বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ (সোমবার) জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামছে ব্রাজিল। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হিউস্টনে অনুষ্ঠিতব্য শেষ ষোলোর ম্যাচে কোচ কার্লো আনচেলত্তি একাদশে বড় কোনো পরিবর্তন আনবেন না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন,'আমার মনে হয় না খুব বেশি পরিবর্তন হবে। শেষ অনুশীলনের পরই সবকিছু চূড়ান্ত করা হবে। আমাদের পুরো মনোযোগ ম্যাচেই। জাপান খুবই শৃঙ্খলিত একটি দল এবং আমরা জানি, তাদের বিপক্ষে কীভাবে খেলতে হবে।'
ব্রাজিল শিবিরের সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর, আগের ম্যাচের তুলনায় বেশি সময় মাঠে দেখা যেতে পারে নেইমার জুনিয়রকে। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ১৫ মিনিট খেলেছিলেন তিনি।
নেইমারের শারীরিক অবস্থার উন্নতির কথা জানিয়ে আনচেলত্তি বলেন, 'গত এক সপ্তাহে তার উন্নতি উল্লেখযোগ্য। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আগের ম্যাচে ১৫ মিনিটের বেশি খেলতে পারেনি। এখন সে আরও বেশি সময় খেলার জন্য প্রস্তুত।'
সবশেষ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে নেমেছিল ব্রাজিল, সেটিই প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে আনচেলত্তি নিজের পছন্দের সমন্বয় খুঁজে পেয়েছেন। চোটে থাকা রাফিনিয়ার পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া রায়ানও পারফরম্যান্সে আস্থা অর্জন করেছেন।
ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ:
অ্যালিসন বেকার; দানিলো, মার্কিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, ডগলাস সান্তোস; ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গুইমারেস, লুকাস পাকেতা; রায়ান, ম্যাথিউস কুনহা ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
পরিসংখ্যানও ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। দুই দলের ১৪ দেখায় ব্রাজিল জিতেছে ১১টি ম্যাচ, দুটি ড্র হয়েছে এবং জাপানের জয় মাত্র একটি।
তবে সেই একমাত্র জয়টাই এসেছে সবশেষ দেখায়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল জাপান। ব্রাজিলের বিপক্ষে সেটিই ব্লু সামুরাইদের সর্বোচ্চ গোল করার ম্যাচ। ফলে অতীতের রেকর্ড অনুকূলে থাকলেও জাপানকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ দেখছে না সেলেসাও শিবির।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নকআউট ফুটবলের চরম বাস্তবতা হলো এখানে কোনো আগামীকাল নেই। অতীতের অর্জন, গ্রুপ পর্বের পরিসংখ্যান, দর্শকদের ভবিষ্যদ্বাণী সবকিছু ৯০ মিনিটের ভেতরে এসে দাঁড়ায়। একটি বাঁশি, একটি গোল, একটি ভুল, একটি মুহূর্তে ইতিহাস নতুন করে লেখা হয়। মঙ্গলবার ডালাসের আলোয় আইভরিকোস্ট ও নরওয়ে মুখোমুখি দাঁড়াবে। তখন শুধু বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচ হবে না, হবে দুই মহাদেশের দুই ভিন্ন আত্মার যুদ্ধ। একদিকে আফ্রিকার আবেগ, গতি, স্বপ্ন; অন্যদিকে উত্তর ইউরোপের অপেক্ষা, ধৈর্য আর নতুন করে উঠে আসার শপথ। আইভরিকোস্ট এখানে এসেছে এমন এক ইতিহাস নিয়ে, যেখানে বহুবার তারা বড় আসরে এসে থেমে গেছে দরজার সামনে। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪ বিশ্বকাপ ছিল, প্রতিভা ছিল, বড় নাম ছিল, কিন্তু নকআউট ছিল না। দিদিয়ের দ্রগবার প্রজন্ম যে দরজা খুলতে পারেনি, সেই দরজায় এবার কড়া নাড়ছে নতুন প্রজন্ম। বিশ্বকাপের চলতি আসরের শুরু থেকেই আইভরিকোস্ট নিজেদের নতুন করে জানান দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১–০ গোলের জয়। এরপর জার্মানির কাছে ২–১ গোলে হার। আর শেষ ম্যাচে কুরাসাওকে ২–০ গোলে হারিয়ে তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত করে। এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণ কোনো এক ফুটবলারের কাঁধে দাঁড়িয়ে নেই। নিকোলাস পেপে কুরাসাওর বিপক্ষে জোড়া গোল করে ছন্দে ফিরেছেন। আমাদ দিয়ালো গতি আনেন। ইয়ান দিয়োমান্দে সাহস নিয়ে খেলেন। আঞ্জ–ইওয়ান বনি জায়গা তৈরি করেন। তাদের ফুটবলে ব্যক্তির চেয়ে দলগত শক্তি বড়। আইভরিকোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন হলান্ড। যিনি পুরো ম্যাচের মানচিত্র বদলে দিতে পারেন। এখন পর্যন্ত চার গোল করেছেন, মাত্র দুই ম্যাচে। এমনভাবে গোল করছেন যেন সময়ের সঙ্গে তার আলাদা কোনো চুক্তি আছে। ইরাক ও সেনেগালের বিপক্ষে যেখানে সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই আঘাত করেছেন। গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। তাই ডালাসে তিনি ফিরছেন নতুন শক্তি নিয়ে। নরওয়ে ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে ছিল না। প্রায় তিন দশক ধরে নরওয়ের ফুটবল বড় টুর্নামেন্টের বাইরে থেকেছে। এবার সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে। তারা এসেছে নতুন মুখ, নতুন আত্মবিশ্বাস আর পুরোনো ক্ষুধা নিয়ে। গ্রুপ পর্বে তাদের যাত্রা ছিল ভয়ংকর। প্রথম ম্যাচে ইরাককে ৪–১ গোলে হারানো। দ্বিতীয় ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে ৩–২ গোলের নাটকীয় জয়। দুই ম্যাচেই নকআউট নিশ্চিত হওয়ায় ফ্রান্সের বিপক্ষে মূল একাদশের অনেককে বিশ্রাম দেওয়া হয়। ফল ৪–১ গোলের হার। কিন্তু সেই হারও যেন বড় পথের প্রস্তুতি। নরওয়ে গোল করেছে আটটি। আবার গোল খেয়েছে সাতটি। আক্রমণ যতটা ভয়ংকর, রক্ষণ ততটাই প্রশ্নবিদ্ধ। আর এই জায়গাটাই আইভরিকোস্টের আশা। আইভরিকোস্টের রক্ষণ এই বিশ্বকাপে অনেক বেশি পরিণত। তিন ম্যাচে মাত্র দুই গোল হজম করেছে তারা। জার্মানির মতো দলও তাদের সহজে ভাঙতে পারেনি। আর সেই দেয়ালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম ওসমান দিয়োমান্দে। এই ম্যাচে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব হলান্ডকে থামানো। দুই দল এর আগে কখনও আন্তর্জাতিক ফুটবলে মুখোমুখি হয়নি। কোনো পুরোনো প্রতিশোধ নেই। কোনো অতীত নেই। কোনো হিসাব নেই। শুধু প্রথম সাক্ষাৎ। আর সেটাও সরাসরি নকআউটে। ডালাসে আজকের রাতে হয়তো নির্ধারিত হবে হলান্ড কি আবারও সব আলো নিজের দিকে টেনে নেবেন, নাকি আইভরিকোস্ট প্রমাণ করবে বড় নামের চেয়েও বড় হতে পারে দল। একদল খেলবে ইতিহাসের প্রথম নকআউট জয় পাওয়ার জন্য। আরেক দল খেলবে ২৮ বছরের অপেক্ষাকে আরও দীর্ঘ যাত্রায় রূপ দেওয়ার জন্য। শেষ বাঁশির পর হয়তো পৃথিবী দেখবে হাতিরা যখন দৌড়ায়, তখন ইতিহাসও তাদের পথ ছেড়ে দেয়।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ (সোমবার) জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামছে ব্রাজিল। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হিউস্টনে অনুষ্ঠিতব্য শেষ ষোলোর ম্যাচে কোচ কার্লো আনচেলত্তি একাদশে বড় কোনো পরিবর্তন আনবেন না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন,'আমার মনে হয় না খুব বেশি পরিবর্তন হবে। শেষ অনুশীলনের পরই সবকিছু চূড়ান্ত করা হবে। আমাদের পুরো মনোযোগ ম্যাচেই। জাপান খুবই শৃঙ্খলিত একটি দল এবং আমরা জানি, তাদের বিপক্ষে কীভাবে খেলতে হবে।' ব্রাজিল শিবিরের সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর, আগের ম্যাচের তুলনায় বেশি সময় মাঠে দেখা যেতে পারে নেইমার জুনিয়রকে। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ১৫ মিনিট খেলেছিলেন তিনি। নেইমারের শারীরিক অবস্থার উন্নতির কথা জানিয়ে আনচেলত্তি বলেন, 'গত এক সপ্তাহে তার উন্নতি উল্লেখযোগ্য। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আগের ম্যাচে ১৫ মিনিটের বেশি খেলতে পারেনি। এখন সে আরও বেশি সময় খেলার জন্য প্রস্তুত।' সবশেষ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে নেমেছিল ব্রাজিল, সেটিই প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে আনচেলত্তি নিজের পছন্দের সমন্বয় খুঁজে পেয়েছেন। চোটে থাকা রাফিনিয়ার পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া রায়ানও পারফরম্যান্সে আস্থা অর্জন করেছেন। ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ: অ্যালিসন বেকার; দানিলো, মার্কিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, ডগলাস সান্তোস; ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গুইমারেস, লুকাস পাকেতা; রায়ান, ম্যাথিউস কুনহা ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। পরিসংখ্যানও ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। দুই দলের ১৪ দেখায় ব্রাজিল জিতেছে ১১টি ম্যাচ, দুটি ড্র হয়েছে এবং জাপানের জয় মাত্র একটি। তবে সেই একমাত্র জয়টাই এসেছে সবশেষ দেখায়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল জাপান। ব্রাজিলের বিপক্ষে সেটিই ব্লু সামুরাইদের সর্বোচ্চ গোল করার ম্যাচ। ফলে অতীতের রেকর্ড অনুকূলে থাকলেও জাপানকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ দেখছে না সেলেসাও শিবির।
ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ, বিধ্বংসী ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ভেনেজুয়েলা। এরই মধ্যে দেশটিতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। মর্মান্তিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে আর্জেন্টিনার ফুটবলেও। দেশটির ফুটবলার লুকাস ত্রেহোর স্ত্রী ও দুই সন্তান নিহত হয়েছেন। ৩৮ বছর বয়সি আর্জেন্টাইন ফুটবলার লুকাস ত্রেহো ভেনেজুয়েলার ক্লাব স্পোর্ট মারিতিমো দে লা গুয়াইরারহয়ে খেলেন। ভূমিকম্পের সময় তিনি দলের সঙ্গে রাজধানী কারাকাসে ছিলেন। সেই সময় ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশটির উত্তর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি জানতে পারেন, লা গুয়াইরার প্লায়া গ্রান্দেতে যে অ্যাপার্টমেন্টে তার পরিবার থাকত, সেটিও পুরোপুরি ধসে পড়েছে। খবর পেয়েই আর এক মুহূর্ত দেরি করেননি ত্রেহো। দ্রুত দুর্গত এলাকায় পৌঁছে উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে নিজেও খোঁজা শুরু করেন স্ত্রী ও সন্তানদের। টানা ৭৪ ঘণ্টার অভিযান শেষে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকেই উদ্ধার করা হয় ত্রেহোর স্ত্রী ও দুই সন্তানের নিথর দেহ। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল মহলেও। অনুসন্ধান অভিযানের প্রথম দিকে ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন একটি বার্তা পোস্ট করেছিলেন তিনি। সেখানে লিখেছিলেন, ‘প্লায়া গ্রান্দেতে আমাদের অ্যাপার্টমেন্টটি ধসে পড়েছে। আমার পরিবারের কোনও খোঁজ জানি না। সবাই ওদের জন্য প্রার্থনা করুন। কেউ যদি ওদের দেখে থাকেন, তাহলে এই বার্তাটি ছড়িয়ে দিন। আমি এখনও বিশ্বাস করতে চাই, ওরা তখন বাড়ির ভেতরে ছিল না।’ খবর পেয়ে আর্জেন্টিনা থেকে ভেনেজুয়েলায় ছুটে এসেছিলেন ত্রেহোর বাবা ও ভাই। পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করার আশায় তারাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। যদিও ৭৪ ঘণ্টার সেই মরিয়া অনুসন্ধানের করুণ পরিসমাপ্তি ঘটে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ত্রেহোর স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেল্লা এবং তাদের দুই সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন।