আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণ করতে প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক আসবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আমরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ৮৩ জন পর্যবেক্ষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তাদের মধ্যে ৩৬ জন আমাদের নিশ্চিত করেছেন। আর পাঁচটি সংস্থা থেকে রিগ্রেট করা হয়েছে। এখনো কনফারমেশনের আরও কিছু বাকি আছে।
তিনি বলেন, আমরা স্ব-উদ্যোগে আমন্ত্রণ করেছি। আরেকটি ছিল জার্নালিস্ট ও অবজারভারদের জন্য ওপেন ইনভাইটেশন। এ পর্যন্ত ৫০ জন সাংবাদিক আমাদের কাছে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যে, তারা এখানে এসে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে চান। ৭৮ জন অবজারভার ও ৫০ জন সাংবাদিক আসতে চান।
তিনি জানান, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য এয়ারপোর্টে আমাদের একটি হেল্প ডেস্ক থাকবে। তারা মূলত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে থাকবেন। হোটেলে হেল্প ডেস্ক ও মিডিয়া সেল থাকবে। সেখানে বিভিন্ন পয়েন্টে কো-অর্ডিনেশনের ব্যবস্থা করা হবে।
ইসি সচিব জানান, ‘এই মুহূর্তে ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫৬ জন প্রতিনিধি অবস্থান করছেন। এই সংখ্যা পরবর্তীতে প্রায় ৩০০ কাছাকাছি হবে বলে আমাদের ধারণা দেওয়া হয়েছে। কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে আমরা ২ জনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম, তবে তারা ১০ জন আসতে পারেন। তুরস্ক থেকেও আমরা ২ জনকে ইনভাইট করেছিলাম। তবে তারা সম্ভবত ৯ জন আসবেন। অনেক জায়গায় আমাদের যদি ভিসা ফ্যাসিলিটি বা মিশন না থাকে, তাহলে তারা যেন অন-অ্যারাইভাল ভিসায় এসে কোনো অসুবিধায় না পড়েন, সে ব্যবস্থা থাকবে। আমাদের ধারণা, প্রায় ৫০০’র বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক আসবেন।’
মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সীমিত : ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, নির্বাচনের সময় মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে ট্রানজেকশন সীমিত থাকবে। একেবারে বন্ধ হবে না। একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দুইদিন বা একদিনের জন্য সীমিত করা হবে। পুরাপুরি বন্ধ করা হবে না। মোবাইল ফাইনান্সিং এবং এর সাথে আই ব্যাংকিংয়ের বিষয়টাও আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এটার কাঠামোটা ঠিক করা হয়নি। তবে নীতিগতভাবে সবাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ২৪ ঘণ্টা বা ৪৮ ঘণ্টার জন্য কোনো ট্রানজেকশনই হবে না এরকম কোনো কিছু করা হবে না। হয়ত লিমিট করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে দেশের সব শ্রেণি-পেশা ও জাতিগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সময়ে দেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে দেশের ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমির মালিকানা সমস্যা সমাধানে ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন আয়োজন, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, গোত্রভিত্তিক পরিচয়ের স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, রিজার্ভ বন ও উন্নয়ন প্রকল্পের নামে উচ্ছেদ বন্ধ এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে প্রতিনিধিদের বক্তব্য শোনেন এবং বলেন, “এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। টিকে থাকতে হলে এবং আগামী দিনের সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধভাবেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।” তিনি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকার এমন একটি রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে, যেখানে কোনো জাতি বা জনগোষ্ঠী বৈষম্যের শিকার হবে না। সবার অংশগ্রহণেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। ‘ফ্যাসিবাদ দেশের প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ধ্বংস করেছে’ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসনের কারণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রতিবছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হতো। এই অর্থ পাচার না হলে দেশের অনেক উন্নয়নমূলক কাজ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বহু সমস্যার সমাধান অনেক আগেই করা যেত। আমাদের সরকার ধাপে ধাপে সমাধানযোগ্য সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছে।” তিনি আরও বলেন, ১৭ বছরে যেসব সমস্যা সমাধান হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো অবহেলিত থাকায় এখন সব চাপ বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে বড় উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আরও কার্যকর করতে ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলো পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার সেগুলোকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে। এখন বর্তমান সরকার আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কিডনি ডায়ালাইসিস, হার্টের রিংসহ জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। যুব দিবস উদযাপনে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতি বছর ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস আগের নিয়মে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস পৃথকভাবে পালন করা হবে বলেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৩তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে আশ্রয় নেওয়া এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনিভাবে আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তিনি দেশে আসা মাত্রই তাকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের সাজা হয়ে গেছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দেশের মাটিতে সাজা কার্যকর করা হবে। বাংলাদেশের মানুষ তা দেখতে চায়। আমরা একাধিকবার বলেছি- প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়াটি কী। যেহেতু সাজা হয়ে গেছে, সেহেতু একজন আসামির আইনগতভাবে আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নাই। তিনি যখনই দেশে আসবেন, গ্রেফতার হবেন। আমাদের লক্ষ্য, প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা।’ শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক স্বদিচ্ছার প্রয়োজন। তিনি দিল্লিতে পলাতক হিসেবে আছেন, সেখানে তার কোনো স্ট্যাটাস নেই। তার কাছে কোনো পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট না থাকায় অবশ্যই তাকে ছবিযুক্ত প্রমাণপত্র নিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কোনো দেশের সফরের তারিখ ঠিক হয়নি। তিনি সম্প্রতি দুটি দেশ থেকে ফিরেছেন। পর্যায়ক্রমে অন্য দেশ সফর করবেন।’ রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিষয়টি আসন্ন জাতিসংঘ অধিবেশনে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে। ১৭ বছরে এ সমস্যা জিইয়ে রেখে আরও ঘনীভূত করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি, কূটনৈতিক, অকূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা চলমান রয়েছে।’
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় এক জেলের জালে একটি গ্রেনেড ধরা পড়ে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দিলে পুলিশ ও বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি নিরাপদে উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করে। বুধবার (১৫ জুলাই) উপজেলার রাওথা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার। জানা যায়, স্থানীয় জেলে সাইদুর পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় জালে একটি ছোট কিন্তু ভারী বস্তু পান। প্রথমে সেটিকে মূল্যবান কোনো বস্তু মনে করে তিনি বাড়িতে নিয়ে যান। পরে সেটি পরিষ্কার করার সময় তার ছেলে সাব্বির রহমান ইন্টারনেটে খোঁজ নিয়ে সন্দেহ করেন, এটি একটি গ্রেনেড বা বিস্ফোরক হতে পারে। এরপর সাব্বির জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর ৯৯৯ থেকে চারঘাট থানা, জেলা পুলিশ কন্ট্রোলরুম এবং বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ৯৯৯ কর্তৃপক্ষ জানায়, কনস্টেবল ইয়াছিন আরাফাত জরুরি কলটি গ্রহণ করেন এবং পুলিশ ডিসপাচার এসআই আমিনুল ইসলাম অভিযোগকারী ও স্থানীয় থানার সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় বজায় রাখেন। পরে চারঘাট থানা পুলিশের সদস্য ও বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করে গ্রেনেডটি উদ্ধার করে সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে।