সারাদেশ

ঝিনাইদহে ঘুস নিতে গিয়ে দুদকের হাতে ধরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারী

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনের কাজে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও ঘুস গ্রহণের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে ঘুস নেওয়ার সময় মাস্টাররোলে কর্মরত এক কর্মচারীকে হাতেনাতে ধরার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

একই দিনে চাঁদপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, চিকিৎসাসেবায় অবহেলা ও রোগী হয়রানির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক।

 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের উদ্যোগে এ দুটি অভিযান পরিচালিত হয়।

 

দুদক সূত্র জানায়, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমির দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঝিনাইদহের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।

 

অভিযানের সময় দুদক কর্মকর্তারা ছদ্মবেশে কার্যালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দলিলে টিপসই নেওয়ার বিনিময়ে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুস আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে দুদক।

 

একপর্যায়ে মাস্টাররোলে কর্মরত এক কর্মচারীকে ঘুস গ্রহণের অভিযোগে হাতেনাতে ধরা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

 

এ ছাড়া অভিযানের সময় অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি ও রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছেন দুদক কর্মকর্তারা। এসব নথি যাচাই-বাছাই শেষে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

 

অন্যদিকে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা, চিকিৎসাসেবায় অবহেলা এবং রোগীদের হয়রানির অভিযোগে অভিযান চালায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চাঁদপুরের একটি দল।

 

অভিযানকালে হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি হাজিরা খাতা ও বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য যাচাই করেন কর্মকর্তারা।

 

এ সময় হাসপাতালে রোগীদের ব্যাপক চাপ লক্ষ্য করেন তাঁরা। চিকিৎসাসেবার মান, সেবা গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা এবং হয়রানির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে রোগী ও সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন দুদক কর্মকর্তারা।

 

দুদক দল হাসপাতালের টিকিট বিতরণ ব্যবস্থা, বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগের চিকিৎসাসেবা, রোগীদের খাবারের মান এবং রান্নাঘরের পরিবেশও পরিদর্শন করে। পাশাপাশি ভর্তি রোগীদের ওয়ার্ড ও প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়।

 

অভিযানে পাওয়া তথ্য ও পর্যবেক্ষণ হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীদের সময়মতো মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, সেবার মান উন্নয়ন এবং হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

দুটি অভিযানের তথ্য ও সংগৃহীত নথি পর্যালোচনা করে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
কেন্দ্র দখল বা জালিয়াতি ছাড়াই ভোট সম্পন্ন হয়েছে: রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতি ও সংঘর্ষের অভিযোগ ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।     আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।     রুহুল কবির রিজভী বলেন, সকাল থেকেই চমৎকার ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটারদের ভোট দিতে দেখা গেছে।       তিনি বলেন, সন্তোষজনক ভোটার উপস্থিতি ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে বিএনপি আশাবাদী।     এসময় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কৃত্রিমভাবে অভিযোগ তৈরি না করতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহে ঘুস নিতে গিয়ে দুদকের হাতে ধরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারী

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে রায়হান হত্যা মামলার রায়: সাবেক এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, পাঁচজনের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

বরগুনায় ৫২৯টি বিশেষ অভিযান, ২৬ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ও ২১৩ কিশোর-কিশোরী আটক

সংগৃহীত ছবি
ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে হেরে গেলেন জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।     এর মধ্য দিয়ে এই আসনে দ্বিতীয়বারের মতো পরাজিত হলেন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার। একইসঙ্গে গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যত ভোট পেয়েছিলেন তার চেয়ে এবার কম পেয়েছেন।     ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ওই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছিলেন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট।     হিসাবে মির্জা ফখরুলের কাছে ৯৭ হাজার ৮১৯ ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন দেলাওয়ার। এবার হারলেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে। তবে প্রথমবার ভোট দেখে এবার জয়ের আশা করেছিলেন দেলাওয়ার। কিন্তু মির্জা ফখরুলের ভাইয়ের কাছে শোচনীয়ভাবে হেরেছেন।       মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হলে উপনির্বাচনে দেলাওয়ার হোসেনকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।     বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে মির্জা ফয়সল আমীনকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। এর আগে সকাল ৮টা থেকে ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এরপর গণনা শুরু হয়।       জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে আজ ৬৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।       এবারের নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মির্জা ফয়সল আমীন, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে দেলাওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের বটগাছ প্রতীকে মো. আব্দুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীকে হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারের টেঁটাযুদ্ধে আহত ১২, আটক ৪ জন

ছবি: সংগৃহীত

সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে নারী-পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: সিজিএস

ছবি: সংগৃহীত

সীমান্ত বাণিজ্য নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের কয়লা ব্যবসায়ীদের আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত
পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই দিনে প্রাণহানি ২

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়ের নাওডোবা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই দিনে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন।    বুধবার (২৮ অক্টোবর) দ্রুতগতির মাইক্রোবাসের ধাক্কায় শুকুরজান বিবি (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হন। এর একদিন পর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসের পেছনে আরেকটি বাসের ধাক্কায় চালক নজরুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। দুই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন।   নিহত শুকুরজান বিবি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মৌছামান্ডা এলাকার মৃত মজিদ ফকিরের স্ত্রী। অন্যদিকে, নিহত বাসচালক নজরুল ইসলাম পটুয়াখালীর দুমকি থানার আঙ্গারিয়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম ছাত্তার হাওলাদার।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাওডোবা বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণ পাশে ভাঙ্গাগামী লেনে পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়ে পার হচ্ছিলেন শুকুরজান বিবি। এ সময় ঢাকা থেকে ভাঙ্গাগামী দ্রুতগতির একটি মাইক্রোবাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।   এর পরদিন বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে একই এলাকায় ঢাকাগামী নড়াইল এক্সপ্রেসের একটি দাঁড়িয়ে থাকা বাসের পেছনে আরেকটি বাস ধাক্কা দেয়। এতে চালক নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় আরও সাতজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে বাস দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শিবচর হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি হেফাজতে নিয়েছেন।   বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হাসান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাত্রীদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এক বাসচালক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও সাতজন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কিশোর হৃদয় হত্যা মামলা: গ্রেপ্তার দেখানো হলো স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কৃত বগাকে

ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলে মাটির নিচে মিলল ১২টি রকেট লঞ্চারসদৃশ বস্তু, ৩টি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা: প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন

0 Comments