মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অন্যান্য প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের নিয়ে ফিলিস্তিনের গাজার জন্য গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ সনদে স্বাক্ষর করেছেন।
দাভোস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বলেন, অভিনন্দন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সনদ এখন পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে এবং বোর্ড অব পিস এখন একটি আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক সংস্থা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা ও নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো বৃহস্পতিবার বলেছেন, গত জানুয়ারিতে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে বতর্মান অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কারাকাস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। মাচাদোর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এতদিন দাবি করে আসছিল, ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাদের প্রার্থী এডমুন্দো গঞ্জালেজ উরুতিয়া বিজয়ী হয়েছেন। যদিও ওই নির্বাচনে মাদুরোকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। পানামা থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তারা ‘ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আলোচনায়’ সহায়তা করে। তিনি বলেন, ‘এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো স্বাধীন, স্বচ্ছ ও সার্বভৌম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করা।’ গত জানুয়ারিতে কারাকাসে অভিযান চালিয়ে তৎকালীন নেতা মাদুরোকে আটক করার অনুমোদন দেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এরপর থেকেই ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত পরিকল্পনার প্রতি আস্থা প্রকাশ করে আসছেন মাচাদো। গত শনিবার তিনি জানান, ভবিষ্যতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন। তবে সেই নির্বাচনের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি। পানামায় ভেনেজুয়েলীয় প্রবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি প্রার্থী হব।’ মার্কিন সামরিক অভিযানের পর থেকে দেশটি পরিচালনা করছেন মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তখন নতুন নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এখনো ভোটের কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। বর্তমানে নির্বাসিত মাচাদোকে ভেনেজুয়েলা সরকার পলাতক হিসেবে বিবেচনা করে এবং তিনি দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। গত ডিসেম্বরে নরওয়ের অসলোতে প্রকাশ্যে দেখা যায় মাচাদোকে। সেখানে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করেন। চলতি বছরজুড়ে বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। মাচাদো জানান, তিনি আবারও ভেনেজুয়েলায় ফিরতে চান। তবে কবে ফিরবেন, বিবৃতিতে তা উল্লেখ করেননি।
দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও ভারতীয় আম আমদানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুরব এশিয়ার দেশ জাপান। ক্ষতিকর পোকা দমনের প্রক্রিয়ায় গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ার পর নেওয়া এই সিদ্ধান্তে ভারতের প্রিমিয়াম আমের রপ্তানি বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে আলফোনসো, কেসর, ল্যাংড়া ও ভাঙ্গানাপাল্লীর মতো জনপ্রিয় জাতের আমের বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। চলতি বছরের শুরুতে ভারতের একটি শোধন কেন্দ্রে পরিদর্শনের সময় জাপানি কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তারা পোকা দমন ব্যবস্থায় মারাত্মক গাফিলতি খুঁজে পান। এর পরপরই জাপান ভারতীয় আম আমদানিতে কঠোর অবস্থান নেয়। জাপানের এই আকস্মিক পদক্ষেপে ভারতের প্রিমিয়াম আম রপ্তানি বাজার বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ফলে চলতি গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে দেশটির সামগ্রিক আম বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মূলত ফল মাছি (ফ্রুট ফ্লাই) ও অন্যান্য আক্রমণাত্মক পোকামাকড়কে কৃষির জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখে জাপান। এ কারণে দেশটির ‘জিরো-টলারেন্স’ বা শূন্য-সহনশীলতা নীতি কার্যকর রয়েছে। গত মার্চে ভারতের উত্তর প্রদেশের রহমানপুরে অবস্থিত একটি ‘ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট’ (ভিএইচটি) কেন্দ্র পরিদর্শন করে জাপানি প্রতিনিধি দল। এই প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই নিয়ন্ত্রিত গরম ও আর্দ্র বাতাসের মাধ্যমে আমের ভেতরের পোকা বা লার্ভা ধ্বংস করা হয়, যা জাপানে আম রপ্তানির বাধ্যতামূলক শর্ত। যদিও পরিদর্শনে কেন্দ্রটির ধোঁয়াকরণ ও জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় একাধিক ঘাটতি ধরা পড়ে। এরপর জাপানের ইয়োকোহামা প্ল্যান্ট প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ২০২৬ সালের ২৫ মার্চের পর ইস্যু করা শংসাপত্রধারী কোনো ভারতীয় আমের চালান তারা গ্রহণ করবে না। কিন্তু জাপান ভারতের সবচেয়ে বড় আমের বাজার নয়, তবুও এটি ছিল অন্যতম লাভজনক ও উচ্চ-মূল্যের বাজার। ফলে এই নিষেধাজ্ঞা ভারতীয় আমচাষি ও রপ্তানিকারকদের জন্য বড় আর্থিক ধাক্কা হয়ে এসেছে। সূত্র : এনডিটিভি
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আলবার্টার স্বাধীনতা নিয়ে সম্ভাব্য গণভোটকে ‘বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ব্যবহার করে জনগণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা কানাডার ঐক্যের জন্য হুমকি হতে পারে। কার্নি সতর্ক করে বলেন, আলবার্টার বিচ্ছিন্নতার পক্ষে যেসব প্রচারণা চলছে, তার কিছু অংশে ভুল তথ্য ও ‘প্রতারণামূলক রাজনৈতিক কৌশল’ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে উদ্বেগ রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, অধিকাংশ আলবার্টাবাসী এখনো কানাডার সঙ্গেই থাকতে চান। অন্যদিকে, আলবার্টা প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদ নিয়ে নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মানুষ এখনো কানাডার অংশ হিসেবেই থাকতে চান। জরিপ অনুযায়ী, ৬০ শতাংশের বেশি আলবার্টাবাসী কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে, প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ আলাদা হয়ে যাওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে আলবার্টায় স্বাধীনতা ও বিচ্ছিন্নতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক বেড়েছে। তবে বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, বিচ্ছিন্নতার পক্ষে সমর্থন বাড়লেও তা এখনো সংখ্যালঘু অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি, জ্বালানি খাত এবং অর্থনৈতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে অসন্তোষ থেকেই আলবার্টায় বিচ্ছিন্নতাবাদী আলোচনা জোরালো হয়েছে। তবে অধিকাংশ নাগরিক এখনো কানাডার ঐক্য বজায় রাখার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।