চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষদর্শী ও জেলা আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শরীফের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজিরের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মামলার আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়। কারাগারে থাকা অন্য আসামিরা সরাসরি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শরীফকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেছেন। তিনি এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী।
তিনি আরও জানান, এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত তিনজন সাক্ষীকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস নিজে জেরা করেননি। তবে অন্য আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা সাক্ষীদের জেরা করেন। মামলার আসামি রাজীব ভট্টাচার্য আদালতকে জানিয়েছেন, তিনি আইনজীবীর সহায়তা ছাড়াই সাক্ষীকে জেরা করতে চান। এর আগে তিনি নিজেই আরও দুই সাক্ষীকে জেরা করেছিলেন।
নিরাপত্তাজনিত কারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে সরাসরি আদালতে হাজির না করে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত করা হয়। এ সময় তার পক্ষে আইনজীবী জেরার জন্য সময় চান।
শুনানি শেষে মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ৩০ নভেম্বর নির্ধারণ করেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ওই দিন আদালত এলাকার বাইরে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টারের গলির ভেতরে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি জোনের তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান ২০২৫ সালের ১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৮ জনকে আসামি করা হয়।
পরে একই বছরের ২৫ আগস্ট অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি শেষে আদালত সুকান্ত দত্তসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত দেন।
তদন্তে এজাহারভুক্ত তিনজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তাদের অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে তদন্তে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাদের অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কয়লা বাণিজ্য সম্প্রসারণ, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজীকরণ এবং সীমান্ত বাণিজ্যের বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি হোটেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ভারতীয় কয়লা রপ্তানিকারকদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্থানীয় কয়লা আমদানিকারকদের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের নেতৃত্ব দেন হালুয়াঘাট আমদানিকারক-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এবং ভারতীয় রপ্তানিকারকদের নেতৃত্ব দেন এক্সপোর্টার এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা বিজয় সিং দোসি। বৈঠকে কয়লা আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক সহযোগিতা, পণ্য পরিবহন, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং উভয় দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘হালুয়াঘাট সীমান্ত বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনাময় একটি অঞ্চল। কয়লা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এ বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা, সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা জরুরি।’ তিনি বলেন, ‘সীমান্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজ, স্বচ্ছ ও গতিশীল হলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিক, দিনমজুর এবং স্থানীয় জনগণও অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবেন।’ প্রিন্স আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ, সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে। হালুয়াঘাট সীমান্তের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করতে আমরা আগ্রহী।’ তিনি ভারতীয় রপ্তানিকারক ও বাংলাদেশি আমদানিকারকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্যিক সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে উভয় দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। বৈঠকে হালুয়াঘাট আমদানিকারক-রপ্তানিকারক গ্রুপের মহাসচিব অশোক কুমার সরকার, সহ সভাপতি জয়নাল আবেদীন, চন্দন কুমার ঘোষ, খালিদ ইকবাল নিটল, স্টিফেন স্ট্যান্টন রংদি, শহিদুল ইসলাম, আজিজুল ইসলাম, রাজীব কুমার দত্ত, কামরুজ্জামান দুলাল, শামসুল আলম শামস, আসাদুজ্জামান আসিফ, এমদাদুল ইসলাম, আলিমুল ইসলাম, আব্দুল বারী, অপু সরকার এবং ভারতীয় রপ্তানিকারক নেতৃবৃন্দের মধ্যে জর্জ এস. মারাক, প্রভাস রিছিল মারাক, মনোজ কুমার সারাওয়াগি, বরুণ রিছিল মারাক, দীপক চক্রবর্তী, কুলদীপ কুমার বানসাল, শশী ভূষণ শর্মা, দেবপ্রসাদ পাল, অচিন্ত বরাহ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষদর্শী ও জেলা আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শরীফের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজিরের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মামলার আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়। কারাগারে থাকা অন্য আসামিরা সরাসরি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শরীফকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেছেন। তিনি এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি আরও জানান, এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত তিনজন সাক্ষীকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস নিজে জেরা করেননি। তবে অন্য আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা সাক্ষীদের জেরা করেন। মামলার আসামি রাজীব ভট্টাচার্য আদালতকে জানিয়েছেন, তিনি আইনজীবীর সহায়তা ছাড়াই সাক্ষীকে জেরা করতে চান। এর আগে তিনি নিজেই আরও দুই সাক্ষীকে জেরা করেছিলেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে সরাসরি আদালতে হাজির না করে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত করা হয়। এ সময় তার পক্ষে আইনজীবী জেরার জন্য সময় চান। শুনানি শেষে মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ৩০ নভেম্বর নির্ধারণ করেন আদালত। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দিন আদালত এলাকার বাইরে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টারের গলির ভেতরে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি জোনের তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান ২০২৫ সালের ১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৮ জনকে আসামি করা হয়। পরে একই বছরের ২৫ আগস্ট অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি শেষে আদালত সুকান্ত দত্তসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত দেন। তদন্তে এজাহারভুক্ত তিনজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তাদের অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে তদন্তে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাদের অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধীনস্থ সোনামসজিদ ও আজমতপুর বিওপির টহলদল শিবগঞ্জ সীমান্তে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে ৯৮ বোতল ইস্কাফ সিরাপ এবং ৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত সাড়ে ১০ টায় আজমতপুর বিওপির নায়েক মো. রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টহলদল সীমান্ত পিলার ১৮১/৭-এস থেকে আনুমানিক ৬০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শাহবাজপুর ইউনিয়নের মন্ডলটোলা গ্রামসংলগ্ন ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ৫০ পিস ভারতীয় ইয়াবাসহ মো. মিজানুর রহমান (৪৫)-কে আটক করা হয়। তিনি হুদমা গ্রামের মৃত তফিজ উদ্দিনের ছেলে। অপরদিকে, আজ ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ ভোর ৪ টায় (০৪:০০ ঘটিকা) সোনামসজিদ বিওপির হাবিলদার মো. কাজী ইব্রাহীমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহলদল সীমান্ত পিলার ১৮৭/১১-এস থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ থানাধীন শাহবাজপুর ইউনিয়নের শিয়ালমারা গ্রামের একটি আমবাগানে অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ফেন্সিডিলের বিকল্প ৯৮ বোতল নেশাজাতীয় ইস্কাফ সিরাপ এবং ১টি মোবাইল ফোনসহ মো. মুরছালিন (২১)-কে আটক করা হয়। তিনি শিয়ালমারা গ্রামের ছানাউলের ছেলে। আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আল-আমিন অপু বলেন, “বিজিবি দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধে বিজিবির এ ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”