জাতীয়

হাইকোর্ট স্থগিত করল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত রায়

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ–সংবলিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করা হয়েছে। হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায় নিয়ে করা আপিল শুনানির জন্য ১৬ জুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে। 

 

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

এর আগে সাত আইনজীবীর করা এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ওই রায় দেন। রায়ে বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ে সংবিধান ও আইনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা জড়িত থাকায় আপিলের জন্য সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। ফলে সরাসরি আপিল করার সুযোগ তৈরি হয়।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ৭ এপ্রিল প্রকাশিত হয়। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম চলমান রাখতে স্থিতাবস্থা ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইনের বিধানগুলোর কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে আবেদনসহ গত ২০ এপ্রিল আপিল করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

আর হাইকোর্টের রায় বাতিল চেয়ে গত ২১ মে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এই আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়েও আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেদিন চেম্বার আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আপিল ৯ জুন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন। এ ছাড়া ১১৬ অনুচ্ছেদের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম আরেকটি আপিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল ও আবেদনের সঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার ও আইনজীবী আহসানুল করিমের করা পৃথক আপিল একসঙ্গে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় ৪ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন। অপর আপিলকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী কারিশমা জাহান শুনানি করেন।

আইনজীবীরা জানান, হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম চলমান রাখতে রাখতে স্থিতাবস্থা ও সচিবালয় রহিতকরণ আইনের বিধান স্থগিত চেয়ে বদিউল আলম মজুমদারের করা আবেদনের ওপর আজ শুনানি হয়।

পরে বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী কারিশমা জাহান গণমাধমকে বলেন, হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। আপিল শুনানির জন্য ১৬ জুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। এই সময়ের মধ্যে বিবাদীপক্ষকে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলা হয়েছে। স্থগিতাবস্থা ও স্থগিতাদেশ চেয়ে তাদের করা আবেদনটি নথিতে রাখা হয়েছে।

 

হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদন মঞ্জুর

গত ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষ এই রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে। এতে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের ২ সেপ্টেম্বর দেওয়া রায়ের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়।

 

সচিবালয়ের যাত্রা ও বিলুপ্তি

হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ শিরোনামে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। একই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করা হয়। সচিবালয়ের যাত্রা শুরু হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬ রহিতকরণে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়।

পরদিন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন হয়। এর ভাষ্য, অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে ন্যস্ত বাজেট, গৃহীত প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারের আইন ও বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তরিত ও ন্যস্ত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য সৃজিত পদগুলো বিলুপ্ত হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
২,২৬৬ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ২ হাজার ২৬৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ২ হাজার ২২৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৩৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা।   মঙ্গলবার (০৯ জুন) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন প্রকল্প ৩টি ও সংশোধিত প্রকল্প ৩টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প ২টি । সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন’ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিফট সংযোজন’ প্রকল্প। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২’। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা সিএমএইচে ক্যানসার সেন্টার নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’ এবং দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন প্রকল্পের সংশোধিত সংস্করণ, পাশাপাশি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া, সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত আরও ৬টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। এর মধ্যে ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসন, ডাকসেবা সম্প্রসারণ, ঢাকা সেনানিবাসে এমইএস ট্রেনিং সেলের অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিশুবিবাহ প্রতিরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় এবং খুলনায় পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্প রয়েছে। একনেক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ১২ তম এবং বর্তমান সরকারের চতুর্থ একনেক সভায় মোট ১২টি প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। তবে সভায় যাচাইবাছাই শেষে ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় উপস্থাপিত ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ’ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক দুটি প্রকল্প নীতিগত অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হলেও বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে সংশোধন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া, অনুমোদন না পাওয়া বাকি দুটির মধ্যে একটি বহুল আলোচিত চীনা ইকোনমিক জোন প্রকল্প অন্যটি খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্পটি। একনেকের আলোচ্যসূচিতে থাকা খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্পটি অনুমোদন পায়নি। বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবে বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। যে কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে একনেক সভা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সভায় প্রকল্পটির বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্বের কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একনেক সভায় প্রকল্পের খরচ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এলজিইডি-পিডাব্লিউডিসহ সব বিভাগের রেট সিডিউল এক না হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে দ্রুত সময়ে রেট সিডিউল একীভূত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া সড়কের পাশে যেন ইউক্লিপটাস-ইপিলি-ইপিল গাছ না লাগানো হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, বহুল আলোচিত চীনা ইকোনমিক জোন প্রকল্পটি সভার আলোচ্যসূচিতে থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আগামী একনেক সভায় প্রকল্পটি উত্থাপন করা হতে পারে এবং তখন অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হাইকোর্ট স্থগিত করল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত রায়

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই-জুন নয়, জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছরের প্রস্তাব জামায়াতের

ছবি: সংগৃহীত

লাম্পি রোগে গরুর মৃত্যু বাড়ছে, অদক্ষ পশু চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় ক্ষতিগ্রস্ত গাইবান্ধার খামারিরা

সংগৃহীত ছবি
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আব্দুন নাসের খান

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলি করেছে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন মঙ্গলবার (৯ জুন) জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।   রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।   এর আগে আব্দুন নাসের খান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব (চুক্তিভিত্তিক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নতুন আদেশ অনুযায়ী তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।   প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এই রদবদলের মাধ্যমে শিল্প খাতের নীতিনির্ধারণ ও কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন নেতৃত্ব যুক্ত হলো বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আ.লীগের নেতাকর্মীসহ যে কেউ স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

সংগৃহীত ছবি

এডিবির সঙ্গে ১.৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি, অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

মরিশাসে আবার খুলছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার

ছবি: সংগৃহীত
গুলিবিদ্ধ জুলাইযোদ্ধা সুজনের পাশে ঢাকার ডিসি ফরিদা

জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করা জুলাইযোদ্ধা সুজনের সহায়তায় পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। সুজনের পারিবারিক ও আর্থিক দুর্দশার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দেন তিনি। গত সোমবার (৮ জুন) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জুলাইযোদ্ধা সুজনের অসহায়ত্বের করুণ বর্ণনা শুনে জেলা প্রশাসক এই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। এ সময় ​ সুজন জানান, জুলাই আন্দোলনে আহত হয়ে বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও শারীরিক অক্ষমতার কারণে তিনি সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সুজনের পরিবারে বর্তমানে একাধিক সংকট চলছে। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। ঘরে রয়েছেন এক ডিভোর্সপ্রাপ্ত বোন, যার দেখভালের দায়িত্বও এই পরিবারের ওপর। অন্যদিকে তার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হওয়ায় চিকিৎসা ও সংসার ব্যয়ের চাপ আরো বেড়েছে। এমন চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কাছে সহায়তার আবেদন জানান তিনি। ​সুজনের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের গভীর দায়িত্ব রয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছে। সুজনের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত কষ্টকর। তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি তার জন্য একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আমরা উদ্যোগ নেব।’ তিনি আরো উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় অসহায় ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসনও মানবিক দায়িত্ব পালনে কাজ করে যাচ্ছে। ​আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত সুজন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়ার পর জীবনটা যেন একেবারে থমকে গেছে। বাবা স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী, বোনের সংসার ভেঙে গেছে, আমার স্ত্রীও সন্তানসম্ভবা। পরিবারের দিকে তাকালে নিজেকে খুব অসহায় লাগত।’  তিনি আরো বলেন, ‘অনেক জায়গায় ঘুরেছি, কিন্তু আজ জেলা প্রশাসক ম্যাডাম আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। শুধু আর্থিক সহায়তাই দেননি, ভবিষ্যতে কাজের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দিয়েছেন। এই সহযোগিতা আমার পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।’ ​সহায়তা প্রদানকালে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপ সফর শেষে কার্যালয়ে যোগ দিলেন মুহাম্মদ ইউনূস

ছবি : সংগৃহীত

বিদায়ের আগে কী বার্তা দিয়ে গেলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী?

সংগৃহীত ছবি

সমুদ্র গবেষণায় নতুন অধ্যায়, চবিতে ওশান স্যাটেলাইট স্টেশন চালু

0 Comments