অর্থনীতি

একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীরা মুনাফা পাবেন : বাংলাদেশ ব্যাংক

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২২, ২০২৬

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য কেবল ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের আমানতের ওপর ৪ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।

বুধবার জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে বলা হয়, ‘২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য ব্যক্তি (অ-প্রাতিষ্ঠানিক) মেয়াদি আমানত এবং স্কিমভিত্তিক আমানতের ক্ষেত্রে ব্যাংক রেট অনুযায়ী, অর্থাৎ বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে মুনাফা পরিশোধ করতে হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, পূর্বের নির্দেশনায় এই সময়ে মুনাফা প্রদান না করার কথা বলা হলেও আমানতকারীদের অসুবিধা দূর করতে এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।

গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ব্যাংক রেজ্যুলেশন স্কিম ২০২৫’ চূড়ান্ত করে, যার আওতায় পাঁচটি সংকটাপন্ন শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠিত হয়। ওই স্কিমে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ধাপ ও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক (লোগো)
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তিন দিনে ৩২২৩ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতের টাকা ফেরত পেতে আবেদন জমা দেওয়ার হার তৃতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ২১ হাজার ৮৬ জন আমানতকারী টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে মোট ৯২৩ কোটি টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। এর আগে আবেদন গ্রহণের প্রথম দুই দিন মঙ্গলবার ও বুধবার ৩৭ হাজার আমানতকারী প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছিলেন। ফলে তিন দিনে মোট ৫৮ হাজার ৮৬ জন আমানতকারী প্রায় ৩ হাজার ২২৩ কোটি টাকা ফেরতের জন্য আবেদন করেছেন। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আমানত ফেরতের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে গত মঙ্গলবার। একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা ও উপশাখায় গিয়ে গ্রাহকদের আবেদন করতে হচ্ছে। আবেদন গ্রহণকে কেন্দ্র করে এসব শাখায় গ্রাহকদের ভিড় দেখা গেছে। অনেক শাখায় আবেদন জমা দিতে আসা গ্রাহকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ব্যাংক কর্মকর্তারা। ব্যাংক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার প্রথম দিনে প্রায় ১৮ হাজার আমানতকারী ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেন। বুধবার দ্বিতীয় দিনে প্রায় ১৯ হাজার আমানতকারী আবেদন করেন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ফেরতের জন্য। আর বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনে ২১ হাজার ৮৬ জনের কাছ থেকে ৯২৩ কোটি টাকার আবেদন পাওয়া গেছে। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, আগামী রোববার পর্যন্ত আমানত ফেরতের আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীদের টাকা পরিশোধ শুরু করার কথা রয়েছে। মূল টাকা তোলা যাবে, মুনাফা নয় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা তাঁদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা এই মুহূর্তে পাওয়া যাবে না। কোনো গ্রাহক মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে যেসব গ্রাহক এখনই টাকা তুলবেন না এবং হিসাব চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর আগে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবেদুর রহমান সিকদার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ব্যাংকটির মোট ৮৪ লাখ গ্রাহকের মধ্যে প্রথম দিনে ১৮ হাজার আমানতকারী পুরো মূল টাকা তুলে নেওয়ার আবেদন করেছেন। মোট আমানতকারীর তুলনায় এই সংখ্যা খুবই কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে বোঝা যায়, ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের এখনো যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠন সংকটে পড়া শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক—সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। ব্যাংক খাতের দীর্ঘদিনের সংকটের মধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে এই একীভূতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে চারটি ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের হাতে। একীভূত হওয়ার পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা সরকারের হাতে নেওয়া হয়েছে। এখন ধাপে ধাপে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকের সিএসআর অর্থে ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, হাসিনা-রেহানাসহ আসামি ৩

ছবি: সংগৃহীত

এআরটির সুবিধায় মার্কিন বাজারে রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

টাকা ফেরতের দরজা খুলতেই প্রথম দিনে ১৩০০ কোটি টাকা ফেরত চাইলেন ১৮ হাজার গ্রাহক

উদ্যোক্তা হতে ১০ লাখ টাকা অনুদান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের প্রতিটি উপজেলায় সম্ভাবনাময় ১০ জন করে তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করে তাদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের প্রত্যেককে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করা হবে। এর মধ্যে থাকবে ঋণ ও শর্তসাপেক্ষ অনুদান।   ‘উপজেলা ভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ নামের এ উদ্যোগ প্রথম পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের আট জেলায় চালু করা হবে। সফল হলে পর্যায়ক্রমে কর্মসূচিটি সব জেলা ও উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হবে।   যেভাবে মিলবে অর্থ   বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্যোক্তার ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ দেয়া হবে। যে উদ্যোক্তা যে খাতে কাজ করবেন, তাকে সংশ্লিষ্ট খাতের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ঋণ দেয়া হবে। এ ঋণের সুদের হার থাকবে ৪ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে।   অন্যদিকে, অর্থায়নের একটি অংশ আসবে ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর তহবিল থেকে। অনুদানের অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগানো হলে সেই টাকা ফেরত দিতে হবে না। তবে নির্ধারিত উদ্দেশ্যে অর্থ ব্যবহার না করলে অনুদানের অর্থ ঋণে পরিণত হবে।   কর্মসূচির আওতায় শুরুতেই অনুদানের একটি অংশ দেয়া হবে। বাকি অর্থ আলাদা হিসাবে রাখা হবে। উদ্যোক্তার ঋণ পরিশোধের আগ্রহ ও নির্দিষ্ট মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে সেই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হবে।   কারা পাবেন এই সহায়তা   বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৩০ আগস্টের সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যবসার সম্ভাবনাময় ধারণা থাকা অনেক তরুণ প্রাথমিক মূলধন, ব্যবসায়িক পরামর্শ, নেটওয়ার্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের অভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারেন না।   এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাবনাময় তরুণদের আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির মাধ্যমে উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে। নির্বাচনের সময় ব্যবসার সম্ভাবনা, প্রকৃত অর্থের প্রয়োজন এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে।   প্রতিটি জেলায় একটি ব্যাংক এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে। তবে উদ্যোক্তা নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা অফিস, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও বিশেষজ্ঞরা যুক্ত থাকবেন।   মোট ৫ হাজার ৩০ উদ্যোক্তাকে অর্থায়নের পরিকল্পনা   বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, দেশের ৮ বিভাগের ৬৪ জেলায় মোট ৫০৩টি উপজেলা রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় ১০ জন করে মোট ৫ হাজার ৩০ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়নের লক্ষ্য নেয়া হয়েছে।   এ জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এর অর্ধেক, অর্থাৎ ২৫০ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাকি ২৫০ কোটি টাকা জোগান দেবে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো। এ অর্থের একটি অংশ বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকেও আসবে।   কর্মসূচির প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন ব্যয়ও নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে উদ্যোক্তা খোঁজা ও প্রচার, আবেদন যাচাই, সভা-সেমিনার, কর্মশালা, ব্যবসায়িক ধারণা মূল্যায়ন এবং উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির খরচ বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএমএসএমই তহবিল থেকে বহন করা হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
ফাইল ছবি

তিন মাসেই আরও ১৮ হাজার কোটি, খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আরও এলএনজি কিনছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

কমলো এলপি গ্যাসের দাম

ছবি: সংগৃহীত
আবারও বাড়ল ভোজ্যতেলের দাম

দেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ২০৪ টাকায়, যা আগে ছিল ১৯৯ টাকা।   বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বোতলজাত ভোজ্যতেলের নতুন দাম সমন্বয় করা হয়।   সরকারিভাবে নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   তবে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।   বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন এ দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তবে খুচরা বাজারে ক্ষেত্রবিশেষে ভোজ্যতেলের দাম ও সরবরাহে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যেতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পে-স্কেলের অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো যাবে না: এফবিসিসিআই

ছবি: সংগৃহীত

ডিএসইতে চালু হচ্ছে ডেরিভেটিভস, লেনদেন শুরু হতে পারে ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে

অর্থনীতির আগাম সংকেত দিতে পারে পিএমআই

0 Comments