আন্তর্জাতিক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে সাড়ে ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে পাঁচ হাজার পাঁচশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। একই সঙ্গে আরও সাড়ে তিন হাজার পদের কাজ বাইরের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি। খবর এএফপির।

 

সোমবার এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। লাকি স্ট্রাইক ও ডানহিল ব্র্যান্ডের সিগারেট উৎপাদনকারী এই প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, পুনর্গঠন পরিকল্পনার আওতায় ২০২৮ সালের মধ্যে বছরে ৬০ কোটি পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ৭৯ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পুনর্গঠন কার্যক্রমের প্রভাব পড়বে তাদের মোট ৪৭ হাজার কর্মীর প্রায় ২০ শতাংশের ওপর।

 

দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে চলতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯ হাজার কর্মীর ওপর প্রভাব ফেলবে এমন পুনর্গঠন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তামাক উৎপাদনকারী এই প্রতিষ্ঠান বছরের শেষ নাগাদ পাঁচ হাজার পাঁচশ কর্মী ছাঁটাই করবে। পাশাপাশি আরও সাড়ে তিন হাজার পদের কাজ বাইরের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর রূপান্তরে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী তাদেউ মারোকো বলেন, ভবিষ্যতের উপযোগী একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে তারা আরও গতিশীল, ব্যয়-সচেতন ও প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামো তৈরি করছেন।

 

তিনি বলেন, এই পরিবর্তনের প্রভাব অনেক সহকর্মীর ওপর পড়বে। তবে এই রূপান্তরের সময় তাদের প্রতি সর্বোচ্চ যত্ন ও সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতের জন্য প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নেওয়া যায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ট্রাম্পের কঠোর অর্থনৈতিক চাপে কি নতি স্বীকার করবে ইরান?

ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের তেল রাজস্ব ও আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের পথ বন্ধ করে দেশটির অর্থনীতিকে এমন পর্যায়ে নিতে চাইছে ওয়াশিংটন, যাতে ইরান শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে সমঝোতায় আসতে বাধ্য হয়। তবে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে চীনের ওপর।   প্রায় ছয় মাসের যুদ্ধের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করেছেন ট্রাম্প। তিনি এটিকে ‘যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শুধু ইরান নয়, দেশটির অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহায়তা করা ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।   ওয়াশিংটনের নতুন কৌশলের লক্ষ্য হলো ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে যতটা সম্ভব বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। তেহরানের তেল বিক্রির আয়, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, শিপিং নেটওয়ার্ক এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর বিভিন্ন বাণিজ্যিক পথ বন্ধ করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।   তেল রপ্তানিতে বড় ধাক্কা   ইরানের বৈদেশিক আয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস তেল। তাই দেশটির তেল রফতানি বন্ধ করাই ট্রাম্পের পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।   ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধের কারণে দেশটির তেলবাহী ট্যাংকারে পণ্য বোঝাই ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে কমে গেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের তুলনায় ইরানের তেল চালান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।   ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ, ট্যাংকার, জাহাজ নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।   এর পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে অর্থ লেনদেনে জড়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও চাপ বাড়ানো হচ্ছে। নগদ অর্থ স্থানান্তর, বিনিময় কেন্দ্র, ভুয়া বা বেনামি কোম্পানি এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর বিভিন্ন বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ট্রাম্পের এই নীতিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যর্থ নীতির’ ধারাবাহিকতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর দাবি, অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হলে তা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের জন্যই নতুন পরাজয় ডেকে আনবে। যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন তিনি।   কেন চীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ   ট্রাম্পের পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে চীনকে ঘিরে। ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় অবশিষ্ট ক্রেতা চীন। ফলে তেহরানের তেল বিক্রির পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে চীনা প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক ব্যবস্থার ওপরও চাপ দিতে হবে ওয়াশিংটনকে।   এখানেই ট্রাম্পের জন্য তৈরি হচ্ছে বড় কূটনৈতিক ঝুঁকি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে চীনের বড় ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বেইজিংয়ের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত তৈরি হতে পারে। তবে চীনের মতো বড় ক্রেতার মাধ্যমে ইরানের তেল বিক্রি অব্যাহত থাকলে ট্রাম্পের ‘নজিরবিহীন বিচ্ছিন্নতা’ তৈরির পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকবে।   এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে তেহরানের অর্থনৈতিক যোগাযোগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ সংকুচিত হয়েছে।   অর্থনৈতিক সংকটে ইরান   দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের অর্থনীতি ইতোমধ্যেই গভীর সংকটে রয়েছে।   আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের আশঙ্কা, চলতি বছর ইরানের অর্থনীতি ৫ শতাংশের বেশি সংকুচিত হতে পারে। এটি প্রায় চার দশকের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকোচন হতে পারে।   একই সময়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের দরও রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। ফলে সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে ক্রমেই বেশি চাপের মুখে পড়ছেন।   তেলের ওপর নতুন করে অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। অবরোধের বাইরে ইরানের কাছে এখনও প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল তেল রয়েছে। এর বড় অংশ চীনে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, এই তেল থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার আয় হতে পারে।   তবে দৈনিক প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল হারে তেল রপ্তানি হলে এই মজুত থেকে প্রায় চার মাসের রপ্তানি আয় পাওয়া সম্ভব।   কেপলারের অপরিশোধিত তেল বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান হোমায়ুন ফালাকশাহি ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিকে আকস্মিক পতনের বদলে ‘ধীর মৃত্যুর’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।   অর্থনৈতিক চাপেই কি ভেঙে পড়বে তেহরান?   এখানেই ট্রাম্পের কৌশলের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা। দশকের পর দশক ধরে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে টিকে থাকতে ইরান বিকল্প ব্যাংকিং ব্যবস্থা, শিপিং কোম্পানি, মধ্যস্থতাকারী ও বাণিজ্যপথের একটি জটিল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে বড় আঘাত করলেও তেহরান কত দ্রুত নতি স্বীকার করবে, তা নিশ্চিত নয়।   ইউরেশিয়া গ্রুপের সিনিয়র বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রু মনে করেন, ইরানের নেতৃত্ব আরও দীর্ঘ সময় অর্থনৈতিক দুর্ভোগ সহ্য করতে প্রস্তুত। তাঁর মতে, তেহরান বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞা এবং মাসের পর মাস যুদ্ধ সহ্য করেছে।   ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার গবেষণা বিভাগের ইরান শাখার সাবেক প্রধান ড্যানিয়েল সিট্রিনোভিচও মনে করেন, কেবল অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরান ভেঙে পড়বে— এমন ধারণা ভুল হতে পারে। তাঁর মতে, কঠোর অর্থনৈতিক চাপও তেহরানের কৌশলগত হিসাব-নিকাশে মৌলিক পরিবর্তন নাও আনতে পারে।   এখন পর্যন্ত অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও ইরানে এমন কোনো ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা যায়নি, যা সরাসরি দেশটির শাসনব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি তৈরি করেছে।   এবার লড়াইটা সহনশীলতার   ট্রাম্পের পরিকল্পনা সফল হবে কি না, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করতে পারে কোন পক্ষ বেশি সময় ধরে চাপ সহ্য করতে পারে তার ওপর।   ইরানের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু তেহরান হয়তো হিসাব করছে, অর্থনৈতিক দুর্ভোগ, তেলের উচ্চমূল্য, যুদ্ধের রাজনৈতিক ব্যয় এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের চাপ ট্রাম্পের জন্যও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম ইতোমধ্যে প্রতি গ্যালন ৪ ডলারের বেশি। ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গিয়ে যদি তেলের বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর।   অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। তেলের দাম বাড়লে ট্রাম্পকে সামরিক সংঘাত আরও বাড়ানো অথবা দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা— এই দুইয়ের মধ্যে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।   তাই ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক অভিযান কেবল নিষেধাজ্ঞার লড়াই নয়; এটি হয়ে উঠেছে দীর্ঘস্থায়ী সহনশীলতার প্রতিযোগিতা।   প্রশ্ন এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কতটা অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারবে, তা নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে— এই চাপের মধ্যে কোন পক্ষ আগে পিছু হটবে, ওয়াশিংটন নাকি তেহরান?

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২১, ২০২৬

ত্রাণকর্মী হত্যার তদন্ত বন্ধের ঘটনায় ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব পোল্যান্ডের

নাইজেরিয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণ গেল ৪৬ জনের

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দরে আবারও ঊর্ধ্বগতি

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বলল তেহরান

ইরানের ওপর নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করেছে তেহরান। এসব নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে সাধারণ ইরানিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ ইরানের স্বাধীনতা, জাতীয় অখণ্ডতা ও স্বার্থ রক্ষার অবস্থানকে দুর্বল করতে পারবে না বলেও উল্লেখ করা হয়।   এদিকে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, কোনো দেশ ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যাপক ও নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।   মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী: ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ও এর সঙ্গে থাকা অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে ওই অঞ্চলের সমুদ্রে অবস্থান করছিল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। দীর্ঘদিন সমুদ্রে অবস্থানের কারণে এর নাবিক ও ক্রুদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে আব্রাহাম লিংকনের পরিবর্তে জর্জ ওয়াশিংটনকে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত মোতায়েনের অংশ হিসেবে জর্জ ওয়াশিংটন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছে কার্যক্রম শুরু করেছে। ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি—দুই ঘটনাই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখ ঢাকলে ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭ হাজারের বেশি মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত
ইরানে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক পাঠিয়েছে রাশিয়া

ইরানকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক সামগ্রী পাঠিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি এসব সামগ্রীর চালানবাহী ২ ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজ কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে পৌঁছেছে।   গোয়েন্দা নথি এবং পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গত কাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি।   যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক জিম ল্যামসন এনবিসিকে এ সম্পর্কে বলেন, “এ তথ্য থেকে আমরা দু’টি ব্যাপার জানতে পেরেছি— (১) মস্কো এবং তেহরান নিজেদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করছে এবং (২) মার্কিন বাহিনীর সামরিক অভিযানের জেরে ইরানের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে; অর্থাৎ ইরানের অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ করে মার্কিন বিমান বাহিনীর অভিযানগুলো সফল হয়েছে।”   ইরানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে যেসব জাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো সব রুশ জাহাজ নির্মাতা কোম্পানি এমজি-ফ্লোটের তৈরি। ২০২৪ সাল থেকে এ কোম্পানি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছে।   ২০২৫ সালের জানুয়ারি ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ নামে একটি ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তেহরান এবং মস্কোর মধ্যে। এই চুক্তির শর্ত অনুসারে, আগামী ২০ বছর পর্যন্ত প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি খাতে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে রাশিয়া ও ইরান।   এই চুক্তির অনেক আগে থেকেই অবশ্য রাশিয়াকে সহযোগিতা করে আসছে ইরান। বিশেষ করে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়াকে নিয়মিত নিজেদের তৈরি লাদেন বা সুইসাইড ড্রোন শাহেদ এবং গোলাবারুদ পাঠিয়েছে ইরান। রাশিয়া আবার নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাদ্যমে শাহেদ ড্রোনের মান ও বিধ্বংসী ক্ষমতার উন্নয়নও করেছে।   ইরানকে অস্ত্র সহায়তা পাঠানোর ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনে যোগাযোগ করেছিল এনবিসি। তবে ক্রেমলিনের কর্মকর্তরা এই তথ্যকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।   সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের শীর্ষ দুই কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

মধ্য আফ্রিকায় সোনার খনি ধসে প্রাণ গেল ৩০ জনের

ছবি: সংগৃহীত

সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান চায় ইরান

0 Comments