জাতীয়

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে: ইসি সচিব

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। 

 

 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এসব কথা বলেন তিনি।

 

 

সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ টানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলাকালে কোথায়ও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

 

 

নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আখতার আহমেদ জানান, নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে সবকটি কেন্দ্রে সফলভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। বিকাল ৪টার মধ্যেই সব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং ওই সময়ে কেন্দ্রগুলোর বাইরে কোনো অপেক্ষমাণ ভোটার ছিলেন না। 

 


ভোটগ্রহণ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ছবি না থাকা সংক্রান্ত ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে কথা বলেন ইসি সচিব। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বিষয়টি নজরে আসার পরই তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত করা হয় এবং এই সংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রমে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এজেন্টদেরও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দিয়ে সন্তুষ্ট করা হয়েছে।

 

 

এদিকে নির্বাচন চলাকালে ভুয়া ভোটার হিসেবে তিনজনকে আটকের ঘটনার বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ভুয়া ভোটার সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে তা সত্য, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা খতিয়ে দেখছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে: ইসি সচিব

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।      বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এসব কথা বলেন তিনি।     সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ টানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলাকালে কোথায়ও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।     নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আখতার আহমেদ জানান, নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে সবকটি কেন্দ্রে সফলভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। বিকাল ৪টার মধ্যেই সব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং ওই সময়ে কেন্দ্রগুলোর বাইরে কোনো অপেক্ষমাণ ভোটার ছিলেন না।    ভোটগ্রহণ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ছবি না থাকা সংক্রান্ত ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে কথা বলেন ইসি সচিব। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বিষয়টি নজরে আসার পরই তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত করা হয় এবং এই সংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রমে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এজেন্টদেরও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দিয়ে সন্তুষ্ট করা হয়েছে।     এদিকে নির্বাচন চলাকালে ভুয়া ভোটার হিসেবে তিনজনকে আটকের ঘটনার বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ভুয়া ভোটার সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে তা সত্য, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা খতিয়ে দেখছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

পাঁচ বছরের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে ই-রিকশার নতুন নীতিমালা জারি

ছবি: সংগৃহীত

৩১ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি বাসার সাবলেট ভাড়াটিয়া সরানোর নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে টয়োটার প্রথম প্রাইভেটকারে চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
নভেম্বরের জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা মন্ত্রণালয়ের

নভেম্বর মাসে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ।   ঘোষিত দাম অনুযায়ী, নভেম্বর মাসজুড়ে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হবে।   প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে নভেম্বর মাসের জন্য এসব মূল্যহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্য আগামী ১ নভেম্বর থেকেও বহাল থাকবে।   এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে গত ২০ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়।   ওইদিন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হকের সই করা প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম জানানো হয়। দাম বাড়ানোর পর ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ছবি- সংগৃহীত

অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে ইতালি: রাষ্ট্রদূত

ছবি: সংগৃহীত

ত্রুটি মেরামতের পর প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার পথে বিমান

ছবি: সংগৃহীত

বিমানে যান্ত্রিক গোলযোগ, বিলম্বিত হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা

ছবি: সংগৃহীত
ব্যাংককের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে হানিফ, দেশে ফেরাতে নেওয়া হবে আইনি পদক্ষেপ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের অবস্থান নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে ঢাকা পোস্টের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি বিলাসবহুল আবাসিক ভবনে পরিবার নিয়ে অবস্থান করছেন তিনি।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংককের থন বুড়ি এলাকার চারোয়েন নাখোন রোডে অবস্থিত ৪২ তলাবিশিষ্ট ‘সুপালাই রিভার রিসোর্ট’ নামের আবাসিক ভবনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকছেন হানিফ। স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রায় দুই বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন তিনি। সম্প্রতি ওই ভবনে তাঁর সঙ্গে প্রতিবেদকের প্রতিনিধির সাক্ষাৎ ও কথোপকথন হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা দণ্ডিত হয়েছেন। তাঁরা সবাই পলাতক রয়েছেন।   প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ মামলাটির তদন্ত শুরু হয়। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। পরে ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় এবং পরদিন হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসামিদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়েও তাঁদের সন্ধান পায়নি বলে মামলার কার্যক্রমে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আত্মসমর্পণের জন্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করায় তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।   মামলায় ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দেন। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণের মূল পর্ব শেষ হয়। পরে অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন এবং কয়েকজন সাক্ষীর পুনরায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। ৭ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়।   প্রসিকিউশন হানিফসহ চার নেতার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনে। প্রথম অভিযোগে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে কুষ্টিয়ায় আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তৃতীয় অভিযোগটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘিরে।   রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা সমর্থন এবং আন্দোলন দমনে উসকানি দেওয়ার সঙ্গে হানিফের সংশ্লিষ্টতা ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী দণ্ড দেওয়া হয়েছে।   তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে গুলিতে ছয়জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন ও উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। তাঁদের হত্যার ঘটনায় চার নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।   ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রথম অভিযোগের ছয়টি কাউন্টে হানিফকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অভিযোগে তাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় সদর উদ্দিন খান, আজগর আলী ও আতাউর রহমান আতা প্রথম অভিযোগে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় অভিযোগে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড পেয়েছেন।   রায়ে চার নেতার স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এসব সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে বিতরণের কথা বলা হয়েছে।   চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, চার আসামিকে গ্রেপ্তার বা দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিরা দেশের বাইরে থাকতে পারেন, তবে তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   রাষ্ট্রপক্ষ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, স্টেট ডিফেন্স অসন্তোষ জানিয়েছে। হানিফের ব্যাংককে অবস্থানের বিষয়ে ঢাকা পোস্টের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে: ইসি সচিব

ছবি: সংগৃহীত

ওয়ারীতে নারীকে যৌন হয়রানির দায়ে আইনজীবীর ৩ বছরের কারাদণ্ড

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি ফ্লাইটে কারিগরি ত্রুটি, বিলম্বিত যাত্রা

0 Comments