্বল করতে পারে। গাজা, লেবানন ও ইরান ইস্যুতে বিশ্ববাসী ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ। তাই তারা বিশ্বকে দেখাতে চায় যে তারা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয়।   গত বছরের বড়দিনের সময় ইসরায়েল বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।   সূত্র: মিডল ইস্ট আই

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সমঝোতা লঙ্ঘন হলে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে জুতা কারখানা গড়বে ইতালি-আয়ারল্যান্ডের যৌথ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান

ছবি : সংগৃহীত

ইরানে বিপ্লবী গার্ডের দুই সেনা গুলিতে নিহত

ছবি : সংগৃহীত
আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই ইরানের

আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে বসার কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই; কারণ এই মুহূর্তে তেহরান ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি বাস্তবায়ন এবং সেখানে উল্লিখিত নিজেদের প্রাপ্য সুবিধা এবং অধিকারগুলো আদায়েই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখাপাত্র ইসমাইল বাকায়েই এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়ে বাকায়েই বলেছেন.“ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির ১০ নম্বর ধারায় ইরানের তেলের ওপর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ১১ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, বিদেশে ফ্রিজড অবস্থায় থাকা ইরানি অর্থ অবমুক্ত করা হবে। আমরা বর্তমানে এ দু’টি ধারার ওপরই জোর দিচ্ছি।”   “এটি ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্পও নেই। কারণ চুক্তির ১৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে ১, ৪, ৫, ১০ এবং ১১ নম্বর ধারা সর্ম্পূর্ণ বাস্তবায়নের পরেই স্থায়ী শান্তি আলোচনা শুরু হবে।”   ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র— উভয় দেশের কর্মকর্তারা বর্তমানে কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে কাতারে গিয়েছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।   তবে ট্রাম্পের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে ইরনাকে ইসমাইল বাকায়েই বলেছেন, শান্তি চুক্তির আলোচনা নয়, বরং কাতারে ইরানের যে অর্থ ফ্রিজড অবস্থায় আছে, তার অবমুক্তির ব্যাপারে আলোচনা করতে গেছেন ইরানের প্রতিনিধিরা।   এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গতকাল এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কাতারের ব্যাংকে ইরানের ১ হাজার ২০০ কোটি হাজার ডলার আটকা পড়ে আছে এবং সেখান থেকে ৬০০ কোটি ডলার অবমুক্ত করতে সবুজ সংকেত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।   সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

যৌন নির্যাতন মামলায় ট্রাম্পের আবেদন খারিজ করল সর্বোচ্চ আদালত

ছবি : সংগৃহীত

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রক্সি বাহিনী কীভাবে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে

ছবি : সংগৃহীত

চীনা ধনকুবেরকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিল মার্কিন আদালত

0 Comments