অর্থনীতি

জাপানে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের উদ্যোগ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২২, ২০২৬ 0

জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক বন্ধন দৃঢ় করা এবং এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে (বাংলাদেশ জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট) চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই চুক্তির অন্যান্য উদ্দেশ্য হলো— বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা সুদৃঢ়করণ ও দীর্ঘমেয়াদি জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ। চুক্তির আওতায় পণ্য, সেবা বাণিজ্য, শুল্ক, বিনিয়োগ, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং মেধাস্বত্বসহ (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই প্রথম বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে ইপিএ স্বাক্ষর করবে।

বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ নেগোসিয়েশনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে গঠিত যৌথ গবেষণা দল তাদের প্রতিবেদন ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে উভয় দেশ একযোগে প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে ১৭টি সেক্টর অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে নেগোসিয়েশন পরিচালনার সুপারিশ করা হয়।

বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ নেগোসিয়েশন শুরুর লক্ষ্যে উভয় দেশ একযোগে ১২ মার্চ ২০২৪ তারিখে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এই চুক্তির গুরুত্ব বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকার নভেম্বর ২০২৪ থেকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করে এবং এক বছরের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে।

চুক্তিটি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সাথে সেক্টরভিত্তিক এবং সামগ্রিক চুক্তি নিয়ে একাধিক সভা হয়েছে। সম্মত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ (সাত) রাউন্ড নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে উভয় দেশ ইপিএ টেক্সট চূড়ান্ত করে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সরাসরি সম্পৃক্ততা বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ নেগোসিয়েশনের দ্রুত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তাদের সক্রিয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে তারা একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং জাপান সফরের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ে কয়েক দফা আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে তারা নিজ নিজ মন্ত্রী পর্যায়ের সমমর্যাদার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।

এ সকল সফর এবং উদ্যোগসমূহ নেগোসিয়েশন চূড়ান্তকরণে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারকে জোরালোভাবে তুলে ধরে, যাতে ইপিএ’র কৌশলগত গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্পাদিত হলে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। পক্ষান্তরে, জাপান ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। 

বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ’র উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো : বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকেই জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। এছাড়াও, তৈরি পোশাক খাতে সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন সুবিধাও পাবে। সেবা বাণিজ্য (ট্রেড ইন সার্ভিসেস) খাতেও উভয় দেশ উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকার করেছে। বাংলাদেশ জাপানের জন্য ডব্লিউটিও সেক্টরাল ক্লাসিফিকেশন লিস্ট অনুযায়ী ১২টি সেক্টরের আওতায় ৯৭টি সাব-সেক্টর উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি সাব-সেক্টর উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর ত্বরান্বিত হবে।

এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর ফলে, বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। জাপান আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি চুক্তিটি স্বাক্ষর করতে ইচ্ছুক।

(বাংলাদেশ জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষরের প্রস্তাব আজ উপদেষ্টা পরিষদ সানুগ্রহ অনুমোদন প্রদান করেছে। বিজেইপিএ সম্পন্নকরণের জন্য আজকের উপদেষ্টা পরিষদ-বৈঠকে সকল উপস্থিতিবৃন্দ বাণিজ্য উপদেষ্টা, সচিব ও বিজেইপিএ’র সাথে সম্পৃক্ত সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে তামাক খাতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় সরকারের এ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। ছবি: সংগৃহীত
সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড, কর ফাঁকি ধরলে পুরস্কার

বিদেশি অবৈধ সিগারেটের বাজারে লাগাম টানতে সরকারের রাজস্ব দেওয়া দেশি কোম্পানির সিগারেটের প্যাকেটে ‘কিউআর বা এয়ার কোড’ থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের-এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তার ভাষ্য, এই কিউআর বা এয়ার কোডের মাধ্যমে ভোক্তারা নিজেই যাচাই করতে পারবেন, এর থেকে সরকার কর বা রাজস্ব পেয়েছে কিনা। এ ক্ষেত্রে কর ফাঁকির ঘটনা ধরিয়ে দিলে সরকারের তরফে পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখাও পরিকল্পনার কথা বলছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে তামাক খাতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় সরকারের এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।  আবদুর রহমান খান বলেন, আমরা মোটামুটি যেটা ঠিক করেছি, সেটা হচ্ছে যে প্রত্যেকটা সিগারেটের প্যাকেটে আমাদের স্ট্যাম্প যেটা আছে, এটাকে আরও শক্ত করব। এটার রঙ পরিবর্তন করব, এটার যে গ্লু টেকনোলজি আছে উঠিয়ে দেওয়া যায়, সেটা পরিবর্তন করব। এটার মধ্যে অটোমেটেড কিউআর কোড থাকবে বা এয়ার কোড আরও যা যা আছে (থাকবে)। যে কেউ ইচ্ছা করলে সেটি যাচাই করতে পারবে। যারা যাচাই করে কর ফাঁকির বিষয়টিতে আমাদের ‘জড়িত’ করবেন, উনাদের জন্য আমরা ‘বড়’ আকারের পুরস্কারের ব্যবস্থা করব। যারা এই কাজের (অবৈধ সিগারেট বাজারজাত) সঙ্গে যুক্ত হবে, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করব। ট্র্যাকের বাইরে কেউ থাকবে না। কারখানা থেকে একেবারে ওই কোড দিয়ে সব (সিগারেট) বের হবে।  সিগারেটের ওপরে থাকা ৮৩ শতাংশ ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক এবং স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আর না বাড়ানোর কথাও তিনি বলেন। তবে সিগারেটের দাম বাড়ানো হবে সেই ইঙ্গিত দিয়ে সেটি কীভাবে কত টাকা বাড়ানো যেতে পারে তা নিয়ে উৎপাদনকারী এবং এনবিআরের নীতি অনুবিভাগের একত্রে কাজ করার কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান। আলোচনায় সিগারেট উৎপাদনকারীদের তরফে বর্তমানে থাকা দামের ওপর ‘শতাংশের কর’ ব্যবস্থা থেকে সরে একটি ‘নির্দিষ্ট পরিমাণ’ কর বসানোর প্রস্তাব রাখা হয়।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ডব্লিউটিও নোটিফিকেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ: বৈশ্বিক-বাণিজ্যে আপডেট থাকতে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ

ছবি: সংগৃহীত

৩০ বছর পর বেপজার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন যুক্তরাজ্যভিত্তিক এক্সপেরিয়েন্স ক্লদিংয়ের

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাস্ট ব্যাংক এর ইউনিয়নপে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড উদ্বোধন

আজ রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তনে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি
অভ্যন্তরীণ আয় বাড়াতে তামাকের কর ও দাম বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর

 অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়িয়ে জাতীয় বাজেটকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেছেন, ঋণনির্ভরতা কমিয়ে দেশের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানো এবং তামাকের মতো জনস্বাস্থ্যবিরোধী পণ্যের ওপর কর ও মূল্য বৃদ্ধি করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। একইসঙ্গে তামাক উৎপাদনকারী কৃষক ও শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করে এই খাতের অবৈধ বাজার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আজ রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (মূসক নীতি) মো. মশিউর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো কর কাঠামোর বাইরে। এনবিআরে ডিজিটাইজেশনের নামে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও তা ঠিকমতো কাজ করছে না। বছরের পর বছর মেইনটেন্যান্সের জন্য টাকা দেওয়া হচ্ছে, যা আসলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আহরণের বদলে লুটপাটের প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। এর ফলে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঋণ করে এডিপি তৈরি করে প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়। উন্নতির নামে ফ্যাসিজম কায়েম না করে আমাদের অভ্যন্তরীণ আয় বাড়িয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ট্যাক্স এবং বেজ প্রাইজ (ভিত্তি মূল্য) এমন জায়গায় নেওয়া দরকার, যাতে এর ব্যবহার কমে। তবে, এটি করতে গিয়ে কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার যাতে ক্ষুণœ না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।’ তামাক চাষি ও বিড়ি শ্রমিকদের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তামাক উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে শ্রমিক ও কৃষকরা আন্ডারপেইড। তাদের অধিকার কেড়ে নিয়ে পণ্যের দাম কম রেখে বাজার বিস্তৃত করার যে চেষ্টা তামাক কোম্পানিগুলো করে, সরকার তা নীতিগতভাবে বন্ধ করতে সচেতন। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা হলে পণ্যের দাম এমনিতেই বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে তামাকের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করবে।’ তিনি জানান, ‘তামাক খাতের বড় একটি সমস্যা হলো অবৈধ ব্যান্ডরোল। বিদেশ থেকে নকল ব্যান্ডরোল ছাপিয়ে এনে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে সরকার বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। এই লিকেজ বন্ধে এনবিআর-কে বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমরা একটি ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। তবে, তা সাধারণ মানুষকে শোষণ করে নয়, বরং তাদের অন্তর্ভুক্ত করে। সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরো কার্যকর করতে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান নাম্বার’ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে।’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. মশিউর রহমান বলেন, দেশে তামাকপণ্য তুলনামূলক সহজলভ্য ও সস্তা থাকায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি জানান, ২০২৪ সালের কর পদক্ষেপের পর সিগারেটের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা তামাক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি। তিনি বলেন, খুচরা পর্যায়ে সিগারেট বিক্রি নিয়ন্ত্রণে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু করা জরুরি এবং ট্র্যাকিং অ্যান্ড ট্রেসিং ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করতে এনবিআর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সেমিনারে অন্য বক্তারা বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী তামাক ও কার্বন কর থেকে রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্য পূরণে বাজেটে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তারা তামাকপণ্যের কর কাঠামো সংস্কার এবং দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব তুলে ধরেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0

২৬ এপ্রিল পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৯.৬ শতাংশ বৃদ্ধি

ছবি : সংগৃহীত

তিন দিনের জামাই মেলা থেকে ২ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

ছবি : সংগৃহীত

মূল্যস্ফীতির চাপে জাপানে ভেন্ডিং মেশিনের পানীয় চাহিদা কমছে

ছবি : সংগৃহীত
টেকটেক্সটিল ও টেক্সপ্রসেস প্রদর্শনী বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে

আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পের অন্যতম প্রধান প্রদর্শনী টেকটেক্সটিল ও টেক্সপ্রসেস ২০২৬ প্রদর্শনীতে ব্যাপক ক্রেতা আগ্রহ, কার্যকর সম্পৃক্ততা ও বৈশ্বিক অঙ্গনে দৃশ্যমানতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ অংশগ্রহণ দেশের জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য বয়ে এনেছে বাংলাদেশ। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে ২১ শে এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ মেলায় বিশ্বের ৫৪টি দেশের ১ হাজার ৭০০-এরও বেশি প্রদর্শক অংশগ্রহণ করেন।  তারা টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস প্রসেসিং শিল্পের বহুমুখী উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি তুলে ধরেন, যা খাতটির ধারাবাহিক রূপান্তর ও প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। প্রদর্শনীতে হাজার হাজার বাণিজ্য দর্শনার্থী, ক্রেতা, শিল্প পেশাজীবী ও নীতি নির্ধারকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে নেটওয়ার্কিং, সোর্সিং ও ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এম অ্যান্ড এ কম্পোজিট লিমিটেড, ইকো প্যাক বিডি ও টিম ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি বস্ত্র, টেকসই উৎপাদন ও আধুনিক শিল্প সমাধানে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পায়। এ বিষয়ে টিম ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজার আবরার হুসেন জানিয়েছেন, প্রদর্শনীটি অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ ছিল। আমরা ইউরোপের নতুন প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি এবং সম্ভাবনাময় ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছি, যা ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।  এছাড়া টেকটেক্সটিল ও টেক্সপ্রসেসে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উপস্থিতি ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া, বৈশ্বিক টেক্সটাইল বাজারে একটি নির্ভরযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে আরও সুদৃঢ় করেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0

ডিএসইতে লেনদেন ৯৮২ কোটি টাকা, সূচক ঊর্ধ্বমুখী

প্যাকেটজাত পণ্যে কিউআর কোড ব্যবস্থা চালু করবে এনবিআর

ছবি: সংগৃহীত

ইন্টারনেট সেবাকে জরুরি পণ্য ঘোষণা করে কর অব্যাহতির দাবি

0 Comments